করোনা মোকাবিলায় সব দল, কেন্দ্র-রাজ্য একজোট হয়ে কাজ করছে। যাঁরা নিয়মিত খবর রাখেন, তাঁরা দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে এই যুদ্ধে নরেন্দ্র মোদীকে পিছনে ফেলেছেন নেতৃত্ব দেওয়ার লড়াইয়ে।মোদী কী করলেন? এইমসে যাননি। সেখানকার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, তাঁদের থাকার সমস্যা হচ্ছে। বাড়ির মালিকরা সংক্রমণের ভয়ে তাঁদের বাড়ি খালি করে দিতে বলছেন। আর কলকাতায়? এই সমস্যা হচ্ছে জেনে একের পর এক হাসপাতালে ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবার সমস্যার কথা জানলেন। হাসপাতালের কাছে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করলেন হোটেল, গেস্টহাউসে। যে হোটেলে দক্ষিণ আফ্রিকা এসে উঠেছিল, সেই হোটেলেও রাখা হচ্ছে রাজারহাট কোয়ারান্টিনে কর্মরতদের! এই পরিষেবায় যুক্তদের জন্য বিশেষ বাস চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

তহবিল গড়ে বেড বাড়িয়ে, কিট কিনে, এমনকী দেশের মধ্যে শুধু করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালও বানিয়ে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতারাতি ইনডোর স্টেডিয়ামকে হাসপাতালে পরিণত করেছেন।

এমএসএমই দফতরকে কাজে লাগিয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার বানিয়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। কেন্দ্রীয় সাহায্য না পেয়েই এ সব করেছেন। এমনকী সাহায্য চেয়ে বলেছেন, কেউ এক টাকাও চাইলে দিতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদল বৈঠক করেছে, বিজেপিও সমালোচনার অস্ত্র পায়নি। আর মোদী? তাঁর স্বপ্নের প্রকল্পের জন্য করোনা-যুদ্ধ চলাকালীন ২০ হাজার কোটি বরাদ্দ করছেন, সেখানে করোনার চিকিৎসা পরিকাঠামোয় মাত্র ১৫ হাজার কোটি!
আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা এখনও করেনি কেন্দ্র। ল্যাবগুলিকে ছাড়পত্র, কিট যোগানে গড়িমসি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া চিঠি না পেলে রেল বা উড়ান বন্ধ হতো কিনা সন্দেহ। তৃণমূল কংগ্রেস যখন বারবার আবেদন জানাল সংসদ বন্ধ রাখার, কেন্দ্রীয় সরকার শোনেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিলেন, সাংসদরা যাবেন না, নিজের এলাকা দেখুন। তারপর সংসদ বন্ধ হলো সোমবার। রাজনীতি করার কথা নয় এই সময়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সব কর্মসূচি বাতিল রেখে মানুষের জন্য কাজ করছেন। আর মোদী? মধ্যপ্রদেশে বিজেপি তড়িঘড়ি ঘোড়া কেনাবেচা, রিসর্ট রাজনীতি করে কমল নাথ সরকার ফেলে সরকার গড়ল। করোনা-পরিস্থিতেই। মোদী এমন রাজনীতিকে উৎসাহিত করে শিবরাজ শপথ নিতেই সঙ্গে সঙ্গে অভিনন্দন জানালেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকরা মানুষের পাশে রয়েছেন এই বিপদের সময়ে। আর বাংলার ১৮ বিজেপি সাংসদকে দেখাই যাচ্ছে না! কয়েকজন বেরিয়েছিলেন খোল-করতাল-হাততালি-শাঁখ ইত্যাদি নিয়ে। মানুষের পাশে দেখা মেলেনি, কেউ একটা মাস্ক বিলি করেননি। উৎসাহ দিয়েছেন গোমূত্র পানে!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দেন না, রেশন দেন। মোদীর ভাষণ। লকডাউনে গরিব, প্রান্তিক মানুষ খাবে কী, তা ভাবেন না কোটি কোটি টাকার কোট পরা স্বঘোষিত চাওয়ালা! কিন্তু ভাবেন টালির চালের ঘরে থাকা, হাওয়াই চটি পরিহিত দিদি। তিনি এইসব মানুষের জন্য রেশনের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। ৬ মাস বিনা পয়সায় রেশন। সেই সঙ্গে প্রচেষ্টা প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার টাকা। মোদী তো কিছু ঘোষণা করতেই পারতেন। তাঁর রাত ৮টার ভাষণ বহুতলে আয়েসে থাকা মানুষগুলোর জন্য ভালো হলেও, গরিব, প্রান্তিক মানুষকে বারবার বিপদেই ফেলে।
পরবর্তী অংশ
Didi you are Great,tomake Satokoti ????????????, Amar gorbo Didi Mamata, God bless you, Please take care of you