দ্বিতীয় অধ্যায়
রাজনীতিতে ব্যবসায়িক সংগঠন
তিন
সমিতিবদ্ধ জনগণের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যৌথ সমবায়িক কাজকর্ম বিস্তারের প্রভূত সুযোগ ছিল। বৈদিক সাহিত্যের বহু উদাহরণে মানুষের জোটবদ্ধতা, সমিতিবদ্ধতা রাজক্ষমতাকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ভূমিকা পালন করেছে। নানান উদাহরণে তৎকালীন সময়ের জনপ্রশাসনে সমিতিবদ্ধতার চরিত্রটিকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখতে পাচ্ছি। তবে সমিতির ব্যবস্থাপনা, তার কার্যক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে অপ্রতুল তথ্যের দরুন সে সময়ের জোটবদ্ধতাকে বিশ্লেষণ করা কঠিন, তবুও এর গুরুত্ব অনুধাবন করা আজ অসম্ভব নয়।
মনে করার কোনও কারন নেই প্রাচীন ভারতে জোটবদ্ধতা/সমিতিবদ্ধতা একটা আলঙ্কারিক নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করত। রাজার একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে জনসভাগুলি বড় ভূমিকা পালন করেছে। জনৈক ব্রাহ্মণের গরুগুলি রাজা দখল করে নিলে, আহত ব্রাহ্মণ রাজাকে অভিশাপ দিচ্ছেন
“A king who thinks himself formidable (and) who desires to devour Brahman — that kingdom is poured away, where a Brahman is scathed.
“Becoming eight-footed, four-eyed, foureared, four-jawed, two-moutlied, two-tongued, she shakes down the kingdom of the Brahman-scather.
It leaks verily into that kingdom, as water into a split boat (nau); where they injure a Brahman — that kingdom misfortune smites.
“The Kudi which they tie on after a dead man, that verily O Brahman-scathcr did the gods call thy couch (upastarana).
“The tears of one weeping, (krip) which rolled (down) when he was scathed, these verily O Biuhman-scather, did gods maintain as thy portion of water.
“With what they bathe a dead man, with what they wet (ud) beards, that verily O Brahman-scather did the gods maintain as thy portion of water.
“The rain of Mitra-and-Yaruna does not rain upon the Brahman-scather; the Assembly (samiti) does not suit him; he wins no friend to his control।
উপরিউক্ত দীর্ঘ অবাধ নিন্দাবাদ সত্ত্বেও শেষ স্তবকের বক্তব্য-গুরুত্ব আমাদের চোখে অর্থপূর্ণ হয়ে দেখা দেয়। ব্যক্তি ব্রাহ্মণের পক্ষ থেকে রাজার প্রতি হুমকি ছুঁড়ে দেওয়া শ্লোকগুলিতে যে বিপুল নিন্দাবাদ বর্ষণের উদাহরণ দেখলাম, তার থেকে একটা বিষয় আন্দাজ করিতে পারি, রাজার মতের/কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনও এক নির্দিষ্ট সমিতি রাজাকে কী অবস্থায় ফেলতে পারত। শ্লোকের লেখক রাজার বিরুদ্ধে প্রায় সব ধরণের কটুবাক্য ছুঁড়ে দিয়েছেন এবং প্রতিটি শ্লোকে গালির মাত্রা বাড়িয়ে সব শেষে গালির চরম শৃঙ্গে পৌঁছে, সবার শেষে সব থেকে বিপজ্জনক হুমকিটি ছুঁড়ে দিয়েছেন অক্লেশে। সেই রাজাকে করুণা করা যায় যে তার সঙ্গে থাকা সমিতি/সভাসদদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না; সেই রাজত্বকে করুণা করা যায় যে রাজত্বে মিত্র আর বরুণ জীবনদায়ী বর্ষা উপহার না দেওয়ায় দীর্ঘকালীন সময়ে মন্বন্তর দেখা দেয়
সমিতির গুরুত্ব আরও একবার ঋগ্বেদে X, 166, 1 বর্ণিত হয়েছে। জিমার একটি শ্লোক উল্লেখ করে বলছেন সেই রাজার প্রতি নিন্দাবাক্য বর্ষণ করা হয়েছে, যে রাজা শুধুই পাশবিক শক্তি বলে সিংহাসন দখল করতে উদ্যত হয়।
Superior am I, and have come here with a force capable of doing all things. I shall make myself master of your aims, your resolutions and your Assembly (Saniiti)
জিমার বলছেন এই শ্লোকের পঞ্চম এবং শেষতমটি যতদূরসম্ভব প্রক্ষিত, পরবর্তী সময়ে এর মাত্রা ঠিক রাখতে জোড়া হয়েছে। এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজা সমিতির বিরুদ্ধে গিয়ে বলপ্রয়োগে ক্ষমতা দখল করতে চায়।
আবারও অথর্ববেদের VI, 88 শেষ প্রার্থনাটি হল, রাজাকে যদি দীর্ঘকাল ক্ষমতা ধরে রাখতে হয়, তাহলে তাঁর আর সমিতিকে একমত হওয়ার দিকে এগোতে হবে।
Fixed, unmoved, do thou slaughter the foes, make them that play the foe fall below (thee); (be) all the quarters (dis) like-minded, concordant (sadhranch); let the gathering (samitl) here suit thee (who art) fixed.
ওপরের নাতিদীর্ঘ আলোচনায় জনপ্রশাসন পরিচালনায় সমিতির গুরুত্ব বিষয়ে একটা ধারণা তৈরি করতে পারলাম। এবারে আমরা এর কাঠামো এবং চরিত্র বিষয়ে আলোচনা করব।
জিমার মন্তব্য করছেন সভা হল গ্রামীনদের জোটবদ্ধতার নাম আর সমিতিও আরেক ধরণের জোটবদ্ধতা, আদিবাসীদের সমূহ, যেখানে রাজার উপস্থিতি আবশ্যিক। শতপথ ব্রাহ্মণ III. 3, i, 14 এবং ছান্দোগ্য উপনিষদ V. 3, 6 আলোচনায় ম্যাকডোনেল স্পষ্ট ভাবে বলছেন, রাজা যেমন সভাতেও উপস্থিত হন, তেমনি তিনি সমিতিও যান। তাঁকে সমর্থন করে হিলব্রান্ড বলছেন সভা এবং সমিতি আলাদা করা মুশকিল। জিমার ১৭৪ পাতায় শব্দতাত্ত্বিকভাবে দুটি শব্দের আলাদা মানে যেমন উল্লেখ করেছেন তেমনি এটাও উল্লিখিত হোক, অথর্ব বেদ YII. 12-1 এই শব্দ দুটিকে বাস্তবিকভাবে আলাদা অর্থে ব্যবহার করছে।
Let both Assembly (Sabha) and gathering (Samiti), the two daughters of Prajapati, accordant, favor me. সভা যে সমিতির থেকে আলাদা কিসিমের ব্যাপার, সেটা অথর্ব বেদে III. 10-5 এবং 6 উল্লিখিত হয়েছে।
উক্তি থেকে প্রমাণিত এই দুটি শব্দের অর্থ দৃশ্যত ভিন্ন, যদিও আজকে এই ভিন্নতার প্রকৃতি খুঁজে বার করা অসম্ভব। সভা হল উৎসবের জায়গা, ঠিক যেমন জিমার একে বলছেন গ্রামীনদের মিলিত হওয়ার স্থল, অনেকটা গ্রিসিয় সামাজিক মিলন, আলোচনা, বিতর্ক ইত্যাদির সংগঠন লেসখের (Leskhe) সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে গরু ইত্যাদি নিয়ে সাধারণ বিতর্ক এবং আলোচনা আয়োজিত হত।
ছান্দোগ্য উপনিষদ ইত্যাদি সূত্রে বলতে পারি, সভা এবং সমিতির উপযোগিতার পার্থক্য এবং এই শব্দগুলোর অরত্রথ বিস্তৃতি হয়ত পরের সময়ে করা হয়েছে। ঠিক যে জন্যে এটাও মাথায় রাখা দরকার একসময়ে রাজা গ্রাম সভায়, স্থানীয় সমিতিগুলোর বৈঠকে যোগ দিতে অগৌরব বোধ করতেন না। আমরা নিশ্চই লক্ষ্য করব, জোটবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে বাজষ্ণেয় সংহিতায় দুটি স্তবকে সভাকে গ্রামীন বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বেশি বিস্তারে না গিয়ে আমরা বলতে পারি, সভা হল স্থানিক, আঞ্চলিক বৈঠক আর সমিতি হল কেন্দ্রিভাবে জড়ো হওয়া।
চার
সমিতিতে (এবং স্বাভাবিকভাবে সভাতেও) যৌথতার মানসিকতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে যায় এবং আলোচনা বিতর্ক যে কোনও বৈঠকের মূল চরিত্র হয়ে ওঠে যে ধারাবাহিকতা বৈদিক যুগের পরের তিন হাজার বছরের সভ্যতায় ধরে রাখা যায়নি বললেই চলে। আরও দূরে আলোচনা এগোবার আগে এই সংক্রান্ত আরও কিছু বৈদিক স্তবক উদ্ধার করা যাক।
১। অথর্ব বেদীয় স্তব ব্যবহৃত হয়েছে কৌশিতকীতে জনসমক্ষে বিতর্ক সভায় বিপক্ষ’র বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার আচারঙ্গ রূপে; উদেশ্য পূরণে সমিতিতে উপস্থিত হতে হবে উত্তরপূর্ব দিক থেকে, ভাষণ দেওয়ার সময় মুখে নির্দিষ্ট একটি গাছের মূল রাখতে হবে, আর এই শেকড়কে কবচ/তাবিজ হিসেবে পরতে হবে, মালা হিসেবে পরতে হবে সেই গাছের সাতটি পাতা।
“May (my) foe by no means win (ji) the dispute; overpowering, overcoming art thou; smite the dispute of (my) counter-disputant; make them sapless, O herb!
“The Eagle discovered (anu-vid) thee; the swine dug thee with his snout; smite the dispute, etc., etc.
” Indra put (kri) thee on his arm, in order to lay low (str) the Asuras : smite the dispute, etc. etc.
“With it will I ovei power the foes, as Indra did the Salavrikas; smite the dispute, etc., etc..
” O Rudra, thou of healing (?) remedies of dark (nila) crests, deed-doer! Smite the dispute, etc., etc.
“Do thou smite the dispute of him, O Indra, who vexes us (that is hostile to us, Bloomfield, op. cit., p. 187); bless us with abilities (sakti)); make me superior in the dispute.
II এবারের অথর্ব বেদের স্তবটা কৌশিতাকিতে ব্যবহার হয়েছে সাধারণ সভায় বক্তব্যে বিজয়ী হওয়ার উদেশ্যে
Let both Assembly (Sabha) and gathering (Samiti), the two daughters of Prajapati, accordant, favor me; with whom I shall come together, may he desire to aid (? Upa s’ ksh) me; may I speak what is pleasant among those who have come together, O Fathers.
We know thy name, O assembly ; verily sport (narishta) by name art thou; whoever are thine assembly-sitters, let them be of like speech with me.
“Of these that sit together I take to myself the splendor, the discernment (vijnana); of this whole gathering (samsad) make me, O Indra, possessor of the fortnne (bhagin),
“Your mind that is gone away, that is bound either here or there — that of you we cause to turn hither; in me let vour mind rest.”
III. (এই স্তবটা অথর্ব বেদ থেকে নেওয়া, সম্প্রীতিমূলক আচারের(rite for harmony) জন্যে তৈরি)
“We bend togrether your minds, together your courses, together your designs; Ye yonder who are of discordant courses, we make you bend (them) together here.
“I seize (your) minds with (my) mind; come after my intent with (your) intents; I put your hearts in my control; come with (your) tracks following my motion.
” Worked in for me (are) heaven and earth; worked in (is) divine Sarasvati; worked in for me (are) both Indra and Agni; may we be successful here, O Sarasvati.”
IV (এই স্তবকটি অথর্ব বেদ থেকে গৃহীত, ব্যবহৃত হয়েছে কৌশিতকীতে জাদুক্রিয়ার বিপরীত ক্রিয়ারূপে)
“What (witchcraft) they have made for thee in the assembly (sabha) — I take that back again.”
”I am overpowering, superior by name on the earth (bhumi); I am subduing, all-overpowering, vanquishing in every region.”
“What I speak, rich in honey I speak it; what I view, that they win (? van) me; brilliant am I, possessed of swiftness; I smite down others that are violent (? dodhat).
VII. (এই স্তবটি পৃথিবীসূক্তে উদ্ধৃত হয়েছে)
“What villages, what forest, what assemblies, (are) upon the earth (bhumi), what hosts, galherings — in them may we speak what is pleasant to thee.”
VIII. (এই স্তবটি ব্রাত্য সূক্ততে উদ্ধৃত এবং ব্রাত্যদের বিষয়ে) )
“1. He moved out toward the tribes,
ওপরে উদ্ধৃত স্তবকগুলি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত সভা, পরিষদ, সমিতি ইত্যাদির কার্যকলাপের ইঙ্গিতবাহী। আজ এই সঙ্গঠনগুলির চরিত্র এবং কার্যকলাপের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। VII থেকে আন্দাজ করতে পারি এটিতে খুব বড় জমায়েতের (Vis) কথা বলা হয়েছে এবং বৈদিক যুগের শেষ সময়ে যখন ব্রাত্য সূক্ত লেখা হচ্ছে, তখনও এদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল।
আমরা দেখালাম, প্রাচীন ভারতে সমিতি/পরিষদ/সভা ইত্যাদি রাজনৈতিক প্রশাসনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। VIII থেকে আন্দাজ করতে পারি এই বিষয়টা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়েছিল যে সমিতি ছাড়া রাজার অস্তিত্বই ভাবা যেত না। জঙ্গলের কথা উঠলে যেমন ষাঁড়ের কথা মনে পড়ে, সোমরসের সঙ্গে যেমন মাটির আধারের যোগ থাকে, বলির সঙ্গে যেমন পুরোহিতের যোগ থাকে তেমনি রাজার সঙ্গে জুড়ে থাকত সমিতি। অন্য ভাষায় বলতে গেলে সমিতিই ছিল মূল কারক, যাকে ছাড়া রাজকীয় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কথা ভাবা যেত না।
এই প্রেক্ষিতে সে সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং স্তব করার জন্যে সমিতিকে চরম পবিত্রতার মর্যাদা দেওয়া হত। সমিতির পক্ষে বলি দেওয়া হত, (Hillebrandt’s Vedische Mythologie, 2, 123-125) যেহেতু অগ্নি ছিলেন সমিতির পৃষ্ঠপোষক দেবতা তাই তাকে শ্রদ্ধা সহকারে আমন্ত্রণ জানানো হত। ঋগ্বেদের শেষ স্তবটি ছিল সমিতির অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য প্রকাশের মাধ্যম
Assemble, speak together : let your minds be all of one accord,
As ancient Gods unanimous sit down to their appointed share.
The place is common, common the assembly, common the mind, so be their thought united.
A common purpose do I lay before you and worship with your general oblation.
One and the same be your resolve, and be your minds of one accord.
United be the thoughts of all that all may happily agree.
এই ধরণের স্তব সমিতিতে একযোগে, একস্বরে প্রার্থনার মত করে গাওয়া হত। সে সময় সমিতির বৈঠকগুলিতে মৌখিক বিতণ্ডা আর বিতর্কের গুণমান যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তার পরের সময়ে আর সেইভাবে জনসভায় বিতর্ক আর বিরোধিতার মান বজায় রাখা যায় নি। উল্লিখিত উদাহরণের সূত্রে আমি বলতে পারি, সমিতিগুলোয় যে ধরণের আলোচনা আর বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সে সময়ের সারা বিশ্বের সাহিত্য খুঁজলেও সে নমুনা আর একটাও মিলবে কি না সন্দেহ। সমিতির বক্তৃতায় প্রথম স্থান অধিকারের জন্যে বৈদিক যুগে সর্বশক্তিমানের উদ্দেশ্যে পবিত্র প্রার্থনা করা হত। এই উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে বিশ্বের কোথাও বোধহয় এই ধরণের বিস্তৃত ধার্মিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হত না। বৈদিক ভারতের বিশালকায় মহান রাজনীতিবিদেরা সাফল্যের জন্য শুধুই সর্বশক্তিমানের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতেন না। জাদুমন্ত্র এবং জাদুকর্ম উতসাহভরে আবিষ্কৃত হল, এবং একই উদ্দেশ্য সাধনে সে সব ব্যবহারও হতে থাকল। জাদুমন্ত্রের কর্মক্ষমতার ওপর বিশ্বাস, পাল্টা-জাদুমন্ত্রের আবিষ্কার, তাবিজ, কবচ, গাছের শেকড় চিবোনো, পাতার মালা পরা ইত্যাদি আচার আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে শেকড় গজাতে থাকে এবং মানুষ প্রতিশ্রুত ফল পাওয়ার আশায় এই কাজগুলি করে চলে। মানুষের মনের বিশ্বাসযোগ্যতা যাই হোক না কেন তারা রাজনীতিটাকে খুব গুরুত্বসহকারে নিয়েছিল এটা পরিষ্কার। বৈদিক ভারতের চরিত্রটাই ছিল তীব্র সক্রিয় জনজীবন এবং প্রাণবন্ত রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্ম।
প্রাচীন ভারতের সমবায়িক রাজনৈতিক সংগঠনের একটা স্থায়ী চরিত্র আমাদের অকুণ্ঠ তারিফ কুড়োয় — সেটা হল বিতর্কের আধিপত্য। সমিতিবদ্ধতাকে সাধারণত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষ, নিজেকে সমিতিগুলোর কাজকর্মে সক্রিয় রাখত; তো সমিতিবদ্ধতাকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্দেশ্য পূরণের একটাই সম্মানজনক পথ ছিল, সেটা হল সমিতির সদস্যদের নিয়মিত বিতর্কে অবতীর্ণ হতে প্রণোদন দেওয়া, বিতর্কের আধিপত্যকে প্রাধান্য দেওয়া। প্রার্থনা, অনুষ্ঠান, মন্ত্রতন্ত্র, পাল্টামন্ত্রতন্ত্র ইত্যাদি সব ব্যবহার করা হত আরও ভাল, আরও গুণমানে সমৃদ্ধ বক্তব্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে, নিজের জোরালো বক্তব্য পেশ করে অন্যজনের বক্তব্যকে খণ্ডন করতে, বক্তব্য তুলে ধরে উপস্থিত সদস্যদের প্রভাবিত করতে, বিপরীত ধারণা যারা পোষণ করেন তাদের স্বমতে টেনে আনতে। রাজনৈতিক নেতাদের কৃতিত্ব হিসেবে বলা যায়, সমবায়িক জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়েও তারা সভা/সমিতি/পরিষদের স্বাধীনতা স্বতন্ত্রতা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন এবং এই সমিতি ইত্যাদি সমূহতে যারা আলো করে বসতেন, তাদের সততা, দায়িত্ববোধকে বন্ধু এবং শত্রু উভয়েই স্বীকার করতেন। এবং তারা জানতেন এই কাঠামো এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছে যার সামনে যুক্তি আর বিতর্ক বাধাহীনভাবে উপস্থাপন করা যায়। (চলবে)