| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (১৫নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৪১৭ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২

দ্বিতীয় অধ্যায়

রাজনীতিতে ব্যবসায়িক সংগঠন

আট

এতক্ষণ সমিতিগুলি নির্বাচনের বিশদ ধারা থেকে আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যায় গ্রাম সভার চূড়ান্ত গণতান্ত্রিকতার চরিত্রটি। সমবায়িক সংগঠনের কাজকর্ম পরিচালনা করত সমিতিগুলি এবং এর ফলে দুর্নীতি রুখতে নানান সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনপ্রিয় এবং গণতান্ত্রিক সংগঠনের নানান স্বাভাবিক শয়তানিগুলি দূর করা হত তার মর্ম আর প্রাণশক্তিকে ক্ষুণ্ণ না করে। আজ আমরা বলতে পারি অসামান্য বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শিতা অবলম্বন করে সংবিধানের ধারাগুলি তৈরি করা হয়েছিল। আলোচিত ধারাগুলির কয়েকটি আমাদের অকুণ্ঠ প্রশংসাবাক্য আদায় করে নেয়। যদিও সমিতিতে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত হিসেবে অধিকাংশ গ্রামীনেরই এক ভেল্লির একচতুর্থাংশ রাজস্ব আদায়ী জমি ছিল, তেমনি ব্যতিক্রমী শিক্ষিতদেরও সমিতিতে সদস্য নেওয়া হত। (g) ধারায় বলা হয়েছে বিগত তিন বছর যারা কোনও সমিতিরই সদস্য হতে পারে নি, তারা মনোনীত হতে পারে — এর অর্থ প্রশাসকেরা প্রশাসনের কাজ প্রত্যেক গ্রামীনকেই সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। ফলে সদস্য নির্বাচনের কাজে যতটা সম্ভব দুর্ণীতির শেকড় বা প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা উপড়ে ফেলার চেষ্টা ছিল। এই সংবিধানকে আমরা সে সময়ের প্রজাতান্ত্রিক অথবা আধুনিক সময়ের রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করতে পারি।

গ্রাম সভার কাজকর্ম সম্বন্ধে আমরা একটা আন্দাজ পেতে পারি যদি আমরা একটি শিলালেখর তথ্যের সঙ্গে ওপরের ধারাগুলোর তুলনা করি; শিলালেখতে একটি চুক্তি বা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে যেখানে একজন গ্রামীন হিসেবরক্ষক গ্রাম সভাকে প্রতারণা করায় তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হছে এবং শাস্তস্বরূপ তার উত্তরপ্রজন্ম আর আত্মীয়দের আগামী দিনে এই কাজে আসার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।

গ্রাম সভার সদস্যদের ঋণের দায় সভার ওপর বর্তাত। প্রথম কুলতুঙ্গর (১১১৭-১৮) রাজত্বেএ ৪৮ তম বছরে একটি গ্রামের দুজনহিসেব রক্ষক ১১১৫-১৬ খ্রিঃর হিসেব করা ছেড়ে ব্যক্তিগত ধার শোধ না করে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। গ্রাম সভা তাদের অধিকারের জমি বিক্রি করে সেই ধার শোধ করে।

চোল রাজত্বের শিলালিপি থেকে আমরা গ্রাম সভার কাজকর্ম সম্বন্ধে জানতে পারি। এ বিষয়ে উত্তর আরকোট জেলার ব্রহ্মদেশম জেলা থেকে বেশ কিছু শিলালিপি উদ্ধার হয়েছে। তথ্য জানাচ্ছে এটি একটি অগ্রহর (অগ্রহর বা অগ্রহরম বিষয়ে সিন্থিয়া ট্যালবট প্রিকলোনিয়াল ইন্ডিয়া ইন প্রাকটিস সোসাইটি রেলিজিয়ান এন্ড আইডেন্টিটি ইন মেডিয়াভ্যাল অন্ধ্র বইতে লিখছেন — An Agraharam or Agrahara was a grant of land and royal income from it, typically by a king or a noble family in India, for religious purposes, particularly to Brahmins to maintain temples in that land or a pilgrimage site and to sustain their families) এবং সেখানে গণপেরুমাক্কাল অথবা গণভারিয়াপ্পেরুমাক্কাল নামে একটি গ্রাম সংগঠন বর্তমান। এগুলিতে গ্রাম সভা এবং তাদের কাজকর্ম বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এর অধীনে বেশ কিছু সমিতি কাজ করত। এগুলোর অন্যতম ছিল গ্রামের নানান বিষয় দেখাশোনা করা সমিতি গণভারিয়ম, অন্যটি মন্দির নজরদারি করার জন্যে কোয়িলভারিয়ম। মন্দিরের হিসেব রক্ষকের পদের নাম হল ত্রৈরাজ্যঘটিকামধ্যস্থ — ত্রৈরাজ্য নামক সংগঠনের মধ্যস্থ বা আর্বিট্রেটর। ১৯৪ নম্বর শিলালেখতে মহাসভাকে এবং সেই বছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণভিয়ারমের জনগণকে বিশ্বাস করে যে দানের তথ্য উল্লিখিত হয়েছে তাতে বলা হচ্ছে তারা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে শ্রদ্ধামন্তরা (যারা দান করতে ইচ্ছুক?) রাজার পক্ষে গ্রাম সভার প্রত্যেকের থেকে জরিমানা আদায় করবে। গ্রামসভা নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যস্থ নামের একটি সংগঠনকে যারা পুকুরের হিসেব রাখে। তাদের কাজ চালানোর জন্যে প্রতিদিন ৪ নাল্লি ধান পান আর প্রতি বছর ৭ কলঞ্জু নিখাদ সোনা আর এক জোড়া কাপড় দেওয়া হয়। সভার সামনে হিসেবে উপস্থিত করার আগে হিসেব রক্ষককে হাতে গরম লোহা ধরতে হত, তিনি যদি সুরক্ষিতভাবে গরম লোহা ধরতে পারতেন, তাহলে তাকে একচতুর্থাংশ উপরি (বোনাস) দেওয়া হত। কিন্তু তার হাত পুড়ে গেলে তাকে অন্য শাস্তি না দিয়ে ১০ কলঞ্জু সোনা নিয়ে নেওয়া হত। গণপেরুমাক্কাল মাঝেমধ্যে মন্দিরের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন In that capacity they once seem to have given an agreement that if they destroyed the gold that was assigned to the temple they would each pay to the Mahesvaras of the temple a tine of 24 kmiam.

নয়

গ্রামের জমির ওপর সর্বময় কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল গ্রাম সভা, কিন্তু গ্রামের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে তারা খুব একটা ধাক্কা দিত না। গ্রামে যর অনাদায়ি রাজস্ব রয়েছে সেগুলি আদায়ের দায়িত্ব ছিল তাদের ওপরে। আমরা তথ্য দিয়ে দেখাতে পারি, বকেয়া রাজস্ব আদায় না হওয়ায় গ্রাম সভার সদস্যকে জেল খাটতে হয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রামের কিছু ব্রাহ্মণ সদস্য ৮০ ভেলি জমি ২০০ কেসু দামে বিক্রি করে রাজস্ব শোধ করলেন।

তিরুভল্লম শিলালেখ থেকে পরিষ্কার মাঝেমধ্যেই গ্রামীন হিসাব রক্ষার কাজ রাজকীয় আধিকারিরা দেখাশোনা করতেন। উক্কলের ১২তম শিলালেখ এবং অন্যান্য তথ্য থেকে পরিষ্কার গ্রাম পরিচালনা আধিকারিকদের কাজের শিথিলতা ইত্যাদিতে গ্রাম সভা জরিমানা ধার্য করত। ৯৯৬ খ্রিঃর প্রথম রাজারাজা সময়ের শিলালেখতে একই বিষয় আরও বিশদে উল্লিখিত হচ্ছে। গ্রাম সভা তিরুবন-মহাদেবী-চতুর্বেদী-মঙ্গলম একটি শিবিরে মিলিত হছে, গ্রাম সভার সম্মতিতে, স্থানীয় মন্দিরের মঞ্জুরিতে এক ব্যক্তির জমি কেনার চুক্তিতে উপনীত হতে। বলা হল — The said assembly shall not levy any other tax than siddhay, dandaya and panchavara. It shall not be lawful for them to violate it or to levy any kind of tax such as sillirai which are not mentioned in the rates already fixed. In respect of this village the members of the ‘Tank Supervision Committee’’ and the ‘Village Supervision Committee’ and ‘the uramaiseyvar’ working for the year shall not receive any kind of payment in rice or paddy as amanji. Such of the members of the committee who misappropriated the collection of such taxes and signed the order for levying them shall be liable to pay a fine of twenty-five kalanju of gold which shall be collected by the devakanmis (i. e., the managers of the temple). Even after paying the fines, they (the members of the variyam), shall be liable to pay a fine to the Dharmmana (the Court of Justice) at the place they choose and at the rates fixed in the agreement. The accountant of the variyam who allowed the unlawful collection shall be asked to pay vetti. Those who say ‘nay’ to this order and those by whom they are so instigated shall be made to pay a fine of fifteen kalanju to the Dharmasana by the Devakanmis; and they shall thereafter be made to obey the same order.” তিরুমালাপুরম শিলালিপি আমাদের জানাচ্ছে গ্রাম সভা মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে তোলা রাজস্ব অপব্যবহার করায় মন্দির কর্তৃপক্ষ রাজাকে অভিযোগ জানালে রাজা গ্রাম সভাকে জরিমানা করেন। উল্টোদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনও কর্ম শিথিলতায় গ্রাম কর্তৃপক্ষ রাজাকে অভিযোগ জানাতেন।

গ্রাম সভার কিছু কিছু বিধি প্রণয়ন রাজার অনুমতি সাপেক্ষ ছিল। উত্তরমাল্লুর বিসধিতে বলা হয়েছে to this effect was the royal order received। উক্কলের ৯ নম্বর শিলালেখটি থেকে জানতে পারছি যে সব গ্রামীনেরা রাজস্ব দেয় নি তাদের জমি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের জন্যে গ্রাম সভার উদ্দেশ্যে রাজকীয় নির্দেশ জারি করা হয় (একই উদাহরণ আমরা পাচ্ছি G. Ep. E. 1910, p. 92 তে)। আবার গ্রাম সভার সংবিধান বদল করার জন্যে রাজকীয় নির্দেশ পঞ্জীকরণের আগে গ্রাম সভায় বিচারের জন্যে পাঠাতে হত। বীর রাজেন্দ্রর শিলালেখ আমাদের এই তথ্য দিয়েছে।

দ্বাদশ শতকের দুটি ত্রিভাঙ্কুর শিলালেখ থেকে গ্রাম সভার এই অধিকারের উদাহরণ পেয়েছি। ভেনাদের রাজকীয় আমলা কিছু ধানী জমি মন্দিরের দৈনন্দিন ভোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে দান করার শিলালেখ; দ্বিতীয়টির মর্ম কথা হল রাজকীয় আধকারিক আর জড়ো হওয়া গ্রাম সভার সদস্যদের চরিত্র। শিলালেখর পঞ্জীকরণের সূত্রে বলছে দান শর্তে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন এনে ধানী জমিটি মন্দিরের সেবকের অধিকারে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষে বলা হল তালাকুডি গ্রামের জনগণকে সাক্ষী রেখে এবং আমাদের স্বাক্ষর সহযোগে। এই দুটি শিলালেখর সম্পাদক মন্তব্য করেছেন — It is remarkable that the people of Talakkudi had the right to execute, and in a manner to ratify, the royal grant. The reservation as to minor charges and deductions, appearing in this (the latter) inscription but absent in the former, would point to certain cesses levied by village associations, on lands falling within their union (এটা আশ্চর্যের তালাকুডি গ্রামের জনগনের রাজকীয় নির্দেশ প্রয়োগের আগে সেটির সম্পাদনা করার অধিকার ছিল। দ্বিতীয়টিতে রাজকীয় নির্দেশে উল্লিখিত গ্রাম সভার দেয় কিছু শুল্ক দেওয়ার বিষয়টি সম্পাদনা করে বাদ দেওয়া হয় এবং সেই উল্লেখ প্রথম শিলালেখটিতে সেটি নেই)। ত্রানভাকুরের আরেকটি শিলালেখর মুখড়ায় (প্রিআম্বল) পাচ্ছি, রাজকীয় আমলা, গ্রাম সভার সদস্য এবং গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এই বিবৃতিটি গৃহীত হল। বেশ কিছু পাণ্ড্য শিলালেখ নিঃসন্দেহে প্রমান করে ভূমি দান, জমির রাজস্ব মুক্তি বিষয়ে রাজকীয় নির্দেশকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট জমির গ্রামের গ্রাম সভায় বিবেচনার জন্যে পাঠানো হত। রাজকীয় নির্দেশটি হাতে পেয়ে গ্রাম সভা একযোগে বৈঠক ডেকে সেই নির্দেশটি, একটি নিজস্ব নির্দেশবলে কার্যকর করে, কোনও কোনও সময় জমির সীমানা সে নিজেই নির্ধারণ করে।

অন্যান্য শিলালিপির সূত্রে প্রাচীন ভারতীয় রাজনৈতিতে গ্রাম সভার গুরুত্বটি বার বার উঠে এসেছে। তৃতীয় রাজারাজা চোল রাজকুমারের একটি নির্দেশ তার আধিকারিক মার্ফৎ গ্রাম সভা মুম্মাদ শোলাপূরমে পঞ্জিকৃত করিয়েছিলেন। পাণ্ড্য রাজা কুলিশেখরদেব, রাজকীয় নির্দেশ অনুসারে স্থানীয় মন্দিরের জন্যে দ্বিতীয় প্রাকার অথবা পাঁচিল তোলার জন্যে কয়েকটি বাড়ি দখলের নির্দেশনামা গ্রাম সভায় পঞ্জীকৃত করান। ১০৪৮ খ্রিঃতে প্রথম রাজাধিরাজের নথি বলছে নির্দিষ্ট একটি মন্দিরের কিছু জমি নিম্নতম রাজস্ব ধার্য করার জন্যে রাজকীয় সচিবের স্বাক্ষরসহ রাজকীয় নির্দেশ কার্যকর করতে রাজারাজা-চতুর্বেদী-মঙ্গলম গ্রাম সভাটি শহরের প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করতে একটি শিবিরে মিলিত হয়।

কিছু কিছু সময়ে গ্রাম সভার সদস্যরা জনকৃত্যের কাজে রাজার সঙ্গে খোলা দরবারে দেখা করতেন। কুলশেখ্রদেবের রাজত্বের পঞ্চম বছরে তিরুপুত্তুর গ্রাম সভার সদস্যরা রাজাকে সমান জানাতে যেতে চায় এবং এই যাত্রার জন্যে ব্যয়টি রাককীয় খাজাঞ্চিখানা থেকে বরাদ্দ করার অনুরোধ জানায়। যত্রাটি যতদূরসম্ভব পরিকল্পিত হয়েছিল কয়েকটি মন্দিরের জমিকে রাজস্বমুক্ত করার এবং ভাড়াদারদের থেকে ১২০ কাসু আদায়ের অনুরোধ করতে।

বহু শিলালেখ সূত্রে গ্রাম সভার সঙ্গে রাজার ঊষ্ণ সম্পর্কের বিষয়টি জানা যায়। রাজার প্রশস্তিতে জনৈক কবি একটি কাব্য রচনা করলে রাজকীয় নির্দেশে গ্রাম সভাকে সেই কাব্যটি পড়ে শোনানো হল এবং তার গুণাগুন সম্বন্ধে মত গ্রহণ করা হল। কবির কাব্যর গুণ সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে গ্রাম সভা কবিকে একট জমি উপহার দেয়। বহু শিলালেখতে রাজার স্বাস্থ্য কামনায় বা রাজার জয়ের উপলক্ষ্যে সভার পক্ষ থেকে জমি দান অথবা অন্যান্য ধর্মীয় বা দান কর্মের উল্লেখ পাওয়া যায়। আলানগুড়ি শিলালেখ থেকে জানছি, গ্রাম সভার খরচে রাজার পরিবারের এক সদস্যের স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যে একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। আরেকটি শিলালেখতে যুবরাজের সঙ্গে গ্রাম সভা একটি জল প্রকল্প উদ্বোধন এবং একইসঙ্গে দেবতা প্রতিষ্ঠাকর্ম সমাধা করে।

দশ

উক্কল শিলালেখ আমাদের গ্রাম সভার সাধারণ ক্ষমতা এবং কার্যাবলী সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা তৈরিতে সাহায্য করে। এই শিলালেখগুলো থেকে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে গ্রাম সভাগুলি চরমতম পরিপূর্ণনা লাভ করেছিল। দেশের সংবিধানের অত্যাবশ্যকীয় অংশ হসেবে তাদের দেখা হত এবং গ্রাম ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাদের হাতেই অর্পিত হয়েছিল। তাদের হাতে ছিল গ্রামের ভূমির সম্পূর্ণ অধিকার এবং একইসঙ্গে রাজার পক্ষে রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ অধিকারও তাদের ছিল। কোনও গৃহস্থ রাজস্ব শোধ না করতে পারলে তার জমিটি গ্রাম সমাজের সমুদায়ের অংশ হত এবং রাজস্ব উদ্ধারের জন্যে জমিটি যে হাতবদলও করতে পারত। আমরা পূর্বের দেখেছি গ্রাম সভার বিচারের অধিকার ছিল।

উক্কল শিলালেখগুলি সন্তর্পণে বিশ্লেষণ করলে গ্রাম সভাকে তার নির্দিষ্ট সীমান্তের মধ্যে একটি রাষ্ট্রের প্রায় সব কাজই সম্পাদন করতে হত। এটির অধিকারে সমবায়িক (সমূহ) সম্পত্তি ছিল যা সে জনকৃত্যের উদ্দেশ্যে যেমন সে সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ ছিল মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তার অধিকারে থাকা জমি বিক্রি করিতে পারত। যে কোনও রকম দানের জন্যে তাকে জনঅছি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। যে উদ্দেশ্যে দাতা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ, জমি বা ধান দান করছে, সেই জমার উদ্বৃত্তে/সুদে সেই নির্দিষ্ট কাজটি তাকে করিতে হত। শর্তগুলি ছিল ব্রাহ্মণদের খাওয়ানো, মন্দিরে চাল সরবরাহ, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ধান দেওয়া, ফুলের বাগান দেখাশোনা করা, ব্রাহ্মণদের জল এবং আগুন জ্বালানোর পাত্র সরবরাহ করা। গ্রাম সভা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, নির্দিষ্ট স্থান নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রির জন্যে উদ্দিষ্ট করতে পারত। গ্রাম সভা রাজস্ব ধার্য করতে পারত, এছাড়াও নির্দিষ্ট কোনও কাজ করার জন্যে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করত। গ্রামবাসীদের শ্রম দিতে বাধ্য করতে পারত। তাছাড়া কোনও কোনও সময় নিজের আওতার বাইরেও দূরের কোনও গ্রামের ওপর কর্তৃত্ব করিতে পারত। উক্কলে পাওয়া একটি শিলালিপিতে বলা হয়েছে পার্শ্ববর্তী ৩ কিমি দূরের কোনও একটি গ্রাম থেকে উক্কল গ্রামের একটি মন্দিরে প্রয়োজনীয় নানা কিছু সরবরাহের জন্যে সেই গ্রামের সমস্ত দেয় রাজস্ব এবং প্রথাগত বকেয়া সব মাফ করে দেওয়া হয়েছিল।

এগার

যোগাযোগের কাঠামো তৈরি করা এবং সেটি বজায় রাখার জন্যে এবং সেচ ব্যবস্থা তৈরি আর দেখাশোনা করা গ্রাম সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। একটি শিলালেখতে বলা হচ্ছে এক গ্রামেরে একটি রাস্তা জলে ভরে থাকে, সে রাস্তায় গরুও চলাচল করতে পারে না। গ্রাম সভা ঠিক করল পথটি চওড়া করতে তারা রায়তদের থেকে সংশ্লিষ্ট জমি কিনে নেবে। জমি কেনার জন্যে কত অর্থ রায়তদের দেওয়া যেতে পারে, সেটা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হল ‘বাগান দেখাশোনা করা সমিতিকে’।

বহু শিলালেখতে গ্রাম সভার সেচ ব্যবস্থা তৈরি করার উদাহরণ পাচ্ছি। ত্রিচিনোপল্লী জেলার একটি তথ্য থেকে পাচ্ছি পলি তোলার জন্যে একটি গ্রাম সভা পরিকল্পনা গ্রামের মানুষের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। পুকুর থেকে প্রতিদিন ১৪০ বস্তা কাদা তুলে সেটি বাঁধে ফেলার কাজ শুরু হয়। এই কাজে যুক্ত ছিলেন ৬ শ্রমিক, ১ জন করে নজরদার, সূত্রধর, কামার এবং ধীবর যাদের এই কাজের বদলে নির্দিষ্ট পরিমান ধান দেওয়া হয়। শিলালেখতে ব্যক্তি জনগণের দানে পুকুরের পাঁক পরিষ্কার করে বাঁধে জমা করার কাজ করা হত গ্রাম সভার পক্ষ থেকে। একটি ক্ষেত্রে দেখতে পাই এই কাজ সমাধা করতে জনৈক ব্যক্তির দানে আপ্লুত হয়ে একটি গ্রাম সভা তার বড় পরিমান রাজস্ব মকুব করে দেয়। পাঁক তোলার জন্যে দ্বিতীয় নৌকো দান করার উল্লেখ রয়েছে। আরেকটি শিলালেখতে উল্লিখিত হয়েছে উত্তরামাল্লুরের গ্রাম সভা স্থানীয় পুকুর হেকে প্রতি মাসে পাঁক তোলার কাজ করার শর্তে দান পেয়েছিল।

ব্যক্তিগত দান ছাড়াও এরিপাত্তি নামক রাজস্ব পুকুর দেখাশোনার কাজে লাগানো হত। এছাড়াও এরি-আয়াম নামক রাজস্ব একই কাজে ব্যবহার করার জন্যে আদায় করা হত। দশক খ্রির একটি চোল রাজত্বের একটি শিলালিপিতে বলা হয়েছে গ্রামীনেরা পুকুরের পাঁক তোলার কাজে চাঁদা দিতে সম্মত হয়েছে। ‘পুকুর দেখাশোনা করা সমিতি’ গ্রামীনদের ওপরে শুল্ক বরাদ্দ করে বার্ষিকভাবে পুকুরের পাঁক তোলার কাজে হাত দিতে সম্মত হল।

এছাড়াও ব্যক্তিগত দান আর সাধারণ রাজস্ব আদায় ছাড়াও সেচ ব্যবস্থায় গেয়াম সভা নানানভাবে অর্থ জোগাড় করে পুকুর নবীকরণ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। একটি চোল শিলালিপি থেকে আমরা দেখি গ্রাম সভা জনৈক ব্যক্তির থেকে ১০০ কাসু দান পেয়েছিকেন শিব ধর্ম প্রচার এবং মন্দিরে নিয়মিত পুজোপাঠের জন্যে। তারা এই অর্থ ব্যয় করেছিল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেচ ব্যবস্থা সারিয়ে তোলার জন্যে। অন্য শিলালিপি থেকে পাচ্ছি, কয়েকজন রায়ত সময়মত তাদের জমির বকেয়া বরাদ্দ রাজস্ব দিতে অপারগ হয়। গ্রাম সভা তাদের বরাদ্দ শোধ করে তাদের জমি দখল করে তিন বছর ধরে একটি পুকুর খোঁড়াবার পরিকল্পনা করে। রায়তেরা যদি ঠিক সময়ে তাদের বকেয়া বরাদ্দ শোধ না করে তাহলে তারা জমিটি কোনও পুকুর কাটিয়েকে বিক্রি করে বকেয়া রাজস্ব উদ্ধার করিবে।

সেচের কাজে জমি দখল নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার গ্রাম সমাজের ছিল; আমরা শিলালেখতে দেখছি গ্রাম সভা যে পুকুর কেটেছিল তার আশেপাশের জমি সে দখল নেয়।

ওপরে যে সব কাজকর্ম আলোচনা করলাম সেগুলো মূলত ‘পুকুর দেখাশোনা করা সমিতি’ নজরদারি করত। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev