| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (১৯নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩৪৯ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

তৃতীয় অধ্যায়

রাজনৈতিক জীবনে সমবায়িক কাজকর্ম

তিন

লিচ্ছবি গোষ্ঠী ছাড়াও ছিল শাক্য গোষ্ঠী। শাক্য গোষ্ঠীর সংবিধানের একাংশ আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি। অধ্যাপক রিজ ডেভিস এবিষয়ে একটি নোট লিখেছেন। তিজ ডেভিসের বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার তুলে দেওয়া গেল —

The administrative and judicial business of the clan was carried out in public assembly, at which young and old were alike present, in their common mote-hall (santhagara) at Kapilavastu. It was at such a parliament, or palaver, that King Pasenadi’s proposition was discussed. When Ambattha goes to Kapilavastu on business, he goes to the mote-hall where the Sakiyas were then in session.

“A single chief — how, and for what period, chosen, we do not know — was elected as officeholder, presiding over the sessions, and, if no sessions were sitting, over the state. He bore the title of raja which must have meant something like the Roman Consul, or the Greek Archon… We hear at one time that Bhaddiya, a young cousin of the Buddha’s, was the raja and in another passage, Suddhodana, the Buddha’s father (who is elsewhere spoken of as a simple citizen, Suddhodana the Sakiyan), is called the raja.

শাক্যদের নিয়ে অধ্যাপক রিজ ডেভিসের এই মন্তব্যে কয়েকজন পণ্ডিত গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছেন। ওয়েটার মনে করেন কপিলাবস্তু এবং তার আশেপাশের অঞ্চল কোশল রাজত্বের অংশ ছিল। ফলে রিজ ডেভিসের শাক্য রাজা এবং শাক্য রাজত্ব বিষয়ে আলাদা অস্তিত্ব উল্লেখের ভিত্তি নেই। আমি যতদূর জানি এই দৃষ্টিভঙ্গী সমর্থন পেয়েছে একটিমাত্র তথ্যে, সেটি হল কোশল বিষয়ে ‘অনপবত্তিত্থন’ (Anapavattitthana) নামক একটি শব্দ সূত্রে। বদ্ধশাল জাতকের (No. 465, IV. 145) মুখবন্ধের গল্পে শাক্য রাজত্বের ভৌগোলিক অঞ্চল বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শব্দটি স্বয়ং শাক্যরা ব্যবহার করেছে। এই প্রকাশভঙ্গীটির আদত তাতপর্য আজ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ওল্ডেনবার্গ মনে করেন এই শব্দের মাধ্যমে শাক্যরা কোশল রাজত্ব থেকে কিছু সাম্মানিক বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছে। শব্দটার মানে যাই হোক না কেন, জাতকে স্পষ্ট বলা আছে, কপিলাবস্তু কোশল রাজত্ব সীমান্তের বাইরের রাজত্ব ছিল। ঠিক যে জন্যে আমাদের বলা হচ্ছে, বিদুদাভ শাক্যদের ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করলে বুদ্ধ স্বয়ং কপিলাবস্তুর দিকে পদব্রজে যান এবং শহরের বাইরে গাছের তলায় অবস্থান করেন। ‘বিদুদাভর রাজত্বের বাইরে বিশাল এক ছায়া দেওয়া বট গাছের অস্তিত্ব ছিল’ — এই নির্দিষ্ট বাক্য থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি যে শাক্যরা কোশল রাজত্বের সীমান্ত ছুঁয়ে থাকলেও কোশল প্রশাসনের আওতার বাইরে ছিল।

রিজ ডেভিসের তত্ত্বের আরেকটি আপত্তি ছিল শাক্যদের সংবিধান বিষয়ে। অধ্যাপক ডি আর ভাণ্ডারকর স্পষ্টভাবে বলছেন অন্যান্য সাধারণ রাজত্বের মতই শাক্য রাজত্ব,বংশপরম্পরার রাজবংশ দ্বারাই শাশিত হত। বলা দরকার জাতকের মুখড়ার যে আখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে শাক্যদের সংবিধান লিচ্ছবিদের মত ছিল না। কুনাল জাতকে (No. 536, V, 412 ff) শাক্যদের সঙ্গে অন্যান্য প্রতিবেশী রাজত্ব কোলিয়দের দ্বন্দ্বের সংবাদ পাচ্ছি। সামগ্রিক বিষয়টা পর্যালোচনা করে আমরা বুঝতে পারছি শাক্যরা যে নীতিতে শাসনকর্ম চালাত, তার সঙ্গে লিচ্ছবিদের শাসনকর্মের খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। দুপক্ষের রোহিনী নদীর জল সেচের কাজে ব্যব্যহার করতে চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠলে, এই বিষয়ে শাক্যরা বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে তারা রাজা (বা রাজপরিবারের) —

সঙ্গে কথা বললেন। ঝামেলার সমাধান হল স্পষ্টতই রাজাদের সিদ্ধান্ত মার্ফৎ — ঠিক হল যুদ্ধ হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাক্যরা তৈরি হল যুদ্ধের জন্যে। এখানে রাজাদের সংখ্যা বলা হয় নি, কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার ২৫০ রাজকুমার বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

এই সূত্র ছাড়াও, বহু পারিপার্শ্বিক ঘটনায় শাক্য প্রধানদের প্রত্যেককে রাজা নামে অভিহিত করা হয়েছে ‘মহান শক্তিশালী রাজাগণ, আপনারা এখানে কেন এসেছেন’? বুদ্ধ প্রশ্ন করলেন। এবং আমরা আমরা আবার একটা শব্দবন্ধ দেখলাম Becoming believers the kings said, etc.। সমুদ্দবাণিজ্য জাতকে (No. 466, IV, 158) দেবদত্ত দুঃখ করছে, শাক্যদের সমস্ত রাজা

তাকে ত্যাগ করেছে। একইভাবে আমরা বুদ্ধশাল জাতক থেকে জানছি রাজা পসেনাদি দূত পাঠিয়ে শাক্য গোষ্ঠীর যে কোনও একজনের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছেন। এখানেও কোনও একজন রাজার নাম প্রস্তাবিত হচ্ছে না কিন্তু। প্রস্তাব পেয়ে শাক্যরা একজোট হয়ে আলোচনা শুরু করে। এখানে আবারও কোনও একজন রাজার নাম এল না। দীর্ঘদিনের পরম্পরার প্রথা অনুযায়ী কোনও একজন রাজা যদি অন্য রাজার কাছে দূত পাঠান, এবং এখানে কোনও রাজার নাম উল্লেখ না থাকার স্পষ্টতম অর্থ আমরা করতে পারি যে রাজা বলে রাজা প্রসেনজিত যে রাজকীয় কাঠামো বুঝতেন, সে রকম কোনও রাজকীয় কাঠামোর অস্তিত্ব শাক্য রাষ্টড় ব্যবস্থায় মধ্যে ছিল না, তাই কোনও রাজার নাম নেওয়া হয় নি। তবে সত্য, ‘বাসবা খত্তিয়’ (Vasabha Khattiya) জন্মেছিলেন দাসীর গর্ভে এবং কোশলের রাজাকে মহানামার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে ‘শাক্য রাজার কন্যা’রূপে; কিন্তু মহানামাকে অন্য এক জায়গায় পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে শুধুই ‘শাক্য মহানামা’ হিসেবে এবং বাসবা খত্তিয় পুত্রকে বলছেন ‘পুত্র, তোমার মহান পূর্বজরা শাক্য রাজা ছিলেন’। যুবক শাক্যদের যুবরাজ হিসেবে অভিহত করা হচ্ছে।

এতক্ষণ যে সব সূত্র আলোচনা করলাম, সে সবে শাক্য গোষ্ঠীর সংবিধান নিয়ে বিস্তৃত ধারণা পাওয়া সম্ভব না হলেও আমার মনে হয় অধ্যাপক রিজ ডেভিস শাক্যদের যে অরাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার তত্ত্ব দিয়েছেন, সেই তত্ত্বকে মেনে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে অধ্যাপক ডি আর ভাণ্ডারকরের সিদ্ধান্ত ‘ভদ্দিয়’ (Bhaddiya) ‘শাক্য রাজা’ (Sakya-raja) হিসেবে অভিহিত হচ্ছেন এবং তাঁকে বংশ পরম্পরায় রাজা হিসেবে গণ্য হচ্ছেন, তাঁর এই মতবাদ মেনে নেওয়া কঠিন। জাতক থেকে ওপরে পেশ করা উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে লিচ্ছবিদের মতই শাক্য গোষ্ঠীর বহু রাজা ছিল এরা যতদূরসম্ভব প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ সভার সদস্য ছিলেন। আমরা প্রশাসনিক আধিকারিকদের ‘উপরাজনো’ (uparajano) বা viceroys নামক পদাধিকারীর উদাহরণ পাচ্ছি এবং হয়ত লিছবিদের রাজাদের মতই শাক্যদের রাজারাও ছোট ছোট প্রশাসনিক এককের প্রধান ছিলেন। ফলে আমাদের হাতে যতটুকু প্রমান আছে, সেই সূত্রে আপাতত মেনে নিছি লিচ্ছবি আর শাক্যদের অনেকটাই একই ধরণের সংবিধানের অস্তিত্ব ছিল।

বৌদ্ধ এবং জৈন সাহিত্যে বা শাস্ত্রে যে সব গোষ্ঠী বা গোত্রের নাম পাচ্ছি তাদের সম্বন্ধে বিশদে কোনও বিবরণ পাচ্ছি না। হয়ত তারা একই রকমের গণতান্ত্রিক ধারায় শাসিত হতেন এবং তারা অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। অজাতশত্রুর মন্ত্রীদের সম্বন্ধে বুদ্ধদেবের মন্তব্যে আমরা লিচ্ছবিদের অন্তর্নিহিত শক্তির আন্দাজ করতে পারি। একাপন্ন জাতকের Ekapanna-Jataka (No. 149, 1, 504) আখ্যান থেকে আন্দাজ পারি যে ‘প্রাচীন যুগে বৈশালীর অভূতপূর্ব স্বচ্ছলতার বিকাশ ঘটেছিল। শহর জুড়ে তিনিটে ধাপের পাঁচিল দেওয়া হত — প্রত্যেক দেওয়ালদের মধ্যে বেশ দূরত্ব রাখা ছিল এবং একটা প্রাচীর থেকে থেকে অন্য প্রাচীরে পৌঁছতে নজরদারি মিনার সহ তিনটে আলাদা আলাদা দরজা পেরোতে হত’। আগেই দেখিয়েছি লিচ্ছবি জনগণের বিষয়ে বুদ্ধদেব অসামান্য প্রশংসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ছিল এই রাষ্ট্রগুলির মূল সমস্যার কারন। এবং গোত্রগুলোর প্রধানদের মধ্যে তীব্র অনৈক্যকে হাতিয়ার করে কিন্তু বৈশালী দখল নিলেন অজাতশত্রু এবং এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটবে অন্যন্য রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে।

বৌদ্ধ সাহিত্য এবং শাস্ত্র প্রমান প্রাচীন ভারতে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি ছিল একক রাজা নিরপেক্ষতা। এগুলোর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল সর্বোচ্চ নীতি নিয়ামক সমিতির সর্বাধিক গুরুত্ব অর্জন এবং এরা রাজধানীতে নিয়মিত Santhagara-এ বৈঠক করতেন। আমরা আগেও দেখিয়েছি বুদ্ধদেব এই গণতান্ত্রিক নীতির কয়েকটি সংঘ পরিচালনায় অন্তর্ভূক্ত করিয়েছিলেন। বৌদ্ধ সাহিত্যে সংঘ পরিচালন ব্যবস্থা বিষয়ে বিশদে আলোচনা রয়েছে এবং কীভাবে ধর্মীয় সঙ্গীতি এবং অন্যান্য বৈঠকগুলি আয়োজিত এবং নির্দেশিত হবে সে বিষয়ে বিশদে পথনির্দেশ আলোচিত হয়েছে।

বহু বছর আগে অধ্যাপক ওল্ডেনবার্গ এ পদ্ধতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নির্ণয় করেছিলেন। কে পি জয়সোয়াল পদ্ধতিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি এই আলোচনা থেকে রাজা নিরপেক্ষ রাজ্যগুলোর সংবিধান বিষয়ে বিশদ তথ্য উদ্ধার করেছেন। তিনি বলছেন, ‘We may safely accept the procedure followed at the deliberations of the Buddhist Saihffha as identical with that observed by its parent, the political Samgha, in its main features. অধ্যাপক ডি আর ভাণ্ডারেকর জয়সোয়ালের এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন এবং জয়সোয়ালের বক্তব্যকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে বলছেন বুদ্ধদেব কখনোই জ্ঞাপ্তি (jnapti), প্রতিজ্ঞা ইত্যাদি টেকনিক্যাল টার্মস, লব্জ ব্যবহার করা থেকে বিরত হন নি, হয়ত তার সময় যাদের জন্যে তিনি এই শব্দগুলো ব্যবহার করছেন, সে সবের অর্থ মোটামুটি সকলেই জানা ছিল।

যুক্তিটা কতটা অকাট্য সে বিষয়ে আরেকটু আলোচনা করা যাক। আমরা জানি বৌদ্ধ শাস্ত্রগুলো বুদ্ধদেবের মৃত্যুর দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরে লেখা শুরু হয়। শাস্ত্রগুলোতে নানান টেকনিক্যাল টার্মস এই সময়ের মধ্যে বার বার ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষোজ্ঞরা মনে করছেন শব্দগুলোর অর্থ সে সময় এতই পরিচিত ছিল যে এগুলির মানে আলাদা করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন অনুভূত হয় নি। তবে এই শব্দগুলো বৌদ্ধ শাস্ত্রে কোনও সময়েই ব্যাখ্যা করা হয় নি এই ধারণাটাও ঠিক নয়। যদিও কোনও যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া হয় নি কিন্তু জ্ঞাপ্তি সামগ্রিক পদ্ধতিটি এবং তার সামগ্রিক পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হয় প্রথম ইনিসিয়েশন সেরিমনির সুযোগেই।

মহাগ্‌গ I, 12 থেকে জানতে পারি প্রাথমিকভাবে পবজ্জা pabhajja এবং উপসম্পদা uimsampada আচারগুলি, ত্রিসংঘের শরণ নিয়ে তিনবার প্রখ্যাত মন্ত্র বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধম্মং শরণং গচ্ছামি, সংঘং শরণং গচ্ছামি উচ্চারণ করা ব্যক্তিকে দেওয়া হয়।

পরের দিকে নির্দিষ্ট একটি ব্রাহ্মণ বিষয়ে বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব বলেন, ‘I abolish, Bhikkhus, from this day the Upasampada ordination by the three-fold declaration of taking refuge, which I had prescribed. I prescribe, Bhikkhus, that you confer the Upasampada ordination by a formal act of the Order in which the announcement (nattti) is followed by three questions.

And you ought, O Bhikkhus, to confer the Upasampada ordination in this way: Let a learned competent Bhikkhu proclaim the following mtti before the Saihgha

‘Let the Samgha, reverend Sirs, hear me. This person N. N. desires to receive the Upasampada from the venerable N. N If the Samgha is ready, let the Saihgha confer on N. N. the Upasampada ordination with N. N. as Upajjhaya. This is the natti.

Let the Samgha, reverend Sirs, hear me. This person N. N. desires to receive the Upasampada ordination from the Venerable N. N, The Samgha confers on N. N. the Upasampada ordination with N. N. as Upajjhaya. Let any one of the venerable brethren who is in favour of the Upasampada ordination of N. N. with N. N. as Upajjhaya, be silent, and any one who is not in favour of it, speak.’

‘And for the second time I thus speak to you: Let the Samgha, etc. (as before). And for the third time I thus speak to you; Let the Samgha, etc.

N.N. has received the Upasampada ordination from the Samgha with N. N. as Upajjhaya. The Samgha is in favour of it, therefore it is silent. Thus I understand.” (S. B. E., XIII, pp. 169- 170.)

এটাই হল পদ্ধিতিটির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা। তিনি যে ব্যখ্যা দিয়েছেন সেটি বুঝতে কষ্ট হয় না। যে ব্যক্তি এই বিষয় সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র পরিচিত নয়, প্রথমবার শুনছে, তারও বিষয়টা বুঝতে অসুবিধে হওয়া উচিত নয়। আমরা যদি ধরেই নিই যে বুদ্ধদেব এই সব কাঠামো এবং আচার ব্যবহার সে সময়ের কোনও রাষ্টড় ব্যবস্থা থেকে নকল করেছেন, তাহলে নিশ্চই তিনি বিষয়টা সংক্ষিপ্তভাবে কোথাও না কোথাও বলে যাবেন। আবারও মহাভগ্‌গ IX, 3 সূত্রে বুদ্ধদেবকে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নকল করতে দেখি না বরং সামগ্রিক পরিচালন পদ্ধতি নির্ণয় করতে দেখছি। ফলে বুদ্ধদেব যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন, সেগুলো দেখিয়ে বলা যাবে না সেগুলো সেই সময়ে কোনও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কার্যকর ছিল এবং বিশেষ কোনও এক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে তিনি সেই নিয়ম নীতিগুলো নিজের সংগঠনের জন্যে নকল এবং প্রয়োগ করেছেন। কে পি জয়সোয়াল তাঁর তত্ত্বের সমর্থনে অন্য একটি উপপাদ্য উপস্থিত করে বলছেন ‘বৌদ্ধ সংঘ [পরিচালন ব্যবস্থা] সে সময়ের প্রজাতন্ত্রগুলোর সংবিধান থেকে নকল করেছিল’। কিন্তু আমরা সাধারণভাবে বিশ্বাস করি, বুদ্ধদেব, সংঘ তৈরি করার মুহূর্তে সে সময়ে বিকশিত প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যবস্থায় অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি এই সব প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে উদেশ্যপূর্ণভাবে সংবিধান নকল করেছিলেন, অথবা এই সব রাষ্ট্রের সাধারণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরের কোনও কিছু তিনি গ্রহণ করেছিলেন এই বক্তব্য অতিরঞ্জিত। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev