| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (২১নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২২০ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২

তৃতীয় অধ্যায়

রাজনৈতিক জীবনে সমবায়িক কাজকর্ম

পাঁচ

এর আগে শ্রেণী সংঘ বা সমবায়িক সংঘের যে তালিকা দিয়েছি সেটা সাজেস্টিভ তালিকামাত্র। আগের তালিকার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে জুড়তে হবে পূর্ব দেশের ব্রিজিক, লিছবিক, মল্লক, মধ্য অঞ্চলের কুরু, পাঞ্চাল, উত্তর পশ্চিমের মদ্রক, উত্তর ভারতবর্ষের দক্ষিণ পশ্চিমে কুরুর রাষ্ট্রগুলোর নাম। এই বিশদ তালিকা থেকে প্রমান হয় মৌর্য যুগের শুরুর সময়ে উত্তর ভারতের অধিকাংশ এলাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অধীনে ছিল। এই সমবায়িক সমাজগুলির বিপুল ক্ষমতা কৌটিল্যকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছে। তিনি বলছেন, যে কোনও রাজার কাছে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা, কূটনৈতিক বন্ধুত্ব অথবা বাণিজ্য থেকে আসা বিপুল লাভের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বের ছিল সমবায়িক সমাজের/সভার সঙ্গে জোট বাঁধা বন্ধুত্ব। ভারতবর্ষ নিয়ে সমসাময়িক গ্রিক লেখকদের মন্তব্য কৌটিল্যের বক্তব্যকে সমর্থন করে।

অপ্রতিরোধ্য সাম্রাজ্যবাদের অগ্রগতি, খুব কম সময়ের মধ্যেই এই সমবায়িক সমাজের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শেষ রেশটুকুও ধরাধাম থেকে মুছে দেবে। মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং কূটনীতিতে মেকিয়াভেলির সমকক্ষ মন্ত্রী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ধ্বংস করার রাস্তা দেখাবেন তার অসামান্য রাজনৈটিক-কূটনৈতিক প্রতিভা প্রয়োগ করে। মাথায় রাখতে হবে, কেন্দ্রিভূত সাম্রাজ্যের অস্তিত্বের সঙ্গে পাশাপাশি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাজ্যগুলোর টিকে থাকার ভাবনা রাজনৈতিকভাবে অবাস্তব। কৌটিল্য সুচতুর কৌশলে এবং বলপ্রয়োগে গণতান্ত্রিক রাজ্যগুলির বিলয় নিশ্চিত করলেন।

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের একটি অধ্যায় সংঘ। এর থেকে বোঝা যায় তিনি গণগুলো ধ্বংসের কাজে কতটা গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। অধ্যায় পাঠ করলে মালুম হবে কী সুদৃঢ় সঙ্কল্প এবং অসামান্য অবিচলিত অবিরাম উদ্যমে সঙ্ঘগুলো ধ্বংস করে তিনি রাজতন্ত্রকে জোরদার করার উদ্দেশ্যপূরণে ব্রতী হয়েছিলেন। গৌতম বুদ্ধ সংঘ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘সমবায়িক সমাজের/সংঘর জোরের জায়গা হল সদস্যদের নির্বিকল্প অটুট ঐক্য’। কৌটিল্য প্রবল রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিষয়ে বুদ্ধদেবের মৌল বক্তব্যটুকু আত্মস্থ করে বুঝলেন এই একটি সূত্র অবলম্বন করেই সংঘের ঐক্যে ফাটল ধরাতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সমস্ত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং কূটনৈতিক চাতুর্য প্রয়োগ করে সমবায়িক সমাজের মধ্যে একতা ভেঙে সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করলেন এবং তাদের দৃঢ়বদ্ধ একতার রাজনীতিকে উদ্দেশ্যমূলকপরিকল্পনা রচনা করে পরাজিত করলেন। কৌটিল্য দক্ষ সুশিক্ষিত চর বাহিনীকে নিয়োগ করলেন তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে। সভার সদস্যদের মধ্যে নানানভাবে প্রভাব সৃষ্টি করতে চরেদের নিয়োগ করলেন যাতে তারা ঈর্ষা, ঘৃণা ছড়িয়ে সদদ্যদের মধ্যে বিভেদের পরিবেশ তৈরি করে পরিকল্পনামাফিক অনৈকের জমি তৈরি করে। চরেদের কাজ হল গোপনে, আড়ালে-আবডালে নানান ধরণের বিভেদকামী অনৈক্যের বীজ বপন করে চলা। সুপ্রশিক্ষিত চরেরা সভার এক সদস্যর বিরুদ্ধে অন্য সদস্যকে উসকে, উভয়ের মধ্যে স্থায়ী ঝগড়াঝাটির পরিবেশ তৈরি করল; যাতে সে আগুন সহজে না নেভে — তারও ব্যবস্থা করা হল; শিক্ষকদের চর হিসেবে নিয়োগ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জ্ঞান বিজ্ঞান জ্ঞানচর্চা খেলাধুলোর প্রতি কিশোর যুবাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অনাস্থার ভিত্তি তৈরি হল; পানশালায়, নাট্যগৃহতে আসা সভার হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষনেতা দুর্ণীতি পরায়ণ সভাসদ নেতাদের কাজকর্মের তুমুল প্রশংসা শুরু করলেন যাতে পরস্পরের মধ্যে অনৈক্যের বিভেদ বাড়ে; এই সমস্ত বিভেদের কাজ যথাযোগ্যভাবে সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে চরেদের মাধ্যমে সমবায়িক সমাজে দুর্নীতিবাজদের হাতে বন্যার মত ছড়িয়ে দেওয়া হল অমিত পরিমান উদ্বৃত্ত সম্পদ। ব্রাহ্মণ চাণক্য তার রাজনৈতিক উদেশ্যপূরণে পঞ্চ ‘ম’কারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণতম দুটি ‘ম’ মদ এবং মহিলা যথেচ্ছ ব্যবহারের নিদান দিলেন। শুঁড়ি আর শুঁড়িখানা [শৌণ্ডিকালয়] মার্ফৎ ‘মদন’ গাছ থেকে তৈরি বিপুল পরিমান মদ্যের স্রোত বইয়ে দিয়ে ছোটখাটো দাঙ্গা পরিস্থিতি ঘণিয়ে তুললেন; দ্বন্দ্বকে নিয়ে এলেন বাড়ির মধ্যে — বাড়িতে সন্তান জন্মানো, বিবাহ বা মৃত্যুর বাহানায় মদের বিপুল সরবরাহ নিশ্চিত করা হল, যাতে অন্দরমহলে কোনও না কোনও বাহানায় ঝগড়া ঝাঁটি শুরু করা যায়। দ্বন্দ্বকে তারা রাজসরবার, গণক্ষেত্র টপকে নিয়ে এলেন অন্তঃপুরে। সুশিক্ষিত মহিলাদের ছেড়ে দেওয়া হল সভার সদস্য যুবকদের মধ্যে। ঝুটো প্রেমের অভিনয় করে, যুবাদের পথ ভ্রষ্ট করে সদস্যদের মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভেদ তৈরি করার কাজ এল; ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যে প্রেমের অভিনয় করে দ্বন্দ্বের ফাটল তৈরি করা হল যাতে একজন অন্যজনকে হত্যা করার জন্যে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধাবোধ না করে, এবং বলা হল ভালবাসা জন্যে বন্ধু, বন্ধুকে খুন করতে হাত কাঁপবে না। জনৈক সুন্দরী মহিলা চরকে, স্ত্রীর প্রতি শর্তহীন অনুগত্য এক সভা সদস্যর কাছে পাঠিয়ে বলানো হল, সভার অন্য এক সদস্য সেই সদস্যের স্বাধ্বী স্ত্রীর প্রতি চরম অনুরক্ত; তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন আপনার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে তার লালসা পূরণের জন্যে। আপনি গোপনে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিন। আমরা জানি এর ফল কী হতে পারতে।

ছয়

এইভাবেই কৌটিল্য তার লক্ষ্য পূরণ করতে উদ্যোগী হলেন যাতে তার হাতে তৈরি রাজা সব কটা গণ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারে। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল। এবং মৌর্য রাজত্বে এর পর থেকে আর একটাও মহান সমবায়িক সভা বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব লক্ষ্য করি না। যে গণতন্ত্রের শেকড় চারিয়ে গিয়েছিল সমাজের গভীরে, কৌটিক্যের কূটকৌশলে সাম্রাজ্যবাদীরা সেই শেকড়কে উপড়ে ফেলে একচ্ছত্র রাজত্বের রথ উদ্দাম গতিতে চালিয়ে দিলেন আর্যাবর্তের উত্তরাপথে। উত্তর ভারতের বিপুল অংশে ছিড়িয়ে থাকা একের পর এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পতন, বিলয় সত্ত্বেও কেন্দ্রিভূত মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজা চন্দ্রগুপ্ত এবং তার কুশলী মন্ত্রী চাণক্যের যুগ শেষ হলে, আবার নতুন করে স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র একে একে মাথা তুলতে শুরু করে। এদের মধ্যে অনেকেই মাথা নিচু করে বাঁচছিল। তারা নতুন করে তাদের ঐশ্বর্যময় অতীতের শৌর্য ফিরে পেল দীর্ঘ প্রচেষ্টায়। সে যুগের উদ্ধার হওয়া মুদ্রা প্রমান করে মৌর্য রাজত্বের অবসান হওয়া মাত্রেই যৌধেয়, মালব, বৃষ্ণি, অর্জুনায়ন, অদম্বর, কুনিন্দরা তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এ প্রসঙ্গে স্বীকার করা দরকার আমরা লিচ্ছবি বা বৃজিক, কুরু বা পাঞ্চাল গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র গড়নের সংবাদ পাচ্ছি না, কিন্তু মালব, যৌধেয়, অর্জুনায়ন এবং অন্যান্যরা তাদের ছেড়ে আসা ভূমিকা নতুন করে, নতুন যুগে পালন করেছে। ব্যক্তি মারা যান কিন্তু প্রজাতন্ত্রের স্পিরিট সহজে ধ্বংস হয় না। মগধের আশেপাশের গণপ্রজাতন্ত্রী রাজ্যগুলোর আর খবর পাওয়া যায় না, যদিও কিছু পরে লিচ্ছবীরা ইতিহাসে নতুন করে উদয় হয় একাকী নিজেদের পতাকা তুলেই, কিন্তু ততদিনে তারা নেপাল রাজার অধীন হয়ে গেছে। কৌটিল্যের গণরাজ্য ধ্বংসের রাজনীতি ততদিনে বিষ্ময়করভাবে ফল ফলতে শুরু করেছে। পরের শতাব্দগুলোয় রাজনৈতিক ধারণাগুলোয় বিপুল পরিবর্তন আসবে। কয়েক শতাব্দ আগে কৌটল্য গণরাজ্যগুলোকে যে সম্মান দিয়ে তার শাস্ত্রে ঠাঁই দিয়েছিলেন, সেই রাজনৈতিক ধারণাটি সাম্রাজ্যবাদী ঢেউতে ধ্বংসই হয়ে গেল। কিন্তু কৌটিল্যের সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক তত্ত্বের পাশাপাশি জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক তত্বের বিকাশ থামল না, গণপ্রজাতন্ত্রী রাজ্য কয়েক শতাব্দের জন্যে টিকে রইল। সেই সব তাত্ত্বিক অবস্থান মহাভারতের শান্তিপর্বের ১০৭ অধ্যায়ে আজও সংরক্ষিত হয়ে আছে (মহাকাব্যের বিভিন্ন পর্ব রচনার সময় খুঁজে পাওয়া খুবই সমস্যার। তবে আমরা যে অংশের কথা এখন আলোচনা করছি, সেটা অবশ্যই কৌটিল্যের সংঘ বিষয়ে অধ্যায় রচনার পরের সময়ের রচনারূপে স্বীকৃত। পাণীনির ব্যবহৃত সংঘ শব্দটা প্রথম দিকে সাধারণভাবে যে কোনও সমবায়িক সংঘ বোঝাতে ব্যবহৃত হত। পরের দিকে এই শব্দটার দখল নেয় বৌদ্ধরা অর্থাৎ বিপুলভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে বৌদ্ধ শাস্ত্র আর সূক্ত রচনায়। এবং মুদ্রার উদাহরণে আমরা দেখছি গণ শব্দটা ব্যবহার হছে মৌর্য পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক সমবায়িক সংঘ বোঝাতে। কৌটিল্য সংঘ শব্দটা ব্যবহার করছেন সমবায়িক সংঘ বোঝাতে এবং শান্তিপর্বের ১০৭ অধ্যায়ে এই অর্থে গণ এককভাবেই ব্যবহার হচ্ছে। এই সূত্র থেকে আমি সিদ্ধান্ত করেছি মহাভারতের সময়েই অর্থশাস্ত্র রচনাকাল।

কে পি জয়সোয়াল প্রাচীন ভারতবর্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলো আলোচনার সূত্রে মহাভারতের উল্লিখিত অধ্যায়ের স্তবকটার মৌলিক অর্থ নিষ্কাশন করেছেন। তবে তার মনে হয় নি এর ফলে কৌটিল্যের দার্শনিক আঙ্গিকের প্রতিস্পর্ধী একটা নতুন রাজনৈতিক ভাবনার যুগ তৈরি হয়েছে। আমরা প্রাচীন ভারতবর্ষে নতুন রাজনৈতিক ভাবনার ক্রমবিকাশের স্তর লক্ষ্য করি। যে কয়েকটা উদাহরণে আমরা এই ধারণার বিবর্তনটা লক্ষ্য করি, সে সব তাত্ত্বিক ধারণাগুলো আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করব। এর আগে স্বাধীন রাজনৈতিক সমবায়িক সঙ্ঘগুলোর উদাহরণ উল্লেখ করতে গিয়ে আমরা দেখিয়েছি গণগুলোকে কী মহান সম্মানে গৌতম বুদ্ধ সম্বোধন করছেন। কিন্তু অজাতশত্রুর মন্ত্রী সেই গণতান্ত্রিক একটি মজবুত রাষ্ট্রের পতন নিশ্চিত করলেন। কীভাবে যে তিনি চালাকি এবং নির্লজ্জ নীতিজ্ঞানবর্জিতভাবে বজ্জিয়নদের পতন নিশ্চিত করেন সেই বর্ণনা লিখিত আছে অত্থকথায়। এই পর্বে কৌটিল্য যে কূট এবং রাজনীতিক আঙ্গিকের সূচনা করে যান তার চূড়ান্ত রূপ দেখি এই পরিকল্পনায়। রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং সেই তত্ত্বের বাস্তবিক প্রয়োগের উদাহরণে আমরা দেখলাম গণপ্রজাতন্ত্রগুলোর বিনাশ ঘটল এবং মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তারের যুগ শুরু হল। মৌর্য সাম্রাজ্যজুড়ে এই বিনাশকর্মটি এতই সুচতুর পরিকল্পনায় সম্পন্ন হয়েছিল যে তার পরে আর বহু শতাব্দ আমরা গণরাজ্যের উদাহরণ দেখি না। কিন্তু সেই রাজনৈতিক স্পিরিটটি ধ্বংস হতে বহু সময় লেগেছিল। ইতিমধ্যে নতুন একটি রাজনীতির বিকাশ ঘটল রাজনৈতিক সংঘ তৈরি হওয়ার মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত মৌর্য সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার পর নতুন করে মাথাচাড়া দিতে থাকে সমবায়িক সংঘগুলো।

শান্তিপর্বের ১০৭ অধ্যায়ে এই নতুন রাজনৈতিক আঙ্গিকের পরিচয় পাচ্ছি। স্তবকটি আমি উদ্ধৃত করলাম —

Yudhisthira said “I wish to hear, O the most enlightened one, the course of conduct

of the ganas; how the ganas prosper and are not torn by dissensions, conquer the enemies and acquire allies. The destruction of the ganas is primarily caused by dissensions and, in my opinion, it is very difficult to keep secret the counsels of many. So I would like, O oppressor of enemies! to hear in detail everything (about them), and specially tell me O Bharat! how they may not be torn by dissensions. Bhishma said ”O king, the best of Bharatas! among the ganas, the kulas, and the kings, ambition and want of toleration lead to hostilities. For when one is seized with ambition he becomes intolerant and bad spirit is created between two such (persons). Mutual troubles are caused by spies, counsels

and military force, the triple method of sama (conciliation), dana (gift) and bheda (dissension), and by means of threatening with the loss of men and money. It is by means of these measures that the ganas, the essence of whose existence is unity, are torn into factions and being disunited and dispirited, succumb to the enemy through fear. Disunion brings ruin upon the ganas; disunited, they fall an easy prey to the enemies; so they should always put forth their efforts in unison. Money can be acquired if the ganas (It is doubtful whether the unity recommended is that of several ganas, iu the nature of a confederation, or merely the unity of the members of a single gana) combine their strength and efforts; and when they live in unity external powers also make alliance with them. Wise men praise those who are willing to listen to each other’s advice; those who give up selfish interests acquire happiness in all respects. The best of ganas becomes prosperous by appointing pious men, by laying down rules for the administration according to sastras, by observing them properly, by chastising (even) sons and brothers, by always instructing them, and by accepting them when they are rendered submissive (to authorities). Prosperous, again, are those ganas that always devote their attention to the organisation of spies and counsels and the accumulation of treasure. O king! the ganas that pay due respect to the wise, the valorous, the active, and the men of steady efforts in business, acquire prosperity. The ganas that are strong in resources, brave, expert in the use of arms and weli-versed in the sastras rescue the bewildered in times of grave danger. O the best of Bharatas! anger, dissension, fear, chastisement, causing torture and punishment, and lastly murder, immediately bring the ganas within the clutches of the enemy. So the gana leaders should be respected, as the worldly affairs (of the ganas) depend to a great extent upon them, O king! O oppressor of enemies! the spy (department) and the secrecy of counsels (should be left) to the chiefs, for it is not fit that the entire body of the gana should hear those secret matters. The chiefs of gana should carry out together, in secret, works leading to the prosperity of the gana, otherwise the wealth of the gana decays and it meets with danger. If, disunited, every one severally tries to act up to his own capacity, they are to be at once checked chiefly by the learned. Quarrels in families, ignored by the old men of the family, destroy the ‘gotras’ and thereby create dissension among the ganas. It is the internal danger O Rajan! that is chiefly to be guarded against; the external danger is not of much importance, but the internal danger immediately saps the very foundation. If through sudden anger, passion, or natural ambition, (the members) do not speak to one another, although similar in caste and family, — that is a sure sign of defeat.

The ganas are torn asunder by the enemies, not by exertion, intellect or tempting them with beauty, but by creating dissensions and offering bribes; so it is said that unity is the chief refuge of the ganas. (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev