| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (২৫নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২৩৯ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩

চতুর্থ অধ্যায়

ধর্মীয় জীবনে সমবায়িক উদ্যম

তিন

দীক্ষাদানের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে সে যে নতুন ভবিষ্যৎ জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, সেই জীবনের বাস্তবতা নতুন ভিক্ষুর সামনে উপস্থাপন করেন প্রাচীনেরা। নতুন জীবন, নতুন সঙ্গঠন, উদ্বেগ থাকাই স্বাভাবিক। আগামী দিনগুলো কাটানোর উদ্বেগ এবং সমস্যা এড়ানোর জন্যে এক ধরণের ভ্রাতৃত্ববোধের ধারণা নতুন ভিক্ষুর কাছে তুলে ধরা হয়। সে সব বাক্য শুরু হয় বুদ্ধ বললেন শব্দবন্ধ দিয়ে, —

I prescribe, O Bhikkhus, that he who confers the upasampada ordination (on a Bhikkhu), tell him the four llesources :—

“The religious life has morsels of food given in alms for its resource”

“The religious life has the robe made of rags taken from a dust-heap for its resource”

“The religious life has dwelling at the foot of a tree for its resource”

“The religious life has decomposing urine as medicine for its resource”

”Thus must the new Bhikkhu endeavour to live all his life ; better food, robes, etc., which it might be his lot to enjoy from time to time being only looked upon as extra allowances (atirekalabhoy)

যে কঠোর নৈতিক জীবন তাকে আগামী দিনে পালন করতে হবে সেটাও লুকোনো হল না কিন্তু

“A Bhikkhu who has received the upasampada ordination, ought to abstain from all sexual intercourse even with an animal.

“A Bhikkhu ought to abstain from taking what is not given to him, and from theft, even of a blade of grass.

“A Bhikkhu ought not intentionally to destroy the life of any being down to a worm or an ant.

“A Bhikkhu ought not to attribute to himself any superhuman condition.”

ভিক্ষুর নতুন জীবনে, নতুন ধারণার মানিয়ে নিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ, নতুন অভ্যেস তৈরির প্রয়োজন হয়। ফলে দীক্ষা নেওয়ার পর প্রথম দশ বছর কোনও ভিক্ষুকে তার উপজ্ঝায়া বা আচার্যর (Upajjhaya বা Achariya) নির্দেশের ওপর নির্ভর করে জীবনধারণ করতে হত (এটা সাধারণ নিয়ম। পরের দিকে বলা হয়েছে একজন জ্ঞানী যোগ্য ভিক্ষু এই দুজনের ওপর নির্ভর করে পাঁচ বছর অবদি সংঘ জীবন অতিবাহিত করবে এবং সারাজীবন পুরোনো জীবন ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে (an unlearned one all his life)। কোনও কোনও সময়ে কোনও ভিক্ষুকে নিসায়ার [উপজ্ঝায়া বা আচার্য নিরপেক্ষ ব্যক্তি] সঙ্গে জীবন কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হত)। পারস্পরিক সম্পর্কটি কীরূপ হবে সে কথা বিশদে বলা হয়েছে বিনয় পাঠে অথবা গৌতম বুদ্ধ যে সাধারণ নির্দেশাবলী দিয়েগিয়েছিলেন, সেখান থেকেও আন্দাজ করা যায় পরস্পরের ওপর নির্ভরতার বার্তা। বলা হচ্ছে, উপাজ্ঝায়া সিদ্ধিবিহারিকার সঙ্গে পুত্রের মত ব্যবহার করবে; এবং উপাজ্ঝায়াকে সিদ্ধিবিহারিকা পিতার মত দেখবে। ক্রমশ দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যাতে সংঘের কাজকর্ম স্মুথলি চলতে পারে এবং সংঘ তত্ত্ব আর শৃঙ্খলা উচ্চমার্গে পৌঁছতে পারে (”The Upajjhaya, O Bhikkhus, ought to consider the Saddhiviharika as a son; the Saddhiviharika ought to consider the Upajjhaya as a father. Thus these two, united by mutual reverence, confidence, and communion of life, will progress, advance, and reach a high stage in this doctrine and discipline.”)

সাদ্ধিবিহারক উপজ্ঝায়ার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করবে — সকালে দাঁত মাজবে, এবং জল দিয়ে মুখ প্রক্ষালন করবে এবং প্রাতঃরাশ খাবে। এবারে সাদ্ধিবিহারক উপজ্ঝায়ার সঙ্গে ভিক্ষায় বেরোবে, তাকে পান করার জন্যে জল দেবে, তাঁকে স্নানে সাহায্য করবে, তাঁর চীবর শোকাবার ব্যবস্থা করবে, এবং তাঁর বাসস্থান পরিষ্কার রাখবে(In the morning he will give the teeth cleanser and water (to rinse his mouth with) and his morning meal. He will accompany him in his alms-pilgrimage, offer him water to drink, prepare his bath, dry his robe, clean his dwelling place, etc., etc. He would also be a monitor and helpmate.)

উপাজ্ঝায়া যদি বাক্য বলার মধ্যে দিয়ে কোনও অপরাধ করে, সাদ্ধিবিহারক তাকে সামলাবে’ (If the Upajjhaya is in danger of committing an offence by the words he says, let (the Saddhiviharika) keep him back.)।

উপাজ্ঝায়া যদি ‘পরিবাস’ ‘মন্ত্র’ বা শাস্তি দেওয়ার মত খুবই গভীর দুষ্কর্ম করে বসে, তাহলে সাদ্ধিবিহারক সংঘকে দিয়ে শাস্তি দেওয়াবে (If the upajjhaya is guilty of a grave offence and ought to be sentenced to ‘parivasa’ ‘manatta,’ or penal discipline, let the Saddhiviharika take care that the Samgha impose it upon him.)

আবার যদি সংঘ উপাজ্ঝয়াকে তজ্জনিয় কম্মর (চুল্লভগগর প্রথম অধ্যায়ে উল্লিখিত শাস্তিসমূহ) শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাহলে সাদ্ধিবিহারক চেষ্টা করবে সংঘ যাতে সেই শাস্তি দেওয়ার দিকে না এগোয়। এই রকম পরিবেশ তৈরি হলে, সাদ্ধিবিহারক অবস্থা সামলাতে উদ্যোগী হবে। আর সংঘ যদি শাস্তি প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করে তাহলে সাদ্ধিবিহারক উপাজ্ঝায়াকে যাতে সৎ ব্যবহারের পথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে, যাতে তিনি সরল জীবন যাপন করেন, এবং উপযুক্ত প্রায়শ্চিত্ত করার দিকে অগ্রসর হয় যাতে সংঘ তাঁর ওপর জারি করা শাস্তি ফিরিয়ে নেয় (if the Samgha wishes to proceed against the Upajjhaya by the Tajjaniya Kamma (or other disciplinary proceedings mentioned in the first book of Chullavagga), let the Saddhviharika do what he can in order that the Samgha may not proceed against the Upajjhaya or may mitigate the proceeding. Or if the Samgha has instituted a proceeding against him, let the Saddhiviharika do what he can in order that the Upajjhaya may behave himself properly, live modestly, and aspire to get clear of his penance, and that the Samgha may revoke its sentence.)

উপাজ্ঝায়ারও সাদ্ধিবিহারিকের প্রতি পাল্টা দায়িত্ব পালন করতে হত। নতুন দীক্ষিত সদ্ধিবিহারিকের পারমার্থিক এবং জাগতিক সুস্থতা দেখা তার দায়িত্ব ছিল। উপাজ্ঝায়া সাদ্ধিবিহারকের সামনে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উপস্থাপন করে, নির্দেশ দান করে তাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে দেয়। উপাজ্ঝায়ার যদি ভিক্ষাপাত্র থাকে (এবং ভিক্ষুর জন্যে প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য থাকে) এবং সাদ্ধিবিহারিকের সেটা না থাকে, তাহলে, সে যাতে সে সব পায় সেটা উপাজ্ঝায়া দেখবে। সাদ্ধিবিহারিকের যদি অসুখ করে, তাহলে উপাজ্ঝায়া তাকে দাঁত মাজার উপকরণ দেবে, মুখ ধোয়ার জলও এগিয়ে দেবে (এবং প্রয়োজনীয় আরও অন্যান্য কাজ করে দেবেন) [Let the Upajjhaya, O Bhikkhus, afford (spiritual) help and furtherance to the Saddhiviharika by teaching, by putting question to him, by exhortation and by instruction. If the Upajjliaya has an alms-bowl (or robe or other articles required for a Bhikkhu) and the Saddhiviharika has not, let the Upajjhaya give the same to the Saddhiviharika or take care that he gets one. If the Saddhiviharika is sick let the Upajjhaya arise betimes and give him the teeth cleanser and water to rinse his mouth with (and so on with the other duties prescribed for Saddhiviharika)]।

সাদ্ধিবিহারক উপজ্ঝায়ার খারাপ ব্যবহারের জন্যে যেমন তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, তেমনি সাদ্ধিবিহারক দুঃখ প্রকাশ করলে বিষয়টা মিটমাট হয়ে যায়। যদি উপজ্ঝায়া অন্য কোথাও চলে যায়, প্রয়াত হয় অথবা সঙ্ঘের সম্মিলনে চলে যায় তাহলে সাদ্ধিবিহারককে নতুন একজন আচার্যকে বেছে নিতে হয় যিনি সিদ্ধিবিহারকের প্রতি উপজ্ঝায়া হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব পালন করবে।

উপজ্ঝায়ার সঙ্গে থাকার শৃঙ্খলাবদ্ধ সময়টি পেরিয়ে এলে ভিক্ষু সংঘের নিয়মিত সদস্য হিসেবে পরিগণিত হল। এবার থেকে তার ব্যক্তি জীবন সম্পূর্ণভাবে অবসান হল। সে মহান সংঘের অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে। তার আচার আচরণ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী দ্বারা আবদ্ধ, সে সব আচার আচরণে বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় হলে তার ওপরে নেমে আসবে যথাযোগ্য শাস্তির খাঁড়া। সেই সব নির্দেশ বিস্তৃতভাবে ব্যখ্যা করা প্রায় অসম্ভব, তবুও বলা যাক ভিক্ষু যে চিবরটি পরিধান করে আছেন, সেটি থেকে শুরু করে কীভাবে তিনি শোবেন, কোথায় তিনি বসবেন, যে পাত্রটা তিনি ব্যবহার করবেন, যে খাবার তিনি গ্রহণ করবেন, কীভাবে স্নান করবেন এরকম হাজারো কিছু বিষয়ে নথিবদ্ধ নিয়ম তার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করত। নিয়মকানুনের চরিত্র এবং সেটি ভিক্ষুর জীবন কীভাবে প্রভাবিত করবে সেটি নির্ধারিত হয়েছিল বুদ্ধদেব প্রয়াণের পরের বর্ষায় আয়োজিত সংঘের প্রথম সঙ্গীতিতে তোলা পাঁচটি নিকায় ১) শিঙ্গায় ভিক্ষুদের নুন রাখা অনুমোদনযোগ্য? ২) দুপুরের পরে যখন ছায়া দু-আঙুল সমান হবে তখন কী দুপুরের খাওয়া দরকার? ৩) দুপুরের খাওয়া শেষ করার পরে কী দই খাওয়া দরকার? ৪) মেঝেয় পাতার কম্বলের আকার কী হওয়া উচিৎ, ৫) সোনা আর রূপো আরহণ করা উচিৎ কী না ইত্যাদি।

আমরা বলতে পারি কী রীতিনীতিগুলি ভিক্ষুদের সারাজীবন পালন করে যেতে হত। বৌদ্ধ সংঘের নীতি অনুযায়ী কোনও ইতিবাচক আইনি অনুমোদন ছাড়া কোনও তুচ্ছতম পদক্ষেপও নিতে পারত না। চুল্লবগগ থেকে কিছু উদাহরণ তুলে দেওয়া গেল —

“Now at that time the Bhikkhus walked up and down on a cloister on uneven ground ; and their feet were hurt.

They told this matter to the Blessed One.’

I allow you, O Bhikkhus, to make it level.’

The cloister had too low a basement, and was inundated with water.

They told this matter to the Blessed One.’ I allow you, O Bhikkhus, to make it with a high basement.’

The facing of the basement fell in.’

I allow you, O Bhikkhus, the use of facing of three kinds — brick facing, stone facing, and wooden facing.’

They found difiiculty in getting up into it.’

I allow you, O Bhikkhus, the use of stairs of three kinds — brick stairs, stone stairs, and wooden stairs.’

As they were going up them, they fell off

‘I allow you, O Bhikkhus, the use of a balustrade.’ Now at that time the Bhikkhus, when walking up and down in the cloister, fell down.

They told this matter to the Blessed One.’

I allow you, O Bhikkhus, to provide a railing for the cloister

এরকম হাজারো নীতিমালা তুলে দিয়ে দেখানো যায় বৌদ্ধপন্থের কঠোর নীতিমালা যেভাবে ভিক্ষুদের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়েছিল, তাতে বলা যায় সংঘে ব্যক্তি বিকাশের ব্যক্তি সিদ্ধান্তের কোনও ভূমিকা ছিল না, বুদ্ধদেব, ভিক্ষুদের জন্যে তুচ্ছ থেকে মহান যে সব পালনীয় সিদ্ধান্ত তৈরি করেগিয়েছেন তার বাইরে একপাও বেরোনোর ক্ষমতা ছিল না সংঘের একব্যক্তিরও।

চার

সংঘে ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়া যে সব কঠোর নীতিমালা আমরা আলোচনা করলাম, সেগুলি কোন সাংগঠনিক কাঠামোয় প্রযুক্ত হত সেসব আমরা এবারে আলোচনা করব। বুদ্ধদেবের ভিক্ষুজীবনের প্রথম সময়ে তাঁর বাক্যই আইন ছিল, তিনিই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ছিলেন এবং সংঘের মধ্যে যে ভাইচারা গড়ে উঠেছিল, সেটি বয়ে যেত তার নিজস্ব প্রণোদনায়। সংঘের জন্যে তৈরি বুদ্ধদেবের মুখনিঃসৃত নিয়মতন্ত্র কখনোই স্থায়ী চুক্তি হয়ে উঠতে পারে নি দুটি কারনে। প্রাথমিকভাবে সংঘ এই বৃহৎ দেশে দ্রুত বাড়ছিল, ফলে কোনও এক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামো চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছিল; দ্বিতীয়ত মহান বুদ্ধ যখন থাকবেন না, সে সময় সংঘ ভ্রাতৃত্ব ব্যবস্থাপনা করার পরিকল্পনার ভাবনাও জায়মান ছিল। ফলে বৌদ্ধ সংঘ ব্যবস্থাপনার ভাবনা ক্রমশ বিবর্তিত হয়েছে এবং এই বিবর্তনের প্রক্রিয়াটিকে আমরা বুদ্ধের জীবদ্দশার নানান স্তরে লক্ষ্য করি।

তবে একদিক থেকে পুরোনো কাঠামো থেকে গেল। বুদ্ধদেব, তার মৃত্যুর পরেও সংঘ ব্যবস্থাপনার একমাত্র আইন ব্যবস্থাপক থেকে গেলেন। বৌদ্ধ সংঘের মূল নীতিগুলির উৎস হলেন বুদ্ধদেব। অন্যরা সেই কাঠামোকে বিস্তৃত করেছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু নিয়মতন্ত্রের মৌল ভিত্তিটাকে নড়াতে পারেন নি, নতুন আইনও তৈরি হয় নি। সংঘের পরম্পরার নিয়ম কাঠামোকে লিপিবদ্ধ করার পরিকল্পনা রূপায়িত হয় রাজগৃহের প্রথম সঙ্গীতিতে। বুদ্ধ [তাঁর ব্যক্তিগত সহচর] আনন্দকে বলেছিলেন ‘আনন্দ, আমি যখন থাকব না, সংঘ যদি মনে করে, তাহলে তুচ্ছ এবং ছোটখাট বিধিগুলি তুলে নেওয়া হোক’। When the permission thus accorded to the Brotherhood was taken into consideration by the council at Rajagriha, opinions differed widely on the interpretation of the minor and lesser precepts. Thereupon, on the motion of Maha Kassapa, the council resolved to adhere to all the precepts as laid down in the Buddha’s lifetime not ordaining what has not been ordained, and not revoking what has been ordained।

প্রাথমিকভাবে বৌদ্ধ সংঘের দুটি অংশ ছিল — বিভিন্ন স্থানীয় সংঘ বা ভিক্ষুদের সমাজ আর মাথায় ছিলেন মহান বুদ্ধ যিনি এই কাঠামোকে সমন্বয়সাধন করতেন। তার নামে চলা বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কেন্দ্রিয় সঙ্গঠনে তাঁর অনুপস্থিতি খুবই সমস্যাদায়ক ছিল। সংঘ ব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো বুদ্ধদেবের জীবদ্দশায় বোঝা যাচ্ছিল। এর একটা উদাহরণ পাচ্ছি কোশাম্বিতে ঘোষিতারামের ঘটনায়। কোশাম্বির স্থানীয় সংঘ জনৈক ভিক্ষুকে সংঘ থেকে বহিষ্কার করে। ভিক্ষুর সাথীরা ভিক্ষুর আচরণ সমর্থন করে এবং সংঘের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। সংবাদটি যখন বুদ্ধের কাছে পৌঁছল, তিনি চিৎকার করে উঠলেন, ‘ভিক্ষু সংঘ ভাগ হল’ ‘ভিক্ষু সংঘ ভাগ হল’। তিনি অবিলম্বে বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছলেন। তিনি দ্বন্দ্ব মেটাবার উদ্যোগী হয়ে উত্তর পেলেন, “Lord, may the Blessed One, the king of Truth, be patient ! Lord, may the Blessed One quietly enjoy the bliss he has obtained already in this life! The responsibility for these altercations and contentions, for this disunion and quarrel will rest with us alone.” বার বার তিনি তাদের বোঝাবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু বার বার তাঁকে একই উত্তর শুনতে হল। ক্ষুব্ধ হয়ে বুদ্ধ বিবাদস্থল ছেড়ে চলে গেলেন।

ঘটনা থেকে সংঘ ব্যবস্থাপনার জোর এবং ত্রুটিগুলি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। স্থ্যানীয় ভিক্ষুদের যে ধরণের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সেটা খুবই স্বাস্থ্যকর ভাবনা ছিল এবং এই চরিত্রটি সংঘকে শক্তি এবং প্রাণশক্তি প্রদান করেছে। কিন্তু কেন্দ্রিয় শক্তির শোচনীয় দুর্বলতা হল, কেন্দ্র সবসময় তার সদস্যদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারত না, বিশেষ করে যখন বোঝা যেত সংঘকে বাঁচাতে এই ধরণের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যাদের সামান্যতমও দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতা রয়েছে, তাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না এই দ্বন্দ্বগুলোর মধ্যে দিয়ে মহান সংঘের পতনের বীজ রোপিত হচ্ছিল।

বুদ্ধদেবের প্রয়াণের পর দুর্বল কেন্দ্রিয় কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য হয়ে গেল কারন মহান নেতা কাউকেই তার উত্তরসূরী (হেন্ড্রিক কার্ন বলছেন বুদ্ধ মহান কাশ্যপকে তার উত্তরসূরী মনোনীত করেন। কিন্তু মহাপরিনিব্বানসুত্ত অনুযায়ী যে ভাষ্যকে বুদ্ধের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে আরও ভাবনার খোরাক থেকে যায় — (“It may be, Ananda, that in some of you the thought may arise,” The word of the Master is ended, we have no teacher more!” But it is not thus Ananda that you should regard it. The truths and the rules of the Order which I have set forth and laid down for you all, let them, after I am gone, be the Teacher to yon.”) মনোনীত করেন নি এবং তার অবর্তমানে সংঘের ব্যবস্থাপনা কী হবে সেটাও তিনি স্পষ্টভাবে দিশা নির্দেশ দিয়ে যান নি। ফলে বুদ্ধ সংঘের কেন্দ্রিয় ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সেটি বেশ কয়েকটি স্থানীয় সমবায়িক সমাজে পরিণত হওয়ার আশংকা দেখা দিল। কিন্তু বেশ কিছু সে সময়ে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হল যে সংঘ বিচ্ছিন্নতার ঢালে গড়িয়ে গেল না। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev