| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (২৯নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৫৪১ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৩

পঞ্চম অধ্যায়

সামাজিক জীবনে সমবায়িক কাজকর্ম

দুই

এবারে আমরা বেদ পরবর্তী যুগ নিয়ে আলোচনা করব। জাতি তথ্য নিয়ে বিশদে গবেষণা করা ওয়েবার বলছেন এই সময়েই জাত ব্যবস্থার সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়। জাত ব্যবস্থা অবলম্বন করে মনু সংহিতা সংকলিত হবে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন সেই ব্যবস্থাতেও বেশ কিছু শিথিলতা ছিল। জাত ব্যবস্থা আজ বিপুল আকার ধারণ করেছে। এই বিষয়ে বিশদে না ঢুকে ব্রাহ্মণ, শূদ্র, বৈশ্য আর শূদ্রের মধ্যে যদি কোনও সমবায়িক চরিত্র থাকে, সেটি খুঁজে বার করব।

ব্রাহ্মণ

এই সময়ে ব্রাহ্মণদের ভণ্ডামি (প্রিটেনশন) চরমে পৌঁছেছিল। কৌশিতকিতে দেখি ব্রাহ্মণেরা ততদিনে ভগবানত্বে রূপান্তরিত হয়েছেন। তাদের ভগবানের ভগবান হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এমনকী ব্রাহ্মণের সঙ্গে ভগবানদের তুলনা করা হচ্ছে। তারা একাই বলির ভাগ নিতে পারে। তাদের চারটি সুবিধে দেওয়া হত ১। অর্চ বা ভক্তি পাওয়া, ২। দান, ৩। অজেয়ত (নির্যাতন থেকে মুক্তি), ৪। অবধ্যতা (মৃত্যু দণ্ড থেকে মুক্তি)। তাদের চারটি দায়িত্ব ছিল ১। ব্রাহ্মণ্যম বা রক্তের শুদ্ধতা, ২। প্রতিরূপাচার্য (উপযুক্ত জীবনচর্যা) ৩। যশ (বেদ পাঠের খ্যাতি) ৪। লোকপাতকী (বৌদ্ধিকতার চর্চা এবং মানুষের শিক্ষক হিসেবে কাজ করা, বলি দেওয়ার অধিকার রক্ষা, এবং পৌরোহিত্যর দায় নেওয়া)।

এই দায়িত্ব এবং অধিকার অন্য কোনও শ্রেণীর মানুষ, গোষ্ঠী হিসেবে ভাগ করে নিতে পারত না, ব্রাহ্মণদের আলাদা সুবিধাভোগী শ্রেণী হিসেবে গণ্য হল। এরই সঙ্গে ব্রাহ্মণদের অনেকগুলো বাধানিষেধের শর্ত চাপল —

১। অস্ত্র বহন করায় নিষেধাজ্ঞা

২। অশ্রাব্য কথা ব্যবহার না করা

৩। নির্দিষ্ট নিয়মে খাদ্য গ্রহণ

৪। ব্রহ্মচর্য পালন।

ওপরের শর্তগুলো উল্লঙ্ঘন করলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হত। কখনো কখনো সংবিধান পালন না করা ব্রাহ্মণকে সমাজচ্যুতও করা হত। তবে বহিষ্কৃতরা নির্দিষ্ট আচার পালন করে প্রায়শ্চিত্ত করলে সমাজে ফিরে আসতে পারত। ওপরের আলোচনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার ব্রাহ্মণেরা জাতিগতভাবে সমবায়িক চরিত্র লাভ করেছিল। এবারে আমরা ব্রাহ্মণ সমবায়ের চরিত্র আলোচনা করব।

প্রশ্ন উঠতেই পারে আমরা ব্রাহ্মণ জাতিকে কেন সমবায়িক চরিত্রের বলব? প্রথম যুগে ব্রাহ্মণেদের জন্ম সূত্রে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করার বাধ্যবাধকতা ছিল না। সাহিত্যে এরকম বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। কিন্তু পরের দিকে ব্রাহ্মণত্ব বংশ নির্ভর হয়।

নির্দেশ জারি করে বলা হল, তিন (কৌশিতকী সূত্রে) অথবা দশ (লাত্যায়ণ সূত্রে) প্রজন্মের ঋষি সূত্রে জন্ম প্রমান না করতে পারলে কোনও ব্রাহ্মণই পুজো করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না। এই নিয়ম থেকে প্রমান হল জন্ম সূত্রে ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের বিষয়টি সব সময় কঠোর ভাবে মেনে চলা যায় নি। তবে এই নির্দেশ জারি করা থেকে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় সচেতনভাবে ব্রাহ্মণ শ্রেণীর মধ্যে সমবায়িতা বাড়াবার উদ্যম নেওয়া হচ্ছিল।

তত্ত্ব প্রমান করার জন্যে আমাদের শুধু মাত্র নেতিবাচক প্রমান ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। প্রামাণ্য প্রাচীন শাস্ত্রে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করতে বংশ নয় জ্ঞানার্জনই প্রাথমিক শর্ত। শতপথ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে যাজ্ঞবল্ক্যের শিক্ষা দানের ফলে জাতক ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করে। তৈত্তরিয় সংহিতায় বলা হয়েছে যে জ্ঞানার্জন করে সেই ব্রাহ্মণ ঋষি হিসেবে পরিগণিত হবে। কথক এবং মৈত্রেয়নীয় সংহিতায় বলা হয়েছে ‘তুমি কেন ব্রাহ্মণ পিতার কথা বলছ? তুমি কেন ব্রাহ্মণ মাতার কথা বলছ? যে বেদের জ্ঞান অর্জন করেছে সে পিতা এবং পিতামহ দুই’। এই ধরণের স্তবকগুলো থেকে পরিষ্কার জ্ঞানার্জনই ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের প্রাথমিক শর্ত ছিল। বংশপরম্পরার সঙ্গে ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের খুব বেশি সম্বন্ধ ছিল না।

কিন্তু যদি আমরা ধরেনি, জ্ঞানার্জনই বিশেষ করে বৈদিক উপাসনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনই ব্রাহ্মণত্ব লাভের প্রকৃষ্ট পথ, তাহলে সেই জ্ঞান অর্জনের নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট কোনও পদ্ধতি থাকবে। আমরা জানি সেই পদ্ধতিটি কৌশিতকীতে উল্লিখিত হয়েছে। সেই বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারছি শিক্ষার্থীকে ব্রাহ্মণত্ব অর্পণ করার একমাত্র অধিকার ছিল শিক্ষকের, অবশ্যই যদি শিক্ষার্থী পুরোহতগিরি পেশা গ্রহণ করার উৎসাহ দেখাত, এবং শিক্ষকও বুঝতেন সেই শিক্ষার্থীর এই কাজ করার ধারণশক্তি আছে। বিষয়টা মূয়ির ঐত্তরীয় ব্রাহ্মণএর(VII-19) উদ্ধৃতি সূত্রে উল্লেখ করেছেন sacrifice fled from the Kshatriya, Vaisya and Sudra and approached to Brahman. Wherefore now also sacrifice depends upon Brahman, upon the Brahmans. Kshattra then followed Brahman, and said, ‘ invite me (too to participate) in this sacrifice. ব্রাহ্মণ উত্তর দিচ্ছেন, so be it : then laying aside thy own implements (bow, arrows, etc.) approach the sacrifice with the implements of Brahman, in the form of Brahman, and having become Brahman. ‘ Be it so,’ and, laying aside his own implements, approached the sacrifice with those of Brahman, in the form of Brahman and having become Brahman, Wherefore, now also a Kshattriya, when sacrificing, laying aside his own implements, approaches the sacrifice wath those of Brahman, in the form of Brahman, and having become Brahman. (ক্ষত্রিয় ‘তাই হোক’ বলে, নিজের হাতিয়ার নামিয়ে রেখে, ব্রাহ্মণ হয়ে উঠতে ব্রাহ্মণের সঙ্গে বলি (টেক্সটে নাগরি অক্ষরে লেখা হয়েছে দীক্ষা, ইংরেজিতে স্যাক্রিফাইস) দেওয়ার দিকে এগিয়ে চলল [এবং ব্রাহ্মণ হয়ে উঠল]। আমরা এখন দেখলাম ক্ষত্রিয়ও বলি (দীক্ষা) দেওয়ার সময়, তার হাতিয়ার নামিয়ে রেখে বলি দিয়ে ব্রাহ্মণদের সঙ্গে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করল। সে সময় এইভাবেই জন্মসূত্র নির্ভর করে ক্ষত্রিয় আর ব্রাহ্মণের মধ্যে পার্থক্য টানা হত না; জীবনযাত্রা আর পেশা অনুযায়ী মানুষ একে অপরের জায়গা ভাগাভাগি করে নিতে পারত। ঐত্তরেয় ব্রাহ্মণে VII. 231 বলা হয়েছে, ‘রাজা যখন পূত পবিত্র হয়, তখনই সে ব্রাহ্মণ হয়ে ওঠে’। বর্তমান স্তবক এবং অন্য সাহিত্য সূত্রে ওয়েবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেক রাজণ্য এবং বৈশ্য ব্রাহ্মণত্বে উত্তীর্ণ হত, তাকে সে ভাবেই সম্বোধিত করা হত’। একইভাবে শতপথ ব্রাহ্মণে (XIII. 4. 1. 3) পাচ্ছি, ‘যে কোনও মানুষই দীক্ষা গ্রহণের পরেই ব্রাহ্মণত্বে উপনীত হয়। শ্রৌত-সূত্রে VI. 4. 12 কাত্যায়ন বলেন, ‘ব্রাহ্মণ শব্দটি বৈশ্য এবং রাজণ্যর জন্যেও প্রযুক্ত হত’ এবং তিনি আরও বলছেন, ‘যে অনুমোদিত বিধির মাধ্যমে একজন ব্রাহ্মণ পুত পবিত্র হয়, সেই বিধি বৈশ্য এবং রাজণ্যের দীক্ষাদানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং বলা যাবে না ‘বক্ষ্যমান রাজণ্য বা বক্ষ্যমান বৈশ্য পুত পবিত্র হল’ (Cf, Muir, S.T., Vol. I, p. 369 and f. n.)।

কৌশিতকীর ৫৫ স্তবক আমাদের জোটবদ্ধতার ভিত্তি উৎসের সম্ভাব্য সূত্র নির্দেশ করে। জ্ঞান এবং চরিত্র ছিল পুরোহিত্বের প্রধান ভিত্তি। সে যুগের ব্রাহ্মণ সমাজকে আমরা পুরোহিতদের শ্রেণী সঙ্ঘ হিসেবে গণুয় করতে পারি। ঠিক যেভাবে কারিগর সংগঠনে নতুন সদস্য প্রবেশের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, (দেখুন ante, p. 49) এই পুরোহিতদের শ্রেণী সংগঠনেও অনুমোদিত শিক্ষানবিশির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই শ্রেণীর প্রধান তাঁকে শ্রেণীতে প্রবেশের অধিকার দিতেন। এই বিষয়টি সূত্র লেখকেরা উল্লেখ করেছেন। অপস্তম্ব লিখছেন, ‘তিনি (আচার্য) তাকে (শিক্ষার্থীকে) (দ্বিতীয়বার) উত্তমরূপে জন্মাতে সাহায্য করলেন’; ‘পিতা-মাতা শুধু তাকে দেহ দান করেছেন মাত্র’(পূর্বোক্ত)। আবার বলা হচ্ছে ‘যে ব্যক্তির বাবা আর ঠাকুর্দার (ব্রাহ্মণত্বে) দীক্ষা হয় নি (এই দুই পূর্বজকে) ব্রাহ্মণ হত্যাকারী বলা হবে। তাদের সঙ্গে মেলামেশা, খাওয়াদাওয়া এবং বিবাহ নিষিদ্ধ করা হল’ (পূর্বোক্ত, পৃ ৫)। ‘যতক্ষণনা কোনও বালকের কোমরে পবিত্র সূত্রের বন্ধন পরানো হবে, ততক্ষণ সে কোনও আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবে না, কেন না বেদ থেকে জন্ম নিয়ে সে এখনও শূদ্রের পর্যায়ে অবস্থান করছে (প্রাগুক্ত পৃ ১০)। জন্ম নয় দীক্ষা ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের একমাত্র শর্ত। আমরা এখানে শিক্ষক এবং একজন ছাত্রের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা এক অনুষ্ঠানের বিস্তৃত ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা পেয়ে যাই।

আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গিল্ডের (এর আগে উল্লিখিত তাঁতি, নাপিত, কুম্ভকর, তেলি) সঙ্গে সঙ্গে তুলনা করতে পারি। প্রাচীন কালের কারিগরদের শ্রেণী সংগঠনগুলোর যেমন আজকের আধুনিককালের জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, তেমনি পুরোহিতদের শ্রেণী সংগঠনও ব্রাহ্মণ জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা একটা কথা নিশ্চয় করে বলতে পারি, প্রাচীনকালের শ্রেণী সংগঠনের সদস্যপদ যেমন জন্মের ওপর নির্ভর করত, তেমনি প্রাচীন ব্রাহ্মণেরাও নিজেদের শ্রেণীর সদস্যপদে জন্মসূত্র বেছে নিয়েছিলেন।

পুরোনো সময় বুঝতে আমাদের আধুনিক নতুন সময়ের ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গীও কিছুটা বদলাতে হবে। ব্রাহ্মণেরাই বেদ পড়াবে, তারাই পুজো করবে — এই ধারনাতেই আমরা বর্তমানকালে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের বলা দরকার ছিল যে ব্রাহ্মণের বেদজ্ঞান আছে, তারাই একমাত্র পুরোহিত হিসেবে গণ্য হবে। বৈদিক জ্ঞানে পণ্ডিতই ব্রাহ্মণ কিন্তু ব্রাহ্মণ মানের বেদ জ্ঞানী নাও হতে পারে। সে সব দিনে ব্রাহ্মণেরা শুধুই পুরুতগিরির ঘেরাটোপে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেন নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ যুদ্ধও করতেন এবং বহু ব্রাহ্মণ অন্য পেশাও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কৌশিতকিতে ব্রাহ্মণদের অস্ত্র বহন করার যে নিষেধাজ্ঞা লেখা হচ্ছে, সেটা হয়ত তাদের মৌল পেশাকে সম্মান জানিয়ে অনেক পরের নিষেধাজ্ঞা। এই নির্দেশনা জারি করা হয় গোষ্ঠী সমবায়িতাকে আরও ঘণবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে।

প্রথম যুগে ‘পুরোহিতদের গোষ্ঠী’ চরিত্রগতভাবে সামাজিক স্বাতন্ত্র দাবি করত না, পরের দিকে সামাজিক স্বাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে। জোটের বাইরে কোনও রকম বাধা ছাড়াই বিয়ে করা যেত, এমন কী শূদ্র শ্রেণীতেও ব্রাহ্মণদের বিয়ে হয়েছে। তবে শূদ্র সমাজে বিয়ে করাকে খুব একটা ভাল চোখে দেখা হত না, অনুৎসাহিতও করা হত — এর স্পষ্ট উদাহরণ পাই গোভিলে Gobhila, 3. 2. 42। বতস্যের গপ্পেও নিষেধাজ্ঞা আছে, কিন্তু ততটা জোরালো নয়। এতসব পাঠের পরে ওয়েবার বলছেন রক্তের শুদ্ধতা রক্ষার ধারণা তখনও আসে নি, সে ধারণা অবলম্বন করে পরের সময়ে বহু নির্দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে (Ind. Stud., Vol. X, p. 75)।

প্রথম দিকে পুরোহিতেরা গোষ্ঠীবদ্ধ এবং একমাত্রিক সমাজ হিসেবে গড়ে ওঠে নি। কিন্তু পরের দিকে এ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সচেতন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করি। তবুও সদস্যদের ওপর প্রথা বা নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োগ করার দৃঢ়তা দেখা যেত না। নিয়ম ভাঙার শুধু কিছু অনুশোচনা বাচক বিষয় পালন করা হত। গোষ্ঠীর নিয়ম ভাঙলে হাল্কা দণ্ড দেওয়া হত। এবং নিয়ম ভাঙা যদি অভ্যেসে পরিণত হয় তাহলে গোষ্ঠী থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হত; কিন্তু তাড়িয়ে দেওয়া সদস্যকে নতুন করে গোষ্ঠীবদ্ধ করার কোনও বাধাও ছিল না।

এর আগে আমি ‘পুরোহিতদের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গোষ্ঠী এবং শ্রেণী’ এই দুটি শব্দ বারবার ব্যবহার করেছি। আমার মনে হচ্ছে, ‘পুরোহিতদের গোষ্ঠীগুলি এবং শ্রেণীনিচয়’ বললেই ভাল হয়। আমরা যেন মনে না করি দেশজোড়া সব ব্রাহ্মণ মিলেজুলে একটিমাত্র শ্রেণীবদ্ধ গোষ্ঠী তৈরি করেছিল। যদিও তাদের মধ্যে লক্ষ্য, সাধনা, এবং জীবনযাপনের পদ্ধতির অনেকটাই মিল থাকলেও একটা নির্দিষ্ট সূত্র কয়েকজনই মাত্র মান্য করত। সে সময় ব্রাহ্মণদের বহু আঙ্গিক লক্ষ্য করি যজুর্বেদী, মধ্যদিন, মৈত্রেয়নী, ঋগ্বৈদিক, অপস্তব, অপস্তম্ব হিরণ্যকেশী ইত্যাদি। নামগুলো থেকে পরিষ্কার বৈদিক কর্তৃপক্ষ এই পার্থক্যগুলো সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন এবং তাদের এ বিষয়ে তাঁদের সম্মতিও ছিল। এর থেকে আমি বলতে পারি, তারা জন্মসূত্রে নয় শ্রেণিতে পৌরোহিত্যের জ্ঞান সূত্রে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়েছিল। শাখা এবং চরণসূত্রে ব্রাহ্মণদের মধ্যে বিভক্তিও আমাদের একই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করে।

ক্ষত্রিয়

Verhaltniss der beiden obersten Kasten (Ind. St., X, pp. 26-35) শীর্ষকে বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে সব উদ্ধৃতি সংকলন করেছেন, সেই সূত্রে মনে হয় ক্ষত্রিয়রাও শ্রেণীবদ্ধ হয়। বহু জায়গায় বলা হয়েছে ব্রাহ্মণদের মত তারাও বিশেষাধিকার লাভ করেছিল। এরা অধিকাংশ সে যুগের অভিজাত, আদিবাসী গোষ্ঠীপতিদের উত্তরসূরী। এদের পদাধিকার নির্দিষ্ট ছিল না এবং এদেরও সামাজিক স্বাতন্ত্র্যও সেভাবে তৈরি হয় নি। তাদের গোষ্ঠীবদ্ধতা শ্রেণী চরিত্রে পরিণত হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণদের মত খুব কঠোর গোষ্ঠী নিয়ম অনুসরণ করত না। এই দুই শ্রেণীর বিকাশ সমান্তরালভাবে ঘটে চলেছে বলেই আমরা ক্ষত্রিয়দের বিষয়ে আলাদা করে বিস্তারিত আলোচনা করলাম না। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev