প্রথম অধ্যায়
চার
এবারে আমরা ধর্মসূত্র (পঞ্চম খ্রীঃপূ থেকে তৃতীয় খ্রিঃপূ) নিয়ে আলোচনা করব। ১১ অধ্যায়ের ২১ নম্বর শ্লোকে গৌতম ধর্মসূত্র চাষী, ব্যবসায়ী, পশুপালক এবং মহাজন (সুদের কারবারী) শ্রেণীর জন্যে নীতিমালা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে; এছাড়াও বলা হচ্ছে যারা এ বিষয়ে [প্রতিটি শ্রেণীর] নীতি নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, সে সব পদাধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে অবস্থা জেনে, বুঝে রাজা আইনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এর অর্থ কারিগর শ্রেণী সংগঠন আরও এক ধাপ বিকাশের স্তরে এগোল। ব্যবসায়ী এবং কারিগরদের সমবায়িক সংগঠন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত হল এবং নিজেদের জন্যে নিয়ম তৈরির অধিকার অর্জন করল। শ্রেণী সংগঠনের মুখপাত্র, জাতকে যাদের জেত্থক বলা হয়েছে, তাদের গুরুত্ব বাড়ল এবং রাজ দরবারে তাদের শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার অধিকার অর্জন করল।
সদস্যদের ওপরে শ্রেণী সংগঠনের কী ধরণের প্রভাব পড়েছিল, সেটা বিনয়পিটকে উল্লিখিত দুটি শৃংখলা বিধি আলোচনা করলেই স্পষ্ট হবে। এদুটি বিধির প্রথমটা হল নির্দিষ্ট কিছু সময়ে শ্রেণী সংগঠন তার সদস্য এবং সদস্যদের স্ত্রীর (দের) মধ্যে বিবাদ মেটানোর কাজ করবে; দ্বিতীয়টিতে বলা হয়েছে যে কোনও কারিগরের স্ত্রীর স্ত্রীর পদপ্রাপ্তির (ordination) জন্যে শ্রেণী সংগঠনের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
গৌতমের ধর্মসূত্রের আরেকটি স্তবক সূত্র থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি, কীভাবে এই সময়ে শ্রেণী সংগঠনগুলি ক্রমশ প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছে। বলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও মহিলা চোরকে (চোরি) সন্ন্যাসী পদে বৃত করা যাবে না রাজনম ভা সঙ্ঘম ভা গণম ভা পুগম বা সেনীম ভা অনপালোকেত্ব। এই শ্লোকে মন্তব্য করতে গিয়ে টিকাকার লিখছেন রাজা নামা, যত্থ রাজা অনুষ্ঠতি রাজা অপলোকেতাব্বো। এর থেকে শ্রেণী সংগঠনের বিচারিক এবং প্রশাসনিক অধিকারের জায়গাটি প্রমান হয় এবং এর ফলে গিল্ড বা শ্রেণী সংগঠন রাজা এবং অন্য রাজনৈতিক সমবায়িক সংগঠনের সমতুল্য হয়ে ওঠে।
এই সময় নিয়ে কাজ করা গবেষকদল শ্রেণী সংগঠনের নানান কর্মকান্ড নিয়ে বেশ কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা আমাদের জানাচ্ছেন, হিসেব রাখার আধিকারিককে স্থির নির্দিষ্ট পঞ্জিকায় বিভিন্ন প্রথার ইতিহাস, শ্রেণী সংগঠনের পেশাদারদের এবং খরচপাতির বিশদ বিবরণ নথিভূক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হত। সংগঠনে আমানত জমা রাখার জন্যে শ্রেণী সংগঠনের আশীর্বাদধন্য তিনজন কমিশনার [সচিব] বা মন্ত্রী নিয়োগ করা হত। এই সঞ্চয় দুর্দিনে তুলে নেওয়া যেত। বিভিন্ন কারিগর সঙ্গঠনের মধ্যে আইনি দ্বন্দ্বে অখনও কখনও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল; নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্দিষ্ট শ্রেষ্ঠী(দের)কেও বিশেষ সুবিধে দেওয়া হয়েছে। সেযুগে গিল্ডের গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারব, আদর্শ নগর পরিকল্পনা ভাবনায়। শহর পরিকল্পনায় শ্রেণী সংগঠন এবং তাদের সদস্যর কাজকর্ম সম্পাদন করার জন্যে কোনও একটা অঞ্চল নির্ধারিত করে রাখা হত; বাসস্থানে তৈরির জন্যেও স্থান নির্ধারিত হত [একই ধারণার প্রবাহ দেখি আবুল ফজলের শহর সংজ্ঞায়। তিনি শহর বলছেন এমন এক ভৌগোলিক অঞ্চলকে যেখানে বিপুল সংখ্যক কারিগর অবস্থান করেন। বাংলার বাইরে শহরেই কারিগরদের বাসস্থান ছিল। বাংলাতেই কারিগর গ্রামে দলবদ্ধভাবে থাকত]; কারিগরদের দেয় রাজস্ব রাজকোষের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সূত্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গ্রামে কারিগরদের শ্রেণী সংগঠন আইনের সূত্রে সুরক্ষিত হত, এবং সদস্যদের স্থানীয় সমবায়িক চরিত্র ছাড়া গ্রামাঞ্চলে কোনও সংগঠন তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হত না। শ্রেণী সংগঠনের বিপুল পুঁজি কখনো কখনও দুরাচারী রাজা মেকিয়াভেলিয় নীতি অনুসরণ করে দখল নিয়েছে। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় নিদানে বলা হয়েছে, রাজা যদি কখোনো আর্থিক সংকটে পড়েন এবং তার সে সময় সাহায্য প্রয়োজন হয়, তিনি একজন টিকটিকি নিযুক্ত করবেন যে সংগঠনগুলি থেকে সম্পদ ধার করবে এবং সেই রাতেই তার সোনার দণ্ড (bar gold) বা মুদ্রা ‘চুরি’ করাবেন।
শ্রেণী সংগঠনের কাজকর্ম বিষয়ে কৌটিল্য বেশ কিছু আইনের কথা বলেছেন। এগুলিকে বিশেষাধিকারও দেওয়া হয়েছে। যেমন চুক্তির শর্ত মান্য করার জন্যে সাতটি অতিরিক্ত দিনের ছাড় দেওয়া হত। শ্রেণী সংগঠনের রোজগার, অন্য কোনও নির্দেশ না দেওয়া থাকলে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হত। সংগঠন কাজ শুরু হওয়ার পরে সংগঠন সদস্য যদি সে কাজ ছেড়ে যায়, তাহলে তাকে নির্দিষ্ট পরিমান জরিমানা দিতে হবে। সংগঠনের কোনও সদস্য যদি তার কাজের বরাদ্দ অংশ পূরণ করতে ফাঁকি দেয়, তাহলে তাকে প্রথমে মাফ করা হত, কিন্তু সে যদি শোধরানোর চেষ্টা না করত, তাহলে তাকে সংগঠন থেকে দূর করে দেওয়া হত। সদস্যর চোখটানা দুষ্কর্মকে দাগি আসামীর মত বিচার করা হত। আমরা সাধারণীকরণের সূত্রে ভেবে নিতেই পারি অন্যান্য কারিগর/শ্রেণী সংঘে প্রায় একই ধরণের নিয়মকানুন প্রযুক্ত হয়েছে।
একটি স্তবক সূত্রে এই সময়ের শ্রেণী সংঘগুলোর ক্ষমতা এবং প্রভাব আমরা অনুভব করি। শ্রেণী সংগঠনের অশান্তি বা তার নেতৃত্বর ঝামেলা কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার এই স্তবকে বিশেষভাবে বিচার করা হয়েছে। পূর্ব সময়ের স্মৃতিকারদের নিদানের বিরোধিতা করে কৌটিল্য সংগঠনের মাথায় বসা নেতৃত্বদের অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারন নেতৃত্ব অন্যান্যদের সমর্থনের বলে, বহু মানুষের জীবন এবং সম্পত্তির ওপর আঘাত হানতে পারে। এখানে আবার একটা প্রশ্ন উঠে এসেছে, নির্দিষ্ট একটি পতিত জমিতে কোনও শ্রেণী সংগঠন, তাদের সদস্যদের বাসস্থান তৈরি করে সেটিকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারে কী না অথবা বসতি তৈরি করার জন্যে এধরণের সংগঠিত সংগঠন আদৌ প্রয়োজন আছে কী না, সেই বিতর্কও। স্মৃতিকারেরা এই ধরণের বসতি তৈরি করতে শ্রেণী সংঘের খবরদারি পছন্দ করছেন না কারন শ্রেণী সংগঠনকে এই কাজে অন্তর্ভূক্ত করার অর্থই হল, তারা নিজেদের নিয়ে থাকে, কোনও রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে না, অথবা তারা [নিজেদের সমাজ ছাড়া] অন্যান্য [সমাজের] আবেগকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। অর্থশাস্ত্রের একই ধরণের শ্লোকে শ্রেণী সংগঠন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা থেকে আমরা কোনও দ্বিধা না রেখেই আন্দাজ করতে পারি চতুর্থ খ্রিপূতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কারিগর সঙ্গঠনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বিভিন্ন ছড়ানোছিটোনো সূত্র অবলম্বন করে আমরা আরেকটা বিষয় আন্দাজ করি, সে সময় শ্রেণী সংঘ সামরিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নবম খণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে রাজার চতুরঙ্গে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ‘শ্রেণীভাল’ নামক বাহিনীর কথা বলছেন। এই বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মরক্ষা এবং আক্রমণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া শত্রুর বাহিনীতে যদি এ ধরণের সেনা থাকত তাহলে যুদ্ধে এই ধরণের শ্রেণী থেকে যোদ্ধা নেওয়া হত। পঞ্চম খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের জীবিকা শীর্ষকে ‘শ্রেণীমুখ্য’র বেতন সূত্রে বলা হয়েছে, সেটি হাতি, ঘোড়া এবং রথ বাহিনীর সেনাপতির সমতুল হবে এবং তারপরে বলা হয়েছে, ‘এই বেতন প্রাপ্তির ফলে সে তার সমাজে সে প্রভূত সম্মান অর্জন করবে’। সপ্তম খণ্ডের ১৬তম অধ্যায়ে কৌটিল্য বলছেন বলশালী মানুষদের বশে রাখার নানান কৌশল, ‘শ্রেণীভাল’কে এমন একটা জমি দেওয়া দরকার, যে জমিটায় সে সব সময় তার শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে করতেই জীবন কাটিয়ে দেবে; তার পক্ষে রাষ্ট্রের কাজে মাথা গলানোর সময় হবে না। একই খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে সেনার একটি বাহিনীর নাম বলা হয়েছে ‘শ্রেণী’, যারা শত্রুর আক্রমন প্রতিহত করে।
কৌটিল্য আরেক ধরণের ক্ষত্রিয়র কথা বলেছেন যারা ব্যবসার সঙ্গে যুদ্ধকেও জীবিকা হিসেবে নিয়েছে। ‘কম্বোজ-সৌরাষ্ট্র-ক্ষত্রিয়-শ্রেন্যাদয়ো-বর্ত-শাস্ত্রোপজীবিনহ’। এগুলি বিশেষ আকারের পেশাদারদের সংগঠন যেগুলি কম্বোজ এবং সৌরাষ্ট্র দেশেই দেখা যায়।
যদিও বেশ কিছু শ্রেণী, সামরিক পেশা বেছে নেওয়ায় অনেকে প্রাথমিকভাবে আশ্চর্য হন, কিন্তু আমরা নিম্নলিখত আলোচনায় দেখাতে পারি পরের দিকের সময়ে এটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠবে।
মহাভারতের কিছু শ্লোকে রাজাকে শ্রেণীভালার ওপরে নির্ভর করতে বলা হয়েছে, যারা অনেকটা ভাড়াটে সেনা বা ভৃতমের সমান গুরুত্বের ছিল। রামায়ণে একইভাবে ‘সায়োধশ্রেণী’র (sayodhasreni) কথা বলা হয়েছে; এছাড়া মন্দাসোর শিলালিপি থেকে আমরা স্পষ্টভাবে শ্রেণী সংঘগুলির সামরিক দিকটি বুঝতে পারি। নারদস্মৃতিতে শ্রেণী সংগঠন এবং অন্যান্য সমিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে সঙ্ঘবদ্ধতা হল গুপ্তভাবে অস্ত্র ধরার একটি ছল, এবং সেটা যদি রাজার বিরুদ্ধে যায় রাষ্ট্র সেই দুর্বিনীততা সহ্য করবে না।
শ্রেণীবল যে এক শ্রেণীর যুদ্ধ বাহিনী এ তথ্য পরিষ্কার হয় স্মৃতিশাস্ত্রসূত্রে; আমরা এর আগে কৌটিল্যকে উদ্ধৃত করে বলেছি এই ধরণের কারিগর অধ্যুষিত বাহিনীকে আত্মরক্ষা এবং আক্রমণ উভয় কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কৌটিল্যের মন্তব্যে বহু পণ্ডিত দ্বিমত পোষণ করেছেন। ড. আর শ্যামাশাস্ত্রী শব্দটার অর্থ করেছেন ‘সেনাদের জোট’। তিনি এবাবদে কৌটিল্যের শ্রেণী সংগঠনের সামরিক বিষয়ে যুক্ত হওয়ার অর্থকেই অস্বীকার করেছেন। অধ্যাপক ডি আর ভাণ্ডারেকর এর অর্থ করেছেন ‘শ্রেণী সংগঠন, যে যুদ্ধ বাহিনী পালন করে’। আমি কৌটিল্যের ব্যবহার করা ‘ক্ষত্রিয় শ্রেণী’র উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে চাইছি। আমার মনে হয় এটার অর্থ একধরণের শ্রেণী সংগঠন যেটি সামরিক বাহিনীর জন্যে অস্ত্র ইত্যাদি তৈরি করে এবং একই সঙ্গে নিজেদের সদস্যদের জন্যে সমান্তরালভাবে সামরিক পেশাও বজায় রাখে। মন্দাসোর শিলালিপি সূত্রে এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। মান্দাসোর শিলালিপি সূত্রে জানতে পারছি, রেশম বুনক শ্রেণী সংগঠনের কিছু সদস্য যুদ্ধের জন্যে হাতে অস্ত্র তুলে নিতঁ এবং যুদ্ধে তাদের ‘শত্রু ধ্বংসের শৌর্য আজও গাওয়া হয়’। আরেকটা তথ্য দেওয়া দরকার। এই রেশম বুনক শ্রেণী সংঘটি লতা প্রদেশে অবস্থিত ছিল। লতা প্রদেশ হল সৌরাষ্ট্র দেশের সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া অঞ্চল। আমরা কৌটিল্য সূত্রে আগেই দেখেছি সৌরাষ্ট্রে প্রচুর ক্ষত্রিয় শ্রেণী সংঘ ছিল। ফলে শ্রেণীর সদস্যরা যুদ্ধ পেশা গ্রহণ করার বিষয়ে পণ্ডিতমহল একমত না হলেও, একটা বিষয় পরিষ্কার কারিগরদের নিজেস্ব সমাজ-পারিবারিক মৌলিক পেশার পাশাপাশি প্রাচীন কালের বেশ কিছু শ্রেণী সংগঠন জোরদার সামরিক সম্পদে বলীয়ান হয়ে ওঠে। প্রাচীন ভারতবর্ষের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তারা খুব একটা ন্যূন ভূমিকা পালন করছে না। শ্রেণী সংগঠনের এই চরিত্র আমায় মধ্যযুগের ইতালিয় গিল্ডের কথা মনে পড়িয়ে দেয়।
কৌটিল্য উল্লিখিত ক্ষত্রিয় শ্রেণী মধ্যযুগ পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। আমরা এ বিষয়ে দক্ষিণ ভারতের দশম এবং একাদশ শতকের ভেলাইকারা সমাজের [The Velaikkaras rebelled against King Vijayabahu (1055-1110 A.D.) in his 30th year refusing to fight against the Colas and they were punished. It seems that Velaikkaras provided protection to the Temple of Tooth even during the early period of Vijayabahu due to the mention of construction of some buildings by them around the Temple of Tooth. Perhaps after the rebellion, they were removed beings the guards of the Temple of Tooth. After the death of Vijayabahu, there were several internal struggles and it is very likely that Mugalan Thera decided to engage Velaikkara forces again, for the protection of the Tooth Relic and the Bowl Relic of the Buddha, during that turbulent period. The purpose of this inscription is to give an assurance by the Velaieckara Soldiers that they would protect the sacred relics and the properties no matter what happened] উদাহরণ দিতে পারি। এই সমাজের মধ্যে ছিল ভালাঙ্গাই, ইদানগাই কারিগর সমাজ। চোল রাজত্বের প্রথম রাজারাজা চোল বা প্রথম রাজেন্দ্র চোলএর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে কাজ করা এই কারিগরদের নাম বহু তাঞ্জোর লিপিতে উল্লিখিত হয়েছে। এরা এই সময়ে সিংহলে অভিবাসিত হয়ে সিংহলি রাজাদের সেনাবাহিনীতেও কাজ নিয়েছে। পোলানারুয়া লিপি থেকে জানতে পারি দেবসেন নামক এক সমাজ প্রধান, রাজা বিজয়বাহুর নির্দেশে জিনএর পূণ্য দাঁত প্রতিষ্ঠা করে একটি স্মারক মন্দির তৈরি করে তার সুরক্ষায় ভেলাইকার সেনাকে নিয়োগ করেন। এরা একসঙ্গে তাদের নেতার নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে মন্দিরটি দেখাশোনা করা এবং রক্ষা করার শপথ গ্রহণ করে। এই কাজের পুরষ্কারস্বরূপ উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যকে এক ভেলি পরিমান জমি দান করা হয় এবং প্রত্যেকে শপথ নেয়, ‘আমরা মন্দিরের অন্তঃপাতি গ্রাম, ভৃত্যদের সম্পত্তি এবং ভক্তদের রক্ষা করি; এই কাজ করতে গিয়ে আমরা নিজেদের প্রাণ হারাতেও পারি অথবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারি। আমাদের সমাজ যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন আমরা মন্দিরের [পরিচালনার জন্যে] জন্যে; সময়ের হস্তাবলেপনে মন্দিরের ভগ্নদশা উপস্থিত হলে, তাকে সারাবার জন্যে আমরা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি, যতদিন চাঁদ আর সূর্য টিকে থাকবে, ততদিন যাতে এই চুক্তি মান্য করা হয়, তার জন্যে পাথর আর তাম্রলিপিতে খোদিত চুক্তি প্রত্যায়িত করছি’ We protect the villages belonging to the temple, its servants’ property and devotees, even though, in doing this, we lose ourselves or otherwise suffer.
We provide for all the requirements of the temple so long as our community continues to exist, repairing such parts of the temple as get dilapidated in course of time and we get this, our contract, which is attested by us, engraved on stone and copper so that it may last as long as the Moon and the Sun endure।
পাঁচ
শ্রেণী সংগঠনগুলোর বিকাশ হওয়ার আরও তথ্য আমরা পাচ্ছি ধর্মশাস্ত্র লেখার প্রথম যুগে, দ্বিতীয় খ্রিপূ থেকে চতুর্থ খ্রি পর্যন্ত সময়ে। ফলে মনুসংহিতা শুধু যে উপরে উল্লিখিত গৌতমের বক্তব্যকে সমর্থন করে তাই নয়, মনু ‘শ্রেণী ধর্ম’কে আইনের মর্যাদা দিলেন। তিনি শেষে বললেন, মনুর অর্থশাস্ত্র বলছে ‘কোনও গ্রাম বা জেলায় বসবাসকারী শ্রেণী সংগঠনের (গ্রামদেশ-সংঘ) অন্তর্গত কোন ব্যক্তি চুক্তির শপথ করার পর, লোভ করে চুক্তি অমান্য করলে (রাজা) তাকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করবেন’ [অথচ সুশীল চৌধুরী বা ওম প্রকাশ চুক্তি উল্লেখ করে বলছেন পলাশীর আগে রাষ্ট্র, সমাজ বা পুঁজিপতি সওদাগর কেউই অন্তত বাংলার কারিগরদের ইওরোপিয় কর্পোরেশন, সওদাগর বা অন্যান্যদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি মান্য করতে বাধ্য করতে পারত না। পলাশীর পরে কর্পোরেটের যুগে আমরা মনুস্মৃতির যুগে ফিরে গেলাম] If a man belonging to a corporation inhabiting a village or a district (grama’desa-samgha) after swearing to an agreement, breaks it through avarice (the king) shall banish him from his realm (২)। এর পরের শ্লোকে বলা হয়েছে এই ধরণের দোষীদের জরিমানা করা হবে এবং কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে; শেষ শাস্তিটি কী আগের দুটি শাস্তির বিকল্প শাস্তি হিসেবে গণ্য হত? মেধাতিথি এবং কুল্লুকভট্ট ব্যবসায়িক সংগঠনকে ‘দেশ সংঘ’ নামে বিবৃত করেছেন।
যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতাও বলল, কোনও সদস্য যদি তার এবং অন্য শ্রেণী সংগঠনের সম্পত্তি চুরি করে, অথবা চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে তার সমস্ত সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাকে রাজত্ব থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে (shall banish him from his realm)।
বিষ্ণু সংহিতাতেও একই নিদান দেওয়া হয়েছে
একের পর এক স্মৃতিতে এই ধরণের নিদান দেওয়া থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি, খ্রিষ্টিয় অব্দ শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময় থেকেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শ্রেণী সংগঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। কারিগর সংগঠনকে যে শুধু রাষ্ট্র কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে তাই নয়, রাষ্ট্র শ্রেণী সংগঠনের কর্তৃত্বকেও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রেণী সংগঠনের সফল অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে এবং এর কালীয় চাহিদা এবং সহযোগিতার দাবি পূরণ করে, রাষ্ট্র এই ধরণের সংগঠন বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু নীতি ঘোষণা করায় শ্রেণী সংগঠনের মর্যাদা আর প্রতিপত্তি বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। (চলবে)