পঞ্চম অধ্যায়
সামাজিক জীবনে সমবায়িক কাজকর্ম
দুই
বৈশ্য
বৈশ্যরাই ছিল সেযুগের বিশাল জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে থেকে ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয় শ্রেণী তৈরি হয়েছে। কোন কোন বৈশিষ্ট্যে বৈশ্যদের থেকে ক্ষত্রিয় আর ব্রাহ্মণেরা আলাদা সেই নিয়ম আর প্রথা নির্দিষ্ট ছিল। তারমধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা গেল —
১) বলি ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের ‘এহি’ (Ehi) এবং বৈশ্য আর ক্ষত্রিয়দের ‘আগাহি’ (agahi) আর ‘আদ্রভ’ (adrava) নামে অভিহিত করতে হবে। (Satapatha Brahmana 1. 1. 4. 12 )।
২) ব্রাহ্মণেরা তিন বিয়ে, ক্ষত্রিয়রা দুই বিয়ে আর বৈশ্যরা এক বিয়ের অধিকারী ছিল (পৃ ২১)।
৩) ছাত্রাবস্থা শুরুর বয়স ছিল যথাক্রমে ৮, ১১, ১২ বছর (প্রাগুক্ত)।
৪) ব্রাহ্মণের যেমন সাবিত্রী, ক্ষত্রিয়ের গায়ত্রী আর বৈশ্যের জাগতি (পৃ ২২)
৫) ব্রাহ্মণের উপনয়ন হয় বসন্তে, ক্ষত্রিয়ের গ্রীষ্মে আর বৈশ্যদের শরতকালে।
৬) ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য ছাত্র বক্তব্যের শুরু এবং শেষে ভাভন্ত (bhavant) শব্দটি আবশ্যিকভাবে উচ্চারণ করবে।
৭) ব্রাহ্মণদের রং হল সাদা, ক্ষত্রিয়দের লাল আর বৈশ্যদের হলুদ।
8) উর্ধ্বাংগে পবিত্র কোমরবন্ধ তৈরির তন্তুও প্রত্যেকের জন্যে আলাদা প্রকারের ছিল।
ভেবে নেওয়ার কারণ নেই ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় এবং শূদ্র যথাক্রমে সাদা লাল বা হলুদ রঙের হত — এ সব পার্থক্য তৈরি করার জন্যে লেখা হয়েছে (অন্য এক সূত্রে বৈশ্যদের সাদা আর ক্ষত্রিয়দের কালো বলা হয়েছে।) (his is conclusively proved if such proofs were necessary) by the following passages of Apastamba, where, after describing the dififerent materials fit to be used by Brahman, Kshatriya and Vaisya he says : “some declare, without any reference to caste, that the staff of a student should be made of the wood of a tree (that is fit to be used at the sacrifice)” ( S. H. E., II, p. 9 ). Again “the skin of a sheep is fit to be worn by all castes” (ibid, p. 10)। [বইয়ের ৩৪৫ পাতা]। ব্রাহ্মণ্যবাদী লেখকেরা তিন শ্রেণীর মধ্যে যে অলঙ্ঘ বাধা তুলে দিতে চাইছিলেন, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু এর থেকে প্রমাণ হয় যে পার্থক্যগুলো করা হয়েছে, সে সব কঠোরভাবে মান্য করা হত না।
তাত্ত্বিকভাবে এবং বাস্তবিক, বৈশ্যদের ব্রাহ্মণদের থেকে ভিন্নতরভাবে আলাদা দেখানোর উদ্যম নেওয়া হলেও তারা যে একটি সমসত্ত্ব গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠছিল, এ তথ্য অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। এরা সংখ্যায় ছিল বিপুল এবং যৌথতার চরিত্রে গড়ে ওঠার বৈচিত্র্যময় উপাদানে ভরপুর; জন্ম থেকেই বৈশ্য আর শূদ্র আলাদা করা হত; বিভিন্ন পেশাদারি গোষ্ঠী এবং ভিন্ন ভিন্ন জীবনযাপনের নিয়ম অবলম্বন করেও তারা এক গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠছিল। পরের যুগে এই গোষ্ঠীগুলো একত্রিত হয়ে কীভাবে সমবায়িক চরিত্র ধারণ করে সে আলোচনা আমরা পরের সময়ে করব।
শূদ্র
পূর্বের সময়ে আর্য আর দাসেদের মধ্যে কন্ট্রাস্টটি আমাদের আলোচ্য সময়ে গিয়ে রূপান্তরিত হল আর্য আর শূদ্র বৈপরীত্যে (শূদ্র আর আর্যদের মধ্যে চিহ্নগত লড়াইএর পার্থক্যগুলোর জন্যে দেখুন lnd. Stud., X, p. 5 ff.)। আর্য আর শূদ্রের মধ্যে নির্দিষ্ট পার্থক্য তৈরি করা হল। দাবি করা হল শূদ্রদের পুণ্য আগুন অর্থাৎ যজ্ঞ করার বা বলি দেওয়ার এমন কী বেদ পাঠেও অধিকার নেই। প্রাচীন শাস্ত্রগুলোয় কিন্তু তাদের এই অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। এই স্তবকগুলি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে টিকাকার বলছেন শূদ্র শব্দকে রথকর (Rathakara) হিসেবে গণ্য করা হত। ওয়েবার মন্তব্য করছেন, শূদ্র শব্দের এই সীমাবদ্ধ সংজ্ঞা আদতে গৌণ অর্থে ব্যবহার হয়েছে এবং এ বিষয়ে আমিও মন্তব্য করয়েছি। শূদ্রদের মৃতদেহ পোড়ানোর অধিকার ছিল না। প্রাচীন শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য আর শূদ্রের তুমুলির (tumulii) বা সমাধি মাপ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনও কোনও পণ্ডিত বলছেন শুধুই রথকররাই এই মাপটা বুঝতে পারত, কিন্তু এদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক পা এগিয়ে বলছেন শূদ্রের জন্যে সমাধির মাপ দেওয়া হয়েছে শুধু মাত্র পরিমাণ প্রসঙ্গত (Parimana-prasangat), অর্থাৎ পরিমাপের খাতিরে। আমি আগেই বলেছি শূদ্রদের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক তৈরি করাকে ক্রমশ অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আমরা দেখলাম আর্য সমাজে একদিনে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বৈশ্য অন্যদিকে শূদ্রদের মধ্যে ব্যবধান নিরন্তর বাড়তে শুরু করল। But the entire Arya folk had as little claim to a corporate character as the motley group of people designated as the Sudras.
তিন
পরের শতাব্দগুলোতে আর্য আর শূদ্রদের মধ্যে সামাজিক ব্যবধান বাড়তে থাকবে। প্রথমত খাদ্যাভ্যাসে। অপস্তম্ব বলছেন, ‘শূদ্ররা প্রথম তিন জাতির মানুষের নজরদারিতে পরিবারের (পারিবারিক বিশ্বদেব উৎসবে) খাদ্য প্রস্তুত করবে। তাদের তৈরি করা খাদ্য সর্বশক্তিমানের উদ্দেশ্যে নিবেদন যোগ্য হবে এবং পরিবারের স্বামী স্ত্রী, প্রভু আর প্রভুনী সকলেই গ্রহণ করবেন’। একদা ব্রাহ্মণেরা কোনও নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই শূদ্রদের তৈরি করা খাদ্য গ্রহণ করত। কিন্তু এই শাস্ত্রেই বলা হচ্ছে ‘যারা নির্দিষ্ট আইন মেনে চলেন, তারা শূদ্র ছাড়া প্রত্যেক সমাজের খাদ্য গ্রহণ করবেন’। একই বক্তব্য এবং প্রথা পাচ্ছি গৌতমের XVII তে, ‘অন্যান্য সূত্র থেকে খাবার সংগ্রহ করে যদি জীবন নির্বাহ করা সমস্যার হয়, তাহলেই একমাত্র শূদ্রদের হাতে তৈরি খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে’। এই নিষেধাজ্ঞা সূত্রে যে ব্রাহ্মণ এবং শূদ্রের মধ্যে বিভাজন রেখা যে চওড়া হচ্ছে সেই বিষয়টা আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে উঠে আসছে। একসময় যে দেওয়ানেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল তাকে ক্রমশ নিষেধ নীতির নিগড়ে বেঁধেফেলা হচ্ছে এবং এক সময় সেই দেওয়ানেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তৈরি হল স্পর্শের অপবিত্রতার ধারনা। অবস্তম্ব বলছেন, ‘ব্রাহ্মণের খাদ্যে শূদ্রের ছোঁওয়া লাগলে ব্রাহ্মণ সেটি গ্রহণ করবেন না’ ‘…অপবিত্র অশুচি শূদ্রদের আনা খাবার (তার স্পর্শ থাকুক ছাই না থাকুক) ব্রাহ্মণ খাবেন না’। গৌতম বলছেন, ‘শূদ্রের দেওয়া জল স্নাতকের পান করা নিষেধ’।
দ্বিতীয়তটি বিবাহ বিষয়ক। ওপরের আলোচনায় দেখেছি আন্তঃজাতি বিবাহে সক্রিয় বিরোধিতা করা না হলেও ক্রমশ অপছন্দের বস্তু হয়ে উঠছে। সদর্থক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে ‘কারোর একমাত্র শূদ্র স্ত্রী হলে, তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে সকলের সঙ্গে খেতে পারবেন না’। একই শাস্ত্রে পাচ্ছি, ‘ব্রাহ্মণ যদি পুত্র সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলেই একমাত্র তাঁর সম্পত্তির কিছু অধিকার শূদ্র স্ত্রীর ছেলে পাবে’। পরের দিকে এই বিবাহকেই অসিদ্ধ ঘোষণা করা হল। বশিষ্ঠ বলছেন ‘কেউ বলেন বৈদিক শাস্ত্রে দ্বিজদের অন্যান্য জাতের [ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য] স্ত্রী গ্রহণের মত শূদ্রাণী বিবাহের উল্লেখ আছে। কিন্তু এই বিবাহ না হওয়াই মঙ্গল। এই বিবাহের ফলে পারিবারের সম্মানহানি হয় এবং প্রয়াণের পর জাতক স্বর্গচ্যুত হয়’।
একই কথা মনুও বলছেন, ব্রাহ্মণ বা ক্ষত্রিয় ক্লেশকর অবস্থায় জীবনযাপন করলেও তাঁর শূদ্র স্ত্রীর কথা প্রাচীন শাস্ত্রে পাচ্ছি না। দ্বিজরা যদি অজ্ঞতা বশত নিচু (শূদ্র) জাতের মেয়েকে বিবাহ করে, তার পরিবার এবং তার পুত্র সন্তানেরা সকলেই শূদ্র হিসেবে গণ্য হবে। অত্রি এবং গৌতম বলছেন শূদ্রাণী বিয়ে করারা জাতিচ্যুত হন, শৌণক বলছেন পুত্র সন্তান হলে জাতিচ্যুত হবে, ভৃগু বলছেন শূদ্রাণীর পুত্র সন্তান হলেই একমাত্র জাতিচ্যুত হবে। যে ব্রাহ্মণ শূদ্রাণীকে বিবাহ করে তাঁর বিছানায় তোলেন, তিনি নরকে নিক্ষিপ্ত হন; শূদ্রাণীর সন্তানের ব্রাহ্মণ পিতা ব্রাহ্মণত্ব হারান। যে ব্যক্তি শূদ্র সাহায্যকারী নিয়ে সর্বশক্তিমান এবং পূর্বজদের পুজা এবং সম্মান প্রদর্শন করেন, তার উতসর্গ করা পূজ্য পরলোকের পূর্বজ এবং সর্বশক্তিমান গ্রহণ করেন না। যে ব্যক্তি শূদ্রাণীর ঠোঁট থেকে ওষ্ঠমধু গ্রহণ করে, তার শ্বাস দ্বারা কলঙ্কিত হয়, শূদ্রাণীর গর্ভে সন্তান ধরে, তার প্রায়শ্চিত্তের নিদান নেই।
ব্রাহ্মণ আর শূদ্রের মধ্যে অনতিক্রম্য দেওয়াল তুলে দেওয়া হল। শূদ্র পরিবারে বিয়ে, শূদ্রের হাতে খাবার নেওয়া এবং সর্বশেষে তাদের ছোঁয়া নিষিদ্ধ করা হল। সামাজিক কৈবল্যের [আলাদা থাকার] ঘেরাটোপে ঘিরে নিতে নিতে এক সময় ব্রাহ্মণেরা অনমনীয় শ্রেণীতে রূপান্তরিত হল। আমাদের চোখের সামনে সেই ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীকে দেখছি। ব্রাহ্মণদের কৈবল্যবাদ অন্যান্যদেরকেও [ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য] ব্রাহ্মণদের পথ ধরতে প্রভাবিত করল। আজও প্রত্যেকেই নিজেদের নীতিনিষ্ঠ ব্যতিক্রমী গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরতে থাকে ‘জন্মই ব্রাহ্মণের পরিচয়, অন্য কোনও শ্রেণীর মানুষের ব্রাহ্মণত্বের অধিকার নেই’। এর পরে আমরা দেখব কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ চলক ব্রাহ্মণত্বকে সফল করল।
চার
জন্মই ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের একমাত্র সূত্র, এই নীতির ফলে ব্রাহ্মণত্বের বিকাশ হচ্ছিল ধীর গতিতে। বেদ বা ব্রাহ্মণগুলোয় এ ধরণের কোনও সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় না। আমরা এর আগের আলোচনায় দেখিয়েছি যে বহু শাস্ত্রেই বলা হয়েছে জন্ম নয়, শিক্ষাই ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের একমাত্র পথ। কিন্তু কীভাবে জন্মই ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের একমাত্র পথ হল, সেই বিবর্তন বুঝতে আমাদের দুটি গল্প আলোচনা করতে হবে প্রথমটা বিশ্বামিত্র এবং জনকের আর দ্বিতীয়টা মাতঙ্গরকে নিয়ে। এই গল্প থেকে আমরা বুঝতে পারব, কেন অন্যজাতের ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের চেষ্টা ব্যর্থ হল। কোনও এক গল্প সূত্রে ইন্দ্রকে বলতে শোনা যায় ১,০০০ জন্মে চণ্ডাল শূদ্র হয়, ৩০ জন্মে শূদ্র বৈশ্য হয়, ৬০ জন্মে বৈশ্য রাজন্য হয়, রাজন্য ব্রাহ্মণ হয় ৬০ জন্মে’। মুনির লিখছেন, ‘বিশ্বামিত্র আর বিতহব্য গল্পে আমরা দেখছি ক্ষত্রিয়র পক্ষে ব্রাহ্মণ হওয়া অসম্ভব কারন তার পক্ষে অন্তত ৬০ বার জন্ম না নিলে ব্রাহ্মণ হওয়া সম্ভব নয়’। তাছাড়া আরও একটা শর্ত হল সন্তানের বাবা-মা উভয়কেই ব্রাহ্মণ হতে হবে। কিন্তু বাবা ব্রাহ্মণ আর মা ক্ষত্রিয় হলে সন্তানের কী জাত হবে? শাস্ত্রে এই ধরণের বিবাহের উদাহরণ না থাকায় গৌতম তাদের নতুন জাতি ঘোষণা করছেন (cf. Gautama, IV. 3 6, etc.)। স্মৃতিকারদের এই ধরনের কাল্পনিক তত্ত্ব খাড়া করতে কঠিন সব উদাহরণ খুঁজে আনতে হচ্ছে। যেমন ক্ষত্রিয় পিতা আর শূদ্র ঔরসে গর্ভে জন্মানো পুত্রকে যবন বলা হল (Gautama, IV. 21)।
বাস্তবতা হল এই সব গল্পের মধ্যে দিয়ে ব্রাহ্মণ্য ভণ্ডামি বাড়তে দেখি। মহাভারতে বলা হল স্ত্রী ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য যাই হোক না কেন ব্রাহ্মণের সন্তানকে ব্রাহ্মণই হতে হবে (XIII. 47-17)। কিন্তু মনুসংহিতায় বলা হল, ব্রাহ্মণের যদি তার পরের ধাপের নিচু জাতের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ হয়, তাহলে সে বাবার জাত পাবে, কিন্তু মায়ের জন্ম দুর্ভাগ্য তাকে তাড়া করবে। এই বক্তব্য থেকে ব্রাহ্মণ পুরুষের সঙ্গে অব্রাহ্মণ নারীর বিবাহের নিষেধাজ্ঞা জারির তাত্ত্বিক অবস্থান নেওয়া হল। Gautama, IV. 22. 23 সূত্রে আমরা আর ব্রাহ্মণ্য ভণ্ডামির উদাহরণ দেখতে পাই। ব্রাহ্মণের ক্ষত্রিয় স্ত্রীর গর্ভে যে মহিলার জন্ম, তার যদি ব্রাহ্মণের সঙ্গে বিবাহ হয়, এবং তার কন্যা পরের সাত জন্ম একইভাবে বিবাহ করে, এবং সপ্তম জন্মের কন্যা সন্তান যদি ব্রাহ্মণকে বিবাহ করে, তাহলে তার সন্তান ব্রাহ্মণ হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে সবর্ণ পুরুষ যদি ক্ষত্রিয় কন্যাকে ববাহ করে এবং একইভাবে ৭ পুরুষ ধরে সেই কাজ একইভাবে অনুসৃত হয়, তাহলে সপ্তম পুরুষ সন্তান ক্ষত্রিয় হিসেবে গণ্য হবে। একই নীতি প্রযুক্ত হবে ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য স্ত্রীর সন্তানদের ক্ষেত্রে এবং বৈশ্য পুরুষ আর শূদ্র স্ত্রীর ক্ষেত্রে। গৌতমের সাত প্রজন্মে জাতি বদলের নিদানের পাশাপাশি অন্য স্মৃতিকারেরা পাঁচ প্রজন্মের নিদান দিচ্ছেন। মনুসংহিতায় Manu-Samhita X. 64-65 শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণ থেকে শূদ্রে পরিবর্তিত হওয়ার একই ধরণের নিদান দেওয়া হচ্ছে।
আমরা বিবর্তনের সম্পূর্ণ চক্রটি তৈরি করলাম। প্রথম দিকে ব্রাহ্মণের ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র স্ত্রীর অপত্যকে ব্রাহ্মণ গণ্য করা হত। পরের সময় সেই সন্তানকে ব্রাহ্মণ গণ্য করা হলেও তাকে নিচু নজরে দেখা শুরু হল। এর পরে এই বিবাহতে প্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল, কিন্তু মান্যতা দেওয়ার যে শর্ত দেওয়া হল সেটা পালন করা খুবই কঠিন, অনেকটা নিষেধাজ্ঞার মতই। ব্রাহ্মণ হওয়ার শর্ত পাঁচ প্রজন্ম থেকে বেড়ে হল সাত প্রজন্ম এবং সব শেষে অব্রাহ্মণের সঙ্গে বিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ব্রাহ্মণত্ব অর্জনের দুটি পথ নিদান দেওয়া হল ১। ব্রাহ্মণের সন্তান ব্রাহ্মণ হবে; আর ২। ব্রাহ্মণ পিতা আর ব্রাহ্মণ মাতারই সন্তান ব্রাহ্মণ হিসেবে গণ্য হবে। এই ভাবে তৈরি হল ব্রাহ্মণ জাতি তৈরি কাঠামোর নির্দেশাবলী।
সমাপ্ত