দেশ মানেই তো চোখের ভিতর
হাজারো স্বপ্ন আঁকা
বুকের মধ্যে সবুজ কথার
শব্দ সাজিয়ে রাখা
আমার মেয়ে প্রায়ই এখন গুনগুন করে গেয়ে ওঠে — ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।” স্কুলে শিখেছে। দেশকে ভালোবাসার কথা বলেছেন হয়তো ওর দিদিমণিরা। স্বপ্ন দিয়ে সাজানো, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা, শ্যামল সবুজ এই দেশের কথা আমাদের প্রিয় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল লিখেছিলেন অন্তর দিয়ে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটকে দেশের সেন্টিমেন্ট সত্যিই বড় বেশি। দেশকে নিয়ে কত না গান রচিত হল। দেশের প্রকৃতি, মানুষ উঠে এল সেসব গানে। ‘দেশ’-ছোট্ট একটা শব্দ। তার ভিতর লুকিয়ে রয়েছে কত শক্তি, সৌন্দর্য।সবসময় মনে হতে থাকলো —
দেশ মানেই তো মস্ত একটা বাড়ি
দেশ মানেই তো একটুও নয় আড়ি
দেশ মানেই তো একসাথে হেঁটে যাওয়া
দেশ মানেই তো অনেকটা পথ পাড়ি।
দেশকে ঘিরে কত আবেগ- ইমোশান, প্রেম- ভালোবাসা, তার জন্য কত ত্যাগ-তিতিক্ষা, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কত আত্মোৎসর্গ, জান প্রাণ লড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিঃস্বার্থ ঘোষণা। দেশের স্বাস্থ্য- শিক্ষা- শিল্প- সাহিত্য- সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে ভাবনাচিন্তা। নিরাপত্তা নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কত না পরিকল্পনা। দেশের নেতারা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখবার প্রচেষ্টায় মগ্ন, দেশের পরিবেশপ্রেমীরা ক্লান্ত দেশের নাগরিকদের সচেতন করতে, দেশের শিক্ষাবিদরা হিমশিম খাচ্ছেন সুপরিকল্পিত শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে। শিক্ষকসমাজ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক পথে চালিত করে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শামিল করতে। চিকিৎসকেরা সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দিতে নাজেহাল, বিজ্ঞানীরা সর্বদা সচেষ্ট দেশের প্রাকৃতিক অবস্থাকে সেই আগের সুন্দর জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কৃষক, শিল্পী, তাঁতি, কুমার, কামার সমাজের প্রান্তিকশ্রেণির মানুষেরা সভ্যতার পিলসুজ। দেশের অগ্রগতির চাকাকে মসৃণ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন তারা। আসলে ওই যে বলে না — ‘আমরা ঘুচাব মা তোর কালিমা’… মা-জননী দুঃখ-কষ্ট দেখা যায় নাকি! দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলেন কত না স্বাধীনতাসংগ্রামী, ফাঁসিকাঠে হাসতে হাসতে প্রাণ বলি দিলেন তাঁরা। একটা দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের কত না চাওয়া। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষার দাবি।

একটা গ্রামে বড় হয়ে উঠতে থাকলাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী, চারদিকে সবুজ মাঠ ধানক্ষেত। হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ হাসিতে খুশিতে দিনযাপন করতে থাকে-এসব দেখেই বড় হলাম। যাত্রা গান, লোকনাটক, জলসা একটু একটু করে ধারণা দিল দেশের। দারিদ্র, অভাব, কুসংস্কারের সাথে লড়াই করতে দেখলাম গ্রামের মানুষকে। ভারতবর্ষের রাজনীতি একটু একটু করে জড়িয়ে ধরল আমার সেই ‘ছোট্ট দেশটাকে’। ঈদ, মহরমের পাশাপাশি হরিনাম সংকীর্তন, কবিগান, গাজন উৎসব দেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে চিনিয়ে দিল। তারপর ক্রমশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাতায় পাতায় পেলাম রাষ্ট্রের ধারণা-ধর্মনিরপেক্ষতা সার্বভৌমত্ব একটু একটু করে বুঝতে শিখলাম। কলকাতা শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরতে ঘুরতে এক বৃহত্তর ভারতবর্ষকে উপলব্ধি করতে শুরু করলাম। সাহিত্যের আনাচে-কানাচে চলতে চলতে অনুভব করলাম ‘ভানুমতীর ভারতবর্ষকে’ ‘দোবরু পান্নার ভারতবর্ষকে’, ‘ঢোড়াইয়ের ভারতবর্ষকে’। ইতিহাস, অর্থনীতির পাঠ নিতে নিতে ছাড়লাম স্বাধীনতার কথা, দেশভাগের কথা, দাঙ্গার কথা, মন্বন্তরের কথা, সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের কথা, শিখলাম অর্থনীতির সংজ্ঞা, দেশের অর্থনীতির কত না শাখা প্রশাখা, বোঝার চেষ্টা করলাম কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য একটা দেশের কত বড় মেরুদন্ড। একটা দেশের কত না প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, কত না ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, পোশাকে, ভাষায়, খাদ্যে, বেঁচে থাকায় কত না বৈচিত্র্য। আবার বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্যের ভাব- একসঙ্গে বেঁধে বেঁধে থাকতে শিখিয়েছে আমাদের। চারণকবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়ের গান কণ্ঠে নিয়ে হেঁটে গেছি-“সাম্য মৈত্রী ঐক্য প্রগতি/ শান্তির পথ ধরে /আমরা চলেছি আমরা চলব/ যুগযুগান্তর ধরে।” ক্রমশ বড় হয়ে উঠলাম। পৃথিবীটাকে একটু একটু করে চিনতে শিখলাম। তুলনা করতে শিখলাম পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমার নিজের দেশকে। নিজের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে বেরিয়েছি যখন তখন বিস্মিত হয়েছি। বেঁচে থাকার কত না ছন্দ, সংস্কৃতির কত না রূপ।
আমার গ্রামের কিছুটা দূরে ছিল কাঁটাতারের বেড়া। ওপার একটা অন্য দেশ। ছোটবেলায় তেমনভাবে বুঝতে পারতাম না। মনে হত ‘এপারে যে বাংলাদেশ/ ওপারেও সেই বাংলা।’ এপারের নদী ওপারে বয়ে চলেছে, এবারের ধানক্ষেতের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া দুলিয়ে দেয় ওপারের ধানক্ষেতকে। দুটো দেশের মধ্যে বিভাজনরেখাকে তখনও বুঝিনি। কদিন আগেই ওপার বাংলা থেকে ঘুরে এলাম। এই প্রথম একদেশ থেকে অন্য কোন দেশে পাড়ি দেওয়া। পাসপোর্ট, ভিসা, দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের নানা ধরণের পরীক্ষা-সবকিছুর পরে আমার সে স্বপ্নের বাংলাদেশকে ছুঁয়ে দেখা। পদ্মা পার হতে হতে মনে হচ্ছিল —
এপারের মন ওপারে গিয়েছে যেই
জলতরঙ্গে লালন সাঁইয়ের গান
দেশের সীমানা ধূসর পান্ডুলিপি
হৃদয়ে আমার স্নিগ্ধ মাটির ঘ্রাণ।
এপারের গ্রাম ওপারের জলছবি
এপারের হাওয়া ওপারে দিয়েছে সুর
এদেশের নদী ওপারের তীর ছুঁয়ে
কবিতা হয়েই বয়ে গেছে বহুদূর।

দেশভাগের উপর অনেক লেখা পড়েছি। ওদেশ থেকে যাঁরা এদেশে চলে এসেছিলেন তাঁদের যন্ত্রণার কথা আমাকে আজও ভীষণভাবে নাড়া দেয়। আমার খুব প্রিয় লেখক অধীর বিশ্বাস। অধীরকাকুর ‘দেশভাগের স্মৃতি’ পড়তে পড়তে চোখে জল চলে আসে। বুঝতে পারি দেশ একজন মানুষের কাছে কতকিছু, কতখানি। বইটির ব্লার্বে লেখা হয়েছে —”মায়ের মৃত্যুর পরপরই দালালের হাত ধরে দেশছাড়া হওয়া অধীরের ছোট্ট সেই পরিবারের তখন নবগঙ্গার দেশের মায়া কাটিয়ে গঙ্গার দেশ — স্বপ্নের শহর কলকাতার দিকে যাত্রা। এরপর জীবন আর মৃত্যুর সীমান্ত থেকে রেলস্টেশন, রেলস্টেশন থেকে বস্তি। কিশোর অধীরের তখন ফুটপাতে সবজির পসরা নিয়ে বসা থেকে গড়ের মাঠে হকারি। অর্ধেকটা জীবন কাটিয়ে, শহর কলকাতার জল হাওয়ায় কৈশোর থেকে প্রান্তবেলায় পৌঁছে ফের মনে পড়ে সেই ছোট্ট নদী নবগঙ্গার কথা, সেই গ্রাম দরিমাগুরা। গ্রাম ছাড়ার সময় অধীরের চোখের জল দেখে দালাল লোকটি বলেছিল, কলকাতা যাওয়ার সময় কি কাঁদতে আছে? প্রান্তবেলায় চোখে জল নেই, তবু কোথাও যেন কান্না রয়ে গেছে। সেই ছোট্ট নদী, ভাঙা হাটে একা বসে থাকা বাবা, ভাষাহীন দৃষ্টি নিয়ে বসে থাকা মৃত্যুপথযাত্রী মা। অধীর বিশ্বাস নামের লোকটির গায়ে এখনো তবে নদী নবগঙ্গার জলের গান লেগে আছে, শহর কলকাতা সেই গ্রাম দড়িমাগুরার কাছ থেকে অধীরকে ছিনিয়ে আনতে পারিনি এখনও।” কাউকেই হয়তো ছিনিয়ে আনা যায় না। জন্মভূমির স্মৃতি পলির মতন থরে থরে সাজানো থাকে। আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় গ্রাম ছেড়ে মফস্বল শহরে যখন বাস করি তখন ছোটবেলার সেই ফেলে আসা গ্রামটাকেই মনে হয় অন্য একটা দেশ। কয়েকদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেলে সকলকে বলি ‘দেশের বাড়ি’ যাচ্ছি। অথচ পথ মাত্র এক ঘন্টার। এক জেলা এক রাজ্য এক দেশ। বাংলা থেকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দলকেও অনেকদিন পরে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বলতে শুনি ‘দেশে ফিরছি’। আসলে ‘দুব্বা ধান পাখি দেখে, ভালোবাসার কয়েকটি মুখ দেখে’ বারবার আমাদের ঘরে ফেরা — নিজের স্বভূমিতে ফেরা। একটা দেশের মধ্যেই কতনা ছোট ছোট দেশ।
অঞ্জনা পাড়ের ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। প্রাচীন মন্দির, সবুজ গাছপালা, আলপনা দেয়া বাড়ির উঠোন, পটে আঁকা লক্ষ্মী, নবান্ন উৎসব, মনসা পুজো, হরিনাম সংকীর্তন একটা দেশের ছবি তুলে ধরে আমার সামনে। এই গ্রামের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ানোর সুবাদে গ্রামের ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয় আমার। ওরা অসাধারণ আসন বানায়। সেলাইয়ের কাজে খুবই পারদর্শী। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে ওরা নানা ধরনের সৃজনাত্মক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। ওদের চোখের দিকে তাকালে আমি এক অন্যরকমের দেশকে খুঁজে পাই- যেখানে আছে পাখির কলতান, নদীর স্বচ্ছ জলধারা, শরতের মেঘ, সবুজ বনানী, এক আকাশ স্বপ্ন। তাদের চোখে দেশ কেমন তা বলবার ইচ্ছে আমার হলো। প্রথম প্রজন্মের ছাত্রী এরা। বাবারা কাজ করেন মাঠে-ঘাটে দোকানে কিংবা চালান রিকশা, কারো কারো মা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। মধুমিতা সর্দার লিখছে, “দেশের জন্য আমি সব করতে পারি। দেশ আমাদের প্রাণ দেশ আমাদের জান। দেশের চারপাশ চেয়ে দেখি। দেশের চারপাশে গাছপালা পশুপাখি আমাকে পাগল করে।” অর্পিতা সরকার লিখছে, “আমার দেশকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার দেশকে আমি মায়ের মত দেখি। আমি চাই আমাদের দেশ খুব ভাল হয়ে চলুক। আমি আমার দেশের জন্য লড়াই করব। আমি আমার দেশকে খুব বড় করে তুলবো। আমি চাই আমার দেশকে বাঁচানোর জন্য সবাই আমার সাথে সহযোগিতা করুক। আমি আমার দেশের গাছপালা কাটতে চাই না, আমি চাই আমার দেশের মানুষ জল বাঁচাক, চাই আমি চাই আমার দেশের মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করুক। আমি চাই আমার দেশের খুব ভালো ভালো স্কুল হোক। আমি চাই আমাদের দেশে খুব ভালো ভালো হসপিটাল গড়ে উঠুক।” পুতুল সরকার তার লেখায় লিখেছে, “দেশের কাছে আমি চাই সব সময় সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে থাকুক। কেউ যেন ঝগড়া মারামারি না করে। আমি চাই কেউ কাউকে অবহেলা না করুক।” ছোট্ট সঞ্চিতা লিখছে, “…’আমরা ভারতবাসী’ কথাটির মধ্যে রয়েছে একতার বল। একতার কথা মাথায় রেখে ভারতবর্ষের সমস্ত মানুষের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত, জাতপাত, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভারতবর্ষকে রক্ষা করা। ভারতবাসীর কাছে ঐক্যবদ্ধ কথা মাথায় রেখে আবারও একবার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের বিখ্যাত লাইন দুটি পৌঁছে দিতে চাই, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান/ মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’ বর্তমানে পৃথিবীকে অতিরিক্ত উষ্ণতার হাত থেকে রক্ষা করার অন্যতম উপায় গাছ লাগানো, পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধ করা। আদিম যুগে মানুষ প্রকৃতিকে দেবতার মতো পুজো করতো। মানুষ যদি আবারও প্রকৃতিকে, গাছকে, দেবতারূপে পুজো করে তাহলে আমার মনে হয় যে, আমার দেশ, আমার পৃথিবী আবার সবুজে ভরে উঠবে।”

দশম শ্রেণির বর্ষার কথাটা সবাইকে শোনতে ইচ্ছে করছে — “আমার দেশ কথাটা বলতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল। দেশের প্রতিটা মানুষের স্বপ্ন আছে তার দেশকে নিয়ে। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি প্রায় ৭৩ বছর, কিন্তু আজ আমাদের মনে প্রশ্ন আসে আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? স্বাধীনতা কি আমরা পেয়েছি? পাইনি। দেশের প্রতিটা মানুষের অধিকার আছে, সে নিজের মতো করে বাঁচবে। আমার মতে দেশটা যদি এমন হতো যেখানে কোনো হিংসা, কোনো দুঃখ, কোনো দারিদ্র থাকতো না। হ্যাঁ এটা সত্যি যে দুঃখ না থাকলে সুখের আসল মর্মটাই হয়তো বুঝতাম না, কিন্তু তবু মনে হয় যদি জাতিভেদ না থাকতো মানুষের মানুষের বিবাদ কিছুটা কমতো। নিজের জায়গা দখলের জন্য মানুষের এই লড়াই বন্ধ করা যেত তাহলে আজকে আমাদের দেশের প্রতিটা মানুষ, বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই শান্তিতে এবং ভালোবাসার এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ থাকতো। দেশের মানুষ হিসাবে আমার চাওয়া এটাই, সবাই পারস্পরিক এক বন্ধনে আবদ্ধ থেকে এক সুন্দর সমাজ তৈরি করে দেশকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।”
বর্ষার বন্ধু মৌমিতা চেয়েছে ওর দেশ আবার সবুজে ভরে উঠুক।জল, মাটি সবকিছুকে বাঁচানোর কথা বলেছে ও। মৌমিতার আরেক বান্ধবী অর্চনা। অর্চনার বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর হল। অর্চনার মা স্কুলের বাইরে বিক্রি করেন ঝালমুড়ি। এই অর্চনাকে ওর ছোট থেকেই আমি দেখেছি। ওর প্রাণের দেশ নিয়ে ওকে লিখতে বললে ও কি লিখল জানেন — “আমার দেশকে ঘিরে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। আমি চাই গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সকল মেয়েরা যেন পূর্ণ স্বাধীনতা পাক। মেয়েরা যেন নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে কিংবা আরও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে অর্থাৎ আমি চাই আমাদের দেশের প্রত্যেকটি মেয়ে নিজের নিজের পরিচয় গড়ে তুলুক, তাহলেই আমাদের দেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে না।”
সহজ করে বেশ তো ভালো লেখা
পড়তে পড়তে কিছু তো যায় শেখা ,
চলুক কলম, চলুক কেমনে করে
আমাদের মন থাকুক সদাই ভরে।
ভালো লাগলো লেখাটি।