কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইতিমধ্যেই বেসামাল দেশের অর্থনীতি। যত দিন যাবে ততই ব্যাপক হবে এর প্রভাব, এমনটাই বলছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট। গত ২৮ এপ্রিলে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, টিকাকরণে বিলম্ব এবং নতুন সংক্রমণ মানে কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশগুলির আর্থিক বৃদ্ধি ও বিপর্যয়ের অবস্থা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয়েছে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলগুলিতে (ভারত সহ) অতিমারিই এখন অর্থনীতির পক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ এবং তা ধাক্কা দিচ্ছে এই অঞ্চলের দেশগুলির আর্থিক অগ্রগতিকে। এই সমস্যার মোকাবিলা যারা সবচেয়ে সফলভাবে করতে পারবে এগিয়ে থাকবে তারাই।
আর্থিক ধাক্কার চিত্রটি এ বছরে অবশ্য ততটা স্পষ্ট হবেনা, তা বোঝা যাবে পরের বছরে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২২ এ দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫.৩ শতাংশ। আর চলতি বছরে এই বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশে পৌঁছবে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের এই রিপোর্টের আওতায় এসেছে মোট ৪৫টি দেশ। সব দেশের বৃদ্ধির ছবিটি সঙ্গত কারণেই এক নয়। সমীক্ষার আওতায় আসা জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের ছবিটি সম্পূর্ণ অন্যরকম। কোভিড সেখানকার অর্থনীতিকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভ্যাকসিন তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া এবং টিকাকরণ চালু করেছিল এই দেশগুলি। এর ফলে অবস্থা অনেকটাই সামাল দেওয়া গেছে। সেই সাফল্য প্রতিফলিত হয়েছে দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতেও। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, আগামী বছর দেশের জিডিপি ৭ শতাংশ বাড়বে এবং দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপির সামগ্রিক বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৯.৫ শতাংশ।
এককথায় কোভিড মোকাবিলায় সাফল্য ও ব্যর্থতাই ঠিক করে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির অগ্রগতি ও অবনমন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জানাচ্ছে, পূর্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ার আর্থিক বিকাশ সবচেয়ে ভালো হবে। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলগুলির আর্থিক বিকাশের অবস্থাটা দাঁড়াবে চলনসই। রপ্তানি বাণিজ্য জোরদার করবে এশিয়ার বৃদ্ধিকে। যার ফলে চাঙ্গা হবে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও। সত্যি বলতে কী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি ছাড়া এই সঙ্কট থেকে বেড়িয়ে আসার তেমন কোন রাস্তাও নেই। বিশেষজ্ঞরা তাই এক্ষেত্রেই বেশি জোর দিতে বলছেন।