পোষা কুকুর, বিড়ালকে যতই ভালবাসুন না কেন, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর কখনোই কাছে টানবেন না তাদের। কারণ সেসময় আপনার কাছে এলে রোগ ছড়াতে পারে তাদের মধ্যেও। জীবজন্তু যারা ভালবাসেন তাদের কাছে সত্যিই এটা মনখারাপ হয়ে যাওয়ার মত খবর। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যে বলছেন, কোভিড আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে এলে তারাই ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে সার্স কোভিড টু সংক্রমণের রিজার্ভার।
মূলত কুকুর এবং বিড়ালের থেকেই এই রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। তাদের শরীরে বাসা বাঁধার জায়গা খুঁজে নেয় মারণ ভাইরাস। ইওরোপিয়ান কংগ্রেস অফ ক্লিনিকাল বায়োলজি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ এর সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে এই তথ্য। এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য নেদারল্যান্ডের উত্রেচেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষকরা যেসব সারমেয় ও মার্জার ২ থেকে ২০০ দিনের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে, তাদের নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছেন। আক্রান্ত পোষা কুকুর-বেড়ালের বর্জ্য পরিষ্কার করার ন্যাতা এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা। তা থেকেই বেড়িয়ে এসেছে এই তথ্য। পোষ্যদের সোয়াবগুলি ব্যবহৃত হয়েছে পিসিআর টেস্ট করার জন্য। রক্ত থেকে নেওয়া হয়েছে অ্যান্টিবডির নমুনা।

বিজ্ঞানীরা ১৯৬টি বাড়ি থেকে ১৫৬টি কুকুর এবং ১৫৪টি বিড়ালের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তার মধ্যে পিসিআর টেস্টে ৬টি বিড়াল ও ৪টি কুকুর পজিটিভ। ৩১টি বিড়াল ও ২৩টি কুকুর অ্যান্টিবডি পজিটিভ। এর মধ্যে ১১টি প্রাণীকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের সবারই অ্যান্টিবডি রয়েছে।
গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, আক্রান্ত মালিকদের থেকেই সংক্রমিত হয়েছে পোষ্যরা। উল্টোটা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই তারা বাড়িতে কুকুর, বিড়াল যারা পোষেন তাদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন – কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর পোষ্যদের সংস্রব ত্যাগ করুন, কারণ তাদের কাছে এসে প্রিয় পোষ্যরা কখন যে আক্রান্ত হবে তা তারা জানতেই পারবেন না! আবার পরবর্তীকালে ঐ কুকুর, বিড়ালরা হয়ে উঠবে সংক্রমণের আধার – যার থেকে আক্রান্ত হতে পারে অন্যান্য মানুষেরা। এর পাশাপাশি অবশ্য কিছু গবেষকরা এটাও জানিয়েছেন, অতিমারির গত দেড়বছরে পোষা প্রাণীরা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।