প্রথম, দ্বিতীয় পেরিয়ে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ এখন আমাদের দোরগোড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুজোর আগেই দেশে আছড়ে পড়তে পারে তৃতীয় ঢেউ। এটাই সম্ভবত আমাদের পরবর্তী স্বাভাবিকতা বা নেক্সট নর্মাল। কিন্তু এখনও জিনিস নষ্ট করার পুরনো অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে পারিনি আমরা। কোভিড ভ্যাকসিনের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটছে। মানুষের সচেতনতার অভাব, টিকাকরণের সতর্কতার অভাব এবং সরকারের অপরিণামদর্শিতার ফলে নষ্ট হচ্ছে ভ্যাকসিন। যা বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন সঙ্কটের এই দুঃসময়ে মোটেই কাম্য নয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে দেশের কয়েকটি রাজ্যে ভ্যাকসিন অপচয়ের ঘটনা ঘটছে নানাধরণের অসতর্কতার কারণে। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা আমাদের কোভিড মোকাবিলার সাফল্যকে ম্লান করছে। হু’র সংজ্ঞা অনুযায়ী ভ্যাকসিন অপচয় মানে তা বাতিল হওয়া, নষ্ট হওয়া, ক্ষতি হওয়া বা ধ্বংস হওয়া। কোভিড আক্রান্ত বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠকে এই প্রসঙ্গটা আগেও উঠেছিল। কিন্তু তারপরেও এই ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় এই দুটি রাজ্যে ভ্যাকসিন অপচয় সবচেয়ে বেশি। ঝাড়খণ্ডে ৩৭.৩ এবং ছত্তিশগড়ে ৩০.২ ভ্যাকসিন অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলে ভ্যাকসিনের যথার্থ ব্যবহার তৈরি করেছে এক দৃষ্টান্ত।

পশ্চিমবঙ্গে ভ্যাকসিনের অপচয় মাত্র ৫.৪ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে কেরল, সেখানে অপচয় ৬.৩ শতাংশ। ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন– আমরা সুরক্ষা কবচ নষ্ট করবো, এটা হয় নাকি? কোউইন পোর্টালের বিভ্রান্তিতেই এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ভ্যাকসিন অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিরুদ্ধেও।
ভ্যাকসিন অপচয়ের নানা কারণ রয়েছে। এই ঘটনা ঘটতে পারে খোলা এবং সিল করা ভায়ালেও। দুর্বল কোল্ড চেইন; পরিবহণের সময় ভেঙে যাওয়া; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন কাজে না লাগানো ইত্যাদি নানা কারণে ভ্যাকসিন অপচয় বা নষ্ট হতে পারে। মূলত পরিকল্পনার ভুলেই ভ্যাকসিন অপচয় হয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
এটা ঠিক, যেকোন বড় টিকাকরণ অভিযানে কিছু ভ্যাকসিনের অপচয় হয়। তবে আমাদের মত দেশে, যেখানে ভ্যাকসিন সঙ্কট তীব্র তা না হওয়াই ভালো। অতিমারি ঠেকাতে হলে আমাদের এখন কোভিড টিকাকরণ শেষ করতে হবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। এই সময় যেকোন অপচয় টিকাকরণের গতিকেই ব্যহত করবে।