ক্রিকেট জুয়ায় সাত লক্ষ টাকা দেনা। টাকা জোগাড় করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এক যুবক। এমনই ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়ল পাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেটের জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল আত্মঘাতী যুবক। সম্প্রতি আইপিএল ও টি টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জুয়ায় সে দেনাগ্রস্থ হয় বলে দাবী মৃতের পরিবারের। এই ঘটনার পর ক্রিকেট জুয়া বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়ল পাড়ার এক যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত যুবকের নাম সাহীন আলী (২৫)। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে আইপিএল-সহ অন্যান্য অন লাইনে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবী পরিবারের। এই নিয়ে অশান্তি চূড়ান্ত ছিল পরিবারে। মৃতের দাদা মহম্মদ ভানু বলেন, গতবছর ক্রিকেট জুয়া খেলে সাহীন প্রায় কুড়ি লক্ষ জিতেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে দুটি বাইক ও চার চাকা গাড়িও কিনেছিলেন। কিন্তু ফের জুয়ায় টাকা লাগিয়ে সর্বশান্ত হন। কয়েক মাস বাদে দুটি মোটর বাইক গাড়ি বিক্রি করে জুয়ার টাকা মেটায়। সম্প্রতি সে ফের ৮০ হাজার টাকা জেতেন জুয়াতে। সেই টাকা দিয়ে পরিবারের লোকেরা ব্যবসায় লাগানোর পরামর্শ দিলেও সে তা না শুনে সব টাকা জুয়ায় লাগায়। তাও সে থেমে থাকেনি।

হারানো টাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় টাকা ধার করে আইপিএল ও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লাগায়। তাতেও তাঁর ভাগ্য ফেরেনি। বাজারে তাঁর দেনার পরিমান দাঁড়ায় ৭ লক্ষ টাকা। এই টাকার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল পাওনাদারেরা। সে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। অবশেষে সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে সোমবার পরিবারের সব লোককে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় বিয়ে উপলক্ষে। এরপর তার বাবার ঘড়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সাহীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃতের এক আত্মীয় গোকুল চৌধুরী বলেন, ক্রিকেট জুয়া কেড়ে নিল একটি তরতাজা প্রাণ। অবিলম্বে জুয়া বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ প্রশাসনের।