‘ভোলে বাবা পার করে গা’— এই হৃদয়ের আকুতিতে ভক্ত, পুরোহিত ও ব্যবসায়ী সকলের ডাকে গত দু-বছর সাড়া দিয়েছে বাবা তারকনাথ। সকলের মুখে হাসি ফুটেছিল। ভক্তদের পুণ্যের সুযোগ করে দিয়ে পুরোহিত অথবা পথপ্রর্দশকরাও সম্মান দক্ষিণা নিয়ে ঘরে ফিরছেন। প্রসঙ্গত, বাবা তারকনাথের মন্দিরে শ্রাবণ মাসে বাবার মাথায় জল ঢালার আচার-প্রথা শতাধিক বছর ধরে চলে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের ভক্তরা ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত শ্রাবণ মাসে আসেন শিবের মাথায় জল ঢালতে। এমনকী বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত এখানে জড়ো হন। একটাই উদ্দেশ্য পুণ্য সঞ্চয় করা।
এবার কিন্তু চিত্রটা একটু আলাদা। শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে শ্রাবণীমেলা। মূলত গুরু পূর্ণিমার শুভ দিনে শুরু হয় বাবা তারকনাথের মাথায় পবিত্র গঙ্গাজল ঢালার কাজ। শেষ হয় রাখি পূর্ণিমার দিন। এভাবেই জল ঢেলে ভক্তরা তাঁদের মনস্কামনা ও পুণ্য সঞ্চয় করেন।
এবারে বাবার মাথায় জল ঢালায় ভক্তদের কিছুটা হলেও অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ ভক্তদের মতে এবারে শ্রাবণ মাস ‘মলমাস’। এমাসে দুটি অমাবস্যা পড়েছে। শুভ কাজে ‘নৈব নৈব চ’। এরাজ্য ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে অসংখ্য ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে উঠত তারকেশ্বর। এবারে তার ব্যতিক্রম। ১৮দিন অতিক্রান্ত শ্রাবণীমেলা। এখনও পর্যন্ত শনি, রবি ও সোমবারে উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।
এখানকার প্রদর্শকরা একপ্রকার হতাশ। কারণ এরাই ভক্তদের মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বাবা তারকনাথের মাথায় পবিত্র গঙ্গাজল ঢালার সহায়তা করেন। বিনিময়ে যে দক্ষিণা স্বরূপ অর্থ উপার্জন করেন, এবারে সেটা অনেকটা কম। তবে বাবার মাথায় জল ঢালায় ভক্তদের সময় থাকছে ১২ ভাদ্র পর্যন্ত। ভিড় জমার আশা ছাড়েননি প্রদর্শক ও মন্দির কর্তৃপক্ষ। এদিকে তারকেশ্বর মন্দির এস্টেট কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারে শ্রাবণীমেলা ব্যতিক্রম — এই কারণে শ্রাবণ ‘মলমাস’। তবে ভক্ত সমাগমে ব্যতিক্রম ঘটবে না।
প্রসঙ্গত, মেলা উপলক্ষে বাবা তারকনাথের গর্ভগৃহে প্রবেশ এবারও নিষিদ্ধ। বাইরে রাখা চোঙাতেই ভক্তদের জল ঢালতে হবে। আর সেই সঙ্গে দুধপুকুরে ফুল, বেলপাতা ফেলা ও স্নানের সময় নতুন রঙিন পোশাক ধোওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মেলা চলাকালীন যাতে কোনও অপ্রিয় ঘটনা না ঘটে এজন্য প্রশাসন সর্তক আছে। পুরসভার পক্ষ থেকে মেডিক্যাল ক্যাম্প ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দমকলের তরফে গাড়ি রাখা আছে। প্ল্যাস্টিক বর্জন করতে বলা হয়েছে। মেলা চলাকালীন রেলকতৃপক্ষ তারকেশ্বর স্টেশনে অতিরিক্ত কাউন্টার ও ৬ জোড়া স্পেশ্যাল ট্রেন চালু করেছে।