বাংলায় বুধবার ২৯ এপ্রিল বিকেল ৫টা অবধি করোনা পজিটিভ ৫৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫ জন। ফলে মোট সুস্থ হলেন ১২৪ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়েনি, ২২-ই রয়েছে। এদিন নবান্নে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩৯৭টি। মোট পরীক্ষা হয়েছে ১৪৬২০টি। আক্রান্তদের ৬৪ শতাংশ পুরুষ, ৩৬ শতাংশ মহিলা। ৪৫ বছরের বেশি আক্রান্তদের সংখ্যা মোট আক্রান্তের ৫০ শতাংশের কিছু বেশি। কলকাতা, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা এই তিন জেলা থেকেই ৮৮ শতাংশ রোগী এসেছেন।রাজ্য সরকার প্রস্তুত ছিল বলেই মোট কোভিড বেডের ৩৪ শতাংশ এই তিন জেলায় রয়েছে। অরেঞ্জ জোনে থাকা জেলাগুলিতে ৫০ শতাংশ ও গ্রিন জোনে ১২ শতাংশ কোভিড বেড আছে। ৫১টি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে মোট ৬৬টি কোভিড হাসপাতাল চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। মোট আট হাজার বেড আছে, যার ৮৭ শতাংশ বেড এখনও খালি। মোট বেডের ১০ শতাংশ আইসিইউ। তবে মাত্র ৪ শতাংশ ভেন্টিলেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। প্রতি ১০ লক্ষে ৮৭ জনের হিসেবে কোভিড বেড রয়েছে, যা জাতীয় গড়ের (৮৫)-এর চেয়ে ভালো এবং করোনা মোকাবিলায় দেশের প্রথম পাঁচ রাজ্যের মধ্যে আছে বাংলা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা করোনা মোকাবিলায় সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আমরা হোম কোয়ারেন্টিনে চিকিৎসার কথা জানানোর পর সেই ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একইরকম নির্দেশিকা দেওয়া হয়। বেড নেই বলে কেউ কেউ ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এতে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা। ৭৯০ বেড খালি আছে। আমি চাই বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা করুক। রোগী ফেরাবেন না। অন্য রোগীরাও তো আছেন। প্রাইভেট চেম্বারগুলি খুলতে পারেন চিকিৎসকরা, অল্প অল্প করে রোগী দেখুন, ভিড় যাতে না হয়।
সংবাদমাধ্যমের একাংশের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে একতরফা খবর শুনে লিখে দিচ্ছেন, এতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। করোনা একটা নতুন রোগ। সবাই চেষ্টা করছেন। কেউ কাজের চাপে একটা ভুল করলে তাঁকে তাড়ানো যায় কি? কাজ করতে গেলে ভুল সকলের হয়। কিন্তু অকারণে যাচাই না করে ভুল খবর দেওয়া ঠিক নয়। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।