পরিযায়ী শ্রমিক, পড়ুয়া, বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তি, চিকিৎসা বা অন্য কাজে গিয়ে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া মানুষদের লকডাউনে কীভাবে ফেরানো হবে? এটাই এখন বড়ো প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলেছে। নির্দেশিকায় বলেছে, রাজ্যগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রেন বা বিমান চালু করা আপাতত হচ্ছে না। বাসে করে ফেরানো যেতে পারে। ৩ মে-র পর লকডাউন চললে কোন কোন বিষয়ে বিধিনিষেধ শিথিল হবে তা নিয়ে এদিনও ক্যাবিনেট সচিব সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার গাইডলাইন তৈরি করছে। তা দেখে পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা বলেন, রাজ্যের ২ লক্ষ মানুষ বাইরে আটকে রয়েছেন। হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী এমনভাবে ফেরানোর ব্যবস্থা হোক যাতে সকলের সুবিধা হয়। কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে এখন ফেরানো সম্ভব নয়। যে রাজ্য থেকে আসবেন সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে, বাংলায় ঢোকার সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। তবে যাঁরা আসবেন তাঁরা দুই রাজ্যের সরকারকে জানিয়ে আসবেন।
এদিন আমদানি-রফতানির জন্য খুলে দেওয়া হয় পেট্রাপোল সীমান্ত। মুখ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। কারও অসুবিধা না হোক সেটাই চাই। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় লেখা আছে তারা যে গাইডলাইন দেবে তার বাইরে গিয়েও প্রয়োজন বুঝলে কড়াকড়ি করতে পারে রাজ্য। সব দিক বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। টাস্ক ফোর্স বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার হাই পাওয়ার কমিটি লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবে। তারপর ওইদিন বা শনিবার রাজ্য সরকার নির্দেশিকা প্রকাশ করবে। কেন্দ্রীয় সরকার অনেক কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে পারেনি। যেসব ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে তা সোমবার থেকেই মানতে হবে।