পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাদামের চাষ বাড়ছে। চাষিরাও এই অর্থকরী ফসলে লাভবান হচ্ছেন। সেইসঙ্গে গড়ে উঠছে ছোট-বড়ো শিল্প। কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটছে। বিশেষ করে মহিলাদের কাজের জায়গা তৈরি হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে আলুর পরেই বাদাম চাষ হয়। স্বল্প খরচে অধিক লাভের মুখ দেখেন চাষিরা। কারণ যে জমিতে আলু উৎপাদন হয় সেই জমিতেই সার প্রায় না দিয়েই বাদাম চাষ করা যায়। উপযুক্ত দামও পান চাষিরা। এখন বাদাম ওঠার মুখে চাষিরা বাদাম বিক্রি করে দাম পাচ্ছেন প্রতি কুইন্ট্যাল ৪৫০০ টাকা।

উল্লেখ্য, রাজ্যের হুগলি, হাওড়া, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বর্ধমান ইত্যাদি জেলায় চিনা বাদামের চাষ হচ্ছে। এর থেকে প্রোটিন সমৃদ্ধ তেলের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়াও বাদাম থেকে বিভিন্ন সুস্বাদু ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তৈরি হচ্ছে। বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। বাজারে চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে চাষিদের মধ্যে এই চাষে উৎসাহ বাড়ছে। কম খরচে বেশি লাভের মুখও দেখতে পাচ্ছেন।
এ রাজ্যের হুগলি ও হাওড়া বাদাম চাষের উপযুক্ত জায়গা। এবারে আরামবাগের ছ-টি ব্লকে বাদাম চাষ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। এখানকার কৃষি আধিকারিক সজল ঘোষ বলেন, লাভজনক বাদাম চাষে চাষিদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে চাষের জমির এলাকাও। সেইসঙ্গে গড়ে উঠছে ছোট-বড়ো শিল্পও। গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে মহিলাদের কাজের জায়গা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বাদাম চাষের পাশাপাশি অসংখ্য বাদামকল গড়ে উঠছে। বাদামের খোলা ছাড়িয়ে দানা বের করা হচ্ছে। সেই দানা বস্তাবন্দী হয়ে কলকাতা-সহ বাইরের রাজ্যগুলিতে বিক্রির জন্য চলে যাচ্ছে। এই সমস্ত কাজে মূলত গ্রামের মহিলারাই যুক্ত আছেন। আস্তে আস্তে কর্মসংস্থানের জায়গা বৃহত্তর হচ্ছে। এই জেলাতেই ছোট বড়ো মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বাদামকল গড়ে উঠেছে।

বাদাম কলের মালিক স্বপন জানা বলেন, একটা সময় এই জেলাতে মাত্র কয়েকজন চাষি বাদামের চাষ করতেন। এখন হাজার হাজার চাষি বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন। এই চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিল্প। সরকারি সহায়তায় চাষ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিল্পের আয়তনও। স্বপনবাবু আরও জানান, এবার চাষিদের জন্য বাদাম বীজও এখানে তৈরি হবে। সরকার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এটা করতে পারলে বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না। তখন চাষিরা নায্য দামে উৎকৃষ্টমানের বীজ এখান থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন।