সিত্রাংকে কেন্দ্র করে আবার সামনে এল জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিপর্যয়ে সহায়তা দান নিয়ে একটা পুরনো তরজা। এই সহায়তা মূলত যায় ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়ার মত মাঝারি আয়ের দেশগুলিতে। কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা বাবদ ব্যয়ের ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। এদিকে সহায়তা দেবে বলে একদা যেসব উন্নত দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে অঙ্গীকার করেছিল তারা তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না বলে অনেকদিন ধরেই লাগাতার অভিযোগ উঠছে। আরও একটা অভিযোগ হল, সহায়তাদানকারী দেশগুলি অনেকেই তাদের আর্থিক সহায়তা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেখায়। অর্থাৎ কম দিয়ে তারা বেশি দেওয়ার দাবি করে। যদিও উন্নত দেশগুলি আগে নিজে থেকেই এই অর্থ নিয়মিত দেবে বলে কবুল করেছিল।

প্যারিস চুক্তির অন্যতম শর্তই ছিল তাই। পরবর্তীকালে রিও কনফারেন্সেও দেশগুলি এব্যাপারে একমত হয়। এখন বোঝা যাচ্ছে সেই ঘোষণায় আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। গতবার গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলনে অভিযোগ উঠেছিল ধনী দেশগুলি তাদের সহায়তার জন্য দেয় অর্থের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বাকি রেখেছে। এই ফান্ড পায় বিশ্বের ১৫৪টি দেশ। স্বভাবতই এর ফলে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ আর্থিক দুরাবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে।

এদিকে ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কোভিডের সময় বহু দেশ তাদের নিজস্ব আর্থিক মন্দার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা করতে পারেনি। এর ফলে ইন্দোনেশিয়া, পেরু, হন্ডুরাস এর মত দেশগুলিতে জীবাশ্ম জ্বালানি কম করা কিংবা যান দূষণ মোকাবিলা করার কাজ ব্যহত হয়েছে। কোভিডের কারণে অর্থনীতিতে যে মন্দা এসেছে তা কেউ অস্বীকার করছেন না। কিন্তু কোভিডের অজুহাত দেখিয়ে সহায়তা দান বন্ধ করার যুক্তিও দুর্বল। কারণ অনেক উন্নত দেশের আর্থিক অবস্থা ততটা ধাক্কা খায়নি। তাছাড়া বহু দেশেরও প্রথম থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলা করতে অন্য দেশকে সহায়তা দানের ব্যাপারে আপত্তি ছিল। তাই তারা নানা কুযুক্তি দেখিয়ে অর্থ দান বন্ধ করা কিংবা তা আরও কম করার দাবি তুলছিল।

এর ওপর একের পর এক চলে আসছে সিত্রাং এর মত ধারাবাহিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এতে চাপ পড়ছে জাতীয় অর্থনীতির ওপর। বিপর্যয় এসে পিছনে ফেলে দিচ্ছে আরও অনেক জাতীয় সমস্যাকে। ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের মতে, বন্যা, খরা, সাইক্লোন, ভাঙন এর মত সমস্যাগুলির মোকাবিলা উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়া করা অসম্ভব। সেকারণেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহায়তা ও ধনী দেশগুলির সাহায্য জরুরি। কিন্তু অনেকে কম টাকা দিয়ে বেশি টাকা দেওয়ার দাবি করছেন। অনেকে বলছেন বরাদ্দ কমাতে। আবার অনেকে সমস্যাটার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন। বিপর্যয় কিন্তু কিছুদিন পরপর এসেই যাচ্ছে।