সাফল্য অনেক সময় মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব তৈরি করে। বহু সফল মানুষ অন্যদের ছোট করে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। কিন্তু সবাই এরকম নন, অনেকেই নিজের শিকড় থেকে বিচ্যুত হন না। মহানুভবতা বা কোন দয়াদাক্ষিণ্যের প্রদর্শনী নয়, ছোট ছোট ঘটনার মধ্যে দিয়ে তাদের এই মানসিকতা ফুটে ওঠে। সোমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের মঞ্চ এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলো।

উপকারকে অস্বীকার করা, ‘ক্লাস’ দেখে বন্ধুত্ব করা, যখন একটা সাধারণ ঝোঁক হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন এবারের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা রজনীকান্ত তার পুরস্কার যাদের উৎসর্গ করলেন তাদের একজন তার একসময়ের বাসচালক বন্ধু। তখন রজনীকান্ত ছিলেন বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের বাসের কন্ডাক্টর। সেসময় রাজবাহাদুর নামে এক বাসচালকের সঙ্গে তার খুব বন্ধুত্ব ছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে রজনীকান্ত যখন বড় বড় অভিনেতাদের অভিনয়, তাদের যাবতীয় ম্যানারিজম সহ নকল করে দেখাতেন তখন রাজবাহাদুর তার খুব প্রশংসা করতেন। তিনি সবসময় বন্ধু শিবাজী রাও গায়কোয়ারকে ফিল্মে যোগ দিতে বলতেন। সেই শিবাজী রাও গায়কোয়ারই আজকের রজনীকান্ত। সাফল্যের সর্বোচ্চ চুড়ায় পৌঁছেও তিনি সেদিনের কথা ভোলেননি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বড় সন্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েও তার মনে পড়েছে রাজবাহাদুরের কথা। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তার অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন রাজবাহাদুরই তার মনে ছবিতে অভিনয়ের বীজ বুনে দিয়েছিলেন। কোন উচ্চকিত ঘোষণা ছাড়াই এভাবে তিনি যেন বলে দিলেন, খ্যাতির চেয়ে বন্ধুত্ব ও কৃতজ্ঞতা অনেক বড়।

রজনীকান্তকে যারা চেনেন তারা জানেন মানুষটা এরকমই। এরমধ্যে অভিনয়ের কোন ছিটেফোঁটাও নেই। চলচ্চিত্রে লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজের সূত্রে যে দর্শকরা তার ছবি দেখতে ভিড় জমায়, তারাও জানেন বাস্তব জীবনে মানুষটা ঠিক উল্টো। কোন শো অফ নেই তার। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে থাকেন তিনি। পুরনো বন্ধু, পাড়া প্রতিবেশীর সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ। রজনীকান্ত এই পুরস্কার রাজবাহাদুর ছাড়াও তার অভিনীত প্রথম ছবি অপূর্ব রাগাঙ্গল এর পরিচালক কে বালচন্দর এবং নিজের ভাই সত্যনারায়ণ রাওকেও উৎসর্গ করেছেন। এটাই তো স্বাভাবিক, কিন্তু এরমধ্যে রাজবাহাদুরকে জুড়ে নেওয়া তার চরিত্রের এক বিশেষ দিককে তুলে ধরে। পুরস্কারের মঞ্চে নিজের জীবনে বাস ড্রাইভার বন্ধুর অবদানের কথা জানাচ্ছেন একদা বাস কন্ডাক্টর আরেক বন্ধু। এমন মানুষ সন্মানিত হলে পুরস্কারই সন্মান পায়।