পুজোর দু-সপ্তাহ আগে থেকে টানা বৃষ্টি। মধ্যবিত্তের কপালে এখন থেকেই চিন্তার ভাঁজ। বাঙালির মহোৎসবে বৃষ্টির ভ্রুকুটি আগে থেকেই। আবহাওয়া দফতর আগেভাগেই পুজোর সময়ে বৃষ্টির আশঙ্কা করছে। আর তা যদি হয়, তাহলে বাঙালির প্রাণের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে না তো! সবচেয়ে আশঙ্কার পুজোর আগেই গভীর নিম্নচাপ। প্রবল বৃষ্টি রাজ্যের দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ ভাসিয়েছে। চাষিদের উপকারের চেয়ে ক্ষতির পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সবজি চাষে। নতুন করে পালং, নটে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন চাষে পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। এখন থেকেই সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দু-সপ্তাহ যদি আরও বৃষ্টি হয় তাহলে পুজোয় সবজির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। এখন থেকেই চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের কপালে।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ বৃষ্টি আরামবাগের ছ’টি ব্লকের কৃষি অধ্যূষিত নিচু এলাকার সবজি চাষে চরম ক্ষতি হয়েছে। জমা জলে রোপণ করা সবজি চারা পচে গিয়েছে। ফলে পুজোর মুখে বাজারে সবজির অভাব দেখা দিতে পারে। আর তখনই সবজির দাম নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডের বৃষ্টি দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী ও তার শাখানদীগুলিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। আরামবাগ ও খানাকুলের নিচু এলাকাগুলো ডুবতে শুরু হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে সবজি ও শসা — শাঁকালুর মতো ফল চাষের। একইভাবে দ্বারকেশ্বর নদের নিচু এলাকার সবজি বৃষ্টি ও বন্যার জলে ক্ষতিগ্ৰস্ত। পুজোর মুখে আরও বৃষ্টি হলে সবজির দাম স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যাবে। উল্লেখ করতেই হয় রাজ্যের দক্ষিণ বঙ্গের হুগলি, হাওড়া, নদীয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ইত্যাদি জেলাগুলিতে যেভাবে আশ্বিনের নিম্নচাপের বৃষ্টি ধারাবাহিকতা বজায় আছে, তাতে ধানের উপকার হলেও, সবজির ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চাষিরা। একদিকে সবজি চাষিদের মাথায় হাত, অপরদিকে পুজোর সময়ে সবজির বাজার অগ্নিমূল্য হবে বলা যেতে পারে।
এদিকে ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে সবজি চাষিদের পরামর্শ দিতে মাঠে নেমেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।