মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য সরকার, হেরিটেজ কমিশন ও ডেনিশ সরকারের তত্ত্বাবধানে সেজে উঠেছে গভর্নমেন্ট হাউস। ৮ এপ্রিল ২০২২ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হলো শ্রীরামপুর গভর্নমেন্ট হাউস ও মিউজিয়াম-এর। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, বিধায়ক ডঃ সুদীপ্ত রায়, শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য, ডেনমার্ক-এর রাজদূত সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

১৭৭১-৭৩ সালে নির্মিত এই গৃহে শ্রীরামপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। কলকাতার বাইরে এতো বড় ঐতিহ্য সংরক্ষন প্রচেষ্টা রাজ্য তথা শ্রীরামপুর শহরের পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ১৭৫৫ সালে দিনেমারদের বাংলায় বাণিজ্যের ভারকেন্দ্র চন্দননগর থেকে শ্রীরামপুরে সরে আসে। তৈরী হয় ডেনিশ গভর্নমেন্ট হাউস। জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল গঙ্গা থেকে কিছুটা দূরে নিশান ঘাটের একদম সোজাসুজি এক ভুমিখন্ড যা আজকের শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠ।

তখন এটি ছিল মাটি ও খড়ের তৈরি এক অস্থায়ী বাড়ি। ১৭৭০ সালের ডিসেম্বরে এক পার্টি চলাকালীন এটি হটাৎই ভেঙে পরে। এরপর শুরু হয় নতুন বাড়ী তৈরীর কাজ। কাজ চলে ১৭৭১ থেকে ১৭৭৩ সাল পর্যন্ত। গড়ে ওঠে সুন্দর এক ইউরোপীয় বাংলো। শ্রীরামপুরের গভর্নরের নতুন বাসভবন, দিনেমার বাণিজ্য ও শ্রীরামপুরের প্রশাসনের প্রধানকেন্দ্র। ১৮০৮ সাল থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইংরেজদের সাথে লড়াই এ বাড়ীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারপর ১৮৪৫ সাল পর্যন্ত দিনেমাররা এই বাসভবন তথা প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে শ্রীরামপুর শাসন করে। পরের কিছু বছর ইংরেজরাও এখান থেকে সরকারী কাজকর্ম চালাতেন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে নানা সরকারী দপ্তর এখান থেকে কাজ করেছে। তারপর সময়ের সাথে সাথে বিশাল এই সৌধ একসময় সংস্কারের অযোগ্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালে বাড়িটির একটি অংশ ধসে পরলে বাড়িটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রায় দুই দশক পরে ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের হেরিটেজ কমিশনের উদ্যোগে বাড়িটিকে পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য সরকার ও ডেনিশ সরকারের তত্ত্বাবধানে সেজে উঠেছে গভর্নমেন্ট হাউস। ওই ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে প্রদর্শশালা। সেখানে ১৭৭১ সাল থেকে শ্রীরামপুরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।