| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

দশমহাবিদ্যা : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী

Reporter
মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী / ১০৮৭ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

হিন্দু পুরাণ অনুসারে প্রজাপতি দক্ষ ব্রহ্মার মানসপুত্র। দক্ষ অর্থাৎ পারদর্শী, সমর্থ বা সজ্জন। বিষ্ণুপুরাণ এবং পদ্মপুরাণ অনুসারে দক্ষ ও তাঁর প্রথমা পত্নী প্রসূতির ২৪ জন কন্যা। তাঁরা হলেন শ্রদ্ধা, ভক্তি, ধৃতি, তুষ্টি, মেধা, বুদ্ধি, লজ্জাগৌরী, শান্তি, কীর্তি, খ্যাতি, সিদ্ধিকা, প্রীতি, ক্ষমা, স্বাহা, ঊর্জ্জা, স্বধা, সম্ভূতি, ক্রিয়া, পুষ্টি, স্মৃতি, বপু, অনসূয়া, সন্নতি ও সতী। এতগুলি কন্যার মধ্যে ১৩ জন বিবাহ করেন ধর্মকে। সতী বিবাহ করেন শিবকে। মৎস্যপুরাণ অনুসারে আবার দক্ষ ও তাঁর প্রথমা পত্নী পাঞ্চজনীর ৬২টি কন্যাসন্তান। এদের মধ্যে দশজন বিবাহ করেন ধর্মদেবকে, সাতাশজন চন্দ্রদেবকে, তেরোজন কশ্যপ মুনিকে। অর্থাৎ দক্ষ একসঙ্গে বহুকন্যা দায় হতে মুক্ত হচ্ছেন এক একজন দেবতা বা ঋষির সঙ্গে কন্যাদের বিবাহ দেবার ফলে। আর যেহেতু কন্যাসন্তানের নিজস্ব বক্তব্য তখন একেবারেই ছিল না তাই গণহারে একজনের হাতে কন্যাদান। বহু দানের মধ্যে কন্যাদান একটি মহৎ দান। তবু এতজন কন্যার মধ্যে কেউ কেউ তো ভিন্ন পথে চলার প্রচেষ্টা করবেনই। কারণ এক পতিকে নিয়ে সাতাশজন বা তেরোজন মিলে চুলোচুলি করে আবার পিতৃগৃহে এসে নিজের সংসার বাঁচানোর জন্য কান্নাকাটি সকলের পছন্দ নাও হতে পারে। সতী ছিলেন এই ভিন্ন পথের যাত্রী। তিনি শ্মশানবাসী শিবকে বরণ করেছেন যাবতীয় রাজৈশ্চর্য্য ছেড়ে।

এই অসম বিবাহ নিশ্চয় প্রজাপতি দক্ষ অন্তর থেকে মানতে পারেন নি। তবু শিবকে সকল দেবতা যেখানে দেবাদিদেব বলে মান্যতা দেন, ঋষিরা যেখানে সকল যজ্ঞে আগে শিবকে যজ্ঞের ভাগ দেন সেখানে মন থেকে না মানলেও ওপর ওপর একটা মেনে নেওয়ার চেষ্টা তিনি রেখেছিলেন। মুস্কিল হলো এই বিবাহের কিছুদিন পরে। নৈমিষারণ্যে এক বিরাট যজ্ঞের আয়োজনস্থলে দেবাদিদেব নিমন্ত্রিত। প্রজাপতি দক্ষ যখন যজ্ঞস্থলে প্রবেশ করলেন তখন সকল দেবতা ও ঋষি নিজ আসন ত্যাগ করে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানালেন। কিন্তু শিব উঠে দাঁড়ালেন না। দেবতা হিসেবেও নয়, জামাতা হিসেবেও কোনও সম্মান না জানানোতে দক্ষ রীতিমতো ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি জামাতাকে সমস্ত যজ্ঞভাগ থেকে বঞ্চিত করার আদেশ দিলেন। এই আদেশ পুরাণে অভিশাপের আকারে বর্ণিত। তবে অভিশাপ বা দন্ড সবসময় আসে উচ্চস্থানে যিনি দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসে থাকেন সেখান থেকেই। এ ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হয় নি।

প্রজাপতি ব্রহ্মার মানসপুত্র প্রজাপতি দক্ষ। তাঁর আদরিণী কন্যা দাক্ষায়ণী সতী। এখন কথা হচ্ছে দক্ষর অসংখ্য কন্যাসন্তানের মধ্যে সতী কেন দাক্ষায়ণী নাম পেলেন? এই নামের ব্যাপারটি সাধারণত আসে, যে সন্তান বেশি স্নেহের বা বেশি আদরের হয় তার নামের মধ্যে পিতা বা মাতার নামোল্লেখ থাকে। সেই অতিরিক্ত স্নেহের কারণে সতীর স্বামী হিসেবে চালচুলোহীন শিবকে বরণ করে নিতেও দক্ষ রাজী হয়েছিলেন। নাহলে তো অন্যান্য অনেক সহোদরার সঙ্গে কোনও এক দেবতা বা এক ঋষির ঘরে সতী হারিয়ে যেতেই পারতেন। কিন্তু তা হয়নি।

দক্ষের অভিশাপের সম্বন্ধে শিব কিন্তু একটি কথাও উচ্চারণ করলেন না। কোনও প্রতিক্রিয়াও দেখা গেল না তাঁর মধ্যে। এদিকে দেবতারা শিব ব্যতীত যজ্ঞ করতে রাজি হলেন না। দক্ষ পড়লেন ভাবনার মধ্যে। তাহলে তো পৃথিবী যজ্ঞহীন হয়ে যাবে। সুতরাং তিনি নিজেই বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করলেন। শিব ব্যতিরেকে সমস্ত দেবতা ঋষিদের আমন্ত্রণ জানানো হল। হরিদ্বারের কঙ্খলে যজ্ঞস্থল নির্মিত হল। শিবের কিছুই অজানা ছিল না। কিন্তু তিনি নিশ্চুপ রইলেন। মুস্কিল হল এই বার্তা ক্রমে সতীর কানেও পৌঁছল যখন। তিনি যজ্ঞে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন মহাদেবের কাছে। এটাই রীতি যে মহিলাদের সবসময় কারোর অনুমতি নিয়ে তবে বাহির হতে হত বা হয়। সতী প্রথমে ছিলেন পিতা দক্ষের অধীনে কিন্তু তবু তিনি তাঁর কাঙ্খিত পতিকেই বরণ করে নিতে পেরেছেন নিজের ক্ষমতাবলে। তেমনই এখানেও সতী আশা করেছিলেন শিব এক বাক্যে সম্মতি দিয়ে দেবেন। কিন্তু শিব দিলেন না। শিব বললেন — তুমি তো নিমন্ত্রিত নও?

সতী যুক্তি দিলেন — পিতৃগৃহে নিমন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে না। শিব সে যুক্তি মানলেন না। যে শিব কোনও কিছুতে সতীকে বাধা দেন না, তিনি এভাবে বাধা দেওয়ায় সতীর অন্তরে রূপান্তর ঘটল। সতীর ভিতরে কতটা শক্তি আছে সেটা কি দেবাদিদেব জানেন না? অগত্যা দেবী নিজের দৈবসত্তা দেখানোর জন্য দশটি আলাদা আলাদা রূপ ধারণ করলেন। তাঁর এই দশটি রূপ দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত হল। নিজের এই দশরূপ দেখিয়ে শিবের কাছ থেকে অনুমতি আদায় করে সতী চললেন পিতৃগৃহে।

সনাতন ধর্মে দেবী অর্থাৎ দিব্য জননী নিরাকার আদ্যাশক্তি পার্বতীর সাকার দশটি বিশেষ রূপের সমষ্টিগত নাম দশমহাবিদ্যা। এই দশটি রূপ হল দেবীর দশটি স্বরূপ। এই রূপের ক্রমবিকাশে যেমন ভয়ংকরী দেবীমূর্তি রয়েছে তেমনই রয়েছে অপরূপা মাতৃমূর্তি। মুন্ডমালা তন্ত্র অনুসারে দশমহাবিদ্যা হলেন কালী, তারা, ষোড়শী (ত্রিপুরসুন্দরী), ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলা। তবে দক্ষর কন্যাসন্তানের সংখ্যার মত মহাবিদ্যার সংখ্যা নিয়েও মতান্তর রয়েছে। একটি মতে মহাবিদ্যার সংখ্যা ২৭। দুর্গা, কামাখ্যা ও অন্নপূর্ণাও মহাবিদ্যা।

সংস্কৃত মহা (অর্থাৎ মহৎ) ও বিদ্যা (অর্থাৎ প্রকাশ, রূপ, জ্ঞান বা বুদ্ধি) শব্দদুটি থেকে মহাবিদ্যা কথাটির উৎপত্তি। শাক্তরা বিশ্বাস করে একই সত্য দশটি ভিন্ন রূপে প্রকাশিত। দিব্য জননী দশ দেবীসত্তা রূপে পূজিতা হন। এই দশ রূপই হল দশমহাবিদ্যা।

কালী : সর্বসংহারকারিণী, শক্তির দেবী। শুম্ভ নিশুম্ভের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতাদের মিলিত প্রার্থনায় দেবী দুর্গার ভ্রূকুটিকুটিল তৃতীয় নয়ন থেকে আবির্ভূতা হলেন দেবী কালিকা। দেবী মহাকালী ঘোর কৃষ্ণবর্ণা। ত্রিনয়না, যা ভূত ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান কালকে নির্দেশ করে। তিনি করাল বদনা, উজ্জ্বল দাঁতের অধিকারিণী। তাঁর মুখ থেকে রক্তরাঙা জিহ্বাটি বহির্মুখী। তিনি এলোকেশী, মূলতঃ দিগ্বসনা, কখনও বা বাঘছাল ও কৃষ্ণবস্ত্র পরিহিতা। তাঁর গলায় মুন্ডমালা ও রক্তজবার মালা। কোমরে কর্তিত হাতের মালা বা করকাঞ্চী পরিহিতা। চতুর্ভুজা ডানদিকের দুটি হাতে বর ও অভয় মুদ্রা এবং বাম দুটি হাতের একটি একটিতে খড়্গ ও অপরটিতে নৃমুণ্ড ধারণ করেন।

তারা : পথপ্রদর্শিকা ও রক্ষিকা (তারিণী) দেবী যিনি সকলকে রক্ষা করেন। সমগ্র বিশ্বের উৎস হিরণ্যগর্ভের শক্তি এবং মহাশূন্যের প্রতীক। নীল মহাগাত্রের কারণে তাঁকে বলা হয় মহানীলসরস্বতী। পুরাণানুসারে সমুদ্রমন্থনের সময় শিব হলাহল পান করে অসুস্থ হলে দেবী তারা তাঁকে পুত্রস্নেহে নিজ স্তন্যপান করিয়ে সুস্থ করেন। তিনি এলোকেশী ও পিঙ্গল জটাধারিণী। মস্তকে অর্ধচন্দ্র ও পঞ্চমুদ্রাখচিত মুকুট পরিহিতা। তিনি ত্রিনয়না, গলায় একটি সর্প যজ্ঞোপবীতরূপে রয়েছে। ব্যাঘ্রচর্ম পরিহিতা। তাঁর চার হাতে পদ্ম, খড়্গ, অসুরমুন্ড ও কাস্তে রয়েছে। তাঁর বাম চরণ শবরূপী শিবের হৃদয়ে স্থাপিত।

ষোড়শী বা ললিতাম্বা ত্রিপুরসুন্দরী : পূর্ণতার স্বরূপ। শ্রীকুল সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ দেবী। তান্ত্রিক মতে মহাগৌরী বা পার্বতী নামে পরিচিতা। ত্রিপুর অর্থাৎ ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নাতে অবস্থিত এই ষোড়শী। এই ত্রিপুর আসলে মন, চিত্ত ও বুদ্ধি। দেবীর গাত্রবর্ণ গলিত স্বর্ণের মতো।

ভুবনেশ্বরী : বিশ্বজননী। পার্থিব জগতের শক্তিসমূহের প্রতীক। পুরাণ অনুসারে উন্মত্ত হয়ে দেবী যখন ষোড়শী রূপ ধারণ করেন, তখন শিবের বুকে নিজের ভয়াল ছায়া দেখে ভীত হয়ে পড়েন। তারপর যখন নিজের ছায়া বলে চিনতে পারেন তখন দেবী সুস্থির হন। এই অবস্থার রূপ হলেন ভুবনেশ্বরী।

ভৈরবী : ভয়ংকরিণী দেবী। কামনা ও প্রলোভনের স্বরূপ যা মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। অস্ত্রহীনা এই দেবী বিদ্যা ও ধন সম্পদের দেবী। চৌষট্টি যোগিনীর মধ্যে এক অন্যতম যোগিনী এই ভৈরবী।

ছিন্নমস্তা : উলঙ্গিণী, স্কন্দদাত্রী ও রক্তদাত্রী দেবীমূর্তি। তিনি স্বহস্তে নিজ মস্তক ছিন্ন করে নিজ রক্ত নিজেই পান করেন। চক্রবৎ আত্মধ্বংস ও আত্মপুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে সৃষ্ট জগতের অবিরাম বিদ্যমানতার শক্তির প্রতীক। রতি ও কামদেবের বুকের উপর দন্ডায়মান দেবী ছিন্নমস্তা সম্পূর্ণ নগ্ন এবং গলায় ঝুলছে নরমুণ্ডমালা। ভয়ংকর ও ভয়াল রূপের এই ছিন্নমস্তা ধ্বংসের প্রতিরূপ।

ধূমাবতী : বিধবা দেবীমূর্তি। অগ্নির দ্বারা জগৎ ধ্বংসের পর ভষ্মরাশির মধ্য থেকে যে ধূম নির্গত হয়, তার স্বরূপ। তিনি কখনও কখনও মহা অলক্ষ্মী বা জ্যেষ্ঠাদেবী নামেও অভিহিতা। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বলেই তাঁকে ধূমাবতী বলা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী প্রচন্ড ক্ষুধায় ঘরে কোনও খাদ্য না থাকায় দেবী শিবকে গ্রাস করে ফেলেন আর সেই সময়েই তাঁর দেহ থেকে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হতে থাকে। সেই ধোঁয়ায় দেবী বিবর্ণ হয়ে যান। শিবকে গ্রাস করে তিনি বৈধব্যে উপনীত হন। তাঁর এই বৈধব্যের বেশই ধূমাবতী। এই দেবীর এক হাতে থাকে কুলো আর অন্য হাতে থাকে ঝাড়ু।

বগলামুখী বা বগলা : শত্রুবিনাশিনী দেবী। ঈর্ষা, ঘৃণা ও নিষ্ঠুরতার মতো মানবচরিত্রের অন্ধকার দিক নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁকে সারসমুন্ড রূপেও কল্পনা করা হয়। দশমহাবিদ্যার অষ্টম দেবী বগলা রুরুরাসুর নামক দৈত্যের পুত্র দুর্গমাসুরকে যুদ্ধে পরাজিত করে দেবতাদের রক্ষা করেন। শবদেহের শিশ্ন অঙ্গই দেবীর বাহন।

মাতঙ্গী : কর্তৃত্ব শক্তির দেবী। তান্ত্রিক মহাসরস্বতী। স্কন্দপুরাণে বলা হয়েছে, মতঙ্গ নামের এক মুনির আশ্রমে দেবতারা যখন সাধনা করছিলেন, তখন দেবী মাতঙ্গী আবির্ভূতা হয়ে শুম্ভ ও নিশুম্ভ কে বধ করেন। এই দেবীর মাথায় চাঁদ শোভা পায়।

কমলেকামিনী : বরাভয় প্রদান করেন, শুদ্ধ চৈতন্যের দেবী ইনি। ভাগ্যদেবী মহালক্ষ্মীর অন্যরূপ। তান্ত্রিক মহালক্ষ্মী নামেও অভিহিতা। বরাভয়দাত্রী দেবী কমলা আসলে লক্ষ্মীরই অন্যরূপ। দেবী কমলাকে অনেক সময় কমলেকামিনী বলা হয় পুরাণে।

গুহ্যাতিগুহ্য তন্ত্রে বলা হয়েছে মহাবিদ্যাগণই হলেন বিষ্ণুর দশ অবতারের উৎস। দেবীর এই দশরূপ তা ভয়ংকর হোক বা কোমল, বিশ্বজননী রূপে পূজিতা এঁরা সকলেই।

গৃহে কলহ হলে স্বামী দেবতাটি সাধারণতই খবরের কাগজে আড়াল খুঁজে নিয়ে স্বয়ং মহেশ্বরে পরিণত হন, এ চিত্র আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক দেখা। পুরাণ কিংবা আধুনিক যুগ সবসময়ই – মেয়েদের কথা শুনতে নেই, মেয়েরা সঙ্গে থাকলেই বিপত্তি, এক সীতার জন্য লঙ্কাকাণ্ড আর এক দ্রৌপদীতে ধ্বংস কুরুকুল- এসব কথা প্রবাদে পরিণত। অর্থাৎ মেয়েরা যখনই নিজের মত ব্যক্ত করবেন তখনই তাকে নস্যাৎ করে দেওয়া হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটি দিক। অথচ ‘কারে’ পড়ে মাতৃনাম, মাতৃভজনা কম হয়নি যুগযুগান্তরে। কিন্তু জয় লাভ করেই পুরুষ আবার সব ভুলে মত্ত হয়েছে নিজের গৌরবে। তাই তখন নিজেকে একটু বুঝিয়ে দেবার জন্য মহামায়াকে আসতে হয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে। পাবকের সামনে ধরতে হয় সামান্য তৃণখন্ড তাদের স্বরূপ বোঝাতে। ঘরের মহেশ্বরকে ঘিরে ধরতে হয় দশদিক থেকে ভয়ংকরভাবে। একই দেহে যে লক্ষ্মী এবং অলক্ষ্মী থাকেন, স্বভাব কোমলা মাতৃমূর্তির পাশাপাশি যে ছিন্নমস্তা, বগলা, ধূমাবতীও আছেন, এটা মাঝে মধ্যে বুঝিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে বৈকি। তবেই তো পুরুষ বলবেন “আমায় একটু জায়গা দাও, মায়ের মন্দিরে বসি।”

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev