উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জ্বরের বলি আরও তিন শিশু। তাঁদের মধ্যে দু’জন জলপাইগুড়ির ও একজন দার্জলিংয়ের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, মৃত শিশুদের বয়স আট মাস, একমাস ২৫ দিন ও এগারো বছর। এই নিয়ে গত ১০ দিনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে জ্বর নিয়ে অন্তত ৮ জন শিশুর মৃত্যু হল বলে অভিযোগ।
কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছিল খুদেরা। চিকিৎসকদের দাবি, মৃত তিন শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ছাড়াও একাধিক শারীরিক সমস্যা ছিল। সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাদের। এদের মধ্যে শিলিগুড়ির প্রধাননগরের বাসিন্দা সাহিদূল হকের বয়স ১১ বছর, ধূপগুড়ির বাসিন্দা অয়ন বিশ্বাসের বয়স দেড় মাস ও শিলিগুড়ি ফুলবাড়ির বাসিন্দা নিখাত পারভিনের বয়স আট মাস।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগে এখনও ৬০ জনের বেশি শিশু জ্বর, শ্বাসকষ্ট-সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে ভরতি রয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।এই বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের ডিন সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, “নানান উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকেরা নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছে।” শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বাড়ছে জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে হদিশ মিলেছে তিন করোনা আক্রান্ত শিশুর। দিনকয়েক আগে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তারা। উপসর্গ দেখে সন্দেহ হয় চিকিৎসকদের। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায়, ওই তিন শিশু করোনা আক্রান্ত। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই সম্পূর্ণ আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে তাদের। প্রত্যেকের অবস্থা স্থিতিশীল।
শিলিগুড়ি হাসপাতাল এবং মেডিক্যালের চিকিৎসকদের একাংশই জানান, অনেক সময় কিছু কিছু সরঞ্জাম বা ওষুধের সরবরাহ থাকছে না। নেবুলাইজার যন্ত্রাংশ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। পেডিয়েট্রিক ভেন্টিলেটর নেই। ফলে সঙ্কটজনক শিশুর সংখ্যা বাড়লে সমস্যা তৈরি হবে বলে চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হাসপাতাল সুপার বলেন, ‘‘ওষুধের সরবরাহে সমস্যা এখনও হয়নি। কিছু ওষুধ নেই, অথচ দরকার পড়লে স্থানীয় ভাবে কিনে দেওয়া হচ্ছে।’’