এলাকার স্কুল থেকে প্রিয় শিক্ষকের বদলির নির্দেশ এসেছে। কিন্তু পড়ুয়ারা এই বদলির নির্দেশ মানতে চায় না। প্রিয় শিক্ষককে ছাড়তে রাজি নন কেউই। এই বদলি মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না বিদ্যালয়ের অভিভাবক, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এমনকি শিক্ষকরাও। তাই বদলি না হওয়ার আবদার সকলের পক্ষ থেকে। আবদার একটাই, তিনি যেন কোনওভাবেই এই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে না যান। তাঁদের বক্তব্য, ওই শিক্ষক আসার পর থেকে বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে খেলাধুলো, সাংস্কৃতিক চর্চা সব ক্ষেত্রেই প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ছাত্র ও অভিভাবকের পাশাপাশি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছেন তিনি।
ভালো শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্তব্য পালন ও আচার আচরণ সকলের মনের মণি কোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। কাজেই হঠাৎ তাঁর অন্য বিদ্যালয়ে বদলির খবরে সকলেই বিচলিত হয়ে পড়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বদলি রুখতে আন্দোলনে নামলেন উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের ডেহুচী হাইস্কুলের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।

ঘটনা হল, রায়গঞ্জের বাসিন্দা অরূপ সরকার ২০০৭ সালে ধূপগুড়ি থেকে বদলি হয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেহুচি হাইস্কুলে কাজে যোগ দেন। সে সময় এই স্কুলটি জুনিয়র হাইস্কুল ছিল। এরপর অরুপবাবুর প্রচেষ্টায় ২০১১ সালে মাধ্যমিকস্তরে ও তারও পরে ২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিকস্তরে উন্নীত হয় স্কুলটি। বর্তমানে এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৯০০ এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৭। ফলে স্কুলের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে অরুপবাবুর কাজে যথেষ্টই খুশি পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও।
কিন্তু পরিবারিক সমস্যার কারণে, রায়গঞ্জ থেকে হেমতাবাদে এসে স্কুল শিক্ষকতার কাজ করতে অসুবিধার সন্মুখীন হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক অরূপ সরকার। তাই সরকারি নির্দেশিকা মেনে বিদ্যালয় পরিবর্তনের আবেদন করেন অরূপবাবু। শিক্ষা দফতর থেকে সেই আবেদন গ্রহণ করে রায়গঞ্জ ব্লকের গয়ালাল রামহরি হাইস্কুলে যোগদান করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরেই হতাশ হয়ে পড়েছেন স্কুলের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা৷ বদলি আটকাতে কার্যত আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। প্রধান শিক্ষককে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি। বদলির বিষয়ে আরও একবার ভাববার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন দেহুচি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ সরকার। তিনি বলেন, ‘নিজের কিছু সমস্যার জন্য হেমতাবাদে গিয়ে ডিউটি করতে অসুবিধা হচ্ছে। সবার আবেগ রয়েছে। তাই এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায় কি না আলোচনা করে দেখছি’।