কেন্দ্রীয় সরকারের আইএমসিটি দল দু সপ্তাহ বাংলায় কাটিয়ে ফিরে গিয়েছে। যাওয়ার আগে রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবকে লেখা চিঠিতে তাঁরা অসহযোগিতার অভিযোগ এনে বলার চেষ্টা করেছেন বাংলায় করোনা পরিস্থিতি নাকি ভয়াবহ, মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। যদিও এইসব পর্যবেক্ষণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মধ্যেই পারস্পরিক বোঝাপড়া নেই। চিঠি লেখার আগে তো দিল্লির সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। কেন না, রবিবার কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন জেলায় ২০টি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে যেখানে তিনটি করে, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে যেখানে দুটি করে দল পাঠাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক, সেখানে কলকাতায় আসছে একটি দল। বাংলা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানায় একটি করে দল আসছে। তার মানে, বাংলার সব জেলাতেই পরিস্থিতি ভালো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় বাংলা যথেষ্ট তৎপর। কেরলের মতোই বাংলাও করোনা যুদ্ধে মডেল। আশা করি, বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি আর ফেক নিউজের ফ্যাক্টরি বন্ধ হবে। আর সহযোগিতা? যখন আমরা সংসদ চলাকালীন করোনা সম্পর্কে বারবার সচেতন করার চেষ্টা চালিয়েছি, বারবার বাধা দিয়েছে কেন্দ্র। হাত ধোয়া বা মাস্ক পরা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত ছিল। ওই দলের সঙ্গে থাকা এক জওয়ান করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি। জানা গিয়েছে, তাঁর সংস্পর্শে আসা জনা পঞ্চাশ ব্যক্তি কোয়ারেন্টিনে আছেন!
তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ডেরেকের কথা সমর্থন করে বলেন, প্রথম থেকে বাংলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি চলছে, বিশেষ করে বিজেপি এটা করছে। তাতে মদত দিতে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি দল দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে পাঠায়। যে লক্ষ্য নিয়ে তারা এসেছিল তা পূরণ হয়নি। কারণ বাংলা করোনা মোকাবিলায় পিছিয়ে আছে এমন কোনও প্রমাণ তারা দু সপ্তাহ কাটিয়েও খুঁজে পায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পথে নেমে যেভাবে সকলকে সচেতন করেছেন তা দেশের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে করতে দেখা যায়নি। করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের প্রাপ্য অর্থের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় ২৫ হাজার কোটির প্যাকেজ অবিলম্বে দেওয়ার দাবিও জানান সুদীপ।