করোনা পরিস্থিতি দেখতে যে ছটি রাজ্যে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে কেন্দ্র, তার মধ্যে পাঁচটি রাজ্যই অ-বিজেপিশাসিত। কাউকে আগে না জানিয়ে এমনভাবে প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে যেন এটা অ্যাডভেঞ্চারাস ট্যুরিজম। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পদ্ধতি ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ কথা বললেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বলেন, গুজরাট, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিকে যেখানে সংক্রমণ বেশি, সেখানে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়নি। রাজ্যে এসে কেউ বাংলার মানুষের ভালোর জন্য কাজ করলে কিংবা রাজ্য সরকার যা কাজ করছে তার সঙ্গে সহযোগিতা করলে তা সব সময় স্বাগত। কিন্তু যেভাবে প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসার তিন ঘণ্টা পর মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে বা আসার আধ ঘণ্টা আগে মুখ্য সচিবকে জানানো হলো তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। যেন তাঁরা কোনও দুঃসাহসিক অভিযানে এসেছেন!
তাছাড়া কেন্দ্র যে জেলাগুলিতে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে তা বাছাই করা হয়েছে যে স্রেফ কল্পনার ভিত্তিতে তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে বহুদিন ধরে সংক্রমণ ছড়ানোর খবর নেই। পূর্ব মেদিনীপুর নিয়েও কেন্দ্রের হোমওয়ার্কের অভাব স্পষ্ট। এই জেলাতেও আর কোনও করোনা আক্রান্ত নেই। ১৮ জনের মধ্যে যে চারজন বাকি ছিলেন তাঁরাও ছাড়া পেয়ে গেলেন মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল। ফলে আপাতত করোনামুক্ত তাম্রলিপ্ত, নন্দীগ্রামের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। পূর্ব মেদিনীপুরের কোভিড চিকিৎসার হাসপাতাল বড়মা সুপার স্পেশালিটিতে ভর্তি ছিলেন
যতীন্দ্রনাথ জানা (৬২), মৌসুমী জানা (২৫),আয়ুষ জানা (৮) ও আনিস জানা (৮)। এঁরা সকলেই আজ ছাড়া পেয়েছেন।