২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ন’টা নাগাদ জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের শিকারপুর চা বাগানের ভিতরে অবস্থিত ঐতিহাসিক দেবী চৌধুরাণী ও ভবানী পাঠকের মন্দিরটি রহস্যজনকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে সকাল সকাল হাজির হয়ে মন্দির পুনর্নির্মানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী গৌতম দেব। এই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তত্ত্বাবধানে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছিল। আজ রাজগঞ্জের নির্মীয়মান দেবী চৌধুরানী মন্দিরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক গৌতম দেব।

দুবছর আগে আগুনে পুড়ে যায় ঐতিহাসিক দেবী চৌধুরানী মন্দিরটি আগের আদলেই তৈরি করা হচ্ছে। রবিবার সেই মন্দির পরিদর্শন করেন প্রশাসক গৌতম দেব। গৌতম দেব বলেন, দেবী চৌধুরানী মন্দির পুড়ে যাওয়ার পর তিনি পাঁচবার পরিদর্শন করেছেন। বনদপ্তরের পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন শাখার মাধ্যমে মন্দির তৈরি করা হচ্ছে। দেবী চৌধুরানী মন্দির পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হতে আরও দুই মাস লাগবে। এছাড়া মন্দিরে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, দর্শনার্থীদের জন্য বসার জায়গা সহ বিভিন্ন সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। মন্দিরের সামনের মাঠটিকে উদ্যান করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই রাজ্য সরকারের তরফে গুরুত্বসহকারে মন্দির তৈরি করা হচ্ছে।

পর্যটন দপ্তর থেকে মন্দির তৈরি করবার জন্য প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ করা হয় প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা। মন্দিরের পুড়ে যাওয়া ধংসাবশেষ জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের ট্রেজারিতে জমা দেন রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও মন্দিরের কাজের ভাস্কর্য শিল্পী বিশ্বজিৎ ঘোষ। কথা দেওয়া হয়, কালিপুজোর আগেই মন্দিরের বেশিরভাগটাই তৈরি করা হবে। তারপরও একাধিকবার কাজে গড়িমসি হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, মন্দিরের কাজ নিয়ম মতোই এগোচ্ছে। যদিও লকডাউন এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে; একথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিধায়ক। তিনি আরও জানান মন্দিরের বিগ্রহ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে।

এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়, রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা রায়, পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন শাখার উত্তরবঙ্গের ডিএফও অঞ্জন গুহ, পর্যটন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর জ্যোতি ঘোষ সহ অন্যান্যরা।