এক সময় ধনিয়াখালির তাঁতের কাপড়ের সুনাম ছিল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সেই শিল্প একটু একটু করে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাঁতের শাড়ির বদলে বাজার দখল করেছে হ্যান্ডলুম, সিল্ক, জরি এবং নেটের শাড়ি। বর্তমানে তন্তুবায় পরিবারগুলির নতুন প্রজন্ম এই পেশার ধারে কাছে ঘেঁসেনি কেউই।

এক প্রকার দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতেই করোনা আক্রমনে জর্জরিত ধনিয়াখালির তাঁত শিল্প। লকডাউনের জেরে একেবারে ভেঙে পড়েছে জগৎ বিখ্যাত এই তাঁত শিল্প। বছরের কয়েকটা মাস একটু বিক্রি বাটা বাড়ে এক দুর্গাপূজা আর দুই চৈত্রের শেষ এবং বৈশাখের শুরুতে।

চৈত্রের শুরুর অনেক আগেই গোটা বিশ্ব জুড়ে হানা দিয়েছে করোনা, করোনার থাবায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বড় বড় শিল্প থেকে শিল্পপতি। অতি ধনী থেকে ফুটপাতে বসবাস কারি বাদ যায়নি কেউই। স্বভাবত রেহাই পায়নি ধনিয়াখালির তাঁত শিল্পও এবং এই শিল্প কর্মের সাথে যুক্ত তন্তুবায়রাও।

লকডাউনের আগে যেটুকু কাঁচামালের যোগান ছিল তা দিয়ে তৈরি হয়েছিল কাপড়। তাও মহাজন নিতে চায়নি করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে। লেন দেন বন্ধ হয়েছে তন্তুবায় এবং মহাজনদের সাথে। ফলে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে তন্তুবায়দের।
সমবায় সমিতির মাধ্যমে কাপড় বিক্রির ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু লকডাউনের জেরে সেখানেও বন্ধ লেনদেন।

অন্যদিকে সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পায়নি বলেই দাবি তন্তুবায়দের। লকডাউন চলাকালীন রেশনে চাল, গম পেলেও তাও কিছুটা হলেও মূল্য দিয়েই কিনতে হচ্ছে তাদের। লকডাউন উঠে গেলেও কাঁচা মালের যোগানের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা তন্তুবায়দের। সরকারি ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন ধনিয়াখালীর তাঁত শিল্পের সাথে যুক্ত তন্তুবায়রা।
ছবি ও সংবাদ : সুভাষ মজুমদার