উৎসবটির নাম ধনতেরাস। মনে করা হয়, এই দিন কোন ধাতব দ্রব্য কিনলে জীবনে প্রবেশ করে সমৃদ্ধি। সম্পদে ভরে ওঠে ঘরের কোনা। বিশেষ করে সেই ধাতুটি যদি হয় ‘সোনা’ তবে বাংলা ও বাঙালির জীবনে শ্রীবৃদ্ধির এই তিথির উদযাপন হয়ে ওঠে সোনায় সোহাগা।
জীবন যাত্রার সঙ্গে মানানসই গয়না পড়তে সবাই ভালোবাসেন, বিশেষ করে মহিলারা। রামায়ণে সীতাও সোনার হরিণের প্রেমে আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং পড়েছিলেন জীবনের চরম গোলকধাঁধায়।
মেয়েরা যে পেশাতেই থাকুন না কেন, জীবনযাত্রার পথে নানা সময়ে নানান ধরনের গয়না পরার রেওয়াজ তৈরি আছে। একটুকরো সোনার গয়না গায়ে রাখতে ভালোবাসেন সকলেই। বহু প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ এই ধাতুর প্রেমে পরে আসছে। যক্ষের ধন করেছে অনেকেই।
লোককথার বিভিন্ন উপমায় সোনা ব্যবহারের গল্প বলা হয়েছে। সোনা ঘরে থাকলে নাকি আঁধার রাতেও বুকে বল। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ঘোরে ঈশ্বরকথার মতো সোনা কথা।
স্কন্ধপুরান অনুসারে, অমৃতের সন্ধানে যখন দেবতা ও অসুরেরা মিলে সমুদ্র মন্থন করছিলেন তখন ক্ষীর সাগর থেকে ভগবান ধন্বন্তরী অমৃত ভরা কলস নিয়ে প্রকট হয়েছিলেন। দিনটি ছিলো কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি। হারিয়ে যাওয়া লক্ষীকে ফিরিয়ে আনার উপাসনাই হচ্ছে ধনতেরাস। শ্রী শ্রী লক্ষীর আরাধনার মাধ্যমেই সূচনা হয় দীপাবলি উৎসবের।
শোনা যায়, রাজা হিমের ছেলেকে বিয়ের চতুর্থ দিন যমের হাত থেকে বাঁচাতে নববধূ একটা অভিনব ফন্দি আঁটেন। প্রচুর ধনরত্ন, সোনা-রূপো, বাসনপত্র আর প্রদীপ দিয়ে ঘরের দরজা ঘিরে রাখেন। প্রদীপের আলোয় এত ধাতুর জৌলুসে চোখ ধাঁধিয়ে যায় যমের। দিকভ্রষ্ট যমের হাত থেকে বেঁচে যায় রাজা হিমের পুত্র। এর থেকেই ধনতেরাসের বিশেষ দিনে শুরু হয় সোনা-রূপো-সহ ধাতু কেনার রীতি৷

কাশীতে এক রাজা ছিলেন তার নাম ধন্বন্তরী। তিনি তার রাজত্বের বাইরে গিয়েও আয়ুর্বেদ প্রচার করতেন। তার প্রচারেই আয়ুর্বেদ আমাদের দেশে এতো প্রসিদ্ধ। তাই আয়ুর্বেদ ও মহৌষধের কথা উঠলেই বলা হয় ধন্বন্তরীর নাম। ধন্বন্তরী জন্মেছিলেন ত্রয়োদশী তিথির শেষ লগ্নে চতুর্দশীর শুরুতে ত্রয়োদশী তিথিতে জন্ম গ্রহণ করেন, তাই তখন থেকেই আয়ুর্বেদ প্রেমিকরা তাঁর জন্ম তিথি ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী হিসাবে পালন করে। হিন্দিতে এটাকে ধন্বন্তরী তেরস বা সংক্ষেপে ধনতেরস বলে। তাঁর সম্মানেই চতুর্দশী তিথিতে চোদ্দটি পুষ্টি গুণযুক্ত শাক খাওয়ার রীতি চালু আছে।
সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত ‘পরশপাথর’ সিনেমার গল্প মনে আছে! পরেশ দত্ত (তুলসী চক্রবর্তী) একজন সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত কেরানী বৃষ্টির দিনে খেলা থেকে ফেরার পথে কার্জন পার্কে কুড়িয়ে পান একটি গোলাকৃতি পাথর। সেটি যেখানেই ছোঁয়ান হতো সঙ্গে সঙ্গে তা সোনায় রূপান্তরিত হতো। সেরকম পরশপাথর না হলেও প্ল্যাটিনাম, লোহা, তামা-সহ একাধিক মূল্যবান ধাতুতে গঠিত এক গ্রহাণুর সন্ধান পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশানাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নাসা (NASA)। শুধুমাত্র সন্ধান পেয়েই ক্ষান্ত হননি, এই মহামূল্যবান গ্রহানুকে পৃথিবীর বুকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই মহা মূল্যবান গ্রহাণুর অবস্থান মঙ্গল আর বৃহস্পতির কক্ষপথের মধ্যে। নাম দেওয়া হয়েছে সাইকি-১৬ (psyche-16)। ১৮৫২ সালে প্রথম সাইকি ১৬ গ্রহাণুটি চোখে পড়েছিল ইতালীয় জ্যোতিরবিজ্ঞানী অ্যানিবেল ডি গ্যাসপারিস। গ্রীক দেবী সাইকি এর নামে গ্রহাণুটির নামকরণ করা হয়।
বিজ্ঞানীদের প্রথামিক অনুমান সাইকি-১৬ (psyche-16) কোনও একটি গ্রহের ভাঙা অংশ। সৌরজগৎ তৈরি হওয়ার সময় কোনও কারণে সেটি ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর সেটি মৃত প্রায় অবস্থায় সৌরজগতেই থেকে যায়। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহাণু যদি কেটে কেটে নিয়ে আসা যায় তবে পৃথিবীর ৭৭০ কোটি মানুষই কোটিপতি হয়ে যাবে। তবে সেক্ষেত্রে বদলে যাবে অর্থনীতি। ধ্বস নামবে বিশ্বের সোনার বাজারে। এ যেন গুপ্তধন পাওয়ার মতোই ব্যাপার।
এক নতুন মিশন শুরু করার পথে নাসা— যা শুরু হবে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে, মিশন সাইকি-১৬ কে নিয়ে। আপাতত এই গ্রহানুকে পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা নেই। শুধুমাত্র গবেষণা শুরু করা হবে। বিজ্ঞানীদের আশা এই গ্রহাণুর কাছে পৌঁছনো গেলে মহাকাশের অনেক রহস্য উন্মোচন হবে।
সোনা, এই মূল্যবান নারীপ্রিয় বস্তুটি বিনিময়ের সহজ মাধ্যম। স্বর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মতে, যতই আধুনিক ডিজাইনের গয়না বাজারে আসুক না কেন, ট্র্যাডিশনাল ডিজাইন বা সাবেকিয়ানায় পছন্দ ক্রেতাদের। করোনার প্রভাবে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ তৈরি হয়েছিল। তাই এখন সময় সঠিক সিদ্ধান্তের। ধনত্রয়োদশী অর্থাৎ ধনতেরাস। এই ধন হলো জীবনধন । রোগ থেকে আরোগ্য হওয়ার উপাসনা, সুস্থ থাকার সাধনা। আজ সুস্থ হয়ে জীবন মাতুক আনন্দ উৎসবে, দীপাবলি তো কেবল একটি বাহানা।।
ॐ श्री महादेव्यै च विद्महे / विष्णु पत्न्यै च धीमहि / तन्नो लक्ष्मी प्रचोदयात ॥
Wonderful
ভালো লাগলো লেখা টা পড়ে।
Opurbo lekha ta…onek kichu jante parlam..thank u so much Rinki