রঙচঙে বাস। দেখলে কচিকাঁচাদের চড়তে ইচ্ছে করবে। দরজা ঠেলে ভিতরে যেতে চাইবেই। আছে চারটে চাকা, দুটো দরজা, কাঁচের আদল দেওয়া দরজায় রয়েছে। সেই দরজা খুলে সিড়ি বেয়ে বাসের ভিতরে ঢুকলেই ঘটবে আরো মজার ব্যাপার। কারণ, বাসের দেওয়ালে রয়েছে বর্নপরিচয়ের নানান হরফ থেকে শুরু করে নানা রঙের ফল, ফুল, কীট পতঙ্গ সহ মনীষিদের ছবি। আঁকা রয়েছে সিঁড়ির মতো ধাপ করে করে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত অক্ষর। আছে ইংরাজী অক্ষর ও লেখা। শিশুদের সহজভাবে শেখানোর জন্য গোলাকার, অর্ধকার, বক্ররেখা, সরলরেখা, ত্রিভুজের নাম সহ ছবি আঁকা হয়েছে। সেই সঙ্গে আলু, পটল, টমেটো-সহ একাধিক সব্জির ছবি ও বিভিন্ন মাছের ছবিও আঁকা হয়েছে নানা রঙে। ওজন মাপার জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ওজন যন্ত্র।
বাসের নিচের অংশটি যেখানে বসে বাচ্ছারা পড়াশুনা করবে সেটিও খুব সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন। বিশুদ্ধ পানীয় জল পেতে স্কুলের বাইরে বসানো হয়েছে জল তোলার আধুনিক মেশিন। বাস-স্কুল-এ এসে ছবি দেখতে দেখতে বাচ্চারা অনাশায়েই শিখে ফেলছে সমস্ত পড়া। তাই বাসে চড়তে পড়ুয়ার সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে এই অঙ্গন ওয়ারী কেন্দ্রটির স্কুলে। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া নিয়ে চলছে কেন্দ্রটি। এই স্কুলের আকর্ষনে আশপাশের গ্ৰামের স্কুল ছেড়ে এই স্কুলে আসতে চায় প্রায় সব বাচ্চারাই। তার থেকেও বড় কথা, যে বাচ্ছারা আগে স্কুলে আসতে কান্নাকাটি করতো তারাই বাস স্কুলে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করে।
বিগত কয়েক বছর ধরে হুগলীর ধনিয়াখালি ব্লকের দশঘড়া-২ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মাদপুর ঘোষপাড়ায় একটি অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র চলতো স্থানীয় এক প্রতিবেশীর জমিতে। তাতে ১৮-২০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনো করতো। তারমধ্যে অনেক পড়ুয়াই ছিল অনিয়মিত। পরবর্তীতে গ্ৰামের সমস্ত কচিকাঁচাদের শিক্ষার আঙিনায় আনার জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করে করে স্থানীয় প্রশাসন।
সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই এমন একটি স্কুল তৈরির ভাবনা- যেখানে ছোটরা দৌড়ে চলে আসবে, খেলতে খেলতে পড়া শিখে নেবে, স্কুলের প্রতি তাদের আকর্ষন বাড়বে। ঠিক সেই ভাবনা থেকেই এই বাস স্কুল। চতুর্দশ অর্থ কমিশন, এমজিএনআরইজিএ এবং রাজ্যের অনগ্ৰসর শ্রেনী কল্যান দফতরের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সবুজে মোড়া গ্ৰামের মাঝখানে এই বাস স্কুল বা সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রটি তৈরী করা হয়।