কিছুদিন আগেও কোচবিহার থেকে পুন্ডিবাড়ি তুফানগঞ্জ রুটে তাকে চলতে দেখা যেত। সেই দোতলা বাসে চেপে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াবার আনন্দই আলাদা। কোচবিহারের যাত্রীরা সেই আনন্দ উপভোগ করত। তাদের দৈনন্দিন আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দোতলা বাস। যা দেখতে অবিকল দোতলা বাড়ির মতই।
কিন্তু হটাৎ একদিন রুট থেকে উঠে গিয়ে সেই দোতলা বাস স্মৃতি হয়ে যায়। কেন বন্ধ হয়ে গেল দোতলা বাস? মূলত যাতায়াতের খরচ বেশি। তেল লাদে দ্বিগুণ। তাই এই বাসগুলিকে পথে নামানো সংস্থার পক্ষে ব্যয় সাপেক্ষ। এছাড়া দোতলা বাসের যন্ত্রাংশ অমিল। অন্যদিকে দোতলা বাসের উচ্চতার কারণে যে কোনও রুটে চালানো সম্ভব নয়। চওড়া খোলা রাস্তা প্রয়োজন হয়।
প্রসঙ্গত, সত্তরের দশকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কাছে ছিল চারটি দোতলা বাস। পরে দুটি বাস অকেজো হয়ে যায়। প্রায় দু’দশক ধরে দুটি দোতালা বাস কোচবিহার থেকে পুন্ডিবাড়ি তুফানগঞ্জ রুটে চলত। এরপর সংস্থার পক্ষ থেকে একটি দোতলা বাসকে পর্যটনে ব্যবহার করে সবুজের পথে হাতছানি প্রকল্পে কাজে লাগান। বাসটির গায় লাগানো হয়েছিল উত্তরবঙ্গের প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছবি ও রাজ আমলের কোচবিহারে স্থাপত্যের ছবি। কিন্তু উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার সেই বাস যান্ত্রিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কোচবিহার ডিপোতে থমকে আছে।

তবে সুখবর এই যে কিছুদিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গের রাস্তায় ফের চলতে শুরু করবে ডবল ডেকার বাস। এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গ পরিবহন নিগমের। সংস্থার চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, ‘একটা সময় কোচবিহার সোনাপুর রোডে ডাবল ডেকার বা দোতলা বাস চলত। যদিও সেটা অনেক দিন আগের কথা। সেই বাসকে ফের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমদিকে সাপ্তাহিক এবং পরে চাহিদা বাড়লে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে’।
কেবল তাই নয় পার্থপ্রতিম রায় এও জানান, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের যে বাড়িগুলি ব্যবহার না হয়ে পড়ে রয়েছে, সেই বাড়িগুলি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হবে। তাতে সংস্থার আয়ের একটা রাস্তা হবে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের নিজস্ব ফুটবল দল তৈরি করা হবে যা বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নেবে।
তবে এই দোতলা বাস কোন রুটে চালানো হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয় নি। জানা গিয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা কর্মকর্তারা বোর্ড মিটিং করে দোতলা বাসের রুট ঠিক করবেন। তবে জানা গিয়েছে পর্যটকদের কথা ভেবেই ফের ওই বাস উত্তরবঙ্গে চালানোর কথা ভাবছে সংস্থা।