একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকারের ফিরলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ‘দুয়ারে রেশন’ চালু করা হবে। তৃতীয় বারের জন্য তৃণমূল সরকারের প্রত্যাবর্তন ঘটার পরই সেই প্রকল্প শুরু করার তোড়জোড় শুরু হয়। বুধবার সেই প্রকল্পেরই শুভ সূচনা হল হুগলির সিঙ্গুরে।
রাজ্য সরকার এই প্রকল্পকে একটি পাইলট প্রজেক্ট ধরে এগোচ্ছে। এই ট্রায়ালের পর এই প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বিভিন্ন জায়গায় রেশন ডিলাররা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা গড়িয়েছে। যদিও রাজ্য খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, কোথাও কোনওভাবে পাইলট প্রজেক্ট আটকাচ্ছে না।
খাদ্য দফতর পাইলট প্রকল্পে ১৫ শতাংশ রেশন ডিলারকে আনা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে। অন্যদিকে রেশন ডিলারদের সংগঠন জানিয়েছে অনেক বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি রেশন ডিলারদের মধ্যে ৩২০০ জনকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিন হুগলীর সিঙ্গুর ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন বাজারে দুয়ারে রেশন প্রকল্পের শুভ সুচনা করেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না। তিনি জানান—
শ্রমমন্ত্রী জানান, বুধবার থেকে সিঙ্গুর ব্লকের ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘দুয়ারে রেশন’ কর্মসূচী চালু হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী এও জানান, এদিন সিঙ্গুরের শৈলেন্দ্রনাথ কুন্ডু রেশন ডিলার তার ভ্রম্যমান গাড়ি নিয়ে গ্রামে রেশন দিতে বেরিয়েছে। এতে প্রকল্পের কাজে সুবিধা হবে। এদিন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তপন মালিক, সিঙ্গুর ২নং পঞ্চায়েতের প্রধান জবা কর্মকার, উপপ্রধান কার্ত্তিক মাঝি-সহ অন্যান্যরা। বাড়ির দোরগোড়ায় রেশন পেয়ে খুশি উপভোক্তারা।
‘দুয়ারে রেশন’ নিয়ে রেশন ডিলারদের একাধিক বক্তব্য রয়েছে। তবে রাজ্যের খাদ্য দফতর চাইছে প্রকল্প চলুক তার পরেই বোঝা যাবে সমস্যা কোথায় হচ্ছে। শুধু সমস্যাই দেখতে গেলে কোনও কাজ হবে না। তাই পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে বুধবার থেকে রাজ্যের প্রায় ৩১০০ ডিলারদের নিয়ে চালু হল দুয়ারে রেশন।