পুরনোকে নতুন রূপে সাদরে গ্রহণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সারা। দশ অবতার আসছে। থাকবে দশ রূপে দশ মহাবিদ্যা। সেইসঙ্গে নবরাত্রির দেবীর নবরূপ। ক্ষুদে শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় পূজামণ্ডপ সেজে উঠবে। একেবারে মুঘল আমলের বিষ্ণুপুরের দশ অবতার তাসের অনুকরণে চিত্রিত হচ্ছে। যা আজ বিলুপ্তির পথে। প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে অদম্য প্রয়াস ক্ষুদে শিল্পীদের। অবশ্য এদের পিছনে থেকে শিল্পকে আরও মাধুর্য্য করে তুলতে হাত বাড়িয়েছেন বিশিষ্ট পট ও চিত্রশিল্পী অনন্ত দে।

আসন্ন শারদীয় উৎসব। বাঁকুড়ার সালুইপাড়ার বালসীর পূজামণ্ডপ এবারে সাজবে মুঘল আমলের বিষ্ণুপুরের দশ অবতারকে কেন্দ্র করে। ক্ষুদে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠবে ইতিহাস। তৎকালীন জমিদারদের জমিদারির চিত্র। এবারে এলাকায় সাড়া ফেলবে এখানকার পূজামণ্ডপ। এমনটাই আশা করছেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী অনন্ত দে।

বালসীর পূজামণ্ডপে দেখা যাবে বিলুপ্ত হওয়া চিত্রশিল্প। থাকবে দশ রূপে দশ মহাবিদ্যা। নবরাত্রির দেবীর নয় রূপ। এই শিল্পগুলি মুঘল আমলের বিষ্ণুপুরের দশ অবতারের। প্রথিতযশা পটচিত্রশিল্পী যামিনী রায়ের অঙ্কিত অনুকরণে নির্মিত সিরিজ পুরাণ চিত্রগুলি দেখা যাবে। এখানকার জুনিয়র ক্লাবের উদ্যোগে পূজামণ্ডপ সেজে উঠবে।

পূজামণ্ডপকে ইতিহাস দিয়ে মুড়ে ফেলে তাক লাগাতে চাইছে অনন্তবাবু। এবারের আশা অসংখ্য ভক্ত এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমাবেন। পটে আাঁকা শিল্পকে বাঙালির এই বড়ো উৎসবে তুলে ধরতে ক্ষুদে শিল্পীদের সঙ্গে অদম্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন অনন্তবাবু। এখন অপেক্ষা কেবল মণ্ডপ সাজানোর।

উল্লেখ করা যেতে পারে এই পূজামণ্ডপের পটচিত্রগুলি যে সমস্ত কচি-কাচাদের হাতের ছোঁয়া আছে তারা সকলেই স্কুল পড়ুয়া। কেবল তাই নয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মুসকান সেও চায় মা দুর্গার পটচিত্র এঁকে মণ্ডপকে সাজাতে এবং বাংলার ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে।স্কুল ছুটির পর বিকেলে অবসর সময়ে পটচিত্রগুলি এঁকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

ঋজু, দেবজিৎ, অম্লান, অংকন, শুভজিৎ, রূপম, পৌলমী, শ্রেয়া, অরিত্রী, ঐন্দ্রিলা, অহনা, প্রিয়া, স্নেহা, কোয়েল, মুসকান ও মিষ্টুরা সবাই সুন্দর করে মণ্ডপ সাজাতে চেয়েছে। গ্রাম-বাংলাতে নজর কাড়তে এদের অনলস প্রচেষ্টা। এদের বক্তব্য, পেশা নয় ভালোবেসে শারদ উৎসবকে আকর্ষণীয় করে তুলতেই পড়াশোনার ফাঁকে পটচিত্র আঁকা।

স্কুল থেকে ফিরে বিকেল থেকে সন্ধ্যা কুলো ও থালায় দশ মহাবিদ্যা, দশ অবতার ও নবরাত্রির যেমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, আবার বড়ো পটচিত্রে পুরাণ কাহিনী ও বাবু কালচারও উঠে এসেছে। তবে বেশিরভাগ পটচিত্র যামিনী আর্টের অনুকরণে হয়েছে। যার প্রেরণায় এই কর্মকাণ্ড তিনি হলেন অনন্ত দে। তিনি বলেন, আঁকা আমার পেশা নয়।

ভালোবেসে কিংবা বলতে পারেন নেশায় পড়ে এই পটচিত্রে ডুব দিয়েছি। জুনিয়র সংঘের দুর্গা পূজায় মণ্ডপ সাজবে একেবারে আদিবাসীদের ঘরের আদলে। ছাউনি হবে খড়ের। দেওয়ালে পুরাণের কাহিনী ও বাবু কালচার পটচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। যা গ্রাম-বাংলায় নজির হয়ে থাকবে।
স্থান-বালসী, সালুইপাড়া, আয়োজক-জুনিয়র ক্লাব।