পর্যটন সপ্তাহে বাংলার দুর্গাপুজোকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে ইন্ডিয়া ট্যুরিজম। এবারের পুজো থেকেই সূচনা হবে তার। পুজো ও লোকসংস্কৃতিকে একসঙ্গে মিলিয়ে তারা বানাতে চাইছেন এমন এক প্যাকেজ যেখানে প্রতিমা-মণ্ডপ-আলোকসজ্জা দেখার পাশাপাশি মানুষ পরিচিত হবেন। গ্রামবাংলার পুজো ও লোকসাংস্কৃতিক পরম্পরাগুলির সঙ্গে, কিনবেন লোকশিল্প সামগ্রী। ২০২১ সালে ইউনেস্কোর বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাগুলির তালিকায় স্থান পেয়েছে কলকাতার পুজো। ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের এই উদ্যোগ তাকে আরও প্রসারিত করবে।

এই উদ্যোগের দুটি দিক আছে। এক, গ্রামবাংলার পুজো দেখা। দুই, গ্রামীণ লোকশিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটানো। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে পর্যটন সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে এই প্রচেষ্টা। এই অনুষ্ঠানে অতিথিদের কাছে তুলে ধরা হবে বাংলার গ্রামীণলোকশিল্প ও সংস্কৃতির একটা পরিচয়। বাউল-ফকির আর ভাওয়াইয়া গানের সঙ্গে থাকবে ছৌ আর রায়বেঁশে নাচ।

এর পাশাপাশি ২৫ সেপ্টেম্বর দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার দিন এবং ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে উৎসাহী পর্যটকদের বর্ধমানের নাট্যগ্রাম তেপান্তর-এ নিয়ে যাবে ইন্ডিয়া ট্যুরিজম। সেখানে সেদিন তারা পরিচিত হবেন গ্রামের পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে। কলা বউ স্নান থেকে নবপত্রিকা বানানো, সন্ধ্যায় আরতি থেকে পংতি ভোজ সবই এই ভ্রমণ সূচির অঙ্গ। এর পাশাপাশি অতিথিরা দেখবেন ছৌ এবং রায়বেঁশে নাচ ও শুনবেন ঝুমুর ও বাউল গান। নাট্যগ্রামের শিল্পীদের নতুন ধারার নাটকও এক বিশেষ আকর্ষণ। স্কুলের ছোটদেরও পুজো দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইন্ডিয়া ট্যুরিজম। এবার পুজোতেই পঞ্চমীর দিন শহরের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরবে তাদের বিশেষ বাস। বাংলার পুজো মানেই বেড়ানো আর বেড়ানো মানেই পুজো। ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের উদ্যোগ পুজোর ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।