আরামবাগের তিন প্রধান নদীর বন্যার সময় জলস্তর কখন কতটা, কিংবা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে কী-না, তা আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করল সেচ দফতর। দ্রুত এই পরিকল্পনা কার্যকরী করার জন্য কাজও শুরু করে দিল আরামবাগ সেচ দফতর।
প্রসঙ্গত, আরামবাগ মহকুমার ছ-টি ব্লকই বন্যাপ্রবণ। কারণ দ্বারকেশ্বর, দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী ও তার শাখা নদীগুলির জলে ফি-বছর মানুষকে নাকানিচোবানি খেতে হয়। এখানকার মানুষ আগাম এই নদীগুলির জলস্তর কখন কোন সময় কতটা কমবে বা বাড়বে তা জানতে পারেন না। এবার থেকে আগাম যাতে মোবাইল বা কমপিউটরে ঘরে বা অফিসে বসেই জানতে পারেন তার জন্যই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চায় সেচ দফতর। এরফলে মানুষ আগাম যেমন সতর্ক হতে পারবেন, সেইসঙ্গে ক্ষতির হাত থেকেও অনেকটাই বাঁচবেন।

উল্লেখ্য, আরামবাগ, খানাকুল, পুরশুড়া, গোঘাট বন্যাপ্রবণ এলাকা। বন্যার হাত থেকে বাঁচতে প্রধান নদীগুলির জলস্তর মাপার যন্ত্র অর্থাৎ ডিভাইস বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করল। সম্প্রতি সেচদফতরের আধিকারিকরা ও হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপকরা নদীগুলির নাব্যতা ক্ষতিয়ে দেখেন। জলস্তর মাপার ডিভাইস কোথায় বসানো হবে সে জায়গাগুলি ঘুরে দেখেন। বন্যার সময় বিভিন্ন সময়ে জলস্তর বাড়ে বা কমে নদীগুলিতে। এই বাড়া বা কমার সংকেতটাই জানতে চায় সেচ দফতর। আর সেই বার্তাটাও সঙ্গে সঙ্গে এখানকার মানুষ যাতে পেয়ে যান, সেই কাজটাই করতে চায় দফতর।

আরামবাগ সেচ দফতরের অ্যাসিস্ট্যানন্ট ইঞ্জিনিয়ার দীনবন্ধু ঘোষ জানান, প্রধানত নদীগুলোর বিভিন্ন সময়ে জলের উচ্চতা মাপার কাজ করা যাবে। বিশেষ করে বন্যার সময়। যে কাজটা হবে তা হল ফ্লাড মনিটারিং সিস্টেম। জলাধারগুলি বেশি বৃষ্টি হলে ধরে রাখতে পারে না। নদীর পাড় ছাপিয়ে ভয়ংকর বন্যা হয়। মানুষ আগাম নদীর জলস্তর সম্পর্কে জানতেই পারেন না। বিশেষ করে দ্বারকেশ্বর নদে কোথাও কোনও বাঁধ নেই। ফলে মানুষকে বন্যার জলে যখন তখন নাকানি-চোবানি খেতে হয়। যদি নদীতে জলস্তর মাপার ডিভাইস বসানো যায়, তাহলে প্রশাসনিক কর্তারা যেমন অফিসে বসে অথবা সাধারণ মানুষও ঘরে বসে ইন্টারনেট সহযোগে মোবাইল বা কমপিউটরে বসে নদীর জলস্তরের গতিপ্রকৃতি আগাম জেনে নিতে পারবেন। আর সেই কাজটাই দ্রুত সেরে ফেলতে চায় সেচ দফতর। এছাড়া সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন চাষিরা। বন্যার সময় কিংবা বেশি বৃষ্টি হলে চাষিরা আগাম সংকেত পেলে সাবধান হবেন এবং ক্ষতির হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন। এছাড়া লকগেটগুলি কখন খোলা রাখবেন বা বন্ধ রাখবেন তা চাষিরা সহজেই ঠিক করতে পারবেন।

হুগলির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক চন্দন জানা বলেন, নদীতে ডিভাইস বসাতে পারলে জলস্তর কতটা বাড়ছে তা অফিসে বা বাড়িতে বসেই জানতে পারা যাবে। আসলে আগাম সতর্ক করতেই ডিভাইস বসানোর পরিকল্পনা। দ্বারকেশ্বর নদে কোনও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। কিন্তু যদি ডিভাইস বসানো যায় তাহলে আগাম একটা জলস্তর সম্পর্কে সংকেত মিলবে। আর তাহলেই সতর্ক হওয়ার সুযোগ থাকবে। উল্লেখ্য, অত্যাধুনিক যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে তার আবিস্কারক অয়ন বাগ। তিনি হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একজন গবেষক। এদিন অয়নবাবুও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, নদীগুলিতে জলস্তর মাপার জন্যে ডিভাইস বসাতে পারলে আরামবাগের মানুষের বন্যার সময় প্রভূত উপকার হবে।