| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

লেখকের সন্ধানে সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথ (দ্বিতীয় পর্ব) : শুভাশিস মণ্ডল

Reporter
শুভাশিস মণ্ডল / ৫৪৯ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

ঘ. সমকালীন অন্যান্য পত্রিকার প্রকাশক, পরিচালক, সহকারী-সম্পাদক, সম্পাদক-

সম্পাদক-স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য রচনার সূত্রে সমকালীন বেশ কিছু পত্র-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মূলত লেখক হিসেবে। রবীন্দ্র-রচনার সিংহভাগ পুস্তকাকারে প্রকাশের পূর্বে সাময়িকপত্রের পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর জীবদ্দশায় পঞ্চাশাধিক পত্র-পত্রিকায় তিনি লিখেছিলেন। ফলত নিজ পত্রিকাগুলি সম্পাদন-কালে অন্যান্য পত্রিকার সঙ্গে যু্ক্ত, এমন গুণী মানুষদের রচনা তো তিনি সংগ্রহ করবেনই- এটাই স্বাভাবিক। একটানা না হলেও, দীর্ঘ আড়াই-দশক জুড়ে পত্রিকা-সম্পাদনা-কর্মে যুক্ত থাকার সুবাদে সমকালীন অন্যান্য পত্রিকাগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেইসূত্রে বেশ কিছু লেখকের সন্ধান পাই আমরা, যাঁদের রচনা রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় তাঁর পত্রিকাগুলিতে স্থান পায়। রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় লিখেছেন, সমকালীন অন্যান্য যে সমস্ত লেখকেরা আরও অন্যান্য পত্রপত্রিকাগুলির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেগুলি হল– গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা, ঐতিহাসিক চিত্র, সাধারণী, নববিভাকর-সাধারণী, প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ, নবজীবন, ভারত-মিহির, ধরণী, সর্ব্বার্থ সংগ্রহ, তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা, সংবাদ জ্ঞানোদয়, প্রবাসী, নারায়ণ, মানসী ও মর্ম্মবাণী, বীণাবাদিনী, বঙ্গবাণী, ভারতী, প্রদীপ, ট্রিবিউন, ল-রিভিউ, ইন্ডিয়ান নেশন, ইন্ডিয়ান মিরর, সুলভ সমাচার, সবুজপত্র, পরিদর্শক, কৌমুদী, সন্ধ্যা-করালী, আসাম মিহির, কল্প, সুরভি, সুচিন্তা, মদ না গরল, তত্ত্বকৌমুদী, সমালোচক, সখা, মুকুল, সমদর্শী, সত্য জ্ঞানসঞ্চারিনী, হিতবাদী প্রভৃতি।

সমকালীন অন্যান্য পত্রপত্রিকাগুলির সঙ্গে গোষ্ঠীকোন্দল, কাদা-ছোঁড়াছুঁড়ি, পারস্পরিক-সমালোচনা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রে থাকলেও, সম্পাদক-স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্কই ছিল বলা যায়। তার প্রমাণ নিম্নোক্ত ৩৬-জন লেখক-লেখিকা, যাঁরা কোনও না কোনও সময় অন্যান্য পত্র-পত্রিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষত যুক্ত থাকলেও রবীন্দ্রনাথের আহবানে তাঁর সম্পাদিত পত্রগুলির জন্য লেখা পাঠাতে কুন্ঠিত হন নি। সোৎসাহে যাঁরা রবীন্দ্র-সম্পাদিত সাময়িকপত্রগুলিকে সমৃদ্ধ করতে এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় {গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা– যুগ্ম পরিচালক (১২৮৯-বঙ্গাব্দ), ‘ঐতিহাসিক চিত্র’- সম্পাদক (১৮৯৯-খ্রীঃ)},

অক্ষয়চন্দ্র সরকার {সাধারণী– সম্পাদক (১২৮০-বঙ্গাব্দ), নববিভাকর-সাধারণী-সম্পাদক (১২৯৩-বঙ্গাব্দ), প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ-সম্পাদক (১২৮১-বঙ্গাব্দ), নবজীবন-সম্পাদক (১২৯১-বঙ্গাব্দ)},

অনাথবন্ধু গুহ {ভারতমিহির-সম্পাদক (১৮৭৫-খ্রীঃ)},

ইন্দ্রনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় {ধরণী-সম্পাদক (১৩০১-বঙ্গাব্দ)},

কালীবর বেদান্তবাগীশ {সর্ব্বার্থ সংগ্রহ-যুগ্ম সম্পাদক (১২৭৯-বঙ্গাব্দ)},

ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর {তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা (১৮৪৩-খ্রীঃ) – সহ-সম্পাদক ও সম্পাদক- (১৯১৪-২১, ২১-২৫, ২৫-২৬, ২৬-৩০, ৩০-৩১ – মোট ৫-টি পর্যায়ে, ১৭-বছর সম্পাদনা করেছেন।},

চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায় {সংবাদ জ্ঞানোদয়-সম্পাদক (১২৫৮-বঙ্গাব্দ), মাসিক সমালোচক – সম্পাদক ১৮৭৯-খ্রীঃ)},

চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় {প্রবাসী-সহ সম্পাদক},

চিত্তরঞ্জন দাশ {নারায়ণ-সম্পাদক (১৩২১-বঙ্গাব্দ)},

চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায় {তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা (১৮৪৩-খ্রীঃ)- যুগ্ম-সম্পাদক (১৯০৬-১০ খ্রীঃ)},

জগদিন্দ্রনাথ রায় {মানসী ও মর্ম্মবাণী– যুগ্ম-সম্পাদক (১৯১৬-খ্রীঃ)},

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর {বীণাবাদিনী (১৩০৪-বঙ্গাব্দ) – সম্পাদক (১৩০৪-০৬ বঙ্গাব্দ)},

দীনেশচন্দ্র সেন {বঙ্গবাণী যুগ্ম-সম্পাদক (১৩১৮-বঙ্গাব্দ)},

দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর {ভারতী (১২৮৪-বঙ্গাব্দ)- সম্পাদক (১২৮৪-১২৯০ বঙ্গাব্দ), তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা (১৮৪৩-খ্রীঃ)-সম্পাদক (১৮৮৪-১৯০৮)},

নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত {প্রদীপ (১৩০৪-১৩০৬ বঙ্গাব্দ)-সম্পাদক, প্রভাত-সম্পাদক (১৩০৭-বঙ্গাব্দ), ট্রিবিউন-সম্পাদক (১৯১০-খ্রীঃ)},

নগেন্দ্রনাথ ঘোষ {ল-রিভিউ– সম্পাদক, ইন্ডিয়ান নেশন– আমরণ সম্পাদক},

নরেন্দ্র সেন {ইন্ডিয়ান মিরর– সম্পাদক (১৮৬১-খ্রীঃ), সুলভ সমাচার– সম্পাদক (১৯১১-খ্রীঃ)},

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় {মানসী ও মর্ম্মবাণী যুগ্ম-সম্পাদক (১৯১৬-খ্রীঃ)},

প্রমথনাথ চৌধুরী {সবুজপত্র– সম্পাদক (১৯১৪-খ্রীঃ)},

বিজয়চন্দ্র মজুমদার {বঙ্গবাণী যুগ্ম-সম্পাদক (১৩১- বঙ্গাব্দ)},

বিপিনচন্দ্র পাল {পরিদর্শক– সম্পাদক (১৮৮০-খ্রীঃ), পরিচালক-সম্পাদক (১৮৮৪-খ্রীঃ) কৌমুদী-সম্পাদক (১৮৯৪-খ্রীঃ)},

ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় {সন্ধ্যা-সম্পাদক (১৩১১-বঙ্গাব্দ), করালী-সম্পাদক (১৯০৪-খ্রীঃ)},

যদুনাথ চক্রবর্তী {আসাম মিহির-সম্পাদক (১৮৭২-খ্রীঃ)},

রাখালচন্দ্র সেন {কল্প-সম্পাদক (১৮৯৩-খ্রীঃ)},

রাজনারায়ণ বসু {সুরভি-তত্ত্বাবধায়ক (১৮৮২-খ্রীঃ)},

শিবধন বিদ্যার্ণব {সুচিন্তা সহ-সম্পাদক (১৮৯২-খ্রীঃ)},

শিবনাথ শাস্ত্রী {মদ না গরল (১২৭৮-বঙ্গাব্দ) সম্পাদনায়-সাহায্যকারী, সোমপ্রকাশ-পরিচালক (১৮৭৪-খ্রীঃ), তত্ত্বকৌমুদী-সম্পাদক (১৮০০-বঙ্গাব্দ), সমালোচক-সম্পাদক (১২৮৪-বঙ্গাব্দ), সখা (১৮৮৩-খ্রীঃ)-সম্পাদক (১৮৮৫-৮৬ খ্রীঃ), সমদর্শী-সম্পাদক (১২৮১-বঙ্গাব্দ), মুকুল-সম্পাদক (১৩০২-বঙ্গাব্দ)},

শ্রীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় {সত্য জ্ঞানসঞ্চারিণীপত্রিকা-পরিচালক (১৮৫৬-খ্রীঃ)},

শ্রীশচন্দ্র মজুমদার {বঙ্গদর্শন-নবপর্যায় (১২৭৯-বঙ্গাব্দ)-অপ্রকাশ্য সম্পাদক (১২৯০-বঙ্গাব্দ)},

শৈলেশচন্দ্র মজুমদার {বঙ্গদর্শননবপর্যায়– সম্পাদক (১৩১৩-১৩২০ বঙ্গাব্দ)},

সখারাম গণেশ দেউস্কর {হিতবাদী-পরিচালক (১৯০৭-খ্রীঃ)},

সরলা দেবী {ভারতী যুগ্ম-সম্পাদিকা (১৩০২-০৪ বঙ্গাব্দ)-সম্পাদিকা (১৩০৬-১৪ বঙ্গাব্দ), (১৩৩১-৩৩ বঙ্গাব্দ)},

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর {তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা (১৮৪৩-খ্রীঃ)-সম্পাদক (১৮৫৯-৬২ খ্রীঃ), (১৯০৯-১০ খ্রীঃ) যুগ্ম-সম্পাদক (১৯১৫-২৩ খ্রীঃ)},

স্বর্ণকুমারী দেবী {ভারতী (১২৮৪-বঙ্গাব্দ)-সম্পাদিকা (১৩১৫-২১ বঙ্গাব্দ)},

সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর {সাধনা-সম্পাদক (১২৯৮-১৩০১ বঙ্গাব্দ)},

হিরন্ময়ী দেবী {ভারতী যুগ্ম-সম্পাদিকা (১৩০২-০৪ বঙ্গাব্দ)},

ঙ. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান:

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের জন্ম-লগ্ন (১-জুন-১৯১৯) থেকেই যোগাযোগ। এই যোগাযোগ নোবেল-প্রাপ্তির পরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘ডি.লিট্.’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯১৯-এ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভারতীয় ভাষা বিভাগ’ স্থাপনার পর প্রধান ভাষা ‘বাংলা’র ছাত্রদের বাংলাভাষা ও সাহিত্যের কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে বক্তৃতা-দানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবীন্দ্রনাথকে আহবান জানায়। প্রস্তাব গ্রহণ ক’রে, বাংলা ছন্দ সম্পর্কে বক্তৃতা দেন। ১৯২২-এ বাংলা এম.এ. পরীক্ষায় অন্যতম পরীক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯২৩-এ ‘সাহিত্য বিষয়ে’ ‘Special University Readership’ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ১৯৩০-এ ‘মানুষের ধর্ম’ বিষয়ে বাংলা ভাষায় ‘কমলা বক্তৃতা’ দান করেন। ১৯৩২-এর ১-আগষ্ট থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ‘বিশেষ অধ্যাপক’ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩৪-পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করতে তাঁকে সেই সময়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বার্ষিক শ্রেণীর (বর্তমানে এম.এ. ক্লাসের) বাংলা-পড়ুয়া ছাত্রদের কয়েকটি ক্লাস নিতে হয়েছিল। সেই ক্লাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু অধ্যাপক, অন্যান্য বিভাগের ছাত্ররা, সাহিত্য-রসিক ব্যক্তিরাও ভিড় করতেন। ক্লাস উপচে ভিড় পৌঁছতো ক্লাসের বাইরে। কবিতা-বিশেষের ব্যাখ্যা, আবৃত্তি, সাহিত্য-সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হ’ত রবীন্দ্রনাথকে। এই-সময়ে রবীন্দ্রনাথ ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ’ (ডিসেম্বর-১৯৩২) এবং ‘শিক্ষায় বিকিরণ’ (ফেব্রুয়ারী-১৯৩৩) সম্পর্কে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা ১৯৩৩-এ বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩৭-এর ১৭-ফেব্রুয়ারী রবীন্দ্রনাথ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম ভাষণ দান করেন। এই বৎসরেই রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষায় রচিত গবেষণা-অভিসন্দর্ভের (পি-এইচ.ডি. থিসিস) অন্যতম পরীক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন।

স্মর্তব্য, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগের বহু পূর্বেই সেই বিভাগের ভাবী-অধ্যাপকদের সঙ্গে তাঁর আলাপ-পরিচয় ছিল। আমরা সাতজন হবু-অধ্যাপকের সন্ধান পাই, যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা-কর্মে যুক্ত হওয়ার পূর্বেই রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত ভারতী, নবপর্যায়বঙ্গদর্শন এবং ভাণ্ডার-এ লিখেছিলেন মোট ৬৩-টি রচনা। এই ঘটনা থেকে প্রমাণ হয়, রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় বিদগ্ধজনেরা বিশিষ্ট হয়ে ওঠার পর্বেই লেখনী ধারণ করেছিলেন এবং সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথকে সার্থক করে তুলতে তাঁদের পাণ্ডিত্যের ফসল ফলিয়েছিলেন পূর্বোক্ত সাময়িকপত্রগুলিতে। এঁদের মধ্যে দীনেশচন্দ্র সেন এবং খগেন্দ্রনাথ মিত্র বিভাগীয়-প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক নিযুক্ত হন খগেন্দ্রনাথ মিত্র। সাতজন বিশিষ্ট-অধ্যাপক, যাঁরা রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত তিনটি সাময়িকপত্রে লিখেছিলেন, তাঁরা হলেনখগেন্দ্রনাথ মিত্র [বাংলা-বিভাগে যু্ক্ত ছিলেন-১৯৩২-১৯৪৬], চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় [বাংলা বিভাগে যুক্ত ছিলেন- ১৯১৯-১৯২৪], দীনেশচন্দ্র সেন [বাংলা-বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন- ১৯১৯-১৯২৫, ১৯২৬-১৯৩২], বিজয়চন্দ্র মজুমদার [বাংলা-বিভাগে যোগ দেন- ১৯১৯-এ], রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী [বাংলা-বিভাগে যোগ দেন- ১৯১৯-এ], শশাঙ্কমোহন সেন [বাংলা-বিভাগে যুক্ত ছিলেন- ১৯২০-১৯২৭], সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ [বাংলা ও ভাষাতত্ত্ব-বিভাগে যোগ দেন- ১৯১৯-এ]।

চ. ব্রাহ্মসমাজভুক্ত অগ্রজ-সমবয়স্ক-অনুজ সুহৃদেরা:

কাদম্বরীদেবীর আকস্মিক অকাল-প্রয়াণের (৮-বৈশাখ-১২৯১ / ১৮৮৪) চার-মাস পর, মাত্র তেইশ-বৎসর চার-মাস বয়সে গভীর-শোকাহত ‘রবি’কে পিতৃদেব মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ আদি-ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক-পদে নিযুক্ত করেন ১-আশ্বিন-১২৯১ (সেপ্টেম্বর-১৮৮৪)। তখন থেকে কখনও একক ভাবে, কখনও যুগ্মভাবে আদি-ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সাতাশ-বৎসর আট-মাস সময়। দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশযাত্রা উপলক্ষে জ্যৈষ্ঠ-১৩১৯ (এপ্রিল-১৯১২)-এ দায়িত্বভার ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষত আদি-ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষের সান্নিধ্যলাভ ঘটে। সেই-সুবাদে শুধু তত্ত্ববোধিনীপত্রিকা -সম্পাদনকালেই নয়, তার পূর্বেই সাধনা-ভারতী-বঙ্গদর্শন নবপর্যায়-ভাণ্ডার পত্রিকার জন্য লেখা-সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজভুক্ত অগ্রজ-সমবয়স্ক-অনুজ সুহৃদদের কাছে। যাঁরা লেখা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তাঁরা হলেন— অজিতকুমার চক্রবর্তী, আশুতোষ চৌধুরী, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, উপেন্দ্রচন্দ্র ভট্টাচার্য, কালিদাস বসু, কালীবর বেদান্তবাগীশ, কৃষ্ণবিহারী সেন, ক্ষিতিমোহন সেন, গুরুচরণ মহালনবিশ, চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায়, জিতেন্দ্রচন্দ্র ভট্টাচার্য, জ্ঞানেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, নেপালচন্দ্র রায়, বিজয়চন্দ্র মজুমদার, ব্রজেন্দ্রচন্দ্র ভট্টাচার্য, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, মনোরঞ্জন চৌধুরী, রাজনারায়ণ বসু, শরৎকুমার রায়, শিবধন বিদ্যার্ণব, শিবনাথ শাস্ত্রী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সুকুমার রায় (চৌধুরী), সুজিতকুমার চক্রবর্তী

ছ. শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের আচার্য-তত্ত্বাবধায়ক-শিক্ষক:

বীরভূম জেলার পল্লীগ্রাম বোলপুরের শান্তিনিকেতনে যেখানে ‘বিশ্বভারতী’র প্রতিষ্ঠা হয়, তার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন মাত্র দুই-বৎসর, ১-মার্চ-১৮৬৩ (১৮-ফাল্গুন ১২৬৯-বঙ্গাব্দ) সুরুলের রায়পুরের জমিদার সিংহদের কাছ থেকে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ‘শান্তিনিকেতন’ এলাকার মধ্যে মাত্র কুড়ি-বিঘা জমি বার্ষিক পাঁচটাকা খাজনায় মৌরসীপাট্টায় গ্রহণ করেন। ‘শান্তিনিকেতন’ নামকরণ রায়পুরের সিংহদের, নামটি দেবেন্দ্রনাথ বা রবীন্দ্রনাথের দেওয়া নয়। ১৮৭৩-খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে পরিব্রাজক জীবনে দেবেন্দ্রনাথ মাঝেমধ্যে কিছু সময় এখানে অতিবাহিত করতেন। ৪-কার্তিক-১২৯৫ (১৯-অক্টোবর-১৮৮৯) কোজাগরী-পূর্ণিমার দিন শান্তিনিকেতনের মন্দির নির্মিত হয়। মরুভূমির মত তৃণশূন্য প্রান্তরের ছাতিমতলায় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ কেবলমাত্র তাঁর ধ্যানের আসন পাতেন নি, সেই সঙ্গে একটি মহৎভাবী উদ্যোগের বীজ বপন করেছিলেন। মহর্ষির সঙ্গে বারো বৎসরের বালক রবীন্দ্রনাথ হিমালয় যাত্রাকালে যখন প্রথম শান্তিনিকেতন দর্শন করেন (৪-ফাগুন-১২৭৯ / ১৪-ফ্রেব্রুয়ারী-১৮৭৩), তখন তাঁর মনে যে বিচিত্র ভাবের উদয় হয়েছিল তার সুন্দর বর্ণনা আছে, জীবনস্মৃতি-তে। মহর্ষির শেষ-বয়সের আশ্রয় ছিল এই আশ্রম। এই উন্মুক্ত প্রান্তরে তিনি ‘প্রাণের আরাম; মনের আনন্দ, আত্মার শান্তির’ জন্য নিবিষ্ট হয়েছিলেন। তিনি অনুভব করেছিলেন যে ভারতবর্ষের ভূতকালের আবির্ভাব এইখানেই হবে।

পারিবারিক স্থান-পরিবর্তনের ক্ষেত্র হিসাবেও জায়গাটি ব্যবহৃত হতো। রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য-ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর (চতু্র্থদাদা বীরেন্দ্রনাথের পুত্র)ই প্রথম শান্তিনিকেতনে একটি ‘ব্রহ্মবিদ্যালয়’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। এই কাজে মহর্ষির অনুমোদনও ছিল। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টডীডেও (৩-মার্চ-১৮৮৮) এইরূপ একটি বিদ্যালয় স্থাপনার সংস্থান ছিল। ব্রহ্মবিদ্যালয়ের জন্য বলেন্দ্রনাথ নিয়মাবলীর একটি প্রাথমিক খসড়াও প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু ১৯-আগষ্ট-১৮৯৯ (৩-ভাদ্র-১৩০৫) তারিখে অকাল-প্রয়াণে, তা বাস্তবায়িত করে যেতে পারেন নি। (চলবে)

লেখক, শুভাশিস মণ্ডল, সহ শিক্ষক (বাংলা), কসবা চিত্তরঞ্জন হাই স্কুল, কসবা, কলকাতা।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev