| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

এই প্রজন্ম : ছোট গল্প লিখেছেন কণা বসু মিশ্র

Reporter
কণা বসু মিশ্র / ৫৭৭ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

সিমিভ্যালিতে চমৎকার বাড়ি কিনেছে সম্বিৎ। কাঠের দোতলা বাড়ি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূমিকম্প হয় বলে সব বাড়িই কাঠের তৈরি। বাড়িটার বাঁদিক দিয়ে বোধহয় গেছে পাঁচ নম্বর নর্থ ফ্রি ওয়ে। খানিকটা এগোলেই পাহাড়। সেই পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে চওড়া ফ্রি ওয়ে। চৌষট্টি মেইল এগনোর পর তবে সমতলে গিয়ে মিশেছে রাস্তাটা।

সম্বিতের বাড়ির সামনে এক টুকরো বাগান। বাগানে মরসুমি ফুলের বাহার। সম্বিৎ ওদের দেখে বেজায় খুশি। বলল, সানফ্রান্সিস্কো থেকে সাড়ে তিনশো মাইল ড্রাইভ করে ফিরছেন আপনারা। আজ কিন্তু থেকে যেতেই হবে। রঞ্জুষা বলল, না না। আজই আমাদের বাড়ি যেতে হবে। পিনাকপানীও বললেন, আরে আপনাদের ঝামেলায় ফেলা। ফ্রি ওয়ে দিয়ে ড্রাইভ করে সোজা চলে যাব। লাগবে তো চল্লিশ মিনিট।

সম্বিৎ বলল, আঙ্কল! আপনি আমায় আপনি বলছেন কেন? পিনাকপানী বললেন, প্রথম আলাপ। তা ছাড়া তোমার যোগ্যতারও তো সম্মান আছে? ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনির্ভাসিটির অধ্যাপক তুমি।

রঞ্জুষাও বলল, তোমরা তো আমাদের গর্ব। কিন্তু তোমাদের মতো ভাল ভাল ব্রেনগুলো ডলারে কিনে নিচ্ছে আমেরিকা। এটা ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়।

সম্বিৎ বলল, কী করব বলুন? দেশে আর পয়সা কোথায়? তাই বাধ্য হয়েই…। আরে, আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। চলুন, চলুন, ভেতরে চলুন।

ড্রয়িং রুমে পা দিতেই সম্বিৎ সামান্য চেঁচিয়ে ডাকল, আয়েষা। আন্টি, আঙ্কল আগিয়া। ইধার জলদি আও। নীল জিনসের প্যান্ট, গায়ে হলুদ টপ আয়েষা এসে দাঁড়াল হাসিমুখে। ওয়েজকাট চুল। সপ্রতিভ ঝরঝরে পাঞ্জাবি মেয়েটি। সেই প্রথম বলল, আরিয়া নেই আয়া? পিনাকপানী বললেন, হ্যাঁ, ওই তো ড্রাইভ করে নিয়ে এল। গাড়িতে একটু প্রবলেম হচ্ছে। তাই কাছেই একটা গ্যারেজে গেছে গাড়ি নিয়ে।

সম্বিৎ বলল, হ্যাঁ, আমায় হাত নেড়ে চলে গেল আর্য। মৌসুমি এল না কেন?

কেন মৌসুমিও তো এসেছে। গাড়িতে ওর পাশেই তো বসে রয়েছে। আসলে জানলার কালো কাচটা তোলা। বুঝতে পারনি।

সত্যি আঙ্কল! আপনারা আসায় আমাদের যে কী ভাল লাগছে।

তোমাদের কাছে এসে আমাদেরও ভাল লাগছে। সোফায় হেলান দিয়ে ঠিকঠাকভাবে বসতে বসতে পিনাকপানী বললেন। রঞ্জুসা বলল, এখানে তোমরা ক’বছর হল এসেছ? বোধহয় পাঁচ–ছয় বছর তাই না?

হ্যাঁ, তা তো হল। আপনাদের দেখে এখন দেশের কথা খুব মনে হচ্ছে। রঞ্জুষা বলল, এর মধ্যে যাবে নাকি দেশে?

না। এ বছর তো হল না। তবে নেক্সট ইয়ার উইন্টারে।

হ্যাঁ, তোমরা তো সব সাইবেরিয়ার পাখি। শীতের বেলেহাঁস, তাই না?

সম্বিৎ হা হা করে হাসতে লাগল। বলল, যা বলেছেন আন্টি। আকাশে মিছিল করে উড়ে সমুদ্র পেরিয়ে। সত্যি সাইবেরিয়ার পাখি। এখানকার বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের বেশিরভাগ বাঙালিই থাকে না। শীতের সময় সবাই পালায় ইন্ডিয়ায়।

আয়েষা ট্রেতে কাচের গ্লাস সাজিয়ে ফ্রুট জুস নিয়ে এল। পিনাকপানী বললেন, ঠান্ডা কেন, একটু গরম পেলেই ভাল হত।

সম্বিৎ ব্যস্তভাবে আয়েষাকে বলল, কফি। কফি লে আও …।

না না, ঠিক আছে। – রঞ্জুষা বলল। তুমি বসো। আয়েষা তুমি কি বাংলা বোঝ?

আয়েষা মাথা নেড়ে বলল, ইয়েস।

পিনাকপানী বললেন, তুমি এখানে কী করছ মা?

হ্যাম, সফটওয়ার মে হ্যায়।

তুমহারা দেশ অমৃতসর?

হাঁ জি।

আঙ্কল, ওর সঙ্গে বাংলায় কথা বলুন।

সম্বিৎ বলতেই আয়েষা বলল, ইয়া, আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড বেঙ্গলি …।

কিন্তু বলতে পার না, তাই তো?

পিনাকপানী হাসতে হাসতে বললেন। রঞ্জুষা বলল – আমিও তো খুব ভাল হিন্দি বলতে পারি না।

আয়েষা মুচকি হেসে বলল, ব্রকন বেঙ্গলি আতা হ্যায় হামকো।

নো প্রবলেম … নো প্রবলেম – রঞ্জুষা বলল।

আর্য আর মৌসুমি বোধহয় এল। গেটের টেলিফোন থেকে ফোন এল। রিমোট কন্ট্রোলে গেট খোলার আওয়াজ। গাড়ির শব্দ ওদের কানে বাজল। দরজা খুলে সম্বিৎ বলল, আয়। তোদের জন্যেই ওয়েট করছিলাম। কত মাস বাদে আমার ডেরায় এলি বল তো?

আর্য বলল, তবু তো এলাম। তোরা কি আজকাল আসা ছেড়ে দিয়েছিস?

তা প্রায় বলতে পারিস। অনেকদিন যাওয়া হয়নি ওদিকে। ছুটিছাটা পেলেই সানফ্রান্সিসকো দৌড়ই। আয়েষার ড্যাডি, মামি রয়েছেন।

কথা বলতে বলতেই সম্বিৎ ফ্রিজের দিকে এগিয়ে গেল। ওয়াইনের বোতল বের করে বসল। বলল– বাইরে আজ বেজায় ঠান্ডা। এতক্ষণ ড্রাইভ করছিস, একটু চাঙ্গা হয়ে নে।

তারপর পিনাকপানী আর রঞ্জুষাকে বলল, আন্টি, আঙ্কল! ওয়াইন চলবে?

আপত্তি নেই। – পিনাকপানী বললেন। শীতের ব্রকোলি বেসনে ভেজে নিয়ে এল আয়েষা। আর্য বলল, কিরে সম্বিৎ, তুই বুঝি বউকে খুব খাটাস? সম্বিৎ বলল, আরে সব সময়ই তো রান্নায় ওকে হেল্প করি। এখন তোরা এসেছিল বলে …। আয়েষা তির্যক চোখে তাকাল। বলল, লায়ার…। হামাকে কখনও সম্বিৎ হেল্প করে না। উ বোলে কি ইন্ডিয়ান বহু আছে তুমি। হাসবেন্ডকে কেয়ার নেওয়াটা তুমহার ধরম।

একসঙ্গে সবাই হেসে উঠল। সম্বিৎ বলল, আরে ও তো বর্ন অ্যান্ড ব্রট আপ আমেরিকা। দেশের আদবকায়দা একটু শিখবে না? কথাগুলো বলেই বলল, অবশ্য ওর বাবা–মা চল্লিশ বছর এই মার্কিনমুলুকে থেকেও চালচলনে একেবারে ভারতীয় পাঞ্জাবি। বরং আমি যতটা ভারতীয় তার থেকেও বেশি।

মৌসুমিও ওর সঙ্গে গলা মেলাল। হ্যাঁ, ঠিক তাই। আর্য বলল, আমরা যখন সানহোসে ছিলাম, তখন আন্টি, আঙ্কলের কাছে প্রায়ই যেতাম। আমাদের খুব কাছাকাছিই ওঁরা ছিলেন। যদিও আশি মাইল দূরে বার্কলের কাছে। একদিন কি মজা হয়েছিল জানলে মা? রঞ্জুষা বললেন, কি মজা?

রাতে আমরা আন্টি–আঙ্কলকে খেতে বলেছিলাম। আমিই ড্রাইভ করে ওঁদের নিয়ে এসেছিলাম বার্কলে থেকে। তারপর কি মজা হল জান?

মৌসুমি ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল, বাকিটা আমার শেষ করতে দাও।

উঁহু। তুমি কি তোমার ফল্টটা বলবে?

অ্যাই! আমার আবার ফল্ট কোথায়?

নয়?

আয়েষা খিক খিক করে হেসে উঠল। সম্বিৎ হেসে বলল, তোরা দুটিতে ঝগড়া কর, বাকি গল্পটা আমি শেষ করি?

ওরা সবাই কৌতূহলী চোখে তাকাল সম্বিৎতের দিকে। জানেন, আন্টি। রাতে তো বেশ জম্পেশ আড্ডা হল। আমার মাদার ইন ল, ফাদার ইন ল দারুন আড্ডাবাজ। তারপর জমিয়ে খানাপিনা। এবার ঘড়ির কাঁটায় রাত একটা বাজতে ওদের হঁশ হল। ঘরে ফেরার তাড়া। আমাদের সাহবে তো চাবির রিং দোলাতে দোলাতে তার লিমোজিন-এ স্টার্ট দিলেন। কথাগুলো বলতে বলতে সম্বিৎ মুচকি হাসছিল আর্যর দিকে তাকিয়ে। আর্য বলল, ঠাট্টা করছিস? কতক্ষণে পিনাকপানীর মুখ থেকেও বেরিয়ে গেছে।

—লিমোজিন? আর্য আবার লিমোজিন কিনল কবে? ওর তো জাপানি টয়োটা।

—আঙ্কল! তখন ওর ছিল জাপানি হন্ডা। কিন্তু ওই হল, আমার বলি লিমোজিন। কিরে তাই তো? আর্য হেসে বলল, তোরা যতই টন্ট করিস, আমার হন্ডা কিন্তু দারুণ সার্ভিস দিয়েছিল। ওই গাড়ি নিয়েই সানহোস থেকে লাসভেগাস পর্যন্ত গিয়েছিলাম। ছশো মাইল ছশো মাইল বারোশো মাইল। মনে নেই? তোরাও তো ছিলি?

কি মুশকিল। তাই তো বলি লিমোজিন। কতজনকে জায়গা দিয়েছিলি বল তো? এমনকি বিলগেটস পর্যন্ত …।

বিলগেটস? নাহ্‌। তুই গল্পের গরু গাছে তুলছিস?

পিনাকপানী হাসতে হাসতে বললেন, গল্পটাই শেষ কর না?

আর্য এবার নড়েচড়ে বসল। বলল, বাকিটা আমি শেষ করি। ও তো সেদিন ছিল না, ও কী বলবে? আর্য বলল, গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমি আর মৌসুমি, আঙ্কেল আর আন্টিকে নিয়ে। আমার হন্ডা যখন– তখন বিট্রে করত তখন আমায়। বেশ ভয় ছিল, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন ব্রিজের ওপর জেহাদ ঘোষণা করে বলে, লেট মি স্টপ…।

আবার হাসির অর্কেস্ট্রা।

কিন্তু সেফলি আমরা বার্কলে পৌঁছে গেলাম। পৌঁছেই ব্যস…।

মানে? রঞ্জুষা, পিনাকপানী দুজনেই অবাক হয়ে তাকালেন। গাড়ি বিগড়ে গেল?

না না, আন্টি বললেন, ঘরকা চাবি নেহি হ্যায়।

মৌসুমি জোরে হেসে উঠল। বলল, আন্টি বললেন, চাবি, হামারা ব্যাগ সব তো হাম মৌসুমি কো দে দিয়া।

আর্য বলল, আন্টি আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েই ওঁর ভ্যানিটি ব্যাগটা গচ্ছিত রেখেছিলেন মৌসুমির কাছে। ওঁর নাকি ভুলো মন। পাছে চাবির ব্যাগটা ফেলে যান! রঞ্জুষা বলল, তারপর?

কি মৌসুমি তুমিই বল? আর্য বলল।

মৌসুমি বলল, আরে চাবির ব্যাগটা আমিই ভুলে ফেলে গিয়েছিলাম।

সবাই হাসতে লাগল। আর্য বলল, তারপর আমার পুরনো হন্ডার চার চাকা নিয়ে ফের ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন। সবাই মিলে একসঙ্গে আমাদের সে অ্যাপার্টমেন্টে দাদুর দস্তানায়। রাত তিনটে থেকে ছটা অবধি হইহই। ঘুমও তখন পগার পার।

কি মজাই না হয়েছিল সেদিন। মৌসুমি হেসে বলল। পিনাকপানী বললেন, ওই আর কি! কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। আর্যকে তো তারপর অফিস করতে হল? আগের দিন তো সানডে ছিল নিশ্চয়? তোমাদের জানি, রোববারই তো গেট টুগেদার?

আর্য বলল, হ্যাঁ, ব্রেকফার্স্ট খেয়েই আমরা আবার ছুটলাম, ফিরে এসেই অফিস …। ও আমাদের অভ্যেস আছে বাবা। নো প্রবলেম …।

সম্বিৎ বলল, ঠিক একই কেস সানটাবারবারাতে গিয়ে আমাদের, কি আয়েষা! দেব নাকি সব ফাঁস করে?

আয়েষা হাসতে হাসতে বলল, চাবি তো হামেশাই গড়বড় করতা…।

রঞ্জুষা বলল, ও তো আমাদেরও হয়। চাবি নিয়ে সব সময়ই একটা প্রবলেম।

পিনাকপানী বললেন, শুধু কি চাবি? কেন চশমা? চোখে চশমা, আর তোমাদের আন্টি চশমা খুঁজে বেড়াচ্ছে পাগলের মতো।

চশমা আর চাবির গল্পতেই কেটে গেল ওদের ঘন্টাখানেক। হুইস্কি, ওয়াইন যে–যার পছন্দমতো নিয়ে নিল। সম্বিৎ ওভেন থেকে বের করে নিয়ে এল গরম গরম চিকেন কাবাব।

হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল। সম্বিৎ হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বলল, গেটের বাইরে সে অপেক্ষা করছে। গেটটা খুলে দিতে। গেট খুলে দিল সম্বিৎ রিমোট কন্ট্রোলে। ভেতর থেকেই…।

সম্বিৎকে খুব অন্যরকম দেখাচ্ছিল। আগের চেয়েও ওর চেহারায় এখন উচ্ছিসিত ভাবটা বেশি। দরজা খুলে দিল সে নিজেই। যুবক– যুবতী ভেতরে ঢুকল।

হ্যাললো! আয়েষার হাতটা ধরে হ্যান্ডসেক করল মেয়েটি। আয়েষাও হেসে বলল, হ্যাললো। সম্বিৎ যুবকের হাতটা ধরে ওই একই কায়দায় হ্যালো বলল। এবারে সম্বিৎ প্রথমেই আলাপ করিয়ে দিল আর্যর সঙ্গে। – সি ইজ মিলি। আমার আগের বউ। —মুচকি হাসল মিলি। সম্বিৎতের দিকে ওরা সবাই বেশ আশ্চর্য হয়েই তাকাল। সম্বিৎ বলল, আর হি ইজ কুণাল রয়, নাও হি ইজ মিলিজ হ্যাসবেন্ড।

আর্য ওর সঙ্গে হ্যান্ডসেক করল। আর্যর নামের সঙ্গে এবং বন্ধুত্বের বিশেষণে পরিচয় পর্ব সারল সম্বিৎ। মৌসুমির সঙ্গেও। তারপর পিনাকপানী আর মঞ্জুষাও বাদ গেল না। রঞ্জুষা ভাবছিল, ডিভোর্সের পরেও কত সুন্দর এদের সম্পর্ক। কথা বলতে বলতে মিলির সঙ্গে বারে বারেই চোখাচোখি হচ্ছিল সম্বিতের। আবার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বোধহয় সাবধান করে আয়েষাকে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করছিল।

আয়েষা যা বিরিয়ানি করেছে না আজ ফার্স্ট ক্লাস। আয়েষাও চোখ পাকিয়ে কৃত্রিম শাসন করছিল ওকে। সম্বিৎ ফের মিলির দিকে তাকাল, মিলি! আয়েষা এ ব্যাপারে তোমাকেও হার মানিয়ে দেবে।

মিলি বলল, আবার আমায় নিয়ে টানাটানি কেন? বেশ তো আয়েষাকে নিয়েই হচ্ছিল।

কুণাল বলল, মিলির মাছের চপ আমার আগে তুমিই তো এক্সপেরিমেন্ট করেছ, তাই না সম্বিৎ? ও কিন্তু দারুণ বানায়। আর মাংসের রেজালা!

মিলি হঠাৎ অধৈর্যভাবে চেঁচিয়ে বলল, তোমরা থামবে! সম্বিৎ কিন্তু মুচকি হেসে ফের বলল, অবশ্য মাংসের রেজালা আমিই ওকে শিখিয়েছিলাম। আর চপের হাতেখড়িও আমারই কাছে।

মিলি বলল, আহা! কিছুই আমি জানতুম না যেন। পটলের দোর্মা কে তোমায় শিখিয়েছিল স্যার? এবার সবাই হেসে ফেলল।

ডিনারের পর আরেক দফায় আড্ডা আরও জোরদার হল। ব্লাউইন্ড সরিয়ে দিয়েছিল আগেই সম্বিৎ। বাইরের আকাশে কুয়াশার মধ্যেও আধখানা বাঁকা চাঁদ তার সামান্য আলোয় জড়িয়েছিল আকাশ। ঠান্ডা আর কুয়াশাকে তোয়াক্কা না করে লনের গার্ডেন চেয়ারে বসল ওরা ক’জন। শুধু পিনাকপানী আর রঞ্জুষা থেকে গেল ড্রইংরুমে। ওদের জন্য সম্বিৎ সিডি চালিয়ে গেল। সিনেমা হচ্ছিল তপন সিংহের বাঞ্ছারামের বাগান। এই ক্যাসেট ওদের কলকাতার বাড়িতেও আছে। কিন্তু সম্বিতের উৎসাহ ওরা নষ্ট করতে চাইল না। সম্বিৎ ক্যাসেটটা চালানোর সময় আর্য একবার মায়ের দিকে তাকিয়েছিল, কি মা? তোমরা এটাই দেখবে? না অন্য কিছু?

ঠিক আছে। ঠিক আছে। —পিনাকপানী বলেছিলেন। সম্বিৎ বলেছিল, আঙ্কল! আমরা তো দেশকে পাই না। তাই এই নিয়েই বেঁচে আছি। ক্যাসেটের মধ্যেই রয়েছে দেশের গন্ধ।

ওরা বাইরে গেলে পিনাকপানী বললেন, দেশের জন্য এদের এত ব্যাকুলতা, অথচ কিছুতেই দেশে ফিরবে না। ডলারের মোহ এদের রেখেছে। আর আরাম স্বাচ্ছন্দ্য।

রঞ্জুষা বলল, কি আরাম আহা! নিজেদের কাজ করে নিতে হয়। রান্না – বান্‌না, ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে কার্পেট পরিষ্কার, গার্বেজ ড্রামে বাইরে গিয়ে গার্বেজ ফেলা। সব …। আর আমরা? কী আরামে থাকি? রান্নার লোক রাঁধে, ঠিকে লোক বাসন মাজে, যদিও এখানে ডিশ ওয়াশার মেশিন রয়েছে, কিন্তু বাঙালির ঝালেঝোলে রান্না! আগে তো ধুয়েই নিতে হয় প্লেট। তারপর ডিশ ওয়াশার মেশিন … কাপড় কাচা ওয়াশিং মেশিন তো আমাদেরও আছে, তবু টুকটাক তো কেচে দিয়ে যায় ঠিকে লোক। … পিনাকপানী বললেন, আর রাস্তাঘাটে গাড়ি চড়ে আরাম?

হ্যাঁ, সেটা বলতে পার? চমৎকার ফ্রি ওয়ে … কোনও জ্যাম নেই।

আর কথায় কথায় এরা ইউরোপ যায়, অষ্ট্রেলিয়া যায়, কানাডা যায়? আমেরিকা ইস্ট থেকে ওয়েস্ট, ওয়েস্ট থেকে ইস্ট পাঁচ হাজার মাইল দূরত্বও এদের কাছে নস্যি। ইন্ডিয়ায় বসে থাকলে কি ওরা পারত, বিলেত, আমেরিকাকে পাশের বাড়ি বানাতে? রঞ্জুষা হেসে ফেলল। বলল, সত্যি যা বলেছ।

লনের চেয়ারে ওরা জমিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা রাত একটার ঘর ছুঁই– ছুঁই। পিনাকপানী বললেন, নাহ্‌! ওদের এবার তাড়া দিতে হবে।

রঞ্জুষা বলল, আহ্‌! থাক না। সপ্তাহে এই একটি দিনই তো। কাল থেকে তো সেই আবার ওদের একই রুটিন। কাজ আর কাজ…।

সুইংডোর ঠেলে ভেতরে ঢুকল, মিলি আর সম্বিৎ। ওদের দুজনকেই বেশ চকমকে দেখাচ্ছে। সম্বিৎ বলল, আঙ্কল! আন্টি! আপনারা কি বোর ফিল করছেন?

রঞ্জুষা বলল, নাহ্‌! ভাল লাগছে।

পিনাকপানী বললেন, এবার তো যেতে হবে। ওরা কোথায়?

বসুন আসছে।

সম্বিৎ আর মিলি এমনভাবে বেডরুমে ঢুকে গেল, যেন ওরা সেই আগের মতোই স্বামী–স্ত্রী। বেডরুমের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দও হল। আর সেই শব্দের বাণটা দিয়ে বিঁধল রঞ্জুষার বুকে। বেচারি আয়েষ! মিলির সঙ্গে কি সম্বিতের পুরোনো প্রেম উথলে উঠল? এই মুহূর্তে যদি আয়েষা এসে ঘরে ঢোকে? পিনাকপানীও অবাক। উনি বিড়বিড় করে বললেন, এই জেনারেশনের কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কান্নার একটা হেঁচকি শোনা যাচ্ছিল। মিলি কি কাঁদছে? সম্বিতের চাপা গলা, হচ্ছেটা কি? যেদিন আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলে? মনে পড়ে সেদিন?

মিলি কান্না জড়ানো গলায় বলল, জীবনটা কি আবার বদলে নেওয়া যায় না? আয়েষাকে যদি কুণালের সঙ্গে ভিড়িয়ে দিই?

সম্বিৎ আর্তনাদের মতো বলে উঠল, না যায় না মিলি। আয়েষা কোনওদিন মিলি হতে পারবে না। মিলি বন্ধ দরজা খুলে ছিটকে বেরিয়ে গেল। ওর পেছন পেছন সম্বিতও। পিনাকপানী আর রঞ্জুষা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর যে যার গাড়িতে। কুণালের পাশে বসে ঝলমলে হাসি নিয়ে বাই, বলে চলে গেল মিলি।

প্রথম প্রকাশ : ২০০৪ শারদীয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev