বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের শেষ তথা অষ্টম দফার ভোট। এদিন চার জেলার ৩৫ আসনের জন্য ভোট গ্রহণ হবে। এর মধ্যে মালদার ৬ টি আসন—মানিকচক, মালদা, ইংলিশ বাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, বৈষ্ণবনগর, মুর্শিদাবাদের ১১ আসন—খড়গ্রাম, বড়ঞাঁ, কান্দি, ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নওদা, ডোমকল, জলঙ্গি, বীরভূমের ১১ আসন—দুবরাজপুর, সিউড়ি, বোলপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট, হাসন, নলহাটি, মুরারই ও কলকাতার ৭ আসন—চৌরঙ্গি, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রে হবে ভোট।
প্রসঙ্গত, শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এই ৩৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৭টি, বামেরা ৩টি এবং কংগ্রেস ১৩টি আসনে জিতেছিল। এছাড়াও জোট সমর্থিত নির্দল প্রার্থী ১টি আসনে এবং মালদহের ১টি কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি প্রার্থী। সেবার ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই হয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোটের। কিন্তু তার ৩ বছর পরে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে যথেষ্ট বদল ঘটেছিল। জোড়াফুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে পদ্ম শিবির। তবে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হলেও ভোটের যোগফলের হিসাবে বাম এবং কংগ্রেসও খুব পিছিয়ে ছিল না। তবে চমকপ্রদ সাফল্য পাওয়ায় বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে।
গত লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলের হিসাবে তৃণমূল ৪ জেলার ৩৫টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসা বিজেপি এগিয়ে ছিল ১১টি আসনে। কংগ্রেস ৫টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে থাকলেও বামেরা একটিতেও ঠাঁই পায় নি। কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা ৫টি আসনের মধ্যে মালদহ জেলার ২টি বিধানসভা কেন্দ্র; মোথাবাড়ি এবং সুজাপুরে বামেদের কোনও প্রার্থী ছিল না। এই বিধানসভা কেন্দ্র দু’টি মালদহ-দক্ষিণ লোকসভার অন্তর্গত। মুর্শিদাবাদ জেলার ৩টি বিধানসভা আসন বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বড়ঞাঁ, কান্দি এবং বহরমপুরে বামফ্রন্টের শরিকদল আরএসপি প্রার্থী দিলেও সিপিএমের সমর্থন পায়নি। কেন্দ্রওয়াড়ি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদে তেমন অগ্রগতি না হলেও অন্য ৩ জেলা অর্থাৎ কলকাতা, মালদহ এবং বীরভূমে উত্থান ঘটেছে পদ্ম শিবিরের।
শেষ বিধানসভা ভোটে এই ৩৫টি আসন মিলিয়ে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৮.৭৪ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ১১.৪৮ শতাংশ। বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছিল ৪২.৫১ শতাংশের সামান্য বেশি। গত লোকসভা নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের ভোট বেড়ে হয়েছিল ৪১.১৭ শতাংশ। বিজেপি-রও বেড়ে হয়েছিল ৩০.৭৭ শতাংশ। যদিও বামেরা ৫.১৫ এবং কংগ্রেস ১৯.৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তবুও মালদহ ও মুর্শিদাবাদে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথাই ভাবা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মালদহের যে ৬টি আসনে ভোট; ২০১৬-র বিধানসভায় এর মধ্যে কংগ্রেস ৪টি, নির্দল ইংরেজবাজার আসন আর বৈষ্ণবনগর আসন জিতেছিল বিজেপি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিধানসভাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী বিজেপি ৪ এবং কংগ্রেস ২টি আসনে এগিয়েছিল। বৈষ্ণবনগর, ইংরেজবাজারের পাশাপাশি কংগ্রেসের জেতা মালদহ এবং মানিকচকেও বিজেপি এগিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের যে ১১টি আসনে ভোট, তার মধ্যে ২০১৬-য় কংগ্রেস ৮, সিপিএম ২ ও তৃণমূল হরিহরপাড়া আসনিটি পেয়েছিল। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের হিসেব অনুযায়ী, তৃণমূল ৮ এবং কংগ্রেস ৩টি আসনে এগিয়ে যায়। হরিহরপাড়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের জেতা খড়গ্রাম, ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, নওদা এবং সিপিএমের জেতা ডোমকল ও জলঙ্গিতেও এগিয়ে যায় তৃণমূল।
অন্যদিকে ২০১৬-য় বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৯ এবং কংগ্রেস ও সিপিএম ১টি করে আসন জিতেছিল। ৩ বছর পরের লোকসভা ভোটের হিসেবে তৃণমূল ৬ এবং বিজেপি ৫টি কেন্দ্রে এগিয়ে যায়। তবে তবে ২০১৯-এ তৃণমূল ২০১৬-য় সিপিএমের জেতা নানুর এবং কংগ্রেসের হাসনে এগিয়ে যায়। কিন্তু তৃণমূলের সিউড়ি, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাটে এগোয় বিজেপি।
শেষ দফায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার যে ৭টি বিধানসভা আসনে ভোট ২০১৬ তে তার সব ক’টি দখল করে তৃণমূল। ২০১৯-এও লোকসভার বিধানসভাভিত্তিক হিসাব অনুসারে চৌরঙ্গি, এন্টালি, বেলেঘাটা, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল, তবে জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুরে এগিয়ে যায় বিজেপি।
শেষ দফায় ভাগ্য নির্ধারন হবে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও নজরকাড়া প্রার্থীর। চৌরঙ্গী কেন্দ্রে লড়বেন তৃণমূল প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির দেবব্রত মাঝি ও কংগ্রেসের সন্তোষ পাঠক। এন্টালি কেন্দ্রে স্বর্ণকমল সাহা, বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল ও বাম-কংগ্রেস-ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের মহম্মদ ইকবাল আলম। তেমনই বেলেঘাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের পরেশ পাল, বিজেপির কাশীনাথ বিশ্বাস ও সিপিআইএমের রাজীব বিশ্বাস। অন্যদিকে মনিকতলা কেন্দ্রে ভাগ্য পরীক্ষায় তৃণমূলের সাধন পাণ্ডে, বিজেপির হয়ে প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবে ও বাম-কংগ্রেস- আইএসএফ-এর তরফে রূপা বাগচি।
বোলপুরে রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা, বিজেপির অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামফ্রন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছে আরএসপি-র পরপর চারবারের বিধায়ক তপন হোড়। নানুরে ফের লড়াইয়ে সিপিএমের শ্যামলী প্রধান, তৃণমূলের প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝি ও বিজেপির হয়ে তারকেশ্বর সাহা। ময়ূরেশ্বরে লড়াই বিজেপির শ্যামাপদ মণ্ডলের সঙ্গে তৃণমূলের অভিজিৎ রায়ের। ডোমকল কেন্দ্রে এবারও সিপিএমের তরফে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন আনিসুর রহমান।
যদি ধরেও নি বিজেপি এগিয়ে ছিল; কিন্তু এখন অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে মহান মোদি আর শাহর সৌজন্যে।
ভাল লেখা।
আপনার বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত, তবে পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে যেখানে কোনও যুক্তি টিকছে না।