| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

শৈলেন সরকার-এর ছোটগল্প ‘এক্কা-দোক্কা’

Reporter
শৈলেন সরকার / ৫৪০ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

এক সময় ট্রেন চলত। মালগাড়ি। হাতির মতো। ঠিক লাল নয়, উনুনের ছাইয়ের মতো মাজা, মহল্লার ঠিক মাঝখান দিয়ে, ঘট-ঘটাং, ক্যাঁচ-ক্যাঁ-আ-চ শব্দ তুলে নাকি বড় রাস্তার দিক থেকে এসে জনসন গেটের দিকে চলে যেত।

এসব অবশ্য কালাম দাদার মুখ থেকে শোনা। পুনু নিজের চোখে দেখেনি। লাইনগুলির কথা অবশ্য মনে আছে। বড় রাস্তার ওপার থেকে আসা। রাস্তা পার হয়ে দু’দিকের সার-দেওয়া ঘরগুলির মাঝখান দিয়ে ডান দিকে জনসন মিলের তিন নম্বর গেট হয়ে ভিতরে কোথাও ঢুকে গিয়েছিল। তিন নম্বর গেট অবশ্য কোনও দিন খুলতে দেখেনি পুনু। লাইনগুলি এখন নেই। তুলে নিয়ে গেল গতবার পুজোর ঠিক আগেই। সাত-আটদিন ধরে সে কী হইচই কী মজার মজার সব কথা। হেঁইয়ো মারো, জোর সওয়ারো, আগুন ছাড়ো। কালাম দাদা বলত, এসব কথার কথা কোনও অর্থ নেই। এমনি।

মাঝে মধ্যেই হাওয়া ছাড়ছে। কথা নেই বার্তা নেই— হঠাৎ। হু হু করা শব্দের মতো। দু’-এক জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে কালো মাটির গুঁড়ো, কাগজের টুকরো আর শালপাতার ঠোঙাগুলিকে এক এক জায়গায় জড়ো করে যেন লাটাইয়ের গোড়া থেকেই সুতো ছেড়ে দিচ্ছে। ভিড়ের গায়ে গায়ে গণেশদার পরোটার দোকানের চালায় নীচে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে পুনু।

লোকটা চেয়ারের উপর বসে। বারান্দায় নয় অবশ্য। ছায়ায়। যেখানে পুনু দাগ কাটে, এক্কা-দোক্কা খেলে— সেই কদম গাছটার নীচে। লোকটা নিজেই বলল, এখানে, এখানে। ডান দিকের দেওয়ালের ওপারে বাগানের ভিতর সার দেওয়া লম্বা গাছগুলির মাথায় তখন কেউ নেই। কেউ অর্থে— সেই লাল চোখের, লম্বা গলাওয়ালা পাখিগুলি। কালো। কত উঁচু থেকে তাকিয়ে থাকে ওরা! দেখে। আকাশে পাক খেতে খেতেও ঠিক দেখতে পায়। পুনু একবার ফ্রকটা সরিয়ে মাথা নিচু করে থুথু ছেটায় বুকে। ডান হাতের তালু দিয়ে ভাল করে ঘষে দেয়। ভিড়ের মধ্যে থেকে কে যেন ধমকে উঠল, হঠ যাও। মাটি এখনও নরম। ভিড়টা এখনও কদমফুলের গাছটাকে বেড় দিয়ে। বাঁ দিকের ফ্যাক্টরিদেওয়ালের ওপারে নিশ্চয়ই শব্দ হচ্ছে এখনও। হয়তো এই ভিড়ের জন্য, এই এলোমেলো বলতে থাকা কথাগুলির জন্য কানে আসছে না পুনুর।

পুনু আর একবার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একবার যেন আসলাম চাচার গলার আওয়াজ শুনল। বাঁ দিকে তাকাল। ওদিকে ভিড়টা অনেক হালকা। এখান থেকে বড় রাস্তার মোড়টা সে অনেক সহজেই দেখতে পাচ্ছে। এখন যদি হাতি আসে একটা! সেই গোদা গোদা পায়ে, যদি শুড় তুলে তাকায়। কান নাড়িয়ে ওই চেয়ারে বসা লোকটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়! মা থাকলে পুনু এক দৌড়ে চলে যেত। অন্তত পাউডারের কৌটোর নীচে একটা এক টাকা হলেও পেয়ে যেত সে। ঝর্ণা মাসিরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। পুনুদের ঘরের দরজার সামনে এখন কেউ নেই। ফাঁকা। দরজাটা বন্ধ করা। একটা পাখি ডেকে উঠল না হঠাৎ? ছোট, হ্যাঁ ছোটই। এই গাছেরই কোথাও। চারপাশ থেকে এলোমেলো উঠতে থাকা শব্দগুলিও যেন হঠাৎ থেমে গেল। যেন পুনুর মতো সবাই একবার মাথা তুলে ডালপালাগুলি দেখে নিল। পুনুর ইচ্ছে হচ্ছিল, পাখিটাকে দেখবে। নির্ঘাত পাতার আড়ালে লুকিয়ে। কে যেন ধাক্কা মারল! পিঠে। হাত দিয়েই। হঠো, হঠো হিয়াসে। হুড়মুড় করা এক ডাকাডাকি। পুনু ছিটকে পড়ল। মাটিতেই। কে যেন চেঁচিয়ে উঠল। ‘কৌন, কৌন বোলা?’ পিছন থেকে কেউ তুলে ধরল ওকে। উঠে দাঁড়িয়ে পরনের ফ্রকটাকে ডান হাত দিয়ে ঝাড়ল পুনু। একবার, দু’বার, তিনবার। আবার। কালো মাটির গুঁড়ো উড়ছে। হাওয়া। ফের চোখ বন্ধ করল পুনু। ফিরবে বলে পিছনে তাকিয়ে দূরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা মিলুয়াকে চোখে পড়ে। ঝর্ণা মাসিদের বারান্দায়। একবার ভাবল, ডাকবে। ঝুপ করে শব্দ হল একটা। উপরেই। চোখ বন্ধ করল পুনু। কান খাড়া করে আর একটা শব্দ শোনার আশায় দাঁড়িয়ে রইল। চারপাশের কথা বলতে থাকা লোকগুলি হঠাৎ গুটিয়ে গেল যেন। সব কটা চোখ যেন কিছু একটা দেখে অবাক। পুনু চোখ খুলল। নারকেল গাছের মতো লম্বা দেখতে দেওয়ালের ওপাশের গাছগুলির মাথা থেকে দুলতে থাকা পাতাগুলি প্রায় হলুদ। সাদা শরীরের গায়ে হলুদ হয়ে আসা পাতাগুলি লেপটে আছে। শকুনগুলি ফেরেনি। এখনও হয়তো অন্য কোথায়ও। হয়তো ফ্যাক্টরিদেওয়ালের ওপাশে। বেশ ভারী কিছু একটা মাটিতে পড়ল বলে মনে হল না? হয়তো অনেক উপর থেকেই।

—পুনুয়া—পুনুয়া রে!

কে যেন ডেকে উঠল। ভিড়ের মধ্যে থেকেই। দেখাদেখি পাখিটাও যেন ফের ডাকল। ডেকে উঠল। আবার। পুনু ঠিক কোথায় যে তাকাবে বুঝে উঠতে পারে না। যেন ছোট একটা লাফ। একটা পাতা। কিংবা একটা ডাল। ডাকটা মুহূর্তের জন্য ডুবে গিয়ে ফের জেগে উঠবে। একটু দূরে। অন্য কোথাও। এবার পিছন ফিরল পুনু। ঘরের সামনে নামিয়ে রাখা শরীরটার সামনে এখন আর কেউ নেই। ফাঁকা। পুনু ভিড়ের বাইরে চলে যেতে চাইল।

মেয়েরা ঝর্ণার ঘরের সামনে বারান্দায় ভিড় করে দাঁড়িয়ে। এখান থেকে কদমগাছের তলায় বসে থাকা পুলিশ অফিসারের কথাগুলি ওরা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। কদম গাছের তলায় তৈরি হওয়া ছায়া এখনও ঘণ্টাখানেক থাকবে। এদিকটা একটু ফাঁকা। বড় রাস্তা থেকে সোজা এলে কদম গাছটা পার হয়ে, প্রথম ঝর্ণার ঘর দিয়ে লাইনের শুরু। গাছের তলাটাও বেশ পরিষ্কার। ছিমছাম। অনেকটা ফাঁকা। বাচ্চাদের এক্কা-দোক্কা খেলার দাগ কাটা। এখানে ওখানে কিছু হলুদ হয়ে ঝরে যাওয়া পাতা। আসলাম-মুন্নারাই জায়গাটা পরিষ্কার করে চেয়ারগুলি পেতে দিয়ে থাকবে।

উঠোনের উপর শুইয়ে রাখা শরীরটা এখন মেয়েদের ভিড়ের আড়ালে। এই গাছতলা থেকে শুধু ভিড়টাই চোখে পড়ে।

—একজন কেউ থাকলে হত না?

ঝর্ণা পড়ে থাকা শরীরটার পাশে কারও বসে থাকার কথা ভেবেছিল।

পুলিশের জিপটা এখন আর শব্দ করছে না। একটু আগে একবার পিছন আর একবার বাঁ দিক করে ঘুরতে গিয়ে এমন আওয়াজ করছিল যে, অনেকেই গাছতলায় বসে থাকা অফিসারের কথা ভুলে পিছন দিকে তাকিয়েছিল। লাইন হিসেবে এলাকাটা খুব একটা বড় নয়। এক দিকে বড় রাস্তা আর এক দিকে জনসন মিল গেট। ডান দিক-বাঁ দিকে ড্রেন। ড্রেনের গা বেয়ে পাঁচিল। একদিকে একটা রবার ফ্যাক্টরি আর এক দিকে পুরনো একটা বাগান, কোনও কালে কোনও সিকদারের জমি ছিল— লাইনের লোকজন সিকদারগাবান নামেই চেনে। রেললাইন ছিল একটা। মেন লাইনের সঙ্গে যোগ ছিল এক সময়। এলাকার জুটমিলগুলি থেকে মাল বেরোত। ওয়াগনগুলি হেলতে দুলতে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ তুলে দু-পাশের সার দেওয়া ঘরগুলিকে চমকে দিয়ে বড় রাস্তার দিকে চলে যেত। সেসব অনেককাল আগেকার কথা। জুটমিলগুলির সে অবস্থাও আর নেই, ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে ওয়াগন টানা বন্ধ হয়ে গেছে অনেকদিন। লাইনগুলিও তুলে নেওয়া হল গত বছর পুজোর ঠিক আগেই। দু-এক জায়গায় একটা দুটো লোহার খুঁটি মাটি ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আছে, এছাড়া সেসবের আর কোনও চিহ্ন নেই।

রবার ফ্যাক্টরিতে ঠিক কী যে তৈরি হয় তা এখান থেকে বোঝা মুশকিল। পাঁচিলটা বেশ উঁচু। উপরে তারজাল— কাঁটাওয়ালা। এখান থেকে এই নীচে দাঁড়িয়েও বোঝা যায়, ওপাশে দেওয়াল ছাড়িয়ে বেশ কিছু জায়গা ছেড়ে তবেই ফ্যাক্টরি শেডের শুরু। মাঝেমধ্যে মানুষের গলার আওয়াজ যে আসে তা নয়। আচমকা। হয়তো বেশ রাতেই হইচই করা চিৎকার, কখনও বা অনেক উপর থেকে হঠাৎ করে ভারী কোনও কিছু নীচের দিকে ফেলে দেওয়ার মত করে ধুপ করা কোনও শব্দ। আনকোরা খদ্দেররা চমকে ওঠে, কোনও গণ্ডগোল কি না জানতে চায়।

রেললাইন তুলে ফেলে কালো মাটি ফেলাটা ওদের কারওরই ভাল লাগেনি। কমিশনার সাবকে বলেছে মাসি। এমনিতেই বাজার খারাপ, তার উপর হাওয়া উঠলেই মাটির গুঁড়ো উড়বে।

আনসার সাহেবের এক কথা, একটা বর্ষা কষ্ট কর। পানি পেলেই—। ওরা সুতরাং সামনের বর্ষার জন্য অপেক্ষা করছে।

চেয়ার দুটোর সামনে একটা টেবিল। টেবিলের উপর সাদা একটা কাপড়— কার ঘরের কে জানে? কাপড়ের গায়ে আবার লতাপাতার নকশা, বিশেষ করে টেবিলের যে দিকটায় পুলিশ অফিসার বসে, সেদিকে সাদা , জমির গায়ে সরু গোলাপি সুতো দিয়ে ভরাট করে তৈরি করা একটা ফুল। কোল্ড ড্রিংকসের বোতল দুটো এই গোলাপি রঙের ফুলের গায়ে গায়েই বসানো। মাঝে মাঝেই হাওয়া উঠছে। শীত শেষ না হলে পুনুদের ঘরের পাখাটা কি ঝুলত? সেই ভারী আর গম্ভীর শব্দের। মাটি উড়ছে ফের। ভিড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ কেউ মাথা নিচু করে। পিছনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ঝর্ণা মাসিরা নাকে কাপড় দিয়েছে ঠিক— পুনু না দেখেও বলতে পারে। মাসখানেক আগে আসা এই অফিসারটিকে আনসার সাহেব এখনও বুঝে উঠতে পারেননি। শুধু বললেন, সুইসাইডই, ওর মেয়েই প্রথম— ।

অফিসার ভদ্রলোক মাথা নাড়লেন। দু-এক মুহূর্ত ভিড়ের দিকে তাকিয়ে থেকে, আনসার সাহেবের কানের কাছে মুখ এনে বললেন, আর য়ু সিওর? মেরে-টেরে লটকে রাখেনি তো? এসব লাইনে— ।

দাগগুলি এখনও স্পষ্ট। বেশ বোঝা যায়। এক্কা, দোক্কা, তেক্কা, চৌকা। বাকি দুটো ঘর একটু আন্দাজ করে নিতে হয়। এত হাওয়া— মাটির গুঁড়ো। গাছের নীচে পাতাগুলি ছড়ানো। হলুদ। এক এক দিন খেলতে খেলতেই টের পায় পুনু। পাতা খসে পড়তে থাকে। পিঠে— ফ্রকের গায়ে, যেখানে বোতাম নেই— ধাক্কা খায়। একটা, ফের আর একটা, আহ। খেলা থেমে যায়। ছুড়ে দেওয়া গুটি যেন আটকায় কোথাও। আউট-আউট, পুনু আউট। পুলিশের গায়েও নিশ্চয়ই পাতা পড়ছে একটা দুটো। টুপটাপ। অথবা হুস করে বয়ে যাওয়া হাওয়া কোত্থেকে যে আসে এমন, হঠাৎ করে!

—তেরা মাঈ ক্যা— মর গয়া?

সকাল থেকে পুনু অবশ্য এই কথাটাই শুনে আসছে। মর গয়া। মিলুয়াকে যে কী উত্তর দেবে, পুনু বুঝে উঠতে পারে না। ঘাড় নাড়ে।

কদমগাছের নীচে জমে থাকা ভিড়টা এখন অনেক চুপ। শুধু দু-একটা টুকরো কথা। শব্দ। কে একজন বলে উঠল, পানি, পানি। আসলাম চাচাকে দেখল পুনু। জনসন মিলের গেটের দিকে হাত তুলে কী যেন বলছে। কল্যাণজিকো দুকান সে দোঠো, না না চারঠো— ।

পুনু এখন একটু আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে। আসলাম চাচার হাত বরাবর। বারান্দায় জমে থাকা ভিড়। ভিড় ছাড়িয়ে পিছনে, কালো মাটির উপর শরীরটা সবুজ চাদর দিয়ে ঢাকা। রোদ পড়ছে। প্রায় খাড়াভাবেই। অন্য সময় হলে ড্রেনের পিছনে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেওয়ালগুলির যে কোনও একটায় এই রোদ আটকে যেত। চোখটা বোজা। চুলগুলি নড়ছে। যেন খড়খড় শব্দ শুনতে পাচ্ছে পুনু। সবুজ চাদরটার উপর শোওয়ানো। পুনু ফের চোখ সরিয়ে নিল। ভিড়ের দিকে তাকাতেই মনে হল, দু-একজন যেন ওর দিকেই তাকিয়ে। কে যেন ডাকল, পুনুয়া—। ভিড়টা হঠাৎ মাঝখান দিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। দু-টুকরো হচ্ছে যেন। কে যেন ডাকল না ওর নাম ধরে। মাসি?

—পুনুয়া, ইধার আও, কঁহা তুম?

পাখিটা ফের ডেকে উঠল যেন? হঠাৎ। তার মানে, আছে এখনও! পুনুর সামনে এখন একটা হাঁ-করা জটলা। ভিড়। কদমগাছ, ডাল-পাতা। চেয়ারে বসে থাকা লোক দুটি ফিসফিস করে কিছু বলছে। নিজেদের মধ্যেই। পুনুর হঠাৎ মনে হল, চারপাশের শব্দগুলি কেমন মিলিয়ে যাচ্ছে। শুষে নিচ্ছে কেউ। যেন কোনও হাওয়া। উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চেয়ার ছাড়িয়ে, পিছনের দেওয়াল ছাড়িয়ে, দেওয়ালের ওপাশে মুন্নাভাইয়ের কাছ থেকে শোনা বাগানের সেই ভাঙা বাড়ির কোনও ঘরে জমা হচ্ছে। দেওয়াল-সিঁড়ি-ভাঙা আয়না। কোনও না কোনও ডালে বসে পাখিটা ঠিক দেখছে। হয়তো এক্ষুনি ডেকে উঠবে, কি-ই-ই-চ্‌। সিগারেট জ্বলছিল একটা। ধোঁয়া। পাশে বসে থাকা কমিশর সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিল লোকটা। কে যেন ভিড়ের থেকে ডেকে উঠল, কমিশর সাব, কমিশর সাব— । লোকটা একবার তাকিয়ে দেখল যেন। পুনুকেই। পায়ে কী বড় কালো জুতো। বেল্ট। কোমরে কালো মতো কী একটা আটকে রাখা। ভিড়ের মধ্যে কেউ কিছু বলল ফের। কারা যেন হেসে উঠল। লোকটা আবার তাকাল। এবার ভিড়ের দিকেই, ঠিক এ সময় কালুয়ার গলা পেল পুনু। নির্ঘাত ওড়িয়া লাইনের কুকুরটাকে দেখতে পেয়েছে। ওই হলুদ-সাদাটাই। হাতে কিছু দেখলেই লোভীর মতো দাঁড়িয়ে পড়বে, রোগা। কালুয়ার সঙ্গে পারবেই না। হয়তো ভিড় দেখে সাহস পেয়েছে। নাকি চৌরাশিয়ার সঙ্গে ঢুকে পড়ল। কালুয়া ছুহ্‌—, মনে মনেই বলে উঠল পুনু। বলতে না বলতেই চিৎকারটা ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল। চেয়ারে বসে থাকা দুটো লোকই এখন বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে। উঠে দাঁড়াবে যেন। মার শালাকো, মার। একটা ভারী কিছু ছুড়ে মারার শব্দ। কে যেন পড়ে গেল। কারা যেন হেসে উঠল ফের। লেগেছে কালুয়ার। কাতরাচ্ছে। হলুদ-সাদাটার গলা নেই তো! ঠিক পালিয়েছে। পুনু জানে এটা। মাঝখান থেকে কালুয়াটা কাঁদছে। ফের শব্দ হল একটা। ইটের টুকরোই হবে। কুঁই-ই করা কান্নাটা মিলিয়ে যাচ্ছে। ভিড়টা ফের জমছে। যে যার জায়গায় ঠিকঠাক চলে আসছে যেন। একটা পাতা— ধুত্‌! চুলের উপর। হ্যাঁ, আটকে আছে, আটকে আছে না? পুনু হাত তুলতে পারছে না। মাথাটা নাড়াতেও পারছে না। ফ্রকটা ফের নেমে গেল—ইস। আর একটা পাতা, টপ করে শব্দ হল এবার— হলুদ। বড় চেয়ারটার পাশেই। ভিড়ের সামনের দিক থেকে একটা গালি দিল কেউ। নির্ঘাত কালুয়াকে। পুনু সব জানে। হটো ভাগো। লাঠি হাতে আর একটা লোক কীরকম রেগে উঠল হঠাৎ। ভিড়টাকে পিছনে যেতে বলল। সরলোও একটু। সবাই। এমনকী মাসিও। ডান দিকে বারান্দায় এখন একটা খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে।

—ক্যা নাম হ্যায় তুমহারা? লোকটা এবার পুনুর দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে গলার স্বরটা নামিয়ে আনে। ইঙ্গিত করে সামনে আসতে বলে।

—ও তো বাঙ্গালা সমঝোগে, ও তো—

—তাই?

লোকটা ভারী অবাক হয় যেন।

—বাঙালি?

এখান থেকে পিছনের বারান্দাগুলি চোখে পড়ার কথা নয়। মিলুয়া, বুচুয়ারা কোথায় কে জানে। লম্বায় আর একটু বড় হলেই ভিড় ছাড়িয়ে বারান্দার পাশে উঠোনে শুইয়ে রাখা শরীরটা দেখতে পেত পুনু।

—নাম কী তোমার?

পাশের লোকটি নিজের চেয়ার এগিয়ে আনে। মুখটা পুনুর সামনে নিয়ে আসে। যেন আরও ভালো করে দেখে নেবে ওকে।।

—বুঝতে পারছ আমার কথা? ক্যা নাম হ্যায় তুমহারা?

এক একদিন সিকদারবাগানের পুকুর থেকে জল ঝাপটে ওঠার শব্দ আসে। যেন বেশ বড়সড় কোনও মাছ। যেন এক ঝটকায় জল ছেড়ে লাফিয়ে উঠবে। মাকে না ডেকে অন্ধকারে শব্দটাকে ফের শোনার চেষ্টা করেছে পুনু। অনেকদিন। অনেকবার।

—বলো, নামটা বলো?

—পুনু!

—না না, ওকে বলতে দিন, আপনি কেন?

ওর ঘাড়ের উপর দিয়ে সেই লোকটার হাত। চওড়া। কালো। শক্ত। নাম বললে কি ছেড়ে দেবে? মার উপর এত রাগ ধরছে— ।

—ও আচ্ছা।

লোকটির যেন সব বোঝা হয়ে যায়। মাথাটাকে পিছিয়ে নিয়ে, পাশের লোকটার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফের ফিসফিস করে। কিছু বলে। একটু হেসে উঠে যেন।

পুনু মাথা নিচু করে। পায়ের হালকা আর নরম বুড়ো আঙুলের ডগা দিয়ে মাটি খোঁচায়। সে এখন চৌকার ঘরের ভিতর। এক্কা, দোক্কা, তেক্কা— হ্যাঁ চৌকায়। পুনুর নিজের হাতে দেওয়া। একটা মড়মড় করা শব্দ। ডাল ভাঙছে, ভেঙে পড়ছে। পুনু অপেক্ষা করে। না। আর কোনও শব্দ নেই। তবে শকুন— শকুনগুলি এসে বসল। মাথার উপর একটু আড়াআড়ি প্রায় হলুদ হয়ে যাওয়া লম্বা পাতাগুলি টাল খেল যেন।

—কী হল বল? কী দেখলে ?

—বলো, বলো?

—বোলিয়ে, ক্যা দেখা তুমনে?

পিছনে মিলুয়া, ছামিয়ারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। সঙ্গে ঝর্ণা মাসি, রূপা মাসি। পিছনে আসলাম চাচা, কালাম দাদা, আরও পিছনে বারান্দায় ঘেঁষে উঠোনে রেখে দেওয়া একটা শরীর। সাদা চাদর। চাদরের সবুজ পাড়।

—কী হল কাঁদছ কেন? বলো, ভয়ের কিছু নেই বলো!

—বোলিয়ে, ঘাবড়াও মাত।

—খেয়েছে কিছু? খিদে পেয়েছে?

কে যেন বলল, লে আয়গা কুছ?

ডান দিকে কাঁধ বেয়ে জামাটা ফের নেমে গেল। পুনুর ইচ্ছে করছে না। একদম ইচ্ছে করছে না ঝাঁকুনি দিয়ে জামাটাকে কাঁধের উপর ঠিক করতে। ফুলটা কুঁচকে গেছে। লাল। সাদা কাপড়ের উপর সরু সুতোর তৈরি। পাঁচটা পাপড়ি। আরে, একটা সুতো ছিঁড়ল কী করে। পুনু লক্ষ করে বুকের বাঁ দিকের একটা পাপড়ি ছেঁড়া। সুতোটা কাপড় ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে, পুনু ওর ডান হাতের নরম আর রোগা আঙুলগুলিকে বুকের কাছে আনে। আলাদা হয়ে উঠে আসা সুতোটাকে ধরে কাপড়ের গায়ে রেখে চাপ দেয়। নাহ। ফের উঠে আসছে। পুনু ফের বুড়ো আঙুল দিয়ে সুতোটাকে চাপে— বুকের কাছাকাছি একটা জায়গায় বুড়ো আঙুলের এই চাপ পুনু অনুভব করে।

—কী হল, কী হয়েছে দেখি।

পুনু চমকে ওঠে। চওড়া আর ভারী রোমশ একটা হাত তার কাঁধে। মোটা আঙুলগুলি তার ছোট কাঁধটাকে যেন খামচে ধরে। পুনু আঁতকে উঠে।

পুনুর এখন ভোরের কথা, সেই অল্প আলোর কথা, সাইকেলের ঘন্টির কথা মনে পড়ে। চোখ বুঁজে শুয়ে যখন সে উঠবে কি না ভাবছে, ঠিক তখনই বাঁশের বেড়া কেটে ফুটো করা জানালার বাইরে হঠাৎ করেই একটা কাকের ডেকে ওঠা তার মনে পড়ে। একা। একাই। বাইরে বারান্দার নীচে লেজে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকা কালুয়ার নড়াচড়ার শব্দ হলে, পুনু জানে, এক্ষুনি ডেকে উঠবে। এক্ষুনি। ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েগুলি আসছে। জনসন মিলের দিক থেকে আধা অন্ধকার ওদের বস্তা-হাতে শরীরগুলি এখন এই দু’-সারি ঘরের মাঝখান দিয়ে তৈরি হওয়া কালো মাটির রাস্তা দিয়ে বড় রাস্তার দিকে যাবে। বিছানায় শুয়েও ওদের নিজেদের মধ্যে বলতে থাকা কথা পুনুর কানে আসবে। কালাম দাদা সাবধান করেছে অনেক, ওরা নাকি চোর। বলেছে, খবরদার, উসকো সাথ মাত খেলো। ওরা কি সত্যিই চোর? কালুয়া দু-একবার ডেকেই চুপ করে। পুনু ওদের পিছন পিছন নামবে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই ভোর-ভোর অন্ধকারে ওদের চলে যেতে দেখবে। দূরে বড় রাস্তার মোড়ে তখনও জ্বলতে থাকা হলুদ আলোর নীচে ওদের শরীরগুলি এক এক করে চোখের বাইরে যাবে। ওরা নাকি ট্রেন ধরে। কোথায় কোথায় যায়। কী যে সব বলে! মুন্না বলছিল, উও তো ভাইজাককো তেলেঙ্গি, সমঝগে নেহি। এরপর পুনু মিলুয়াদের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াবে। কালুয়া মুখ তুলে দেখবে একবার। এদিক-ওদিক পেতে রাখা খাটিয়ায় মুন্না, কালাম দাদা আরও কারা কারা সব শুয়ে। তখনও কী ঘুম! এ সময় বাঁ দিকের বাগানের কী কী সব পাখি ডাকতে শুরু করে। একটা পাখি তো একটানা ডেকেই চলে, ডেকেই চলে। মিলুয়াদের বারান্দায় একটা দুটো টোকা দিলেই পুনু মিলুয়ার গলা শুনতে পাবে। ঠিক জানতে চাইবে। ভোর হো গয়া? পুনু উত্তর করবে না। এক লাফে বারান্দা থেকে নেমেই ছুটতে শুরু করবে। একেবারে বড় রাস্তার মুখে গিয়ে সেই হলুদ আলোর নীচে গিয়ে দাঁড়াবে, কালুয়াটা ঠিক যাবে। পুনুর পাশে দাঁড়িয়ে কী যে ও দেখে কে জানে? দূর থেকে ক্রমে বড় হয়ে জেগে উঠতে থাকা লরিগুলিকে দেখতে ভারী ভাল লাগে পুনুর। ফাঁকা রাস্তায় কেমন একটা ঝিম ধরানো শব্দ। চাকা চলে যায়। যেন রাতভর বৃষ্টি হয়েছে খুব। কাচের আড়ালে একটা দুটো মুখ। এসময় পুনু অনেক দূর চলে যেতে পারে। সেই পেট্রল পাম্প অবধি। সিগারেটের প্যাকেট, বাসের টিকিট এই এত এত পায় পুনু। পুনু, মিলুয়া, রাজু। সিনেমা হলের সামনে জমে থাকা ময়লার স্তুপে সেদিন একটা দারুণ জিনিস পেয়ে গেল মিলুয়া। চুলের কাঁটা। কী নকশাদার আর ঢেউ খেলানো! মিলুয়ার মা নিয়ে নিল। আজ কেন দাঁড়িয়ে গেল পুনু? কেন তাকাল? ঝুলিয়ে রাখা চটের বস্তার ফাঁক দিয়ে কেন উঁকি মারল পুনু? মা লাইনে দাঁড়ায়নি অনেকদিন। কতদিন সাজেনি, আয়নাটা সেই তাকের উপর কতদিন রয়ে গেছে। লিপস্টিক। চুলের ফিতে। মাথায় দেওয়ার গন্ধ তেল— কবে শেষ করে ফেলেছে পুনু। মা মনেই রাখেনি। নীচের তাকে শুধু ওষুধ। ছবি আঁকা প্যাকেট। শিশি। ঘরটা এখন ফাঁকা। দরজায় টাঙিয়ে রাখা চটের বস্তা সরিয়ে ঢুকলেই এখন শুধু সিমেন্টের বেদি। অনেকটা ওড়িয়া লাইনের বটগাছতলার মতো। পুনুদের ঘরটা গোল নয় অবশ্য। চৌকো। ওড়িয়া লাইনের গাছতলার বেদিতে কত কালো সাদা পাথর। পুনুদের ঘরের বেদিটা হাঁটুসমান উঁচু। গোর দেওয়ার বাক্সের মতো। আসলাম চাচার বাবাকে গোর দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে দেখেছে পুনু। বাক্সের মতোই। চাদর পেতে দিলে ভাববে, বুঝি শোওয়ার জায়গাই। এটা অবশ্য শোওয়ার জন্যই। ঘরের ভিতর এখন শুধু সেই চারকোনা বেদি। হাঁটু সমান উঁচু বাঁধানো। সিমেন্টের। ফাঁকা। দেওয়ালে শুধু একটা কালীঠাকুর। হাঁ করা। লাল টকটকে জিবওয়ালা। চিরুনিটা— চিরুনিটা আছে? কাল রাতেও দেখেছে পুনু। চিরুনির দাঁতের ফাঁকে আটকানো পাক খাওয়ানো চুল।

আজ ভোরবেলা বিছানায় মাকে না দেখে অবাক হয়নি পুনু। সে শুধু একবার সুযোগ পেয়ে নীচের তাকটা দেখতে চেয়েছিল, যেখানে পাউডার কৌটার নীচে ভুল করে রেখে দেওয়া পয়সা। ফেরার সময় কল্যাণজির দোকান থেকে জিলিপি কিনে খাবে বলে ভেবেছিল পুনু।

পুনু সেই বেদির উপর উঠে দাঁড়িয়েছিল। সেই নিঃশব্দতায়, বন্ধ করে রাখা জানালার ফাঁক গলে আসা আলোয় মাকে দেখে পুনু অবাক। সে মায়ের শরীর ছুঁয়েছিল। পা, পায়ের গোড়ালি, পরনের কাপড়— এমনকী বাসি কাপড়ের ঘ্রাণও নিয়েছে পুনু। জানালাটা অল্প টেনে ছেড়ে দিতেই তার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা মায়ের মুখ চোখে পড়েছিল পুনুর।

—ভয় করছে? ভয় লাগছে তোমার?

—ডর লাগা? ডরতা কিউ পুনুয়া— দেখ, দেখ তুনে, আসলাম চাচা, মসি, অফসার সাব দেখ!

পুলিশের পাশে বসে থাকা লোকটি হতাশ হয়ে উঠে দাঁড়ায়। অফিসারটি টেবিলের উপর রাখা সিগারেটের প্যাকেট তুলে পকেটে হাত ঢোকায়। পুনু এখন কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। কান্না পাচ্ছে খুব। খুব।

অফিসারটি পাশের লোকটিকে বলল, বাচ্চা হলে কী হবে, এরা একেবারে ওয়েল ট্রেইন্ড, বুঝলেন?

একটা গুমগুম করা ধ্বনি। হইচই করে উঠল কারা যেন! একটা নাম ধরে ডাকল কেউ। অনেক উপর থেকে হঠাৎ করে কেউ কিছু ছেড়ে দিল। সেই ফ্যাক্টরির ছাদ থেকেই যেন। শব্দ হল— মাটিটা কেঁপে উঠল খুব।।

পুনু দেখল মিলুয়া। ডাকছে। জানালার ফুটো দিয়ে। ওর মুখ, ওর জামা, চুল। পুনু যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। এটা কি সকাল, নাকি রাত্রি ? ধড়মড় করে উঠে বসে সে।

—ক্যা রে মিলুয়া?

—বাহার নেহি আয়োগে?

—কিউ?

—বুচুয়া, রাজু সবকো তো আ গয়ি।

পুনু দেখল, আলো জ্বলে উঠেছে। বাইরে এখনও রাতটা পুরোপুরি নামেনি। এখান থেকে বাগানের পাঁচিল, পাঁচিলের ওপারে গাছগুলি— সব আলাদা করে এখনও চোখে পড়ে। লাইন চালু হয়ে গেছে। রূপা মাসি, ঝর্ণা মাসিরা দাঁড়িয়ে। বুলু মাসি কী চমকদার জামা নিয়েছে আজ। ঠিক ভাল বাবু পাবে। মোড়ের মুখে একজন দু’জন লোক। ঝাল-ছোলা। সুনুদাদা ফুলের ঝুড়ি নিয়ে বসে। মিশিরজির দোকানে নির্ঘাত উনুন জ্বলছে। উঠে দাঁড়াতে গিয়েই চমকে উঠল পুনু। একটা পাখি ডেকে উঠল না? সেই পাখিটাই তো? সারাটা দুপুর ডাকছিল। কদম গাছেই। উল্টোদিকের বারান্দায় চোখ পড়তেই পুনু দেখল, ওদের ঘরটা বন্ধ। চটের বস্তা নামিয়ে রাখা, বারান্দায় একটা আলো। হ্যারিকেনটা জ্বলছে। আগুনটা কাঁপছে হাওয়ায়। শিস উঠছে। মিলুয়া ফের ডাকল। আয়েগা নেই?

—চলিয়ে।

পুনু লাফ দিয়ে বারান্দা থেকে নামল। পুনু ছুটতে শুরু করল। মিলুয়াও। দাগগুলি কি ঠিকঠাক আছে? মুছে যায়নি? চৌকার দাগটা পর্যন্ত আছে। পুনু নিশ্চিত। দুপুরেও দেখেছে।

—পুনুয়া।

মিশিরজি!

—পুনুয়া রে!

মিলুয়াকে এগোতে বলে পুনু ডান দিকে ঘোরে। হয়তো যেতে বলবে কোথাও। এখনই। হয়তো বলবে, রমাজিকো ঘরমে—

কাচের বাক্সের সামনে একটা লোক দাঁড়িয়ে। কোনও বাবু।

—ঝর্ণাকো ঘরমে পরোটা আউর—।

—তুমহারা নাম পুনুয়া?

—জি—

—তুমহারা মাঈ—

লোকটা মিশিরজিকে বলল কিছু। মিশিরজি ঘাড় নাড়ল। লোকটার কথা শুনে যেন থেমে গেল হঠাৎ। বলল, ক্যা কর রহা তুম ?

পুনু বলল।

—তব যাও!

পিছনে গান বাজছে। খাটিয়ার উপর কেউ বসে। কালাম দাদাই। আসলাম চাচা, মাসি— এরা কোথায় কে জানে?

ফের ডেকে উঠল পাখিটা। কিচকিচ্‌-কি করে কিছু একটা বলল। রাজুর দান হয়ে যাওয়ার পর মিলুয়া শুরু করল। এক্কা হয়ে গেল, দোক্কা, তেক্কা। এরপর পুনু জানত চৌকায় গিয়েই আটকে যাবে মিলুয়া। ও গুটি ঘষতে জানেই না। এক দিকে সরু আবার অন্য দিকে মোটা। চৌকার ডান দিকের ঘরে একবার ধাক্কা খেয়েই ভাঙা টালির টুকরো দিয়ে তৈরি গুটি গড়িয়ে বাঁ দিকের ঘরে ঢুকে গেল। বুচুয়া, রানা, রাজুরা হেসে উঠল। মাথার উপর ফের ডেকে উঠল পাখিটা। হালকা শব্দ হল একটা। যেন ছোট একটা লাফ দিয়ে নীচের কোনও ডালে বসল। অন্ধকারেই। ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েগুলি ফিরছে। কাঁধে বস্তা। কী কী পেয়েছে কে জানে? সামনের ছেলেটার হাতে একটা ভাঙা কড়াই, মেয়েটার হাতে কী ওটা? আয়না, হ্যা আয়নাই তো! হাতের বস্তাগুলি নামিয়ে রেখে ওরা দাঁড়িয়ে পড়ল। দূর ল্যাম্পপোস্ট থেকে আলো আসছে। ওদের দাঁড়িয়ে থাকা শরীরগুলির ছায়া এখন দাগের ভিতর। বড় রাস্তার মোড় থেকে টুকরো টুকরো আওয়াজ। হর্নের। পাঁচ-সাতটা করে লোক এক-এক জায়গায় জড়ো হচ্ছে। দোক্কাতেই আটকে গেল আজ পুনু। রাজু শুরু করতে গেলে মিলুয়া পাশে এসে দাঁড়ায়। ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েরা হাঁটু গেড়ে বসে। চটের বস্তাগুলি যার যার পাশে। ওদের হাতে ভাঙা কড়াই, কেরোসিনের টিন, আস্ত আয়না। মিলুয়া বলল, মাসি আসলাম চাচাকো সাথ থানা গয়ি।

ঝুপ্‌ করে শব্দ হল একটা। ঝটপটানি। তার মানে ওরা ফিরল এতক্ষণে। শকুনগুলি। অন্ধকারে ওরা কি দেখতে পাবে পুনুকে? ওই লাল চোখে রক্ত মেখে তাকানো। পুনুকে ঠোকরাতে পারবে? গলা শুকিয়ে আসে পুনুর। যেন জল খাচ্ছে। চকাচকাস্ শব্দ হচ্ছে। মেয়েটা, হ্যাঁ, ওড়িয়া লাইনেরই। হাতের আয়নাটা মাটিতে নামিয়ে রেখে নিজেই কল টিপছে। ডান হাত কলের মুখে চেপে, বাঁ হাত আর সারাটা শরীর দিয়ে হ্যান্ডেল জড়িয়ে শরীরটাকে ছেড়ে দিচ্ছে। এক একটা চাপ দিয়েই নিজের মুখটাকে চেপে রাখা ডান হাতের গায়ে নিয়ে আটকে রাখা জল শুষছে। টানছে। (১৩)

—শুনা তুম? মসি থানা গয়া।

—কিউ? থানা মে কিউ ?

—জানো— তুমহারে মাকে লিয়ে বহুত খরচ হুয়া।

রাজু তেক্কা পার হয়ে গেল। মেয়েটা জল খেয়ে ওর ফ্রকে হাত মুছছে। ফ্রকের নীচে ওর সবুজ রঙের প্যান্ট। দড়ি ঝুলছে। ফ্রকের অনেকটাই এখন ভেজা। মেয়েটা পাশের ছেলেটাকে কিছু বলল। পুনুর এখন এক ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। মেয়েটাকে ডাকলে টিপবে না? ঠিক টিপবে। মিলুয়া মিথ্যে বলছে। পুনু জানে। এসব ওর মায়ের শেখানো। মিলুয়া নাকি নিজে দেখেছে, কমিশর সাব, অফসর সাব— সবাই খুব রেগে গেছে।

পুনু একবার শুধু ‘পানি’ বলেই ছুট লাগিয়েছিল। মিলুয়াকে একবার ডাকবে ভেবেও চুপ করে গেল সে। থাক। নিজেই পারবে। ডান হাতে কলের মুখটাকে আটকে পুনু ওর বাঁ হাত দিয়ে হ্যান্ডেলটাকে জড়িয়ে ধরে ছোট শরীরটাকে ছেড়ে দিল। শরীরটা যেন হাওয়ায় ভাসিয়ে দিল পুনু। মাটিতে পা পড়ামাত্রই পুনু মুখটাকে কলের মুখে ডান হাতের কাছে নিয়ে চেপে ধরল। জল ওর গাল বেয়ে নামছে। গলা বেয়ে, শরীর বেয়ে নেমে আসছে। পুনু টানে। শব্দ হতে থাকে। যেন হু-হু করে পাতাল থেকেই উঠে আসছে কিছু। ফের টানে পুনু। আহ্‌।

—পানি কঁহা টিপেগি ফির?

মিলুয়া। কখন এসে দাঁড়িয়েছে যেন। কলের মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে নেওয়ার পরও মুখটা ফাঁকাই থেকে যায়। পুনু দাঁড়িয়ে থাকে। যেন মিলুয়া নেই। যেন সে একাই। কলের মুখের দিকে তাকিয়ে সে এখন অবাক— জল নেই। তবু কীভাবে সেই ফাঁকা আর গোল মুখের প্রান্তে একটা ফোটা তৈরি। হয়ে যায়। বাড়তে থাকে। ভারী হয়ে পড়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তেই পুনু ওর। নরম আর হালকা আঙুল দিয়ে ফোটাটাকে ভেঙে দেয়।

—টিপেগি ফির?

মিলুয়া জানতে চায়। ‘নেহি’, বলে ঝাঁঝিয়ে ওঠে পুনু। কল ছেড়ে দৌড়োয়।

ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েরা চমকায়। পুনুর এই চিৎকারে যেন গাছের উপর জমে উঠতে থাকা অন্ধকার টালমাটাল, যেন একটা হাতির মতো কিছু তার শরীরটাকে হেঁচড়ে, এই মহল্লার ঠিক মাঝখান দিয়ে কোথাও চলে যেতে থাকে। কারা যেন চিৎকার করে উঠল। শিস দিয়ে উঠল কেউ। মিলুয়া পুনুকে ধরে ফেলল— পাঞ্জার ঘরের পাশেই।।

—তুমহারি মা সে মসি বহুৎ রুপয়া পায়েগি। করজ থা। ইসলিয়ে।

—কোন বোলা তুমকো?

—শুনা ম্যায়নে।

মুন্নাদের নিয়ে মাসি নাকি অনেক খুঁজছে। পুনু তখন ঘুমিয়ে। বিকেলের দিকেই। পুনুদের ঘরের প্রত্যেকটা তাক, পেতে রাখা কাগজ, দেওয়ালের ঠাকুর— সব। লেকিন কুছ মিলা নেই। পায়নি কিছু। সবাই মিলে নাকি গালি দিয়েছে মাকে। অনেক অনেক। মাথার উপর একটা খসখস করা শব্দ। অনেকটা কলের ফাঁকা পেটের মতোই। যেন পাতাল থেকে আসছে কেউ। একবার মাথা তুলে গাছের গায়ে জমে থাকা অন্ধকারটা দেখল পুনু। ফের শব্দ হল একটা। খসখস করাই। কোনও নড়াচড়ার। একটা পাতা পড়ল। শরীর বেয়েই নেমে গেল। রাজু একবারেই দান মেরে দেবে যেন। এখন ছক্কার ডান দিকের ঘর হয়ে নামছে।

—তুমকো দে দেগা।

মিলুয়া ফিসফিস করে উঠল।

—দে দেগা? কিসকো?

—ক্যা জানে? কৌন শরিফ আদমি, ইয়া কমশর সাব আউর কোই অফসার-বোলা তো ইতনা রুপিয়া—

চৌকার বাঁদিকের ঘরেই আটকে গেল রাজু। ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েগুলি হাততালি দিয়ে উঠল। পিছনে ভিড় বাড়ছে। অনেক বাবু এসেছে আজ। মিলুয়া কি সত্যি এত খবর জানে? ওদের ঘরের বাবু ওকে ভালবাসে। সিগারেট আনতে দিয়ে পয়সা ফেরত নেয় না। ‘রাখ দো’ বলে।

দেওয়ালের ওপাশে ফ্যাক্টরি শেডের নীচে কারা যেন হো-হো করে উঠল। এখন যদি ট্রেন আসত একটা— সেই ভারী হাতির মতো, হয়তো দাঁড়িয়ে যেত। শব্দ হত, ঘটঘটাং। মিলুয়া বলল, এক বাত বোলু?

—বোল—তুম আপনা গোটি দোগে?

—কৌন গোটিয়া?

—ও যো কাল খেলা না!

কে যেন জোরে কার নাম ধরে ডেকে উঠল। মাথার উপর শব্দটা বাড়ছে। নড়াচড়া করছে কিছু। তবে কি পাখিটাই! আছে এখনও ? ও কি চমকে উঠল? কী একটা গান। থেমে কেমন যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে কিছু গড়িয়ে পড়ছে। মাটি বেয়ে উঠোন। নামছে— নেমে যাচ্ছে।

গুটিটা কালীঠাকুরের পিছনে রাখা। ঘরেই দেওয়ালের গায়ে আটকে। মুন্নারা নাকি খুঁজেছে খুব। সব কটা তাক, পেতে রাখা কাগজ, ঠাকুরের ছবি। পায়নি কিছুই। ঠাকুরের লাল টকটকে জিভের কথা মনে পড়ল পুনুর।

ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েরা এখন দাঁড়িয়ে। দেখছে। মিলুয়ার দান শুরু হবে। পুনুর হাতে এখনও সময় আছে। ওদের একজন বস্তার মুখ খুলে কী একটা দেখল— একবার ঝাঁকুনি দিল। ঠক-ঠকাং শব্দ হল কয়েকটা। একজন কেরোসিনের টিনটা বস্তার ভিতর ঢুকোবার চেষ্টা করল। না পেরে অপ্রস্তুত হল যেন। যেন কেউ কী দেখে ফেলল— এই ভেবে সে একবার পুনুর দিকে তাকাল, চোখে চোখ পড়ায় লজ্জা পেল খুব। কী যে সে করবে যেন বুঝে উঠতে পারছে না। অত দূরে ল্যাম্পপোস্ট থেকে আসা আলোয় দাগের ওপারের মুখগুলিই ভাল করে বোঝা যায় না, তবু মেয়েটা আয়নাটাকে চোখের সামনে ধরে দাঁড়িয়ে যেন নতুন কি পুরনো দেখে নিতে চাইছে। মিলুয়া ছক্কার বাঁ দিকের ঘরটাও টপকে এলো। পাঞ্জার ঘরের জন্য গুটিটা ছুড়ল। এক পায়ের উপর ভর করে একটার পর একটা টপকাতে শুরু করল। কিত্‌-কিত্‌-

কিত্‌-কিত্‌। এখনও সময় আছে পুনুর। এখনও সে নিয়ে আসতে পারে। ছবির পিছনেই। দেওয়ালের গায়ে আটকে রাখা। অনেক যত্ন করে ঘষে তৈরি করা। বারান্দায় জ্বলতে থাকা হ্যারিকেনের কথা মনে পড়ে। এলোমেলো হাওয়া। শিস। চটের বস্তা। অন্ধকার। দেওয়াল। কালীঠাকুর। ঠাকুরের টকটক করতে থাকা লাল। ধুপ করে শব্দ হল একটা। ওড়িয়া লাইনের ছেলেমেয়েগুলি হো-হো করে হেসে উঠল।

ঠিক সাড়ে বারো হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে গেল পুনু।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev