করোনার দাপটে জীবন জীবিকায় তালা পড়লেও রাজনীতিতে পড়েনি। দেশ জুড়ে করোনা মোকাবিলায় শাসক বনাম বিরোধী দলের তরজা চলছে। পশ্চিমবঙ্গে এই তরজা পালায় সুর একটু চড়া পর্দাতেই বাজছে, তার কারণ হলো বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, নির্বাচন সময় মত হবে কিনা, এইসব প্রশ্নের উত্তর সময়েই পাওয়া যাবে। তবে তার জন্য শাসক বিরোধী দু-পক্ষের পাঞ্জা লড়াইয়ে বিরাম নেই। প্রাক নির্বাচনী ময়দানে শাসক ও বিরোধীদের একে অপরকে নিশানা করার ছকে এখনও অভিনবত্ব কিছু নেই। সেই পুরনো ছকেই সব কিছু চলছে। তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের একটা বড় ক্যানভাস রয়েছে। সেই ক্যানভাসে কোন রঙ ধরবে তা নির্বাচনে রাজ্যে ভোট দাতারা ঠিক করবেন। সেই পরিবর্তনটা হলো স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই প্রথম বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা দুই দক্ষিণপন্থী দলের মধ্যে। এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা ফেন্স সিটার। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। তাদের প্রাপ্ত ভোট ৪৪.৯%। কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪ টি আসন। প্রাপ্ত ভোট ১২.৩%। সিপিআইএম পেয়েছিল ২৬টি আসন। প্রাপ্ত ভোট ১৯.৭ %। বিজেপি পেয়েছিল তিনটি আসন। প্রাপ্ত ভোট ১০.২ %। গত চার বছরে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে বাম ও কংগ্রেস ক্রমশ জমি হারাচ্ছে। বিরোধী পরিসরের ব্যাটনটা চলে গিয়েছে বিজেপির হাতে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই ছবিটা দেখা গিয়েছিল। তবে তা দেশের নির্বাচন হওয়ায় সেভাবে সামনে আসেনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মহড়ায় ছবিটা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিজেপির শীর্ষ স্তর থেকে বাংলায় ফোকাসটা যে জোরালো, তা ইতিমধ্যেই অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামান ও জে পি নড্ডার ভার্চুয়াল জনসভা থেকেই পরিষ্কার। শুধু করোনা পরিস্থিতি লাগাম টেনে ধরায় প্রচারের সুনামি এখনও আছড়ে পড়েনি বাংলায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তা আছড়ে পড়বে বাংলায়। প্রচারে প্রধানমন্ত্রী আসবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, অমিত শাহরা যে বাংলায় প্রচারে কার্পেট বম্বিং-এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে রেখেছেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। শাসক পক্ষে অবশ্য শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী একজনই। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে পরিস্থিতিটা মোটেই অনুকূল নয়। করোনা এবং আমফানের জোড়া ফলা সামলাতেই তাঁর কঠিন অবস্থা। তার ওপর গদি রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইতে আবার এমন একটি দল যারা অর্থবলে ও আগ্রাসী মনোভাবে চ্যাম্পিয়ান। অন্য দিকে বাম ও কংগ্রেস জমি হারাতে হারাতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যে প্রতিটি স্তরের উপনির্বাচনে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ও লোকসভা নির্বাচনে তাদের গ্রাফ নিম্নমুখী। এই ভোট নাট্যে আরো একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বঙ্গে। সেই পরিবর্তন হল নির্বাচনী ইস্যুতে। এ বছরই প্রথম বাংলায় বড়ো ইস্যু হতে চলেছে সাম্প্রদায়িকতা। বাম ও কংগ্রেসে বাফার জোন না থাকায় এই ইস্যুতে তৃণমূলকেই সেই ঝড় সামলাতে হবে।