দেশের করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ? প্রতিদিনই আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। উল্লেখ করার মতো তথ্য হল; আমরা এখন মোট আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মোট মৃত্যুর নিরিখে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছি। সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা্র মধ্যেই চলছে বিধানসভা নির্বাচন। তাতে আরও বেলাগাম করোনা সংক্রমণ।
নির্বাচন কমিশন করোনাকালে যখন আট দফা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছিল তখনই তাদের বিবেক বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল প্রায় সব মহল থেকেই। তখনও করোনা পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। বরং যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু কমিশন সজোরেই ঘোষণা করেন, বাংলায় নজিরবিহীনভাবে ৮ দফাতেই ভোট হবে, তখন প্রশ্নটি আরও জোরাল হয়ে ওঠে, কেন?
কেন প্রশ্নটি যে কেবলমাত্র প্রশ্নই ছিল না তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল কয়েকটি দিন পের থেকেই। পাশাপাশি আরও প্রশ্ন ভিড় করল। বিহারে ২৪০টি আসনে ৩টি দফায় নির্বাচন হল। অসমে ৩ দফায়, তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনে একদিনে ভোটগ্রহণ, কেরলে সিপিএমের সরকার, সেখানেও এক দফায়, বাংলায় ২৯৪টি আসনের জন্য ৮ দফায় ভোট কেন? সঙ্গত কারণে আরও একটি প্রশ্ন এর সঙ্গেই জুড়ে গেল। কাকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য ৮ দফায় নির্বাচন?
আট দফার দিকে চোখ দিলেই দেখা যাচ্ছে, একটি গোটা জেলার নির্বাচন একদিনে হচ্ছে না। কমিশন জেলার ভোট গুলিকে ভাগ ভাগ করে দিয়েছেন। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে এই ভাগ, নিরাপত্তা? গত ছটি দফার একটিতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণে কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চম দফার ভোটেও বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ষষ্ঠ দফাতেও রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র। এমনকি গুলিও চলেছে বাগদাতে।
কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে আনা প্রশ্ন, সমালোচনায় কর্ণপাত না করে তারা মুখ ঘুরিয়ে উন্নাসিক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল সমালোচকদের দিকে। এরপর যত দিন গিয়েছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর রাশ না টানায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে জোরাল প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা উচ্চ আদালত কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে।
করোনার এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কেন প্রচার বন্ধ করা হল না, কেনই বা করোনার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হল না তা নিয়েও কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে আদালত। আদালতের বক্তব্য, কমিশনের হাতে চুড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে। তবুও তার কোনও ব্যবহার হয়নি। আদালত এও জানিয়েছে, একটি সার্কুলার জারি করে গোটা বিষয়টি জনগণের উপরে ছেড়ে দিয়েছে কমিশন। অথচ পুলিশ থেকে উচ্চ পদস্থ অফিসার বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কাজে বহাল। কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না কমিশন? প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা উচ্চ আদালত।
এই অবস্থায় ছ’দফা ভোট হয়ে যাওয়া পর শেষ দু’দফা ভোটের আগে নতুন করে কয়েকটি নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন। করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে বাংলায় চারটি সভা বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেদিনই সন্ধেবেলায় কমিশনের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত রাজনৈতিক মিছিল, রোড শো’য় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। স্বভাবতই কমিশনের সিদ্ধান্ত কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভা বাতিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন রাজনৈতিক মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একে কি কাকতালীয় ব্যাপার বলা যাবে? দেখাই যাচ্ছে কমিশন প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি করেন বা বলেন তার অপেক্ষায় ছিল।
যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নেওয়া যায় যে দুটি ঘটনা সম্পূর্ণই পৃথক তাহলেও দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী যখন সভা বাতিল করলেন, তখন রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাত লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম দুই দফাতেই কলকাতায় ভোট রয়েছে। তারপর করোনা-পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা বস্তুতপক্ষে খুবই উদ্বেগজনক।
করোনা পরিস্থিতিতে পিছিয়ে গিয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কোনও হুঁশ নেই। নির্বাচন গুটিয়ে আনার কোনও উদ্যোগই নেই। যেখানে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল হয়ে যাতে পারে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে সেখানে কমিশন মাসখানেক ধরে নির্বাচন চালিয়ে যেতে মরিয়া।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে রাজ্য প্রশাসনকে সহায়তা করতে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সেই বাহিনীর ভূমিকা নিয়েই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন নির্বাচন কমিশন নিয়েও। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যদি মানুষ আস্থা হারায় তার ফল যে মারাত্মক হবে তা মনে হয় কমিশন উপলব্ধি করতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপনি যা বলেছেন সবকটি কথাই খুব ঠিক। ওদের সম্পর্কে আরও কঠিন ভাষা ব্যবহার করলেও
কারও কোনও আপত্তি থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনের কারণে এমন রক্তাত্ত ভোট বাংলা এর আগে কবে দেখেছে? প্রতিটি দফায় সংঘর্ষ, প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রের
বুথে বুথে কিছু না কিছু নিয়ে গন্ডগোল, সবই কমিশনের অপদার্থতায়, ওরা ইচ্ছে করে মাস খানেক ধরে ভোট চালালো যাতে
হাজার হাজার মানুষ মরে। এই নির্বাচন কমিশন খুনী।
আপনার মতামত নিয়ে গেরুয়া শিবির ছাড়া আর কেউ দ্বিমত পোষন করবে না। তবে হ্যাঁ ধান্দাবাজ-চিটিংবাজ সিপিএম ভাষা
ভাষা কিছু বলবে যাতে গেরুয়াধারীরাও মিচকি হাসবে। অকর্মন্য-অপদার্থ নির্বাচন কমিশনের চামড়া আপনি যে ভাষায়
ছাড়িয়েছেন সে ভাষা বোঝার ক্ষমতা কিন্তু নেই, কারণ ওরা বেহায়া-নির্লজ্জ।
নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক দলের চাটুকারিতা বা দালালিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চোট লাগে।
চাকরগুলো কি চাইছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারাক। তাহলে তো ওদের ফুটো বাটি নিয়ে
ফুটপাথে বসতে হবে।