বামফ্রন্ট দশম পঞ্চায়েত ভোটের নির্বাচনী ইস্তাহার বুধবার প্রকাশ করেছে। ১২ পাতার ইস্তাহারে বলা হয়েছে উল্লেখযোগ্য দু’টি বিষয়। গ্রামীণ এলাকায় অকৃষি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ মানুষের সম্মতি নিতে হবে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কথা মাথায় রেখেই এই ভাবনা বলে ইস্তাহারে বলা হয়েছে। স্বীকার করা হয়েছে ‘অতীত থেকে শিক্ষা’ বলে। তৃণমূল সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলি বামফ্রন্ট আমলেই শুরু হয়েছিল বলে ইস্তাহারে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষত বামফ্রন্টের নির্বাচনী ইস্তাহারে উল্লেখিত এই দু’টি বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিক্ষক বামফ্রন্ট থিংক ট্যাংকের? কেন ‘অতীত থেকে শিক্ষা’ নিতে হল?
তৃণমূল সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলি বামফ্রন্টের আমলে শুরু হয়েছিল বলা মানে তো এই প্রকল্পগুলির উপকারিতা স্বীকার করে নেওয়া। সরাসরি স্বীকার না করে কেন ‘বামফ্রন্ট আমলে শুরু হয়েছিল’ বলা হচ্ছে? আদৌ কি বামফ্রন্ট সরকার প্রকল্পগুলি শুরু করেছিল?
তৃণমূল সরকারের সবচাইতে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে আছে— লক্ষীর ভান্ডার, বিনামূল্যে রেশন, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু, সমব্যথী— এরকম আরও কিছু প্রকল্প। বামফ্রন্ট আমলে এসবের কোনওটা কি ছিল? পরিষ্কার করে বলুন সিপিএম নেতারা? না হলে এটাও একটি ভাওতা ও মিথ্যাভাষণের ইস্তাহার হয়ে দাঁড়াবে।
পঞ্চায়েত এলাকায় বাস করেন অধিকাংশ প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, আর্থিক টানাপোড়েনের সংকট সবসময়ের। তাই প্রকল্পগুলির উপকারিতা মানুষের কাছে মৌলিক সমস্যার সমাধান না হলেও এর গ্রহণযোগ্যতা অতিমাত্রায় দেখা দিয়েছে। সিপিএম নেতাদের ‘চোর’ অস্ত্রে কাজ না হওয়ায় নির্বাচনী ইস্তাহারে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলিকে নিজেদের বলে চালাতে চাইছেন। এও এক মিথ্যাচারিতা।
সিঙ্গুর নিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহারে লেখা ‘অতীত থেকে শিক্ষা’ আর এক যুগ ধরে নেতাকর্মিদের মুখে প্রচারের কথায় কোনও তালমিল নেই। কৃষক আন্দোলনের দাপটে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের সানন্দে (সেখান ২০১৮ সাল থেকে ন্যানো উৎপাদন বন্ধ) পালিয়ে যেতে না হলে রাজ্যে শিল্পের বান বইত এবং চাকরির ঢালাও সুযোগের ফলে বেকারত্ব হাপিস হয়ে যেত বলে কমরেডরা আজও প্রচার করে।
লেখাটি প্রকাশ করার জন্য সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।
আজকাল তো নেটে সবকিছুই পাওয়া যায়। ইস্তেহারটা পড়ে তো আপনার বক্তব্যের কিছুই পেলাম না শুধু জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঐক্যমত ( আশি শতাংশ টতাংশ নয়) গড়ে তোলার কথা ছাড়া। শুধু খবরের কাগজের ইতিউতি বক্তব্যর ওপর ভিত্তি করে কিছু না লেখাই ভালো।
https://drive.google.com/file/d/1_nDlzGcPxFMWU5UgDk0AYkP3r9qBy50E/view?usp=drivesdk