| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

জেমস জয়েস-এর ছোটগল্প ‘ইভলিন’ অনুবাদ মনোজিৎকুমার দাস

Reporter
জেমস জয়েস / ৬০১ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

মেয়েটি জানালার পাশে বসে আছে। তখন সন্ধ্যা হয় হয়! মাথা জানালার পর্দা স্পর্শ করছে। সে বড়ই ক্লান্ত।

কয়েকজন লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তাদের পাড়ার শেষ বাড়িটার একজন লোক এ পথ ধরে বাড়ি ফিরছে। নতুন লালরঙের বাড়িগুলোর আগের কনক্রিটের পেভমেন্টের রাস্তা থেকে মেয়েটি তার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেল।

এক সময় সেখানে একটা খেলার মাঠ ছিল। একজন লোক মাঠটা কিনে নিয়ে সেখানে বিল্ডিংগুলো তৈরি করে। বিল্ডিংগুলো লাল ইটের।

মাঠটিতে ছেলেমেয়েরা এক সময় খেলা করতো। ডেভাইনস, ওয়াটারস ও ডুনসদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা খেলতে আসতো মাঠটাতে।

ছোট্ট কেওঘ নামের বাচ্চাটাও এসে দৌড়াদৌড়ি করতো।

তাদের সঙ্গে সে, তার ভাই ও বোনেরা ওই মাঠে খেলাধুলো করতো। সচারাচর কেওঘ তার সঙ্গীদের সতর্ক করার জন্য শব্দ করতো। ইমেস্ট কিন্তু কখনোই তাদের সঙ্গে খেলতে আসতো না, কারণ সে ছিল তাদের চেয়ে বয়সে বড়। মেয়েটির বাবা প্রায়ই তার কালো রঙের ছড়িটা হাতে নিয়ে মাঠটিতে আসতো তাদেরকে বাড়ি নিয়ে যেতে। ছোট্ট কেওঘ তাকে আসতে দেখেই সাবধান করার জন্য শব্দ করতো।

বাবাকে দেখতে পেয়ে তারা বরং খুশিই হতো। সে সময় তাদের বাবা ততটা খারাপ ছিল না।

তখন তাদের মা বেঁচে ছিল। সে অনেক দিন আগের কথা; মেয়েটি ও তার বোনেরা বড় হয়ে উঠলে তাদের মা মারা যায়। টিজি ডুনও মারা যায়। ওয়াটারদের পবিবার ইংল্যান্ডে চলে যায়। সব কিছুতেই পরিবর্তন আসে। তখন থেকে অন্যদের মত মেয়েটিও বাড়ির বাইরে যেতো।

বাড়ি! মেয়েটি রুমের চারদিকে তাকিয়ে দেখলো। সে পরিচিত জিনিসে চোখ বুলিয়ে ভাবলো, অনেক বছর ধরে সে সপ্তাহে একবার করে তার প্রিয় জিনিসগুলোর উপর থেকে ধুলো ঝাড়তো। সে সময় সে ভেবে অবাক হতো রাজ্যের ধুলো কেন ওইগুলোর উপর জমে।

সম্ভবত মেয়েটি আর কখন তার ওই সমস্ত প্রিয় জিনিসগুলো নিয়ে স্বপ্ন দেখবে না। ওই বছরগুলোতে সে কখন ধর্মযাজকের নামটি করতো না। তার হলুদ রঙের ছবিটা ভাঙা হারমোনিয়ামের উপরে দেওয়ালে টানানে ছিল, তার পাশে মার্গারেট মেরি আলকোইউ এর রঙিন কাগজে ছাপান আর্শীবাদ বাণীও টানানো ছিল।

তাদের বাড়িতে নতুন কেউ এলে তার বাবা ছবিটা দেখিয়ে বলতো, “তিনি এখন মেলবোর্নে বাসবাস করেন।”

মেয়েটি এক সময় বাড়িটি ছেড়ে চলে যেতে সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? মেয়েটি সব কিছু খতিয়ে দেখার চেষ্ট করেছিল। তার নিজের বাড়িতে আশ্রয় ও খাবার সবই ছিল। সে তার বাড়িতে ও দোকানে কাজ করতো। তার সম্বন্ধে তারা কী বলেছিল, সে কি তার কোন সঙ্গীর সঙ্গে চলে গিয়েছিল? বলতে হয় মেয়েটি ছিল বোকা। সম্ভবত সে বিজ্ঞাপনের মোহে পড়েছিল। মিস গাভান খুশি হয়েছিল তাকে পেয়ে? তার প্রতি সে সব সময়ই সদয় ছিল । বাড়ি ছেড়ে আসায় তার নিজের মধ্যে কোন প্রকার খেদ ছিল না। দূরের একটি অপরিচিত দেশের নতুন একটি বাড়িতে এসে সে কিন্তু কষ্টে ছিল না।

তারপর ইভলিন নামের সেই মেয়েটির বিয়ের বয়স হলো। লোকজন তার সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবহার করতো। তার নিজের মাও তার সঙ্গে তেমন খারাপ ব্যবহার করতো না। তার বয়স উনিশ বছর পেরোলে সে কিন্তু তার বাবার ভয়ে ভীত থাকতো। তার বাবা মাঝেমধ্যে হাঙ্গামা করতো। বাবা হাঙ্গামা করলে ভয়ে হৃৎকম্পনের মতো অবস্থা হতো মেয়েটির।

তারা বড় হয়ে উঠলে মেয়েটির বাবা কখনোই তাকে হ্যারি ও ইমেস্ট সঙ্গে মিশতে দিতে পছন্দ করতো না, কারণ সে হচ্ছে একজন মেয়ে, তার বাবা কিন্তু তাকে নিয়ে ভীত ছিল। সে মৃত মায়ের দোহাই দিয়ে মেয়েকে সাবধান করতো। মেয়েটির সুরক্ষা দেওয়ার কেউ ছিল না। এক সময় ইমেস্ট মারা যায়।। আর হ্যারি গীর্জা সুসজ্জিত করণের কাজ করে বেড়াতো। সে কাজ করতে দেশের সব জায়গায়ই যেত।

শনিবারের রাতগুলোতে টাকার জন্য তার বাবা তুমুল ঝগড়াঝাটি শুরু করতো। এতে মেয়েটি বিরক্ত হতো। মেয়েটি সব সময়ই তার পুরো বেতন সাত শিলিং বাবাকে দিতো। আর হ্যারি যা পারত তাই পঠাতো। টাকা পাওয়ার পর তার বাবার কাছ থেকে আরো সমস্যার উদ্ভব হতো। তার বাবা বলতো মেয়েটি অপব্যয় করে টাকা উড়িয়ে দিচ্ছে। মেয়েটির মাথায় বুদ্ধিসুদ্ধি নেই।

সচরাচর শনিবার রাতে তার বাবা খারাপ আচরণ করতো। তার বাবা টাকা পেয়ে সে তাকে জিজ্ঞাসা করতো রবিবারের ডিনার কেনার ইচ্ছে তার আছে কিনা। বাবা তাগাদা দেওয়ায় মেয়েটি বাজারঘাট করার জন তাড়াতাড়িই বাইরে যেত। সে তার হাতে শক্ত করে চামড়ার কালো পার্সটা ধরে রাখতো। পথে চলার সময় জটলার মাঝ দিয়ে যেতে সে তার কঁনুই এগিয়ে ধরত। তারপর একসময় জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরতো। মেয়েটিকে কঠিন পরিশ্রম করতে হত বাড়িটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা ছাড়াও তার জিম্মায় রাখা দুটো বাচ্চা সন্তানকে খাইয়ে দায়িয়ে নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর কাজ ছিল। তার কষ্টের জীবনে এটা ছিল আর একটা কষ্টের কাজ। কিন্তু এখন সে তা ছেড়ে যাচ্ছিল। তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবন যাপন আর করতে হবে না।

ফ্রাঙ্কের সঙ্গে মেয়েটির নতুন ভাবে জীবনযাপন করার কথা। ফ্রাঙ্ক খুবই দয়ালু , দিলখোলা পুরুষ মানুষ। মেয়েটিকে তার স্ত্রী হিসাবে নাইট বোটে তার সঙ্গে বুয়েনোস আয়ার্স যাওয়ার কথা। সেখানে তার বাড়িটি মেয়েটির জন্য যেন অপেক্ষায় আছে।

মেয়েটির বেশ মনে আছে ফ্রাঙ্কের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার কথা। ফ্রাঙ্ক মেইন রোডের ধারের একটা বাড়িতে লজিং থাকাকালে সে সেখানে যেত। সেটা তো কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। ফ্রাঙ্ক গেটের কাছে দাঁড়িয়েছিল। মাথার পিকড ক্যাপটা তার মাথায় উল্টে করে পরা ছিল। তার মাথার চুলগুলো ক্যাপের পাশ দিয়ে বেরিয়ে মুখের উপর পড়েছিল। তারপর তাদের মধ্যে জনাশোনা হল। ফ্রাঙ্ক প্রত্যেক সন্ধ্যায় দোকানের বাইরে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করার পর সে তার বাড়ি যেত। ফ্রাঙ্ক মেয়েটিকে দ্য বোহেমিয়ান গার্ল বইটি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। মেয়েটি অনুভব করেছিল, সে থিয়েটার হলে অনভ্যস্থ ভঙ্গিমায় বসে আছে। গান বাজনা ফ্রাঙ্কের খুবই প্রিয় ছিল। লোকজন জানতো যে তাদের মধ্যে প্রণয় চলছে।

ফ্রাঙ্ক এক নাবিকের সঙ্গে যুবতী মেয়ের ভালবাসার গান গাইতো। ফ্রাঙ্কের আমেজ ভরা গান শুনে মেয়েটি বিভ্রান্ত হতো। ফ্রাঙ্ক ঠাট্টা করে মেয়েটিকে পোপ্পেনস বলে ডাকত। প্রথম দিকে এই ডাক শুনে তার মধ্যে আমেজ দেখা দিত এই ভেবে সে একজন অন্তরঙ্গ সাথী পেয়েছে। তারপর থেকেই সে ফ্রাঙ্ককে পছন্দ করতে শুরু করে। ফ্রাঙ্ক দূরবর্তী দেশের গল্প বলতো। সে কানাডার অ্যাল্লান জাহাজের মাসে এক পাউন্ড পারিশ্রমিকে ডেক বয় হিসাবে কাজ শুরু করেছিল। সে তাকে বিভিন্ন নামের জাহাজের বিভিন্ন কাজের গল্প বলতো। সে ম্যাগেলিয়ান প্রণালী দিয়ে চলা জাহাজে এক সময় কাজ করতো। সে ভয়ঙ্কর পাটাগোনিয়ানদের গল্প বলত। এক সময় সে বুয়েনোস আয়ার্স এ পা রাখে, সে বলল।

অবশ্য মেয়েটির বাবা ফ্রাঙ্কের সঙ্গে মেলামেশার খবর জানতো।সে তার মেয়েকে তার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছিল। সে বলেছিল, “এই সব নাবিকদের আমি চিনি।” একদিন সে ফ্রাঙ্কের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করলো। মেয়েটি গোপনে তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হলো। একদিন এভিন্যুতে সন্ধ্যা গাঢ় হলে দুটো চিঠি তার কোলের উপর এসে পড়লো। একটা চিঠি হ্যারির আর একটা তার বাবার। এমেস্ট মেয়েটির প্রিয় ছিল। হ্যারিকেও সে পছন্দ করত। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে পড়ল শেষমেশ। মেয়েটি লক্ষ্য করল, তার বাবা তাকে হারাবে। মাঝেমধ্যে সে ভাল ব্যবহার করতো। বেশি দিনের কথা নয়, যখন মেয়েটি একদিন শুয়ে ছিল সেদিন তার বাবা তাকে ভূতের গল্প পড়ে শুনিয়েছিল আর তার জন্য টোস্ট আগুনে গরম করে এনে দিয়েছিল। আর একদিন যখন তার মা বেঁচে ছিল তখন একদিন হাওথ পর্বতে পিকনিক করতে গিয়েছিল। তার স্পষ্ট মনে আছে সে তার মা ও তাদেরকে নিয়ে আনন্দ করেছিল।

মেয়েটির সময় কেটে যেতে থাকলেও সে কিন্তু মাখাটা জানালার পর্দায় ঠেস দিয়ে জানালার পাশে বসতো। তার নাকে ধুলোর গন্ধ সে পেত। এভিন্যুও নিচে বেশ দূরের রাস্তায় একটা অর্গানের বাজনা শুনতে পেত। সে জানতো প্রত্যেক গভীর রাতে বাতাস অদ্ভুত ভাবে বয়ে যেয়ে তাকে জানান দেয় তার মায়ের কাছে তার প্রতিজ্ঞার কথা। সে তার মায়ের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল সে যতদিন পারে বাড়িটাকে একত্রিত রাখবে। তার মনে পড়ে তার মায়ের অসুস্থতার শেষ রাতের কথা। সে আবার হলরুমের অন্য পাশের বন্ধ অন্ধকার রুমের গেলে পারে সে ইতালির ম্যালানকোলি এয়ার। অর্গান বাদককে অন্যত্র যাওয়ার জন্য আদেশ করা হল। মেয়েটির মনে পড়ল তার বাবা সিকরুম থেকে বলছে: “ইতালিয়ান দানব! এখানে এসে হাজির হয়েছে!” সে প্রগাঢ় ভাবে ভাবল তার মায়ের দয়ালু মূর্তি। মেয়েটি কেঁপে উঠল এটা ভেবে সে যেন শুনতে পেল তার মায়ের সাদাসিদে কণ্ঠস্বর। মেয়েটি হঠাৎ করে আতঙ্কিত হয়ে উঠে দাঁড়াল। পালাও! সে অবশ্যই পালাবে! ফ্রাঙ্ক তাকে রক্ষা করবে। সে তার জীবন দান করবে। সম্ভবত তাকে সে ভালবাসবে। মেয়েটি কিন্তু বেঁচে থাকতে চাইল। কেন সে অসুখী? সুখ লাভ করার অধিকার তার আছে। ফ্রাঙ্ক তার বাহু দুটোর মধ্যে টেনে নিয়ে বাহু বদ্ধ করে রাখবে। সে তাকে বাঁচাবে।

মেয়েটি নর্থ ওয়াল স্টেশনে অপেক্ষামান জনতার মাঝে দাঁড়াল। ফ্রাঙ্ক তার হাত ধরলো। আর এতেই সে বুঝতে পারল ফ্রাঙ্ক যাওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলছে। স্টেশন ঘাটটি সৈন্যতে পরিপূর্ণ। তাদের সঙ্গে ধূসর রঙের তল্পিতল্পা। শেডগুলোর চওড়া চওড়া দরজার ভেতর দিয়ে সে বোটের কালো বস্তু নজরে এল। তার মুখে কোন কথা নেই। সে এক সময় অনুভব করলো তার চিবুক ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে গেছে। সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলো তাকে সঠিক পথ দেখাতে। বোট থেকে হুইসেল বেজে উঠলো। সে ঈশ্বরের কাছে নীরবে প্রার্থনা জানাতে থাকলো।

এক সময় তার মনের অবস্থার পরিবর্তন হল যখন সে অনুভব করলো ফ্রাঙ্ক হাত ধরে বললো: “এস!” পৃথিবীর সমস্ত সাগরগুলো যেন তার অন্তরে কাঁপন ধরালো। ফ্রাঙ্ক তাকে টেনে তুললে সে দুহাত দিয়ে লোহার রেলিং আঁকড়ে ধরল।

“এস!”

না! না! এটা সম্ভব না। তার হাত দু’খানা লোহার রেলিং এর সঙ্গে এটে আছে। তার মনের ভেতর থেকে উদ্বেগের কান্নাসমুদ্রে ছড়িয়ে দিল।

“ইভলিন ! ইভি!”

ফ্রাঙ্ক তার হাত রেলিং থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাকে অনুসরণ করতে বলল। সে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য চিৎকার করলেও তার সঙ্গে তাকে যাওয়ার জন্য ডাকতেই থাকল। মেয়েটির ফ্যাকাশে মুখটাকে একটা অসহায় জন্তুর মত মনে হলো। মেয়েটির চোখে তার প্রতি ভালবাসা কিংবা বিদায় কিংবা স্বীকৃতির আভাস দেখা গেল না।

লেখক পরিচিতি : জেমস জয়েস (১৮৮২-১৯৪১) ২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮২ জন্ম গ্রহণ করেন ডাবলিনে। পড়াশোনা আয়ারল্যান্ডে। পড়াশোনাকালে উন্মেষ ঘটে তাঁর সাহিত্য সাধনার। ডাবলিন তাঁর জন্ম স্থান হলেও তাঁর জীবনের দীর্ঘতম সময় কাটে বিদেশবিভূঁয়ে। বিদেশী ভাষার শিক্ষক হিসাবে তিনি প্যারিস, জুরিখ-সহ নানা শহরে বসবাস করেন। তাঁর কবিতা সংকলন The chamber Music ১৯০৭ সালে প্রকাশিত হয়। তার স্বদেশভূমি ডাবলিনের পটভূমিকায় লেখা A Portrait Of the Artist as a Young Man নির্বাচিত গল্প সংকলন হিসাবে ১৯১৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে। জেমস জয়েসের অমর সৃষ্টি Ulysses উপন্যাস ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর আগে ১৯১৮ সালে তার লেখা নাটক Exile প্রকাশ পায়। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয় Finnergan’s wake উপন্যাস। তিনি ইংরেজি সাহিত্যেও আধুনিক ধারার স্রষ্টা। জেমস জয়েস তাঁর উপন্যাসে জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ সৃজনশীল নবধারার উন্মেষ ঘটাতে সক্ষম হন। ১৯৪১ সালের ১৩ জানুয়ারি জুরিখে ডুওডোনাল আলসারের জন্য অস্ত্রোপচারের ফলে ৫৯ বছর বয়সে জেমস জয়েস এর মৃত্যু হয়। ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা Eveline গল্পকে বঙ্গানুবাদ করা হলো।

মনোজিৎকুমার দাস, অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev