১৩ আগস্ট, শনিবার কলকাতা পুরসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ হাকিম জানান, — ‘বিরোধীরা অন্যায় ভাবে আমাদের সামাজিক সম্মান নষ্ট করছে। তারা বুঝতে পারছে না, কখনো আপনি টেবিলের এপারে, আবার কখনো ওপারে থাকতেই পারেন। সকলের আমার মতো ধৈর্য নেই। মনে রাখতে হবে সবার ওপর মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই। মানুষই ঠিক করবে কোনটি ঠিক, কোনটি ভুল। নিশ্চিত ভাবে প্রচার মাধ্যমে যে দৃশ্যগুলি দেখা যাচ্ছে, সেগুলি আমাদেরও ভালো লাগছে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তৃণমূল কংগ্রেসের সবাই খারাপ। মাঝে মাঝে ধৈর্য্যচ্যুতি হয়ে যায়। ইনটলারেন্স আমরা কখনোই সমর্থন করি না। আমি এমন মতাদর্শের মানুষ, কেউ আমাকে এক গালে চড় মারলে আমি অন্য গাল বাড়িয়ে দেব।
আমি আমার দেশের জন্য গর্বিত। দেশের তেরঙ্গা পতাকা মাথায় নিয়ে দাঁড়াতে গর্ব বোধ করি, কারণ আমি ভারতবাসী। আমার মনে হয় না ভারতে কেউ তেরঙ্গা নিয়ে গেলে পুলিশ তাঁকে আটকাতে পারে। তবে অনুমতি পত্র না নিয়ে কোনও কোনও জায়গায় আমরা জাতীয় পতাকা তুলতে পারি না। যেমন এখুনি আমি চাইলে ফোর্ট উইলিয়াম, বা আকাশবাণীতে গিয়ে জাতীয় পতাকা তুলতে পারবো না। এর জন্য আগে থেকে অনুমতি লাগে।
জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র বিজেপি-র একার নয়, দেশটা আমাদের সকলের। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জাতীয় সংগীত গাইবার অধিকার সবার আছে। আমি ভারতবর্ষে জন্মেছি। এই অধিকার যতটা সুভাষ সরকারের আছে, ততটা আমারও আছে। পতাকা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। জাতীয় পতাকা আমাদের হৃদয়ের মধ্যে থাকে।
আইন আইনের পথে চলবে, তবে ব্যক্তিগত সম্মানহানী করা কাম্য নয়। সম্মান দিলে সম্মান বাড়ে।
আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি।
২০১৭ সালের কেস নিয়ে আমরা নিশ্চিত ভাবে হাইকোর্টে গেছি। তার কারণ আমি বিশ্বাস করি জুডিসিয়ালি যদি আমার ন্যায় বিচার করছে না বলে আমি মনে করি, তাহলে তাঁর কাছেই আমি ন্যায় বিচার চাইব। আমি তো জুডিসিয়ালির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করব না। ওটা সিপিএম করত, বলেছিল, লালা বাংলা ছেড়ে পালা। যদি আপনার মনে হয় কোন জায়গা থেকে আপনি ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না, তাহলে তো আপনাকে তাঁর কাছেই যেতে হবে। এটার মধ্যে অন্যায় কোথায়? আমি তো তাঁর কাছেই গেছি। তদন্তে আমরা ভয় পাচ্ছি না। কিন্তু হ্যারাসমেন্ট বা সামাজিক সম্মান নিয়ে টানাটানি করলে সবারই ভয় লাগে। জেলে থাকতে কোনো ভয় নেই। তার কারণ বাংলার অনেক নেতা জেলে ছিলেন। কিছু কিছু মিডিয়া, গদি মিডিয়া হয়ে যেভাবে কাজ করে চলেছে তাতে সামাজিক অসম্মান হচ্ছে। আমি সিপিএম-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। গুলির সামনে বার বার দাঁড়িয়েছি। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, কেশপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছি। অনেক জায়গা থেকেই জীবন নিয়ে আমার ফিরে আসার কথা ছিল না। কিন্তু তাতে ভয় পাইনি, কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তাতে মৃত্যু হলে হবে ভেবেছি। কিন্তু সামাজিক সম্মানহানীর ভয় সবার থাকে। সেই সামাজিক সম্মান গেলে আপনার বাড়ির লোক সাফার করে, আপনার সমাজ সাফার করে।’