হুগলি জেলায় এখনো ১০ শতাংশ জমিতে পাকা ধান মাঠেই পড়ে আছে। আর নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টির ফলে সেইসব জমিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চাষিরা। অর্থাৎ হুগলি জেলায় ধান চাষ হয় ১ লক্ষ ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে সেখানে ১০ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মত চাষীদের।
এবছর ধান চাষের শুরু থেকেই যেভাবে নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টির ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চাষিরা ঠিক সেভাবেই আলু চাষের শুরুতেই নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি আর বৃষ্টির ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা। ইতিমধ্যেই ১৫ দিন পিছিয়েছে আলু চাষ। যেখানে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সমস্ত জমিতে আলু চাষ সম্পন্ন হয়ে যায় সেখানে এ বছর মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে আলু বসানো সম্পন্ন হয়েছে। হুগলি জেলার আলু চাষ হয় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে।

আরামবাগ মহকুমা সহঅধিকর্তা সজল ঘোষ বলেন, ‘এই মরসুমে আরামবাগ মহকুমার ৬টি ব্লকে ৩০ হাজার হেক্টর আলু চাষ হয়েছিল। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩৭২ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’ পুরশুড়ার ভাঙামোড়া এলাকার চাষি সুনীলকুমার সাহা বলেন, ‘এমনিতেই এবার আলুর দাম নেই। তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে সব আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিচু জমিতে প্রায় ৯০ ভাগ পর্যন্ত আলু পচে যাবে। উঁচু জমিগুলিতেও ৩০ ভাগ আলু নষ্ট হয়ে যাবে।’ গোঘাটের ভাদুর অঞ্চলের রবি সাঁতরা বলেন, ‘ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম এবার ভাল দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু আলুর ফলন ভাল হলেও দাম একেবারে কম ছিল। তার ওপর আবার বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে।’

যেসব জমিতে ইতিমধ্যেই আলু বসানো হয়ে গিয়েছে বৃষ্টির ফলে আলু বীজ পচে নষ্ট হতে পারে বলে দাবি চাষীদের অন্যদিকে আলু চাষের জন্য যেসব জমি ইতি মধ্যে চাষ যোগ্য করা হয়েছে তাতেও বৃষ্টির ফলে কাদা হয়ে গেছে এবং তার ফলে আলু চাষ করা সম্ভব হবে না অর্থাৎ যেসব জমিতে বীজ বসানো হয়ে গেছে তাতে নতুন করে খরচ করে চাষীদের আলু বীজ বসাতে হবে আবার খরচ করে চাষীরা আলু বসবেন কিনা তা সন্দিহান। অন্যদিকে যেসব জমি আলুর চাষ যোগ্য করে উপযোগী করে তোলা হয়েছিল সেসব জমিতে কাদা হয়ে যাওয়ার ফলে আবার নতুন করে চাষ উপযোগী করে তুলতে হবে।

আবারও সময় লাগবে অন্তত পনেরো দিন। অর্থাৎ আলু চাষের জমির ক্ষেত্রে যেমন কমবে আলুর ফলন কমেবে ফলে আগামী দিনে আলুর বাজারে যোগান কমবে। অর্থাৎ এ বছর ধানের উৎপাদন যেভাবে কমেছে আলুর উৎপাদনও কমবে যার ফলে আগামী দিনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে সাধরণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।