মৃত্যুর পর অন্যকে কর্ণিয়া দানের রীতিকেই মূলত বলে মরণোত্তর চক্ষুদান। আগেকার দিনে দৃষ্টিহীনরা অন্ধত্বকে ঈশ্বরের অভিশাপ বা ভাগ্যের লিখন বলেই মেনে নিতো। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ধরনের অন্ধত্ব রোধ করা যায়। ডোনারকে মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ শিবিরে চক্ষুদান করতে হবে। মরণোত্তর চক্ষুদান একটি মহৎ সেবা। এই সেবাকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে যেমন প্রয়োজন সচেতনতা তেমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করতে হবে। তাহলে অন্ধ ফিরে পাবে দৃষ্টি।

তনিমা ঘোষ পেশায় একটি কলেজের অফিসিয়াল পোস্টে কর্মরত। আজ নিজে দান করলেন চোখ শিলিগুড়ির গ্রেটার লায়ন ক্লাব-এ। জানালেন অনেকদিন ধরেই এই চিন্তা করে রেখেছিলাম, যে ভাল থাকতে থাকতে মানুষের জন্য কিছু করে যাব, তাই আজ আর দেরী করলাম না, কাজটা করেই নিলাম আর নিজেই চলে গেলাম, এবং শুভ কাজটা করেই ফেললাম এবং কাজটা শেষ করে একটা আলাদা অনুভব হল নিজের মনের মধ্যে। যা প্রকাশ করা যায় না। আমার চোখ দিয়ে কেউ এই পৃথিবীর আলো দেখবে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু আছে কি? আমি নিশ্চিত যে আমার এই কাজের আর্শীবাদ আমি পাব।আমার পরিবারের লোকজন আমাকে পুরো সমর্থন করে গেছে তাই মনের জোর পেয়েছি। আমি চাই আমার মত সবাই এই মহান কাজে এগিয়ে আসুক, তাতেই হয় ত কিছুটা হলেও এই অন্ধকার জগতে আলো আসবে।