রাজ্য সরকার চাষিদের কাছ থেকে আলু কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খুশি চাষিমহল। বলা যেতে পারে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেন চাষিরা। এককথায় সমস্ত আলুচাষি অক্সিজেন পেয়ে দেনার হাত থেকে বাঁচল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সদোর্থক পদক্ষেপে চাষিমহলে খুশির হাওয়া।
প্রসঙ্গত, আলু ওঠার মরশুমে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। লোকসানের মুখে পড়ে চাষিরা দিশেহারা, এসময়ে চাষিদের পাশে দাঁড়ালেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ১১টি প্রধান উৎপাদক জেলার চাষিদের থেকে সাড়ে ছ-টাকা দরে জ্যোতি আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কৃষি বিপণন দপ্তর। ৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন আলু কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, এই ব্যবস্থায় একজন চাষি ২৫ কুইন্টাল আলু বিক্রি করতে পারবেন। বিক্রি করতে ইচ্ছুক চাষিদের তালিকা তৈরি করবেন ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বি ডি ও)-রা। কৃষকবন্ধু প্রাপকদের তালিকা, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড,জমির মালিকানা নথিপত্র ইত্যাদি যাচাই করে তালিকা চাষিদের কাছাকাছি হিমঘরে পাঠিয়ে দেবে ব্লক প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, খোলাবাজারে আলু প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চাষিরা বিক্রি করছেন ২৫০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে। সরকার সেই আলু চাষিদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল ৬৫০ টাকা দরে চাষিদের কাছ থেকে কিনবেন। অর্থাৎ প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ৩২৫ টাকা পাবেন চাষিরা। হুগলির বেচারাম আদক , দিলীপ ঘোষ ও মানব রায়ের মতো বর্ধিষ্ণু চাষিরা জানান, এবারে চলতি রবি মরশুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আলুর ফলন আশানুরূপ। প্রতি বিঘায় অধিকাংশ জমিতে ১০০ বস্তা ফলন হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি গড় খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সরকার সহায়ক মূল্যে আলু কিনলে দেনার হাত থেকে বাঁচবেন চাষিরা।
রাজ্য প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ কে সাধুবাদ জানাতেই হয়। তবে সরকার রাজ্যের বাইরে কিংবা অন্য রাষ্ট্রে আলু পাঠানোর ব্যবস্থা করলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন নিশ্চিতভাবেই। তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে রাজ্যে এক কোটি মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছিল। গত বছর আবহাওয়া খারাপের জন্য আলুর ফলন হয়েছে ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন। আশা করা যাচ্ছে এবারে গত বছরের ফলনকে ছাপিয়ে যাবে। রাজ্যের চাহিদা ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। যা রাজ্যের হিমঘরগুলিতে মজুত রাখার ক্ষমতা আছে। এবারে এর বেশি আলু উৎপাদন হবে। অতিরিক্ত আলু রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেনার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে চাষিদের।
এদিকে কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আলু কেনার জন্য হিমঘর মালিকরা সমবায় ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেবেন। চাষিদের কাছ থেকে কেনা আলুর দাম, লোন বাবদ সুদ এবং হিমঘর মালিকদের ১০ শতাংশ লাভ ধরে বিক্রির দাম ঠিক হবে।প্রতি কেজি ৭ টাকা ৬৭ পয়সা নূন্যতম বিক্রয়মূল্য ধার্য্য করেছে দপ্তর।আলুর বিক্রয়মূল্য এর থেকে কম হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। নিজের প্রয়োজনে এই আলু রাজ্য কিনলে দাম দেওয়া হবে প্রতি কেজিতে ১১ টাকা ৩০ পয়সা।