দুই কামরার ট্রাম। তার প্রথমটির মধ্যে দুশো বছর আগে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ; তার নিদর্শন, বঙ্গভঙ্গের স্মৃতি, বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করে দেওয়ার বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তের সংগ্রহ। আর দ্বিতীয় কামরায় রয়েছে স্বাধীনতা উত্তরকালের পুনর্বাসন চিত্র। দেশভাগের স্মৃতি নিয়ে প্রথম মিউজিয়াম তৈরি হয়েছিল পাঞ্জাবে। তবে ট্রামের মধ্যে এমন চলন্ত মিউজিয়াম বিশ্বে এই প্রথম। রাজ্যের পরিবহণ দফতরের বিশেষ উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসে উদ্বোধন হল এই বিশেষ চলন্ত মিউজিয়ামের।
ট্রামের দুই কামরার ভিতর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতার পথে ভারতকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রামীদের অবদান নিয়ে এই মিউজিয়াম তৈরির উদ্যোগ রাজ্যের পরিবহণ দফতরের উদ্যোগ।এই চলন্ত মিউজিয়ামের উদ্বোধন করে ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসকে শহরবাসীর কাছে স্মরণীয় করে রাখলেন রাজ্যের পরিবহণ দফতরের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে এই ট্রাম। উদ্বোধনের পর শহরবাসীকে এই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণীয় করে রাখার কথাও জানান তিনি। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ভারত শান্তির দেশ। বাংলা বৈচিত্র, সম্প্রীতি ও ঐক্যে বিশ্বাস করে। এই জাদুঘর বাংলার নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার প্রধান ভূমিকা ছিল। মিউজিয়াম অন হুইলস আমাদের স্বাধীনতা যোদ্ধাদের প্রচেষ্টা এবং জাতীয় মানসিকতার উপর বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজনের প্রভাবকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
এই ‘চলন্ত মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন সচিব রাজেশ সিনহা, ডব্লিউবিটিসি-র এমডি রাজনভীর সিং কাপুর, ভার্চুয়াল মাধ্যমে লন্ডন থেকে উপস্থিত ছিলেন লর্ড মেঘনাদ দেশাই এবং লেডি কিশ্বর দেশাই। এছাড়াও, মিউজিয়ামের কিউরেটর মল্লিকা আহলুওয়ালিয়া। ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই ‘চলন্ত মিউজিয়াম’ বা ট্রামটি থাকবে এসপ্ল্যানেডে। পরের বছর জানুয়ারি থেকে তা শহরের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে।

পরিবহন সচিব রাজেশ সিনহা বলেন, মিউজিয়াম অন হুইলস স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বঙ্গ ও পাঞ্জাব রাজ্যের বিভাজনের প্রভাব তুলে ধরেছে। যাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোনও মূল্যে লাগবে না। এটি একটি স্থায়ী প্রদর্শনী হবে এবং শহর ঘুরে বেড়াবে।
চারুকলা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মল্লিকা আহলুওয়ালিয়া বলেন, কলকাতায় এই ধরণের জাদুঘর প্রথম। এই সুযোগ পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। কলকাতার ট্রামের ইতিহাসও সমৃদ্ধ এবং তারও নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা আশা করি যে আমাদের প্রদর্শনীর মাধ্যমে তরুণরা আমাদের দেশের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস দেখবে। এমন একটি চলন্ত মিউজিয়াম উপহার দেওয়ার জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পরিবহণ দফতরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
উদ্বোধনের পর থেকে অমৃতসরের জাদুঘরটি অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক পেয়েছে আশা করা যায় কলকাতার চলন্ত মিজিয়াম ঘিরেও মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে।