আমরা রাজনীতি করি তো মানুষের জন্য। মানুষ এখন সঙ্কটে। তাঁদের পাশে না থেকে যারা এখন রাজনীতি করছে আমার কাছে তারা মানববিরোধী কাজ করছে। নোংরামি করছে। রবিবার ১৯ এপ্রিল যদুবাবুর বাজারের সামনে স্যানিটাইজিং টানেল উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। টুইটারে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বিজেপির অপপ্রচার শনিবারই জনসমক্ষে প্রমাণ-সহ তুলে ধরেন বসিরহাটের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নুসরত জাহান। সেই প্রসঙ্গে বিজেপি-সহ বিরোধীদের বিঁধে ফিরহাদ বলেন, বাংলাজুড়ে পঞ্চায়েত, পুরসভার সব জনপ্রতিনিধিরা লক্ষ্য রাখছেন কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বিনামূল্যে রেশন দেননি, জিআরের চাল আমাদের দিয়ে বলেছেন কেউ যেন অভুক্ত না থাকেন। আমরা তা পৌঁছে দিচ্ছি, অনেক জায়গায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধ্যমতো এতো কাজ করার পরেও যারা রাজনীতি করছে, সেটাকে রাজনীতি বলা চলে না, নোংরামি বলে।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় যেভাবে বিজেপি সাংসদদের পাশে থেকে, বিজেপির সুরে কথা বলে খালি টুইট আর নবান্নে চিঠি পাঠাচ্ছেন তাকে আমল দিচ্ছেন না ফিরহাদ। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা এখন মানুষের পাশে থেকে এগিয়ে চলেছি। আর যাঁরা বাংলার মানুষকে না দেখে টুইট করে আর চিঠি লিখে নিজেদের স্বার্থ আর রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁদের তা করতে দিন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাশে রয়েছেন, আমরা তাঁর টিম মানুষের পাশে থেকে দিন-রাত কাজ করছি, বাংলার মানুষ তা দেখছেন। ফলে হাজার বলেও যাঁদের শোধরানো যায় না, তাঁদের টুইট করা, চিঠি পাঠানো, এ সব করতে দিন। এখন এমন স্যানিটাইজিং টানেল লাগানো, হাত ধোয়া, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং সম্পর্কে সচেতন করা, মানুষকে খাবার পৌঁছে দেওয়াই হলো মূল কাজ। রাজনীতি করার জন্য তো সারা জীবন পড়ে রয়েছে।

ফিরহাদ জানান, এই স্যানিটাইজিং টানেলে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর। এই ব্যবস্থায় সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবে না। তবু বাজারে ভিড় করা যাবে না, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখতে হবে। স্যানিটাইজিং টানেল উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মালা রায়, কাউন্সিলর অসীমকুমার বোস প্রমুখ।